আল্লাহু আকবার তথা তাকবীরের মর্ম, ফজীলত ও মাহাত্ম্য

 তাকবীরের মর্ম, ফজীলত ও মাহাত্ম্য:

তাকবীর হচ্ছে ইসলামের অন্যতম শি'আর এবং মুসলিমদের বিজয় ও সভ্যতার ঐতিহ্য।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন,
﴿وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴾
'যেন তোমরা (রোযার) নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে হিদায়াত তথা সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ (মহিমা বর্ণনা) কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার।'
[সূরা বাকারাহ: ১৮৫]
অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতের নিয়ামত পাওয়ার কারণে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তাকবীর দিয়ে আল্লাহর মহানুভবতা ও বড়ত্ব প্রকাশ কর।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও ইরশাদ করেন,
وَ کَبِّرۡهُ تَکۡبِیۡرًا
'সুতরাং স্বসম্ভ্রমে তাঁর তাকবীর দাও (অর্থাৎ মাহাত্ম্য ঘোষণা কর)।'
[সূরা বানী ইসরাইল: ১১১]
এই আয়াতের তাফসীরে উমর ইবনুল খত্ত্বাব রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত,
"বান্দার 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি, দুনিয়া ও তার মাঝে যা কিছু রয়েছে সব কিছুর চাইতেও অধিক উত্তম ও কল্যাণকর।"
قولُ العبد: الله أكبر خيرٌ من الدنيا وما فيها
[তাফসীরে কুরতুবী ১০/৩৪৫; ফাতহুল বারী, ইবনু রাজাব আল হাম্বলী ৮/৯]
ইমাম ইবনু হাজার আসক্বালানী রহ. বলেন,
'প্রত্যেক ভীতিকর পরিস্থিতিতে, আনন্দঘন ঘটনায়, আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপনে এবং আল্লাহর শত্রুরা তাঁর সাথে যেসব অবান্তর বিষয় সম্পৃক্ত করে তা থেকে বারাআত (সম্পর্কচ্ছেদ) ঘোষণায় তাকবীর হচ্ছে মাসূর (সুন্নাহ সম্মত) যিকির।'
التكبير: "ذكرٌ مأثورٌ عند كل أمرٍ مهُول، وعند كل حادِثِ سُرورٍ، شُكرًا لله تعالى، وتبرئةً له من كل ما نَسَبَ إليه أعداؤُه"
[ফাতহুল বারী ২/৪৩৮]
নতুন চাঁদ দেখলে তাকবীর দিয়ে দুয়া শুরু করতে হয়:
ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, নতুন চাঁদ দেখা গেলে নবীজি ﷺ এইভাবে তাকবীর দিয়ে দুয়া শুরু করতেন,
اللَّهُ أكْبَرُ، اللَّهُمَّ أهِلَّهُ عَلَيْنا بالأمْنِ والإِيْمَانِ والسَّلامَةِ والإِسلامِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبُّنا وَرَبُّكَ اللَّهُ.
