সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার উপকারিতা অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কিভাবে ভালো কাজে ইউজ করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার উপকারিতা অপব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কিভাবে ভালো কাজে ইউজ করবেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধা

  1. সোশ্যাল মিডিয়ার উপকারিতা
  2. সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার
  3. সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার
  4. বিতর্ক প্রতিযোগিতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  5. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধা
  6. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কি বুঝায় 
  7. সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার


সোশ্যাল মিডিয়া কিভাবে ভালো কাজে ইউজ করবেন? 

এখন ইন্টারনেট এর যুগে বিশ্ব সমাজে খুব শক্তিশালী একটি নাম হলো সোশ্যাল মিডিয়া।
এর মাধ্যমে যেমন ভালো কাজ করা যায় আবার খারাপ কাজ ও করা যায়।

আজকে জানাবো কিভাবে  সোশ্যাল মিডিয়া কে ভালো কাজে লাগাতে পারেন তার কিছু উপায়।


প্রথমে জানি সোশ্যাল মিডিয়া কাকে বলে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলতে কি বুঝায় ?
সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করার মিডিয়া বা মাদ্ধম ই হলো সোশ্যাল মিডিয়া। একজন আরেকজনের সাথে কথা , ছবি, ভিডিও শেয়ার এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে রক্ষা করে এসব সাইট বা এপ দিয়ে। বলা যায় এজন্যই এসব সোশ্যাল মিডিয়া।

সোশ্যাল মিডিয়া লিস্টঃ

  1. ফেসবুক
  2. টুইটার
  3. ইন্সটাগ্রাম
  4. পিন্টারেস্ট
  5. ইউটিউব 
আমাদের মাঝে আসলে ফেসবুক ই বেশি পরিচিত। টুইটার খুব একটা কেউ ইউজ করে না, অনেকে একাউন্ট খুলে রেখে দেয়। আর পিন্টারেস্ট সাধারন মানুষ ইউজ ই করেনা মনে হয়। যারা অনলাইন মারকেটার তারাই নিজেদের কাজে ইউজ করে।
তবে ইন্সটাগ্রাম ইউজ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে হালকার উপর ঝাপসা জানা শেষ। এবার মূল কথা শুরু।
আমি এই পোস্টে যা যা বলবো তা সবই একই ভাবে ফেসবুক টুইটার ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি মিডিয়ায় সেম ভাবে কাজে লাগানো যায়/যাবে। তাই আলাদা করে না বলে একই সাথে বলবো।

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার উপকারিতা

১।  সকল সোশ্যাল মিডিয়া তে ছবি শেয়ার করা যায়। আপনি ভালো মানের অথেন্টিক ইসলামিক বিভিন্ন আমল এর ছবি আপনার পেজ বা আইডি থেকে শেয়ার করতে পারেন।
যেমন ধরেন অনেক ভাই ই বিভিন্ন বিশেষ দিনের রোজা/ সালাত ইত্যাদির কথা জানিয়ে দিয়ে পোস্ট করে। এসব দেখে অনেকে আছে যারা আগে জানতো না কিন্তু পোস্ট দেখে জানতে পেরে রোজা রাখলো। এর ফলে কিন্তু যেই ভাই জানিয়ে পোস্ট দিলো সেও সওয়াব এর ভাগ পেলো।

বিভিন্ন সচেতনতামূলক ছবি বানিয়ে সেসব শেয়ার করতে পারেন। মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করতে পারেন।

কোন ফলের কি সুবিধা এমন লেখা ছবি হইতো দেখে থাকবেন। ঠিক একই রকম আইদিয়া দিয়ে  বিভিন্ন গাছ, মাটি পাথর ইত্যাদির ব্যাবহার জানিয়ে ছবি বানান।

মূল কথা হচ্ছে মানুষের উপকার হবে এমন ছবি বানিয়ে ছড়িয়ে দিন। তবে মন ছবি ছড়াবেন না যা পরে আক্ষেপের কারন হয়। ছবিতে মেয়েদের ছবি এড়িয়ে চলুন নইতো আপনি মরার পরেও সেসব ছবির কারনে পাপ হতে থাকবে।

