নফস কাকে বলে এবং নফস থেকে বাচার উপায় সমূহ

নফসের কুমন্ত্রনা থেকে বাঁচার উপায় সকল পর্ব একত্রেঃ নফস কাকে বলে এবং নফস থেকে বাচার উপায় সমূহ

  1. নফসের পরিচয়
  2. নফসের অবস্থান
  3. নফসের নিয়ন্ত্রণ
  4. নফসের প্রকারভেদ
  5. নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ
  6. নফস কাকে বলে
  7. নফসের বিরুদ্ধে কিভাবে যাওয়া যায়


মানুষের জীবনের দুটি বড় শত্রু রয়েছে,
যথাঃ
১/ নাফস
২/ শয়তান।
এই নফস ও শয়তান দুটোই প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে নানান গুনাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। নফস ভিতর থেকে উদ্বুদ্ধ করে আর শয়তান সেটিকে আমাদের সামনে আকর্ষণীয় করে তুলে তাতে লিপ্ত করায়। নফস ও শয়তান দুটোই আমাদের শত্রু। তবে নফস শয়তানের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর শত্রু। কেন ভয়ঙ্কর জানেন ভাই? কারণ, এই নফসই শয়তানকে শয়তান বানিয়েছে। শয়তানের আগে তো আর কোন শয়তান ছিল না। এই নফসই শয়তানকে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পরিণামে সে চিরকালের জন্য অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়েছে। কাজেই আমাদের এই নাফসের তাজকিয়া দরকার।
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আল্লাহর রাসুল (স) কে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি দায়িত্ব ছিল "মানুষের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করা "
আল্লাহ সুবহানু তায়ালা একই সুরাতে সাতবার কসম খেয়ে বলেছেন
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্বাকে পরিশুদ্ধ করেছে। [সুরা শামস ৯১:৯]
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
এবং সেই ব্যর্থ হয়েছে যে নিজ আত্বাকে কলূশিত করেছে । [সুরা শামস ৯১:১০]
কাজেই আমরা যদি নিজেদের সফলকাম করতে চাই, ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে চাই তাহলে আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

আর নফসের একটা বৈশিস্ট হচ্ছে, সে সব সময় খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত করবে । কিন্তু ভালো কাজের দিকে আহবান করবে না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন) وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَّحِيمٌ. আমি নিজের নফসকে পবিত্র মনে করি না। নিশ্চয়ই নফস (সবাইকেই) মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, একমাত্র ওই ব্যক্তি ছাড়া যার প্রতি আমার প্রতিপালক অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা ইউসুফ: ৫৩)
.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা যার প্রতি দয়া করেন, কেবল সে-ই নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

সুবাহান'আল্লাহ! আমরা একবার আমাদের কথা চিন্তা করি ভাই । যেখানে আল্লাহর নবী (আ) এই কথা বলছেন, যে তিনি তাঁর নফস কে পবিত্র মনে করেন না । সেখানে আমাদের অবস্থা কি?

আমাদের হালত তো এই আমরা আমাদের নসকে পবিত্র করার চিন্তাও করি না।
আমাদের ভাইদের মধ্যে মাশা'আল্লাহ, অন্যান্য ব্যাপারে পড়ার আগ্রহ আছে। কিন্তু যখন তাযকিয়ার ব্যাপারে বলা হয় । তখন আমাদের আলসেমি চলে আসে।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক, আমিন । অথচ উচিত ছিলো আমাদের নফস কে পরিশুদ্ধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

এরপর শাইখ বলেন, তো ভাই, যদিও নফস আমাদের খুবই ভয়ঙ্কর এক শত্রু তবে তার কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য কিছু আমলও আছে। আমরা যদি সেই আমলগুলো যথাযথভাবে করতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের নফসের সকল কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকতে পারবো।

১ম আমলঃ বেশি বেশি ইস্তিগফার করা ও সব ধরণের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা।
আসলে ইস্তিগফার এমন একটা দোয়া, এমন একটা মিশাইল, এমন একটা অব্যার্থ ঔষধ যা শুধু আপনার গুনাহকেই ধ্বংস করে দেবেনা বরং আপনার পেরেশানিও দূর করে দেবে। এটা খুব পরীক্ষিত একটি আমল।যাদের ডিপ্রশন, বিয়ে, রিজিক নিয়ে পেরেশানি আছে, তারা বেশী বেশী ইস্তেগফার করতে পারেন ইনশা'আল্লাহ।

