মালদ্বীপ কিভাবে মুসলিম হলো? ৯৯% মুসলিমের দেশ মালদ্বীপের ইতিহাস

 আবদুল বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারি। মরক্কোর এক ব্যবসায়ী। পরহেজগার মানুষ। কুরআনের হাফেজ। পুরো কুরআন তার নখদর্পণে।

ব্যবসায়ের কাজে তিনি একবার আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এলেন। এক দ্বীপে গিয়ে উঠলেন। যে লোকের বাসায় গিয়ে উঠলেন, তারা তাকে আশ্রয় তো দিলো বটে, কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন বাড়ির সবার প্রচণ্ড মন খারাপ। মন খারাপের কারণ জানতে পেরে ইউসুফ নিজেই শিউরে উঠলেন।
কারণটা একটু পরে বলছি।

তার আগে সে দ্বীপের কথা কিছু বলে নেই। সে দ্বীপসহ বেশ কিছু দ্বীপ মিলে এক রাজ্যের মতো কাঠামো লাভ করেছে। যেখানে রাজ্য আছে সেখানে রাজাও থাকবে। তখন সে রাজ্যের রাজা-প্রজা সবাই বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। সেসব দ্বীপগুলোতে যেয়ে যারা বসতি গড়েছিলো তাদের বেশিরভাগই এসেছিলো আজকের শ্রীলঙ্কা আর ভারতের তামিল রাজ্য থেকে। তাই তাদের মাঝে দেবদেবীকে খুশি করে বলি দেয়ার রীতি প্রচলিত ছিলো।


দ্বীপ মানেই সেখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। ঘনঘন ঝড় হয়। বিশেষ করে এই মে-জুলাইয়ের সময়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের শিকার হতে হয় তাদের প্রায় প্রতি বছরেই। ঝড়ের দেবীর কাছ থেকে বাঁচার জন্যে তারা এই সময়ে প্রতিমাসে একজন করে কুমারী নারী নির্বাচন করে। আর তাকে দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেয়।

মরক্কো থেকে আসা ব্যবসায়ী ইউসুফ আল-বারবারি যে বাসায় উঠেছেন, সে বাড়ির মেয়েকেই পরদিন দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হবে। বাড়ির সবার মন ঠিক এ কারণেই এতোটা খারাপ। কিন্তু করারও তো কিছু নেই। ইউসুফ সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন, যে করেই হোক, এই বলি দেয়া থামাতে হবে। কিন্তু বাসার সবাই তাকে বলল, এই রাজ্যে এটাই নিয়ম। সবাইকে দেবীর ক্রোধ থেকে বাঁচাতে হলে কুমারি মেয়ে বলি তাদের দিতেই হবে। বাঁচার কোনো উপায় নেই।

তিনি নাছোড়বান্দা হয়ে রাজার সাথে কথা বলতে চাইলেন। রাজার কাছে যেয়ে বললেন, আপনারা মেয়েটাকে কেন বলি দেবেন? ঝড়ের হাত থেকে বাঁচার জন্যে, তাই তো? আচ্ছা! আমি যদি আপনাদের ঝড়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেই কাউকে বলি না দিয়েই, আপনারা কি তাতে রাজি হবেন?

রাজা শ্রী ত্রিভুবন আদিত্য বেশ উদার মনের হওয়ায় উনার প্রস্তাবে রাজি হলেন। ইউসুফ আল-বারবারি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। কেঁদে কেঁদে তিনি আল্লাহর কাছে দু‘আ করলেন, যেন তিনি এই রাজ্যে কোনো দুর্যোগ না পাঠান এই বছর। যেন আর কোনো মেয়েকে বলি হতে না হয়।

আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করলেন। সে বছর রাজ্যে কোনো দুর্যোগ এলো না। রাজা এটা দেখে এতোটাই প্রভাবিত হলেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে ফেললেন। রাজার সাথে সাথে গুটিকয়েক লোক বাদে প্রায় সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। কোনো যুদ্ধ ছাড়াই, কোনো রক্তপাত ছাড়াই, এমনকি কোনো আলেমের উপস্থিতি ছাড়াই— শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ীর উসিলায় একটা পুরো জাতি শিরকের অন্ধকার ছেড়ে তাওহিদের আলোয় চলে এলো। তারা মুসলিম হয়ে গেলো।

অনেকগুলো দ্বীপ মিলে গড়া সে রাজ্য আজ এক দেশের রূপ নিয়েছে। ইউসুফ আল-বারবারির মৃত্যুর প্রায় এক হাজার বছর পরেও সে দেশের প্রায় নিরানব্বই ভাগ মানুষই এখন মুসলিম। আমরা সে দেশটাকে আজ চিনি ‘মালদ্বীপ’ নামে।
- Shihab Ahmed Tuhin

Next Post Previous Post