[মুসনাদে দারেমী:১৭২৯; জামে তিরমিযী:৩৪৫১; সহীহ ইবনে হিব্বান:৮৮৮; মুস্তাদরাকে হাকেম:৭৭৬৭; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১৩৯ হা:১৭১৪৮ - এই হাদীসের সনদে উসমান ইবনে ইবরাহীম আল হাত্বেবী যঈফ রাবী।আর বাকি সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য। সনদটিকে ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম রহ. 'লীন', ইমাম ইবনু হাজার 'যঈফ' আখ্যায়িত করেছেন। তবে শাহেদ থাকার কারণে শাইখ আলবানী সহ কতিপয় মুহাদ্দিস একে 'হাসান' আখ্যায়িত করেছেন। (যাদুল মা' ২/৩৬১; আল ইসাবাহ, আসক্বালানী ৩/৪৩৬; আল ফুতুহাতুর রব্বানিয়া আলাল আযকারিন নাবাবিয়াহ ৪/৩৩০; তাখরীজুল কালিমিত ত্বইয়্যিব, আলবানী পৃ.২৩৮ হা:১৬২)]




ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন,
'তারা যখন শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতেন (অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখতেন) তখন লোকেরা সমবেত হয়ে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের, বাজারে, রাস্তা-ঘাট ও বাড়িতে হোক মুসাফির হোক মুকীম (সকলেই) তাকবীর পড়তেন। যেখানেই তারা থাকতেন সেখানেই এবং খুশি প্রকাশ করতে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকতেন। এভাবে তারা ফজরের সলাতের জন্য মসজিদে প্রবেশ করার পর্যন্ত তাকবীর দিতেন। এমনকি ইমাম সাহেব ফজরের সলাত পড়িয়ে বের হয়ে যাওয়ার পরেও তাকবীর দিতেন। এরপর আর তাকবীর দিতেন না।'
" فإذا رأوا هلال شوَّال أحببت أن يكبر الناس : جماعة وفرادى ، في المسجد ، والأسواق، والطرق، والمنازل، ومسافرين، ومقيمين في كل حال، وأين كانوا، وأن يظهروا التكبير، ولا يزالون يكبرون حتى يغدوا إلى المصلى، وبعد الغدو حتى يخرج الإمام للصلاة ، ثم يَدَعوا التكبير " .
[কিতাবুল উম্ম, শাফেয়ী ১/২৬৪]
যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনে তাকবীর:
যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন খুবই বরকতময়। যা কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত। আর এই ১০ দিনে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হচ্ছে, বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদ সম্বলিত যিকির।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
'এই দশদিন অপেক্ষায় আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান দিন আর নেই। এবং এই দশদিনে কৃত নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিকতর পছন্দের। সুতরাং এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়।'
مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ؛ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ والتحميد.
[মুসনাদে আহমাদ:৬১৫৪- ইবনু হাজার তাঁর 'আল আমালী আল মুতলাক্বাহ (পৃ.১৪) - তে বলেন, এই হাদীসটির মান হাসান পর্যায়ের।]
এই দশদিনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমর এবং আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুমা বাজারে যেতেন এবং উচ্চস্বরে তাকবীর দিতেন। এবং তাদের তাকবীর শুনে বাজারে উপস্থিত লোকেরাও তাকবীর দিতেন।
كان ابنُ عمرَ وأبو هريرةَ يخرجانِ إلى السوقِ في أيامِ العشرِ يُكبرانِ ويكبرُ الناسُ بتكبيرِهما
[সহীহ বুখারী (তা'লীক) ২/২০- সনদ সহীহ।]
তাকবীর বললে জান্নাতের সু-সংবাদ:
নবীজি ﷺ থেকে বর্ণিত,
'উচ্চস্বরে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারী (অনেকের মতে, হজ্জ ও ওমরার সময় উচ্চ আওয়াজে তালবিয়া পাঠকারী) এবং আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণায় (উচ্চস্বরে) তাকবীর পাঠকারী সু-সংবাদ প্রাপ্ত হয়। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল ﷺ জান্নাতের সু-সংবাদ? তিনি ﷺ বললেন, হ্যাঁ!'