সব থেকে ভাল হয় একটা এমাউন্ট ঠিক করে নেওয়া (এই এমাউন্ট সুন্নাহ এমন মনে না করে), যেমন ধরেন আমি দিনে এক হাজারবার অথবা দুই হাজার বার ইস্তেগফার করবো এভাবে।আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ أُولَٰئِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

তারা কখনও কোনও অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা (কোনও মন্দ কাজে জড়িত হয়ে) নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কে আছে? আর তারা যা করেছে, জেনে-শুনে তা বার বার করে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রস্রবণ। যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সৎকর্মশীলদের পুরষ্কার কতই না চমৎকার। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬)

এই আয়াত টা একটু খেয়াল করি ইনশা'আল্লাহ, আল্লাহ আমাদের কিভাবে ডাকছেন,"আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কে আছে? আর তারা যা করেছে, জেনে-শুনে তা বার বার করে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে দিয়ে প্রবাহিত হবে প্রসবণ। যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সৎকর্মশীলদের পুরষ্কার কতই না চমৎকার।"

ভাইয়েরা, গুনাহ ছাড়া কোন মানুষ হয় না। আমরা প্রত্যেকে গুনাহগার । কিন্তু আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আমাদের আশা দেখেচ্ছেন যে আমরা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তিনি মাফ করে দেবেন আর পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দেবেন।

আমরা আমাদের অন্তরে জান্নাতের আশা রাখব, আরেক দিকে আমাদের ভয় থাকতে যে, যেখানে আল্লাহর রাসুল (স) দিনে শতবার ইস্তেগফার করতেন তাহলে আমি কে?
আপনাদের সবারই সে দীর্ঘ্য হাদিস জানা, কাজেই সেদিকে যাচ্ছিনা (হাদিসে জিব্রিলের দিকে ইংগিত করে) । এটা হচ্ছে জান্নাতের আশা।

আমরা আমাদের অন্তরে জান্নাতের আশা রাখব । আরেক দিকে আমাদের ভয় থাকতে যে, যেখানে আল্লাহর রাসুল দিনে হাজারবার ইস্তেগফার করতেন তাহলে আমি কে? কি আমাকে বিরত রেখেছে ইস্তেগফার থেকে?

আমরা তো রেগুলার গুনাহ করে যাচ্ছি । প্রত্যেকটা কবিরাহ গুনাহ অন্তরে একটা কালো দাগ সৃষ্টি করে। গুনাহ করতে করতে এক সময় অন্তর কালো দাগে ভরে যায়। তখন আর দ্বীন প্রবেশ করতে পারেনা, দেখবেন আপনি অনেক মানুষ কে দলিল প্রমান দিচ্ছেন, সে বুঝতেছে, তাও দ্বীনে আসছেনা ।

তার এগুলা ভালো লাগছেনা কারন তার অন্তর কালো হয়ে গেছে, একটা ভিডিও দেখছিলাম, আপনারা দেখেছেন কিনা জানি না। কোক একটা পাত্রে ঢালা হয়, এরপর সেখানে পানি মিশানো হয় আস্তে আস্তে কোক উপরে উঠে পড়ে যায়, শুধু সচ্ছ পানি থাকে। যিকর, ইস্তেগফার হচ্ছে এমন আমল যা আপনার অন্তরের এই কালো দাগ কে আস্তে আস্তে দূর করবে ।

আমরা অনেক সময় ইবাদাতে মজা পাই না এর কারন ও এই গুনাহ আমাদের স্বরণ শক্তি কমে যায় । এর কারন ও গুনাহ বেড়ে যাওয়া, ইমাম শাফেইর একটা ঘটনা বলিঃ
ইমাম শাফে’ই একবার বাহিরে আনমনে বসে ছিলেন, হঠাত সামনে দিয়ে এক মহিলা যাচ্ছিলো । বাতাসে তার পর্দা টাখনুর উপর উঠে যায় । ইমাম রাহিমাহুল্লাহ’র সেখানে চোখ পড়ে যায় । এরপর থেকে তার আর হাদিস মুখস্ত হতো না , তার অন্তরে সূখুন চলে গিয়েছিল। এরপর তিনি তার উস্তাদ এর কাছে গেলেন , তাকে বললেন আমার হাদিস মুখস্ত হচ্ছে না !

