নারীবাদ । নারীবাদ এর সুফল ও নারীবাদ এর কুফল ( সকল সভ্য নারীর পড়া উচিত )

SHARE

নারীবাদ । নারীবাদ এর সুফল ও  নারীবাদ এর  কুফল ( সকল সভ্য নারীর পড়া উচিত ) 

নারীবাদ । নারীবাদ এর সুফল ও  নারীবাদ এর  কুফল ( সকল সভ্য নারীর পড়া উচিত )


নারীবাদ নিচ্ছেন , এর ফল নিতে প্রস্তুত আছেন তো?

সাঈদ হাসান (পর্ব ০৩)

"কেন বিয়েতে আগ্রহ নেই আমেরিকান পুরুষদের?"

( এই সিরিজে কেবল পশ্চিমা সমাজে নারীবাদ যেসব খারাপ ফল বয়ে এনেছে সেসব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাই এগুলো আমাদের সমাজের সাথে মিলবে না। কিন্তু সামগ্রিক নারীবাদ ছড়িয়ে পড়লে এসব বিষাক্ত ফলাফল এদেশেও চলে আসবে। তার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। সিরিজটা কেবল সচেতন করার জন্য।)

নারীবাদী লেখা


পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকাতে এখন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বিয়ের হার ৫১% , যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন। ১৯৬০ সালেও এই হার ছিলো ৮২%। আবার মোট বিয়ের ৫০% মানে প্রতি দুটো বিয়ের একটা ভেঙ্গে যাচ্ছে।
কেন বিয়ের হার এমন হল, পুরুষরা কেন বিয়ে করতে চাইছে না, আর তাতে নারীবাদের ভুমিকাই বা কী, চলুন দেখে আসি।

  1. নারীবাদী লেখা
  2.  নারীবাদী লেখক
  3.  সমাজতান্ত্রিক নারীবাদ 
  4. নারীবাদী সাহিত্য 
  5. নারীবাদের উৎপত্তি কোথায়
  6.  নারীবাদ ও ইসলাম 
  7. নারীবাদের বিভিন্ন তরঙ্গ 
  8. নারীবাদী বই


১। তারা আশঙ্কা করছে তারা সম্মান হারাবেঃ অতীতে একজন পুরুষ যতক্ষন না বিয়ে করতো ততক্ষন তাকে প্রকৃত পুরুষ ভাবা হত না। এখন চিত্র বদলে গেছে। মিডিয়া শাসন করছে সমাজ। আর এই মিডিয়াতে স্বামী আর বাবাদেরকে দেখানো হচ্ছে গোবেচারা, বোকা আর ইডিয়ট হিসেবে। যাদের কাজ হল কেবল আয় করে পরিবারকে খাওয়ানো।
২। সেক্স এর অপশন কমে যাবেঃ যারা অবিবাহিত তারা যার সাথে ইচ্ছে শুয়ে পড়তে পারছে। কিন্তু বিয়ে মানেই একটা বাধা আর স্ত্রীর নজরদারী। এটা রিলেশনেও আছে , কিন্তু বিয়ের মত একটা সামাজিক বন্ডে ব্যাপারটা যত প্রখর, রিলেশনে ততটা না।

নারী অধিকার আন্দোলন

৩। সম্পদ আর সন্তান হারাবেঃ ডিভোর্স অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশী এখন, মোট বিয়ের ৫০% ভেঙ্গে যাচ্ছে। আর ডিভোর্সের ৮০% দিচ্ছে মহিলারা। আর আদালত সব সময় মহিলাদের পক্ষেই রায় দেয়। তারমানে ব্যাপারটা এই দাড়ালো, আপনি বিয়ে করলেন, কয়দিন পর স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে চলে গেলো। যদিও আপনি এই ডিভোর্স চান নি তবু আপনাকে আপনার সম্পত্তির ৫০% দিয়ে দিতে হবে (অ্যামাজনের মালিক জেফ বেজোসের ডিভোর্সের কথা জানেন অনেকেই। তার স্ত্রী পেয়েছিল ৩৬ বিলিয়ন ডলার। মানে বিয়ে করে সে হয়েছিল বিলিয়নিয়ারের বউ। আর ডিভোর্স দিয়ে নিজেই বিলিয়নিয়ার) । আর সন্তান থাকলে সন্তানের ভরণপোষণের সব খরচ দিতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তারপরেও আপনি সন্তানকে কাছে পাবেন মাত্র ১০% সময়। সবমিলিয়ে বিয়ে ব্যাপারটা অনেকটা বোকামীর মত, অন্তত আর্থিক দিক বিবেচনা করলে।


                       নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস


৪। বাড়িতে তাদের জায়গা হারাবেঃ একজন পুরুষ যখন বিয়ে করে, তার কিছুদিন পর তার জায়গা হয় বাড়ির সবচেয়ে নোংরা জায়গায়। যেমন গ্যারেজ, বেজমেন্ট, চিলেকোঠা ইত্যাদি জায়গায়। আর যখন বাচ্চাকাচ্চা হয় তখন তো কথাই নেই, বাড়ী হয়ে ওঠে স্ত্রী শাসিত এক রাজ্য। বাবার নিজের বাড়িতেই আর ভালোমত জায়গা হয় না, যদিও বাড়ির ভাড়া , কিংবা মর্টগেজ (লোনের কিস্তি) তাকেই পরিশোধ করতে হয়।
(এই পয়েন্টাতে আমি বাংলাদেশের একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলতে চাই। বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে, বাড়িতে মেহমান আসলে বাড়ির কর্তাকে থাকতে দুরের একা কোনো নোংরা, ঘরে। ওদিকে তার নিজের বাড়িতেই হই হুল্লোড় উতসব চলছে, যার বিন্দুমাত্র ভাগ তিনি নিতে পারেন না। হয়ত এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না, অভিযোগ করে না, কিন্তু ব্যাপারটা করুণ।)