ما أَهَلَّ مُهِلٌّ قطُّ إلَّا بُشِّرَ ، ولا كَبَّرَ مُكَبِّرٌ قطُّ إلَّا بُشِّرَ ، قيل : بالجنةِ ؟ قال : نَعَمْ
[মু'জামুল আওসাত্ব, ত্ববারানী: ৭৭৭৯; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/২২৪ - ইমাম মুনযিরী রহ. এই সনদের রাবীদের "إسناده رجال الصحيح" তথা বুখারীর রাবী আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়াও শাইখ আলবানী তাঁর আস সিলসিলাহ সহীহায় (৪/১৫৫ হা:১৬২১) এর সনদকে 'হাসান' বলেছেন। এবং মুহাম্মাদ ইবনু উসমান ইবনু আবী শাইবাহ ব্যতীত এই সনদের বাকী রাবীদের সিক্বাহ ও সহীহ বুখারী, মুসলিমের রাবী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।]
উঁচু স্থানে উঠার সময়, আরোহনের পশুতে আরোহী হওয়ার সময় এবং সফরে বের হওয়ার সময় তাকবীর:
আলী ইবনু রবী‘আহ (রাদি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম, আলী (রাদি.)-এর কাছে আরোহণের একটি পশু আনা হলে তিনি এর পা-দানিতে পা রাখতেই বললেন, ‘বিসমিল্লাহ’ এবং এর পিঠে চড়ে সোজা হয়ে বসে বললেন, ‘আল-হামদুলিল্লাহ।’ অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়লেনঃ
﴿ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴾
‘‘মহান পবিত্র তিনি, যিনি একে আমাদের অনুগত বানিয়েছেন, তা না হলে একে বশ করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের রবের নিকট ফিরে যেতে হবে।’’
[সূরা যুখরুফ: ১৩-১৪]
পুনরায় তিনি তিনবার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন। অতঃপর বললেন,
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
‘(হে আল্লাহ!) আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমিই আমার উপর যুলুম করেছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি ছাড়া কেউই গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’
অতঃপর তিনি হেসে দিলেন।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেন, আমি যেরূপ করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কেও এরূপ করতে দেখেছি। তিনি তখন হেসেছিলেন তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দার উপর সন্তুষ্ট হন যখন সে বলেঃ
اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي
‘‘(হে আমার রব!) আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করুন।’’
বান্দা এটাই জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া কেউই গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না!
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ: شَهِدْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، ثُمَّ قَالَ: (سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ) [الزخرف: ١٤]، ثُمَّ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - ثُمَّ قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ - ثَلَاثَ مَرَّاتٍ - ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. ثُمَّ ضَحِكَ فَقِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ. ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي
[সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল জিহাদ হা:২৬০২- সনদ সহীহ।]
আর সহীহ মুসলিমের হাদীসটিতে আরোহনে সোজা হয়ে বসার পর প্রথমে তিনবার তাকবীর বলার বর্ণনা রয়েছে। এরপর নিম্নোক্ত দুয়া পড়ার কথা উল্লেখ করা আছে।
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ كَبَّرَ ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ ‏"‏ ‏.‏ وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ ‏.‏ وَزَادَ فِيهِنَّ ‏"‏ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ ‏"‏ ‏.‏
[সহীহ মুসলিম:১৩৪২; মিরকাতুল মাফাতীহ: ২৪২০]
কোন উঁচু স্থানে উঠার সময়েও রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকবীর পড়তেন।
أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا قَفَلَ مِنْ غَزْوٍ أَوْ حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنْ الأَرْضِ ثَلاَثَ تَكْبِيرَاتٍ ثُمَّ يَقُولُ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাদি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ যখনই কোন যুদ্ধ, বা হজ্জ অথবা ওমরাহ হতে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং পরে বলতেন :
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ سَاجِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ صَدَقَ اللهُ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ
অর্থাৎ ‘‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী ও তওবা্কারী, ‘ইবাদতকারী, আমাদের প্রভুর উদ্দেশে সিজদা্কারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, স্বীয় বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন।’’
[সহীহ বুখারী: ১৭৯৭]
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি তোমাকে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অবলম্বনের এবং প্রতিটি উচুঁ স্থানে আরোহণকালে তাকবীর ধ্বনি করার জন্য উপদেশ দিচ্ছি।
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ ‏ "‏ أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ ‏"‏ ‏
[জামে তিরমিযী: ৩৩৪৫; সুনানে ইবনে মাজাহ (কিতাবুল জিহাদ, বাবু ফাদ্বলিল হারাসি ওয়াত তাকবীর ফী সাবিলিল্লাহ) হা:২৭৭১- সনদ হাসান।]
পশু কুরবানীর সময় তাকবীর:
আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত,
নবী ﷺ দু’টি সাদা-কালো রং এর ভেড়া দ্বারা কুরবানী করেছেন। তখন আমি তাঁকে দেখতে পেলাম তিনি ভেড়া দু’টোর পার্শ্বে পা রেখে ‘বিস্‌মিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার’ পড়ে তাঁর নিজ হাতে সে দু’টোকে যবেহ্ করেন।
ضَحّٰى النَّبِيُّ ﷺ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ فَرَأَيْتُه“ وَاضِعًا قَدَمَه“ عَلٰى صِفَاحِهِمَا يُسَمِّي وَيُكَبِّرُ فَذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ.