তার উস্তাদ বললেন, নিশ্চয়ই কোন গুনাহ করেছো, ভেবে দেখো ।
এরপর তার মনে হলো, তিনি নির্জনে চলে গেলেন । আল্লাহর কাছে সিজদায় পড়ে রইলেন ততক্ষন পর্যন্ত যতক্ষন তার অন্তর প্রশান্ত না হয়।
একবার চিন্তা করি আমাদের অবস্থা, সামান্য পায়ের গোরালি দেখেছেন তাই এই অবস্থা আর আমরা?

আমরা তো আজ গুনাহ কে গুনাই মনে করি না, ইস্তেগফার তো পরের কথা, আমরা একটু ভাবি ইনশা'আল্লাহ যে, আমাদের অন্তর তো ওই স্তরে যাওয়া সম্ভব না, আমাদের অন্তর প্যারালাইসিস হয়ে আছে, এই প্যারালাইসিস যদি ঠিক না করি, আমাদের অন্তরে হয়ত আর নূর প্রবেশ করবে না ।

২য় আমল: সব সময় আল্লাহকে ভয় করা এবং সদিকীন তথা যারা কথা ও কাজে সত্যবাদী তাদের সাহচর্য গ্রহণ করা। সদিকীন তথা সত্যবাদীদের সঙ্গ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম একটি উপায়। আল্লাহ তা’আলা বলেন
, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ.
হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং যারা (কথা ও কাজে) সত্যবাদী তাদের সঙ্গে থাকো। (সূরা তাওবা :১১৯)

প্রকৃতপক্ষে তাজকিয়া একা একা হয় না। ইব্রাহিম (আঃ) এর সেই দুয়ার কথা মনে আছে? তিনি কি বলেছিলেন? "তিনি মানুষের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করবেন "

অর্থাৎ এটা নিজে নিজে হবে না। থিউরিটিক্যালি সম্ভব না তাজবিদ শিখতে হয় উস্তাদের থেকে, হাদিসের দারস নিতে হয় উস্তাদের থেকে। তেমনি তাজকিয়াও সদিকীন তথা সত্যবাদীদের সাহচর্যের মাধ্যমে শিখতে হবে। এখন কথা হচ্ছে এই সাদেকিন কারা?

প্রকৃতপক্ষে তাজকিয়া একা একা হয় না। ইব্রাহিম (আঃ) এর সেই দুয়ার কথা মনে আছে? তিনি কি বলেছিলেন? "তিনি মানুষের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করবেন " অর্থাৎ এটা নিজে নিজে হবে না। থিউরিটিক্যালি সম্ভব না । তাজবিদ শিখতে হয় উস্তাদের থেকে, হাদিসের দারস নিতে হয় উস্তাদের থেকে। তেমনি তাজকিয়াও সদিকীন তথা সত্যবাদীদের সাহচর্যের মাধ্যমে শিখতে হবে। এখন কথা হচ্ছে এই সাদেকিন কারা?

সদিকীন বলে কারা উদ্দেশ্য? আল্লাহ তা’আলা সূরা হুজরাতে সদিকীনদের পরিচয় দিচ্ছেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَٰئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ.
মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে অতপর কোনরূপ সন্দেহ পোষণ করেনি এবং নিজের সম্পদ ও নিজের জান দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে। তারাই হল সাদিকীন-(কথা ও কাজে) সত্যবাদী। (সূরা হুজুরাত: ১৫)

অন্য আরও কিছু আয়াতে সাদিকীনের পরিচয় এসেছে, যেমন, সূরা আহযাবে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُم مَّن قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُم مَّن يَنتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ إِن شَاء أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا.
মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ (শাহাদাত লাভের) প্রতীক্ষায় রয়েছে। আর তারা (তাদের সংকল্প) মোটেই পরিবর্তন করেনি। এটা এজন্য যেন আল্লাহ, সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন এবং মুনাফেকদেরকে চাইলে শাস্তি দেবেন বা ক্ষমা করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আহযাব: ২৩,২৪)