নারী অধিকার আন্দোলনের ভূমিকা


৫। তারা তাদের স্বাধীনতা হারাবেঃ বিয়ে মানেই ব্যাচেলর লাইফের স্বাধীনতা হারানো, এটা সবাই বোঝে। তাই আমেরিকার মত 'উন্নত' দেশের 'স্পাইসি' লাইফে বিয়ে করে কেন কেউ বাধা পড়তে চায় না, তা বুঝিয়ে বলার দরকার নেই। কিন্তু এর চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার আছে। সেটা হল, আপনি কয়েকটা মামলার সম্ভাব্য আসামী হয়ে গেলেন, যেগুলো বিয়ে না করলে প্রশ্নই উঠতো না (যেমন আমাদের দেশে বলা হয়, কাবিননামায় সই করার মাধ্যমে একজন পুরুষ ৬ টি ফৌজদারী মামলার সম্ভাব্য আসামী হয়ে যায়)। ২০১৩ সালের একটি রিপোর্ট বলছে , আমেরিকাতে অন্তত ৫০,০০০ পুরুষ জেলে আছে চাইল্ড সাপোর্ট মামলার আসামী হয়ে।
৬। সিঙ্গেল লাইফ এখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে মজারঃ অতীতে একজন অবিবাহিত পুরুষকে অপরিপক্ক মনে হত। সেই দিন বদলেছে। এখন ৪০ বছর বয়সের ব্যাচেলর খুব ই কমন। কোম্পানীগুলোও ব্যাচেলরদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে যাদের পারিবারিক পিছুটান নেই, তারা কাজে বেশি মনোযোগী। এছাড়া হাজারো বিনোদনের মাধ্যম তৈরী হয়েছে যা দিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে পারছে আনন্দের সাথে। ভিডিও গেম, টিভি, স্পোর্টস ইভেন্ট আর সবার উপরে ইন্টারনেট তো আছেই। বাকী রইল সেক্স। এখন বিয়ের আগের সেক্স তো ট্যাবু নেই। রয়েছে হাজারো ডেটিং অ্যাপ আর সাইট, চাইলেই খানিক সময়ের মধ্যে মেয়ে ম্যানেজ করে নিতে পারছে (i.e- ওয়ান নাইট স্টান্ড)। কিছু না পেলে রয়েছে প্রস্টিটিউটরা। (একজনের কমেন্ট উল্লেখ করছি, "ডিনারের দামে যখন ২৪ বছর বয়সী রেডহেড পাওয়া যাচ্ছে তখন বিয়ে কেন করবো? )
পুরো ব্যাপারটা এভাবে বলা হচ্ছে, " অনেক খরচ কিন্তু পুরুষ্কার খুব কম "
আর তাই তো আমেরিকাতে বিয়ের হার এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।
(আরো কিছু কারণ আছে, পরের কোনো পর্বের জন্য তোলা রইলো)
তবে এখন যেটা বলতে যাচ্ছি সেটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ।
একটা কমেন্ট দিলে বুঝতে সুবিধা হবে, " The reason men are not getting married is , women are not women anymore. The want to marry but don't want to be a wife."
অর্থাৎ, "পুরুষেরা এখন আর বিয়ে করছে না কারণ নারীরা আর নারী নেই। তারা বিয়ে করতে চায় কিন্তু স্ত্রী হতে চায় না।"
নারীর মধ্যে পুরুষরা যা সবচেয়ে বেশী চায়, সেই স্বভাবজাত নমনীয়তা আর নেই। নারী স্বাধীনতা আর ক্ষমতায়নের নামে আমেরিকান মেয়েরা হয়ে উঠেছে রুক্ষ আর রাগী, বিশেষ করে পুরুষের বেলায়।
মুলত ব্যাপার এখানে দুটো, আর দুটোই ঘটছে ফেমিনিজমের ফলে।