দেখুন এখন অনেকে বড় বড় লেখা পড়তে চাই না, কিন্তু ছোট একটা ছবি কিছুক্ষন দেখেই অনেক তথ্য জানতে পারে এমন ছবি দেখে এবং শেয়ার করে। অল্প কথায় বেশি ইনফরমেশন ।
ইনফোগ্রাফিক্স বানাতে পারলে তো আরো ভালো।

২। ভিডিও। জি ভিডিও বানান। তবে আপনাকে বাংলাদেশের খবিশ ব্রাউন কাতলা ফিশ হইতে হবে না, অন্যকে পচিয়ে গীবত করে রস্টিং এর নাম দিয়ে ফেমাস হওয়ার ও দরকার নাই। আপনি সোশ্যাল মিডিয়া কে ভালো কাজে লাগাতে চান, খারাপ কাজে না তাই না?
আপনি ছোট ছোট ভিডিও বানান ইনফরমেশন দিয়ে দিয়ে। নিজে ভয়েস দিতে পারলে ভালো না পারলেও সমস্যা নাই শুধু মিউজিক দিয়েন না। 
যারা ভালো কাজে ভিডিও বানাতে চান তারা Kinemastar মোবাইল এপ দিয়ে ভালো ভিডিও বানাতে পারবেন।
যারা পিসি ইউজ করেন তারা Camtasia ইউজ করতে পারেন।
সহজ আর তুলনামূলক হালকা।

৩। রিপোর্টঃ এক সময় ফেসবুক  এ অনেক এডাল্ট গল্পের পেজ ছিলো। কিছু ভাই আর আপুদের একটা গ্রুপ ছিলো সেসব নির্মূল করার জন্য। তারা সবাই এক জোট হয়ে একটা একটা করে পেজ কে রিপোর্ট করে করে সেই পেজ রিমুভ করতো। এখন আগের মত তেমন ফালতু পেজ নেই থাকলেও এক্টিভিটি কম।
আপনিও তেমন কিছু করতে পারেন। গ্রুপ লাগবেনা, ঠিক মত ঠিক খবিশ আইডি ধরতে পারলে আপনার একার রিপোর্ট ই এনাফ আইডি গায়েব করতে। তাছাড়া আপনার মত আরো অনেকে রিপোর্ট করছে আগে বা পরে করবে ফলে ফেসবুক বা অন্য সাইট ঠিকি সেই আইডি কে নজরে রাখবে।
আমি নিজে টুইটার এর অনেক আইডি একা একা রিপোর্ট করে রিমুভ করছি।

৪।  লাইক কমেন্টঃ লাইক করুন কমেন্ট করুন শেয়ার করুন এসব কথা এখন অনলাইনে খুবই বেশি শুনা যায়। তবে আপনি কি আম জাম সবাইকে লাইক দিবেন?

 একটা উদাহরণ দেয়,
ধরুন আমি একটা নাটক দেখবো যদিও তা হারাম কিন্তু আগের অভ্যাস এর কারনে এখনো পুরো পুরি ছাড়তে পারিনি তাই অনেকদিন পর একটা দেখবো!
এখন নাটক দেখে আমার ভালো লাগছে!

এরপর আমার কি করা উচিত?
ভালো লাগছে তাই সেই নাটক লাইক দিবো? বন্ধুধের জানাবো Watching ওমুক নাটক?
তাহলে আপনি যে একবার দেখছেন তার সাথে সাথে আপনার শেয়ার এর ফলে আরো যারা দেখবে সবার দেখার পাপ এর অংশ আপনি পাবেন! 
কোন দরকার আছে ফ্রি তে পাপ বৃদ্ধি করে?

একা একা পাপ করলে একার পাপ ১০ জনের মধ্যে পাপ এর সেই পথ দেখিয়ে দিলে ১০ জনের পাপ ই আপনার সাথে আসবে কেননা আপ্নিই তাদের পাপের খোজ দিছেন।

আবার ধরেন আপনার দেওয়া ঐ নাটকে লাইক কমেন্ট এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ( Youtube) এর এলগোরিদম বুঝবে এটা বেশি ইউজার ভালো লাগছে তাই আরো বেশি  মানুষের কাছে পৌছিয়ে দেয়!
অথচ আপনি লাইক এর বদলে আনলাইক দিলে ইউটিউব বুঝতো আপনার কাছে তথা একজন ইউজার এর কাছে সেই নাটক ভালো লাগেনি তাই সেই নাটক এর রিচ কমিয়ে দিতো ফলে নাটকটি কম মানুষের কাছে পৌছাতে পারতো।