মোটকথা, উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে বুঝা যায় যে, সদিকীন তথা সত্যবাদীদের মধ্যে অন্যান্য গুণের পাশাপাশি জিহাদের গুণটিও থাকতে হবে। জিহাদের গুণ ব্যতীত কারও পক্ষেই সদিকীনের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব নয়

সুবাহান'আল্লাহ, আল্লাহ সুবহানু তায়ালা তার বান্দাদের কে এত স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তাদের পরিচয়।

সদেকিন হবার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। জিহাদের আয়াত নাযিল হবার পর এমন একজন সাহাবি দেখাতে পারবেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে নি ওয়াল্লাহি এমন একজন সাহাবিও নেই । কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে , আজকাল এমন লোক গুলো মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ এর দায়িত্ব নিয়েছে, তারা না জিহাদ করে আর না করার ইচ্ছা পোষন করে। বরং এরা তো তাদের মত যারা মুজাহিদদের ব্যাপারে বলে "তোমরা যদি আমাদের কথা শুনতে তাহলে তোমাদের এই অবস্থা হতো না"এরা নিজেদের সদেকিন দাবি করে অথচ ভয় পায় তাগুত কে , ভয় পায় আমেরিকা কে!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে কি আমরা উলামাদের সহচর্য গ্রহন করব না? জ্বি ভাই অবশ্যই করব । কিন্তু এমন উলামাদের মজলিশ গুলোতে যাব । যারা জিহাদ ও মুজাহিদদের ব্যাপারে আল্লাহ কে ভয় করে। অন্তত চুপ থাকে। এমন হালাকা অনেক আছে আলহামদুলিল্লাহ।আমরা যেন, এই ভেবে বসে না থাকি । যে যেহেতু উলামা পাচ্ছি না, যেহেতু একা একা থাকব। এমন টা করা যাবেনা। কেননা আপনি একা থাকলে শয়তান আপনাকে বেশি ধোকায় ফেলবে । আপনার অন্তর পরিশুদ্ধ হবে না কাজেই আমরা দুই এর মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করব ইনশা'আল্লাহ।

ভাই বলুন তো দেখি, ওপরের আয়াতগুলো থেকে আমরা কী কী শিক্ষা পেতে পারি?
উপস্থিত এক ভাইঃ আয়াতগুলো থেকে আমরা যে যে শিক্ষা পেতে পারি তার কয়েকটি হল,
· এক. সত্যবাদীদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
· দুই. সত্যবাদীদের গুণ অর্জন করার চেষ্টা করা।
· তিন. নিজেদের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

তো ভাইয়েরা আমরা বলছিলাম আমাদের সদেকিনদের সাহচর্যে যেতে হবে এবং সদেকিন হবার চেষ্টা চালাতে হবে। এখন আসুন দেখি আমরা কোন লেভেলে আছি । আমরা আল্লাহর সাথে কত খানি সৎ । আমাদের কতটুকু ইমপ্রুভমেন্ট দরকার। মুমিনের কিছু লেভেল আছে, আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন তার ইবাদাতের জন্য।

1. আমরা শিরক ও কুফর বর্জন করে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করি- দ্বীনে প্রবেশের পর আমাদের জন্য কাজ হচ্ছে আমাদের উপর যে বিধান গুলো আছে -পালন করা ।বিধান পালন করতে হলে আমাদেরকে-

2. বিদআত ত্যাগ করতে হবে

3. কবিরাহ গুনাহ ত্যাগ করতে হবে

4. সগিরাহ গুনাহ ত্যাগ করতে হবে

5. সন্দেহযুক্ত জিনিস থেকে বেঁচে থাকতে হবে

6. নফল ইবাদাতে ইতমিনান হতে হবে

7. জীবনের প্রত্যেক টি কাজ আল্লাহর জন্য করতে হবে। ঘুম থেকে শুরু করে সবকিছু ।
এখন কেও যদি ১-৫ পর্যন্ত করতে পারে তাহলে সে নিম্ন লেভেলের মুত্তাকি। ৬ করতে পারলে মধ্যম লেভেলের। আর ৭ নাম্বার করতে পারলে সে উঁচু লেভেলের।
এই কথা গুলো আসলে যত সহজে বলা হলো ব্যাপার গুলো এত সহজ নয়। আমাদের চেস্টা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে আমরা আমাদের স্তর এর উন্নতি করতে পারি ।