নারী অধিকার আন্দোলন প্রকল্প



১। মেয়েরা স্বামীর আনুগত্য দূরে থাক বিন্দুমাত্র যত্নবানও হচ্ছে না। নারীবাদ শেখাচ্ছে পুরুষের শাসন কেন শুনবে তুমি, তার আনুগত্য কেনো করবে তুমি? আর তাই স্বামীর টাকায় অগুণতি টাকার শপিং আর স্বামীর দেয়া কারে করে সারা সপ্তাহ ঘুরে বেড়ানো। আর স্বামী কোনোকিছু নিষেধ করলে প্রচন্ড ঝগড়া, স্বামীর গায়ে হাত তোলা, ৯১১ এ ফোন করে স্বামীকে পুলিশে দেওয়া তো আছেই। স্বামী বেচারা চাইলেও কিছু বলতে পারে না, কারণ ডিভোর্সের ভয়। নিমিষেই অর্ধেক সম্পত্তি নাই হয়ে যাবে। তাই বাড়িতে স্ত্রীর সিদ্ধান্তই শেষকথা। আর বাচ্চা থাকলে তো কথাই নেই। একজন লিখেছেন, এখনকার স্ত্রীরা বাচ্চাদের ব্যাবহার করে স্বামীদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে যেভাবে সন্ত্রাসীরা জিম্মিদের দিয়ে দাবী আদায় করে। একটা ব্যাপার তো সত্যি, পুরুষ সে দেশেরই হোক, সে সবসময় চায় নারী তার প্রতি অনুগত আর বিশ্বস্ত হোক। দেখুন, ফিনান্সিয়াল ব্যাপারগুলো ইস্যু হত না, তাদের স্ত্রীরা যদি স্বামীদের আনুগত্য করতো, সুখ দুঃখের সঙ্গী হত। এরকম স্ত্রীর জন্য পুরুষ যেকোন কিছু করতে পারতো।
২। এর পরেরটা হল পরপুরুষ। একজনের কথা উল্লেখ করলেই বোঝা যাবে, "কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়েছে বিয়েতে, আমার স্ত্রী শরীরে ৯৫% খোলা রেখে ইন্সটাগ্রামে ছবি আপলোড করছে, যেন ক্রিসমাসের ক্যান্ডি, যে কেউ কয়েক সেন্টে কিনতে পারে। আর যখন কয়েক হাজার লাইক পড়ছে, তখন আমি জানি না এই বিয়ের মানে কি"...দেখুন পুরুষ নারীকে ঘরে আটকে রাখতে চায়, আমার দেহ আমি যা ইচ্ছে করবো- এগুলো নারীবাদ শুরু থেকে শেখাচ্ছে। কিন্তু এই জেলাসিই তো পুরুষের চরিত্র, তা সে আমেরিকার মত দেশের 'ওপেন-মাইন্ডেড' পুরুষ হলেও।
(উপরের দুটো বিষয়ে লক্ষ করলে দেখবেন, এগুলো ইসলামের দুটো বিধান , স্বামীর আনুগত্য আর পর্দার বিধানের সাথে যায়। এগুলোকে যতই নারীকে আ্টকে রাখার উপায় বলে চালিয়ে দেওয়া হোক না কেন, এখন দেখা যাচ্ছে, ওইগুলোর অভাবই আমেরিকার মত 'ওপেন-মাইন্ডেড' দেশের পারিবারিক জীবনে কি বিপর্যয় ডেকে এনেছে।)
সবশেষে একটা প্রশ্ন থাকতেই পারে, বিয়ে হচ্ছে না তাতে কার কী? কিন্তু এটা দিনের আলোর মত সত্য, নারীদের যত আর্থিকভাবে স্বাধীন আর শক্তিশালী দাবি করা হোক না কেন, পশ্চিমা দেশগুলোতেও বিয়ের হার পড়ে যাওয়ার মুল ভিক্টিম হচ্ছে নারীরা। কিভাবে? আলোচনা করবো এই সিরিজের আগামী চারটি পর্বে ইনশাল্লাহ।
কিছু কমেন্টঃ
১। " বিয়ে একটা চুক্তি। এমন চুক্তি যাতে দুই পক্ষেরই লাভ। কিন্তু আপনি যদি একেবারেই কিছু না পান তাহলে এতে স্বাক্ষর করার কোনো কারণ নেই।"
২। "১১ মাস আগে আমি বিয়ের এই মারাত্মক ভুলটি করেছিলাম। আমার প্রথম বিয়ে , তার দ্বিতীয়। ডিভোর্সের পরে সে আগের স্বামীর কাছ থেকে বাচ্চা আর একটা বাড়ি পেয়েছিল। সে বাচ্চাদের সামনেই আগের স্বামীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। এটা দেখে আমার বুঝে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি তাকে গভীরভাবে ভালবাসতাম।
বিয়ের কিছুদিন পর সে আমার কাছে স্বীকার করলো সে আগের স্বামীর সাথে চিট করেছে, যে ছিল একজন পরিশ্রমী ভদ্রলোক। এটা শুনে ধাক্কা খেলাম, কিন্তু তাকে বুঝতে দিইনি। তার সাথে দূরত্ব রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম কারণ এইসব লোক কখনো বদলায় না।
কিছুদিন যেতেই আমার অনুমান সত্যি হলো। সে আরেকজনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে।
এখন আমরা আলাদা। আমার এখন আগের চেয়ে অনেক টাকা আছে, সামাজিক স্বাধীনতা আর তিনটা গাড়ী আছে।
এখন শুনেছি ফিনান্সিয়ালি দুরবস্থায় আছে। অনেক বেশী ড্রিঙ্ক করে। লুজার।"
"
৩। "বিয়ে একমাত্র যুদ্ধ যেখানে আপনাকে শত্রুর পাশে ঘুমোতে হয়।"
৪। "কিছুদিন আগে আমি আমার প্রতিবেশির মেয়েকে বলতে শুনলাম, তার বোন কিছুদিন আগে বিয়ে করেছে। সে কয়েকদিনের মধ্যে ডিভোর্স দিবে। এটা বিয়ের আগেই প্লান করা ছিলো।"
৫। "নারীঃ বিয়ে আমাকে নিরাপত্তা দেবে।
পুরুষঃ বিয়ে আমার নিরাপত্তা কেড়ে নেবে।"
৭। " আমি মনে করি বিয়ে কমে যাওয়ার কারণ হল নারীরা আর বিশ্বস্ত নয়। তারা আপনার সবকিছু নেবে কিন্তু বিনিময়ে দেহ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারে না। কিন্তু সারাজীবন ওরকম মোটা আর কুৎসিত বউ নিয়ে কাটানোর কি দরকার যেখানে আপনি খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই তার চেয়ে সুন্দরি মেয়ে পেয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর জন্য যেকোন কিছু করা, স্বামীর যেকোন আদেশ মানাকে নারীবাদ পরাধীনতা বলছে। আর নারীরা তো সেগুলো বিশ্বাসও করছে। তাই এখন আক্ষরিক অর্থেই বিয়ে করার কোন কারণ নেই।"
৮। "সারাদিন কাজ শেষে ঘরে ফিরে পুরুষ একটু রিলাক্স করতে চায়। এসময় কেউ মুখরা আর ঝগড়াটে বউ আশা করে না।"