আপনি নাটক মুভি গান এসব থেকে দূরে থাকেন এটাই ভালো। কিন্তু কোন কারনে যদি সেসবে যেতেই হয় তাহলে অবশ্যয় লাইক না দিয়ে আনলাইক করবেন, কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকবেন, ভুলেও শেয়ার দিবেন না। ভালো হয় ডাউনলোড করে দেখেন! কারন ১০ মিনিটের ভিডিও যদি আপনি ১ মিনিট দেখেই স্কিপ করেন তাহলেও এলগোরিদম বুঝবে এই ভিডিও ইউজারদের কাছে ভালো লাগছে না ফলে রিচ কমবে।

আর এর ঠিক উল্টোটা করবেন ইসলামিক লেখা ছবি ভিডিও এর ক্ষেত্রে।
যারা ইসলামিক পোস্ট দেয় তাদের লাইক দেন শেয়ার দেন যাতে তাদের রিচ বাড়ে, ভিডিও একবার এর জায়গায় কয়েকবার করে দেখেন। না দেখতে চাইলে ভিডিও ছেড়ে রাখুন এতে ভিউ বাড়বে।

একটা দেশের ফ্যান রা এসব করে। একই ভিডিও বারবার চালু করে করে ভিউ বাড়ায়, ট্রেন্ডে আনে।
আপনিও তেমন করুন ইসলামিক ভিডিও তে।


৫। উৎসাহ দিন। আমি আপনি সবাই পাপি তাই বলে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া থেমে থাকবে?
তুমি পাপি তুমি অমুক দেখো তমুক দেখো তোমার মুখে উপদেশ মানায় না ব্লা ব্লা এসব শয়তানের ফাদ। ও আমাদের পাপ করার আবার ভালো কাজে উৎসাহ দেয়া থেকে বিরত রাখে।
আপনি নিজে ভালো কয়াজ করুন আর অন্যদের কেও ভালো কাজে হেল্প করুন

সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম সমস্যা ডিপ্রেশনঃ 

বেশি কিছুর দরকার নেই। জীবনে ‘প্রত্যাশা’র পরিমাণটা কমিয়ে দিন। অল্পে তুষ্ট থাকুন। মনটা ফুরফুরে থাকবে। ডিপ্রেশন থেকে অনেকাংশে বেঁচে যাবেন, ইনশাআল্লাহ্।
.
একবার শুধু মন দিয়ে ভাবুন—আমাদের বেঁচে থাকার কী গ্যারান্টি আছে? হঠাৎ করেই তো জীবনের রঙ বদলে যায়; গন্তব্য ভিন্ন হয়ে যায়। কেন তাহলে আমরা জীবন নিয়ে এত এত স্বপ্ন দেখি? অথচ মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যু আমাদের সকল স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়!
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথা মনকে রিফ্রেশ করে। তাঁর কথাটি যে ভাববে, সে নিজেকে হালকা মনে করবে। তিনি বলেছেন, এমন কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই, যা মৃত্যুর স্মরণ দ্বারা দূর করা যায় না।
.
অর্থাৎ, আপনি যত দুঃখ-কষ্ট বা বিপদ-আপদেই থাকুন না কেনো, যখন মনের গভীর থেকে উপলব্ধির সাথে মৃত্যুর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন আর কোনো দুঃখ-কষ্টেই আপনি ভেঙে পড়বেন না। কারণ, মৃত্যুর চেয়ে বড় বিপদ আর নেই। অথচ, সেটি যেকোনো মুহূর্তেই আসতে পারে।
.
আমি আপনাদের বলছি না, মৃত্যুর ভয়ে জীবনটাকে শুকনো করে ফেলুন। তবে, জীবনের দুঃখ-কষ্টের অনুভূতিকে হালকা করতে এবং আখিরাতমুখী জীবনের মোটিভেশন পেতে মৃত্যুকে স্মরণ করতেই হবে। মৃত্যুর স্মরণের মাধ্যমে আমরা গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবো এবং আল্লাহর সাক্ষাতের জন্য উদগ্রীব হতে পারবো। ইনশাআল্লাহ্।
.
#Tasbeeh
Powered by Blogger.