৩য় আমল, আল্লাহ আমাকে দেখছেন ।
“সর্বদা আল্লাহ আমাকে দেখছেন, এ মানসিকতা অন্তরে বদ্ধমূল রাখা, বিশেষ করে ইবাদতের ক্ষেত্রে। এ বিষয়টির প্রতি হাদীসে জিব্রাইলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন তখন উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك
(ইহসান হল) তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছো। যদি তাঁকে দেখতে না পাও, তাহলে তিনি তো তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন।(সহীহ মুসলিম)
এটি খুব গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয় । বিশেষ করে একাকিত্বের সময় গুলোতে। আমাদের মনে যদি এই ধারনা বদ্ধমুল থাকে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের দেখছেন, তাহলে আমাদের পক্ষে গুনাহ করা কঠিন হয়ে যাবে ।

আপনারা সবাই সেই বিখ্যাত ঘটনার কথা জানেন , যেখানে আল্লাহ রাসুল (স) জিহাদে গিয়েছিলেন আর কিছু সাহাবা পিছনে পরে গিয়েছিল তাদের সাথে ছিলো মুনাফেকরাও। এরপর যখন আল্লাহর রাসুল (স) ফিরে আসলেন, তখন মুনাফেকরা তাদের ইচ্ছামত বাহানা পেশ করতে লাগল।তিন জন সাহাবা বাদে। তাঁরাও কিন্তু পারতেন, যে কোনো একটা বাহানা বানাতে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে এই চিন্তা ছিলো যে আল্লাহ তাঁদের দেখছেন । আল্লাহ তো অন্তরের খবর পর্যন্ত জানেন? আমরা কিভাবে আল্লাহ কে ধোকা দেব? এই ব্যাপার টা আমাদের মাথায় থাকলে ইনশা'আল্লাহ আমাদের গুনাহ কমে যাবে সাথে সাথে আমাদের কাজেও গতিশীলতা আসবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এটা আমরা কিভাবে অর্জন করব?
এটার একটা সহজ উপায় হচ্ছে, সলাত।

আমরা সবাই সেই হাদিস টা জানি, যেখানে বলা হয়েছে এমন ভাবে সলাত আদায় করো যেন আল্লাহ তোমাকে দেখছেন না হয় তুমি আল্লাহকে দেখছো। এখন আমরা যদি এই সলাতের মাঝে এটাকে অভ্যাসে পরিনত করতে পারি । তাহলে সর্বাবস্থায় এটা সহজ হবে।

উলামাগন বলেছেন,পাচ প্রকার নামাযি আছে আর তাদের পাচ প্রকার ফলাফল আছে।

· ১/ যে মাঝে মাঝে সলাত আদায় করেন, মাঝে মাঝে বলতে প্রতিদিন দুই এক ওয়াক্ত আদায় করেন । এমন টা দীর্ঘ্য দিন আদায় করেন না । - এদের পরিনাম হচ্ছে জানান্নাম (আল্লাহ তার অনুগ্রহে মাফ করলে ভিন্ন ) ।

· ২। যে নিয়মিত সলাত আদায় করে, কিন্তু সলাতে খুশু খুযু নাই, যে খুশু খুজু আনার চেষ্টাও করেনা, কারো কাছে শিখেও না । - এরা সলাত না আদায় করার গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু এদের সলাত এদের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করবে না । মানে ঐ অবস্থায় আসবে না, "নিশ্চয়ই সলাত বিরত রাখে সকল অন্যায় ও লজ্জাজনক কাজ থেকে "। এটা এদের মধ্যে আসবে না।

· ৩। এরা নিয়মিত আদায় করে, শয়তান এদের সলাতে ধোঁকা দেয় । এর পরেও এরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে। সলাতে একনিষ্ঠ ভাবে থাকে।