নারীবাদ নিচ্ছেন , এর ফল নিতে প্রস্তুত আছেন তো?- (০৪)
"বয়সের দেয়াল ও আর ফিমেল এক্সপায়ারি ডেট"
গত পর্বে দেখিয়েছিলাম কিভাবে আমেরিকাতে বিয়ের হার কমে গেছে, অর্ধেক লোকও এখন আর বিয়ে করে না। প্রশ্ন হলো, বিয়ে হচ্ছে না তাতে কার কী? সেখানে তো আর সেক্স থেমে থাকছে না। আপন শক্তিতে এগিয়ে চলা নারী কলেজ ডিগ্রি নিয়েছে, জব করছে, নিজের বাড়ী আছে- মোটকথা লাইফ একেবারে সেট। কারো ধার ধারার সময় তো নেই তার।
আসলে ব্যাপারটা এরকম হলে কোনো সমস্যাই ছিলো না। এগুলো নিয়ে কোনো কথাই উঠতো না। বরং পুরুষদেরই বিপদে পড়ার কথা ছিল।
কিন্তু সত্য হল, এরকম হয় নি আর এর মুল ভিক্টিম নারীরাই। হয়নি তার পিছনে অনেক কারণ আছে। একটা বড় কারণ হল, বয়স। বয়সের দেয়াল। তিরিশ-পয়ত্রিশ বছর বয়সের দেয়াল। রূপ, কোমলতা আর গর্ভধারণ সক্ষমতা কমিয়ে দেয়া সেই দেয়াল। এই সেই দেয়াল যাকে পশ্চিমা নারীরা বুলেটের চেয়েও ভয় করে।
চলুন বিস্তারিত বলা যাক এবার।
১) বয়সের দেয়ালঃ
বয়সের দেয়াল বলতে মহিলাদের ৩০ বছর বয়সকে ধরা হয়। ৩০ পার করলে বলা হয় সে দেয়ালে হিট করেছে। হিট করা বলতে বোঝানো হয়, এরপর থেকে তাদের বাহ্যিক রূপ, সেক্সুয়াল অ্যাপিল ও গর্ভধারণ ক্ষমতা কমতে থাকে। এর মানে হল, পুরুষেরা আর তার প্রতি আগ্রহি নয়, তার 'মার্কেট ভ্যালু' পড়ে গেছে। তবে একদম ৩০ বছরেই যে সবাই দেয়ালে হিট করবে এমনটা নয়। বরং ড্রাগ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মোটা হয়ে যাওয়ার কারণে এই দেয়াল ২৫ শেও চলে আসে কারো কারো। কাউকে ৩০ শের পরেও আকর্ষণীয় লাগলেও যখন শোনে বয়স ৩০শের বেশি তখন পুরুষেরা পিছিয়ে যায়।
২) পরিচিত ফেমিনিস্ট কথাঃ
কিছু পরিচিত ফেমিনিস্ট কথা শুনি - " এটা একবিংশ শতাব্দি। এখানে সবকিছুই নির্ভর করে যোগ্যতার উপর, তুমি দেখতে কেমন তার উপরে নয়। তুমিও পুরুষের মত কলেজ ডিগ্রি নাও, একটা ক্যারিয়ার গড়ো , পুরুষের অধীনে যাওয়ার কোন দরকার নেই। পুরুষ যা করতে পারে তুমিও তাই পারো। তোমার বয়স যাই হোক না কেন, তুমি কে, তোমার যোগ্যতা কী সেটাই আসল।"
শুনতে ভালোলাগারই কথা। কিন্তু এগুলো হল কিছু মিথ্যা যা ফেমিনিজম নারীদের কাছে বিক্রি করেছে। আর এটা নারীরা তখনি বুঝতে পারছে যখন তারা দেয়ালে হিট করে ফেলছে। হাতে একটা সুপারকারের চাবি, ঝকঝকে অফিস আর উপচে পড়া ব্যাংক ব্যালান্স থাকার পরেও যখন পার্টিতে আর তেমন কাছে ঘেষে না, বাচ্চারা আন্টি ডেকে বসে তখন ধোকা খাওয়ার উপলব্ধিটা হয়। ভাববেন না আমি কোনো তথাকথিত 'পশ্চাৎপদ' দেশের কথা বলছি, এটা আমেরিকারই পরিস্থিতি।
প্রশ্ন উঠতে পারে , বিয়ে-ডেট আর সে বয়সের 'দেয়ালের' যৌক্তিকতাই বা আসছে কেন, যেখানে তারা নিজেরাই বলছে , আমাদের পুরুষের দরকার নেই?
এর উত্তর অনেকগুলো হতে পারে। পুরো সিরিজটাতেই অল্প অল্প করে কাভার করা হবে ইনশাল্লাহ। তবে কিছু এখানে বলা যাচ্ছে।
দেখুন, মানুষের মানবিক ব্যাপারগুলোকে অস্বীকার করা যায় না। ২০ থেকে ৩০ পর্যন্ত যখন দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছে তখন রূপ ছিলো, সে নারীবাদি জেনেও পুরুষেরা একেবারে লাইন লাগিয়ে ছিল। যাকে ইচ্ছে না করে দিয়েছে, মুখের উপর বলে দিয়েছে, আমি কোনো অংশে কম নই। মাঝে ইচ্ছে হলে কারো সাথে ডেটও করেছে। সব ঠিকমতই ছিলো, নারীশক্তি, গো-গার্ল। কিন্তু সমস্যা হয়েছে যখন থেকে সে বুঝতে শুরু করেছে তার 'সেক্সুয়াল মার্কেট ভ্যালু' কমে যাচ্ছে। আগে কেউ কাছে আসতে চাইলে তাকে মুখের উপর অপমান করে, পুরুষ জাতটাকে নিয়ে যা ইচ্ছে বলে 'নারীশক্তির প্রকাশ' দেখানো গেছে। কিন্তু এখন তো কেউ ইন্টারেস্টই দেখায় না, বরং নিজে যেচে গেলেও রিজেক্ট করে দেয়। সেই 'নারীশক্তি' তো অপ্রাসংগিক হয়ে গেছে। তখন তার নিজের মধ্যে আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাহলে কি এসবের কোনো এক্সপায়ারী ডেট আছে?