و في رواية مسلم: عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَيَقُولُ ‏ "‏ بِاسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏
[সহীহ বুখারী: ৫৫৫৮; সহীহ মুসলিম: ১৯৬৬; সুনানে নাসায়ী: ৪৩৮৭]
আগুন লাগা দেখলে তাকবীর পাঠ:
নবী ﷺ থেকে বর্ণিত,
যদি তোমরা কোথাও আগুন লাগতে দেখ, তবে তাকবীর পাঠ কর। কেননা তাকবীবের বরকতে আগুন নিভে যাবে!
إِذَا رأيْتُمُ الحَرِيقَ فَكَبِّرُوا فَإِنَّ التَّكْبِيرَ يُطْفئُهُ
[মাকাসিদুল হাসানাহ, সাখাবী ১/৮৬ হা:৬৩; আদ দুয়া, ত্বাবারানী হা:১০০১-১০০৩ ; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী: ২৮৯-২৯৬ - ইমাম মুনাবী রহ. তাঁর ফয়জুল কদীরে এর সনদ যঈফ বললেও অনেক মুহাদ্দিসদের নিকট হাদীসটির মান 'হাসান' অপেক্ষায় নিচে নয়।]
তাকবীর পাঠে আল্লাহর আসমানের (রহমতের) দরজা খুলে যায়:
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ সাথে এর সালাত আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً
অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করতে হবে।।
(সলাত শেষে) রসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, এ কথাগুলো কে বলল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমিই ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের (রহমতের) দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল।
'আবদুল্লাহ ইবনু উমার বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ ﷺ-কে এ কথাগুলো বলতে শোনার পর থেকে তার ওপর আমল করা কখনো ছাড়িনি।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذْ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ مَنِ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ عَجِبْتُ لَهَا فُتِحَتْ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ ذَلِكَ ‏.
[সহীহ মুসলিম: ৬০১]
তাকবীর আসমান ও যমীনের মাঝে নেকীতে পূর্ণ করে দেয়:
হাদীস শরীফে এসেছে,
'তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) মীযানের পাল্লাকে অর্ধেক নেকীতে ভরে দিবে। আর আলহামদুলিল্লাহ পুরো মীযানের পাল্লাকেই নেকীতে ভরে দিবে। আর তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আসমান ও যমীনের মাঝে নেকীতে পূর্ণ করবে!'
التَّسْبِيحُ نِصْفُ المِيزَانِ، وَالْحَمْدُ يَمْلَؤُهُ، وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ
[জামে তিরমিযী: ৩৫১৯; মুসনাদে আহমাদ ৩৮/১৭০ হা:২৩০৭৩ (১৭৯১৮,২২৪৭০,২২৪৯৭,২২৫৩৫, ২২৫৫৬) - হাদীসটির সনদ কারো কারো মতে যঈফ হলেও একাধিক সূত্র বিদ্যমান থাকায় হাদীসটির সনদ হাসান পর্যায়ের।]
তাকবীর আল্লাহর সর্বাধিক পছন্দের বাক্য সমূহের মাঝে অন্যতম:
নবীজি ﷺ বলেন,
আল্লাহর নিকট চারটি বাক্য সর্বাধিক পছন্দের: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এবং আল্লাহু আকবার।
أَحَبُّ الكَلامِ إلى اللهِ أرْبَعٌ: سُبْحانَ اللهِ، والْحَمْدُ لِلَّهِ، ولا إلَهَ إلَّا اللَّهُ، واللَّهُ أكْبَرُ.
[সহীহ মুসলিম: ২১৩৭]
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবীরা।
- Abdullah Al Mamun

Powered by Blogger.