জী আছে। আর এটা সব নারীই বুঝতে পারে , সেই দেয়ালে আঘাত করার পর। উপরের কথাগুলো নারীবাদীদেরই, মানে যারা ৩০শের পর এসব ব্যাপারে মুখ খুলেছে।
সৌন্দর্য, সেক্সুয়াল অ্যাাপিল এগুলো থাকছে ৩৫ বছর পর্যন্ত। কিন্তু , মানুষের আয়ু তো ৩৫শেই শেষ নয়। তাহলে নারীদের জন্য বাকী জীবনটা কি করার? একটা ফ্যামিলি গড়ার, কিছু মানুষ 'মানুষ' করার। পুরুষ লাগবে না , বিয়ে দরকার নেই এই চিন্তাভাবনা আমেরিকাতে খুব বেশিদিন আসে নি । ১৯০০ সালের শুরুতে মহিলাদের ভোটাধিকারের আন্দোলন থেকে সেই শুরু। এমনকি ১৯৫৯ সালেও বিয়ে হওয়া মোট মেয়েদের অর্ধেকই ছিলো ১৯ এর নিচে। বিয়ের কারণে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ছিলো খুবই কমন। বলা হত, মেয়েরা কলেজে যেত কেবল একটা বর খুজে বের করার জন্য। (রেফারেন্স-১)
৪) উপলব্ধিঃ
মুলতঃ উপলব্ধির ব্যাপারটা ঘটে দেয়ালে আঘাত করার কিছু পর, যখন আশপাশ বদলে যায়। পুরুষ কলিগরা কাছে ঘেঁষে না , আগের মত তাড়াতাড়ি প্রমোশন হয় না, রাস্তাঘাটে কেউ নম্বর চেয়ে বসে না, টিন্ডারেও আর আনরিড মেসেজ নেই। পরিচিত 'পশ্চাৎপদ' পরিচিত মেয়েরা বিয়ে করেছে, কারো বাচ্চাও আছে, সেইসব বাচ্চাদের বার্থডে পার্টিতে ইনভাইটও করে। সেইসব পার্টিতে হ্যাপি ফ্যামিলি দেখে 'স্বাধীন নারীশক্তির' আদর্শ নড়বড়ে হয়ে যায়। সাপ্তাহিক ছুটিতে কোনো প্লান নেই , তিরিশের আগে হলিডে প্লান থাকতো, সেইসব ফ্রেন্ডগুলো যে যার মত বিজি , কারো কারো হাজব্যান্ড-ফ্যামিলিও আছে। নিজে একজন পুরুষ চাইলেও জোটাতে পারে না, কারণ ঐ বয়স।
এরপর অনেককে অস্থির হতে দেখা যায়।
ইউটিউবে দেখলাম, একজন মহিলা সারাদিন, সবজায়গায় বিয়ের পোষাক পরে থাকে। কারণ তার বয়স ৩৫, তাকে কেউ বিয়ে দুরের কথা ডেটেও আগ্রহি নয় তার সাথে।
৫) ট্রিপল সিক্স ও গোল্ড ডিগার
৩০ পার করা এসব মহিলাদের নিজেদের ব্যাপারে ভুয়া অবসেশন তৈরী হয়। তারা মনে করে, আমার এত ভালো ডিগ্রি , ক্যারিয়ার , আমি নিশ্চয় আরো ভালো পুরুষ ডিজার্ভ করি। মানে , ফেমিনিজম তাদের যেটা শিখিয়েছে। এই 'ভালো পুরুষ' বলতে তারা যা বোঝায় তা ট্রিপল সিক্স দিয়ে বোঝানো হচ্ছে।
অর্থাৎ, সিক্স প্যাক বডি। সিক্স ফিগার ইনকাম। সিক্স ফিট হাইট।
এর বাইরে আরো দুটো জিনিস যোগ করা হয়, সুপারকার আর একটা নিজস্ব ভিলা বা অ্যাপার্টমেন্ট।
এখানে দুটো ব্যাপার লক্ষণীয়-
i) যেসব পুরুষদের এসব আছে তারা কেনো এসব তিরিশ পেরোনো মহিলাদের বিয়ে তো দুরের কথা, ডেট করবে? তারা তো চাইলেই প্রতিদিন একজন করে টিনেজার বা ২৩-২৫ এর সুন্দরী কাউকে বেডরুমে আনতে পারে। এই মহিলারা এখনো ধরে বসে আছে, তার এখনও ২৫ শের মতই সুন্দরি আছে। যা একেবারে ভুল।
ii) দ্বিতীয়তঃ যেসব পুরুষদের এই ট্রিপল সিক্স আছে তারা সমাজের ১০% মাত্র। স্টাডি বলছে, ৯০% মহিলারা এই ১০% পুরুষদের জন্য প্রতিযোগিতা করে। এরকম কাউকে পেলে তারা বহুদিনের পুরোনো বয়ফ্রেন্ড, এমনকি স্বামীকে পর্যন্ত ফেলে আসতে দ্বিধা করে না। যেহেতু ঐ ১০% সমাজে খুবই কম, তাই তাদের আশায় মহিলারা যতদিন রূপ থাকে ততদিন একের পর একের পুরুষ বদল করতে থাকে। যদি কাউকে পেয়ে যায় তখনই তার সাথে হুক আপ করে ফেলে, তখন আর নারীবাদি থিওরির কথা মনে থাকে না। একটা কথা আছে না, You are a feminist, until you meet a rich man (i.e প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর নিক জোনাস।)। কিন্তু সবাই তো আর পায় না। এর তাই ঐ ১০% খুঁজতে খুঁজতে দেয়াল পার করে ফেলে। তখন আর ১০% লাগবে না, একজন 'এভারেজ গাই' হলেই হবে। কিন্তু তিরিশের পর 'এভারেজ গাই' রাও তো মুখ ফিরিয়ে নেয় । তখন ফেরত যেতে চায় পুরোনো বয়ফ্রেণ্ড, কিংবা স্কুল লাইফে প্রপোজ করা ছেলেটার কাছে। তারাও ততদিনে সেটেল। আমি অসংখ্য কমেন্ট এরকম পেয়েছি, স্খুলে থাকতে যে মেয়েটা আমার প্রপোজ ফিরিয়ে দিয়েছিল ১০-১৫ বছর পর আমার কাছে ফেরত এসেছে। প্রায় সব কমেন্টেই চরম অপমান করে মেয়েটাকে ফেরত দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (নিচে দেওয়া আছে একটা)
আর অবসেশনের ব্যাপারে বলতে গেলে, মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যখন দেখে শুধুমাত্র সুন্দরী হবার কারণে একটু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে, তখন সে আস্তে আস্তে এটা কাজে লাগাতে শুরু করে। এমনকি সেই ১০% খুঁজতেও। তারা মনে করে যেহেতু রূপ আছে, তাই এরকম পুরুষ তাদের অধিকার। যারা বুঝতে পারে ঐ বয়সের দেয়ালের ব্যাপারে, তারা দেয়াল আসার আগেই কারো গলায় ঝুলে পড়তে চায়। এরকম কাউকে দেখলেই বর্তমান সঙ্গীকে দূরে ফেলে দেয়। এই টার্মটাকে বলা হচ্ছে 'গোল্ড ডিগার' ।
৬) তাহলে পুরুষ?
এবার কথা হচ্ছে , পুরুষদের জন্য কি এরকম কোনো দেয়াল নেই? উত্তর হল, না, নেই। একটা প্রচলিত কথা আছে, পুরুষের বয়স বাড়লে তাকে দেখতে শন কনারির মত লাগে। আর একজন মহিলার বয়স বাড়লে তাকেও দেখতে শন কনারির মত লাগে।
উদাহরণ হিসেবে আমি একটা ছবি দিয়েছি। সহজে বুঝতে পারেন এভাবে, টাইটানিক সিনেমার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও আর কেট উইন্সলেট এর তখনকার আর এখনকার ছবি তুলনা করে। ডিক্যাপ্রিও তো সেরকমই আছেন, কেট হয়ে গেছেন বুড়ি।
তুলনাটা এরকম করা যায়, নারী হল ফুলের মত আর পুরুষ হল গাছের মত। ফুল অনেক সুন্দর, গাছ কুৎসিত। যে কাউকে দুটোর মধ্যে বাছতে দিলে ফুলই বাছবে। এবার আসুন, ফুল অল্প কিছুদিনের মধ্যে শুকিয়ে যাবে, ঝরে যাবে। কিন্তু গাছ? যেরকম ছিল সেরকমই, তা বহু বছর পরেও, বরং আরো শক্তিশালী হবে।
একটা সিম্পল বায়োলজিকাল হিসেব দেখা যাক, শারীরিকভাবে একজন মহিলার বৃদ্ধি থেমে যায় ১৭ এর আশপাশে , যেখানে পুরুষের ২৪। আর মানসিক বৃদ্ধি মহিলাদের থামে ১৫ এর দিকে , যা পুরুষের ৪০ পর্যন্ত (আজব ব্যাপার, তবে সত্যি।)। ছেলে শিশুর চেয়ে মেয়েশিশুর বুদ্ধি বেশি থাকে ঠিকই কিন্তু থেমেও যায় ঐ আগে আগে।
৩০ বছর বয়স হতে হতে একজন মহিলার রুপের ১২.৫০% অবশিষ্ট থাকে।
আর তাই মহিলাদের মত পুরুষদের ওরকম কোনো দেয়াল নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। পুরুষ চাইলে যেকোনো বয়সের মেয়েই ডেট করতে পারে।
যতই গায়ের জোরে দাবী করা হোক নারী পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে। একজন ৫০-৬০ বছরের বৃদ্ধও স্কুল কলেজের মেয়ে বেডরুমে নিয়ে আসে। আর মেয়েরা আসেও কারণ তারা টাকা পায়, কলেজ ফী পায়। পুরুষটা যে ৬০ বছরের বৃদ্ধ সেব্যাপারে সে কিছুই মনে করে না (এ ব্যাপারে সিরিজের ৬ষ্ঠ পর্বে বিস্তারিত আছে)।
এবার আসুন, কোনো পুরুষকে কত টাকা দিলে সে একজন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধার সাথে শুতে চাইবে?
নিচে কিছু ভিডিও আছে, যেখানে একটা মেয়ে তার ভার্জিনিটি বিক্রি করতে চায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হল, যে কিনবে তার বয়স কত হতে হবে? সে বলল, এটা ব্যাপার না, যত ইচ্ছে বয়স হতে পারে। (রেফারেন্স-২)
আরেকটাতে দেখা যাচ্ছে , ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী বিয়ে করেছে ৬৯ বছর বয়সী একজনকে। (রেফারেন্স-৩)
চীনের ভিডিওতে বলছে, ছেলের বয়স ৯০ ও হতে পারে, কেবল বেইজিংয়ে বাড়ী থাকতে হবে আর ধনী হতে হবে।
এটা তো গায়ের জোরে চাপানোর বিষয় নয়, নারী পুরুষের বয়স দুটো দুই রকম জিনিস। এজন্য এসব বয়স্ক মহিলাদের দেখা যায় তরুণীদের মত সাজতে। একটা জরিপে দেখা যায়, গড়ে একজন ৪০ বছর বয়সী আমেরিকান মহিলা কস্মেটিক্সের জন্য বছরে ২৪০০ ডলার (প্রায় দুই লাখ টাকা) খরচ করে।
কিন্তু এতে কি লাভ? নিতান্ত নিরুপায় না হলে কেউ এইসব মহিলাদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
৭) কোরিয়া-জাপান-চায়নাঃ
একটা প্রশ্ন উঠতে পারে, কোরিয়া-জাপানের মহিলাদের বয়স তো চল্লিশেও কুড়ির মত দেখায়। তাহলে তো 'বয়সের দেয়াল' ব্যাপারটা কাজ করলো না। তারমানে যেহেতু তাদের রূপ কমছে না তাই 'এক্সপায়ারি ডেটের' সমসসাগুলো তাদের থাকার কথা নয়, রাইট? আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। বরং কোরিয়া জাপানের অবস্থা আরো খারাপ। নিচে কিছু ভিডিও দেয়া আছে,। জাপানে প্রচুর অ্যাপ আর ওয়েবসাইট আছে বয়ফ্রেন্ড, পুরুষ এমনকি একটা পরিবার ভাড়া করার জন্য। চীনে ৩০ পার হলেই সে মহিলার পদবী হয়ে যায় 'Leftover Women' সোজা বাংলায় যার অর্থ , এঁটো মহিলা, যাদের বিয়ে হওয়া খুবই কস্টকর। নিচে এরকম মহিলাদের বিয়ের হাটের একটা ভিডিও দিয়েছি।
৮) অপনোদনঃ
এখানে বলা হতে পারে , আমরা তো অনেক মহিলাকে দেখছি ৪০ পার করেও সুন্দরী, বিয়ে হচ্ছে। যেমন, জেনিফার লোপেজ। উত্তর হল, সবাই তো জেনিফার লোপেজ না। বরং এসব পরিস্থিতি সাধারণ মহিলাদের যাদের নারীবাদ গেলানো হচ্ছে। ধনীদের কিছুতেই কিছু হয় না। বরং দেখেছি টাকাওয়ালা কাউকে বিয়ে করতে নারীবাদ গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে।
একটা কথা বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে নারীবাদিদের ব্যাপারে-"ওদের কিছু বলার দরকার নেই, ঐ বয়সের দেয়ালই ওদের পরাজিত করবে"।
আজ এ পর্যন্তই। মুলতঃ সিরিজের ৪, ৫ ও ৬ ইন্টাররিলেটেড। একসাথে দেওয়া গেলে ভালো হত। কিন্তু অনেক বড় হয়ে যাওয়ায় সম্ভব হল না। তবে তিনটা একসাথে পড়লে কিছুটা আইডিয়া পাওয়া যাবে আশা করি।
কিছু কমেন্টসঃ
১। "প্রায় ১০ বছর আগে আমি একটা মেয়ের পিছে ঘুরেছিলাম। অনেক। কিন্তু প্রতিবার আমাকে না করে দিয়েছিল। তার বয়স তখন ছিল কুড়ির আশেপাশে। আমার প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না তার। এর পরিবর্তে ট্যাটুওয়ালা 'স্মার্ট' ছেলেদের সাথে ডেট করত। যারা ছিল একেকটা প্লেবয় এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা তাদের ছিলো না। কারণ তাদের পরিবার ছিল ধনী এবং তারা তাদের পরিবারের সাথে থাকতো।
১০ বছর পর তার বয়স এখন তিরিশের কাছাকাছি। হঠাত একদিন আমার কাছে আসলো এবং বলল, আমাকে নাকি তার ভালো লাগে। আমি মুখের উপর বলে দিলাম, তোমার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই , আমার কাছে আমার কর্মস্থল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং তোমার সাথে নস্ট করার মত সময় আমার মোটেও নেই।
আমার কথা শুনে তার মুখ চুপসে গেল। তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাত রেগে দুনিয়ার প্রায় সব গালাগালি আমাকে দিল আর কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।
পরে আমি তার মার কাছে শুনলাম, সে সারাজীবনই এরকম ছেলেদের নিয়ে খেলেছে। এখন রুপ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং মনে করছে কারো সাথে সেটেল হওয়া দরকার। আসলে তার এরকম একের পর এক ডেটে না গিয়ে কারো একজনের সাথে সংসার পাতা উচিত ছিল।
এখন পুরোপুরি ডিপ্রেশনে আছে। এই তিরিশ বছর বয়সেও বাবা-মায়ের বাড়ীতে থাকে। কিছুই করে না, প্রায় সারাদিন ঘুমায়। "
২। " আমি বহু বছর ধরে বারে কাজ করেছি। অনেক মেয়েকেই দেখেছি ২০ শের আশেপাশে থাকাকালীন যাদের কাছে পুরুষের ভিড় লেগে থাকতো। মেয়েগুলোও ছিল ওইরকম আজ এর গলায় তো কাল ওর গলায়। আজ একটু বেশী টাকাওয়ালা মানুষ দেখেছে তো গতকালকের জন বাদ, মানে টিস্যু পেপারের মত। এই মেয়েগুলোরই বয়স যখন ৩০ শে পৌঁছালো, তখন দেখা যাচ্ছে পার্টিতে তাদের সাথে আর কেউই নাচতে চায় না, কারো কাছে ঘেষতে গেলেও হাত সরিয়ে দেয়, বরং অধিকাংশ পুরুষের আগ্রহ নতুন আসা কলেজপড়ুয়া মেয়েগুলোর দিকে। তখন এই মহিলাগুলো পুরো মাতাল হয়ে বারের এক কোনায় ঢুলতে থাকে। "
৩। "আমি একজন শেতাঙ্গ পুরুষ, বয়স ৫৯ এ পড়লো এবার। আমার ৪ জন গার্লফ্রেন্ড আছে। আমি সেমি-রিটায়ারড, বিয়ে করিনি। আমার কোনো লোন নেই, মেয়েগুলোকে দেবার মত প্রচুর সময় আর টাকা আছে। আমি বলছি বন্ধুরা, ২৫শের উপরে যেকোনো মেয়েই বাতিল লটারির টিকেট। "
৪। "আমার কাজিনের বেলাতেও একিরকম ঘটেছে। যযখন তার বয়স ছিল ২৩, একটা ছেলের সাথে রিলেশন ছিলো। কিন্তু আমার কাজিন সে 'সাধারণ' বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করতে চায়নি, ডাম্প করলো।এরপর একের পর এক 'ধনী' বয়ফ্রেন্ড যেমন মিউজিশিয়ান, কার ডিলারদের সাথে ডেট করেছে। ১০ বছর পর এখন তার বয়স ৩৩, তার বয়ফ্রেন্ডরা সবাই তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন সে আগের বয়ফ্রেন্ডের কাছে ফিরতে চায়। কিন্তু সেই ছেলে এক্জন ২৪ বছর বয়সী ইয়োগা টিচারের সাথে এঙ্গেজড। আমার কাজি্নকে 'গোণায় ধরার' সময় তার নেই।"
৫। " গতকালকেই আমাকে একটা বেশ বয়স্ক মহিলা জিজ্ঞেস করলো," তোমার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে?"
আমি বললাম, না।
-কেন?
সেরকম মেয়ে পাচ্ছি না, যার সাথে বিয়ে করে বাচ্চা নিয়ে একটা সুখী পরিবার গড়া যায়।
-তুমি কি বয়স্ক মেয়ে পছন্দ করো?
আমি বুঝে গেলাম কি বলতে চাইছে। একেবারে মন খুলে কয়েকটা কথা বলে ফেললাম। এখানে দিয়ে দিচ্ছি, "একদমই না, কারণ সে আমাকে কিছুই দিতে পারবে না, অপদার্থ। না দিতে পারবে কোনো বাচ্চা , না লাইফে কোনো মজা থাকবে। একটাই জিনিস থাকবে, সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে এসে বকবক করা বিরক্তিকর বুড়ির ড্রামা সহ্য করতে হবে। আমার ওই ফালতু জিনিসের দরকার নেই। আমি যথেষ্ট যুবক, আমি ২৪ বছরের কোনো মেয়েকে খুজে নিতে পারবো। পারলে আর কোনো বোকাকে খুজে বের করো , বুড়ি কোথাকার।" বুড়ি বলাতে এত রেগে গিয়েছিল, তার অই ফেসটা আমার এখনও মনে পড়লে হাসি লাগছে।"
৬। "মেয়েদের বেলায় একটাই জিনিসের গুরুত্ব আছে তা হল সে কতটা ইয়াং আর সুন্দরী। তার টাকা, ক্যারিয়ার এগুলোর ভ্যালু নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ৩৫ বছর বয়সী একটা শপের মালিক মহিলার চাইতে ওই দোকানের ২৩ বছর বয়সী সেলস গার্লের সাথেই সবাই ডেট করতে চাইবে। যদিও তার মালিকের মত অত টাকা নেই।"


SHARE

Author: verified_user