· ৪/ এই অবস্থায় এসে শয়তান ব্যার্থ হয়ে ধোঁকা দেয়া ছেড়ে দেয়।

· ৫/ এটা আম্বিয়াদের সলাত । সেই হাদিস টা আছে না? সুরা ফাতিহার দুইটা অংশ, একটা বান্দার জন্য একটা আল্লাহর জন্য। এটা তারা অনুভব করতে পারেন।
এখন যে ব্যক্তি নিয়মিত সলাত আদায় করবে এবং সলাত পরিশুদ্ধ করতে চাইবে, এই আকিদা রাখবে যে আল্লাহ আমাকে দেখছেন আস্তে আস্তে আস্তে সে ৩ থেকে চার এ আসবে। আসলে ৩ থেকেই সে সেই আয়াতের ফজিলত পাবে যে সলাত তাকে বিরত রাখবে সব মন্দ কাজ থেকে। যে এভাবে চেস্টা চালাবে, শয়তান ওয়াসওয়াসা দিলেও সলাত এ দাঁড়িয়ে থাকবে, একসময় তার এই সলাত অভ্যাসে পরিনত্ হবে, যেমন আমরা ভাত খাই
এটা আমাদের অভ্যাস ।

দেখবেন যে অনেক দিন টানা একটা ইবাদাত করলে সেটা না করলে আপনার ভালো লাগবে না। ঘুম আসবে না। তখন বুঝবেন এটা আপনার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। এরপর অভ্যাস থেকে সেটা ইবাদাতেও রুপ নেবে। তখন গিয়ে আপনি সেই মন জুরানো মূহুর্ত অনুভব করতে পারবেন। আপনার মনে হবে যে আল্লাহ আমার সামনে আছেন তখন আপনি চাইলেও ফাকি দিতে পারবেন না।

একবার ভাবুন তো যদি আপনার পেছনে রাসুল (স) সলাত আদায় করে, বা আপনি সলাত আদায় করছেন আপনাকে তিনি দেখছেন, তাহলে আপনার সলাতে কি মনোযোগ আসবে? সেজদা গুলো কেমন হবে? রুকু গুলো?

তাহলে চিন্তা করি যে আল্লাহ আমাদের সব সময় দেখছেন, কিভাবে আমরা গুনাহ করতে পারি? সামান্য মানুষ দেখলে যদি আমাদের মধ্যে এই অনুভুতি আসে, সেখানে যিনি অন্তরের খবর পর্যন্ত জানেন সেখানে আমাদের ইখলাস কেমন হওয়া উচিত? এভাবে যখন আমরা এটা ইবাদাতে পরিনত করব তখন সলাতেও বাইরেও আমাদের সেটা অভ্যাসে পরিনত হবে ।আমাদের জন্য গুনাহ করা শক্ত হয়ে যাবে। কাজেই ভাইরা আমার আমাদের সলাতের ব্যাপারে যন্ত্রবান হই, এই রাত গুলোকে কাজে লাগাই, নফল সলাতের পরিমান বারিয়ে দেই, ইন শা আল্লাহ্‌।আলোচনা গুলো আসলে লম্বা হয়ে যাচ্ছে, আপনাদের কি কোন অসুবিধা হচ্ছে?

এখন আমরা সলাতে মনোযোগ ধরে রাখার কিছু টিপস নিয়ে আলোচোনা পারি।

· ১/ আযান হবার সাথে সাথে চেস্টা করা সকল দুনিয়াবি কাজ অফ করা । আযান হলেই দেখা যেত সাহাবারা একে অপর কে চিনতেন না।

· ২/এরপর একটু মাথাকে শান্ত করুন ।

· ৩/ ওজুর ক্রয়ার সময় সুন্নাহের ব্যাপারে খেয়াল রাখি । খুব ভালোভাবে সময় নিয়ে ওজু করি ।

· ৪/ স্বভাবিক অবস্থায় অবশ্যই আমরা মসজিদে যাব ।

· ৫/ওজুর সাথে মেশওয়াক করব ।

· ৬/ বাসায় হলে আমরা আযান দিতে পারি।

· ৭/ সলাতের তিলাওয়ার রুকু সেজদার ব্যাপারে যন্তবান হই ।

· ৮/ সলাতের শেষের যিকর গুলো করি ।

· ৯/ সুন্নাহ গুলো ঠিক মত আদায় করি, এমন যেন না হয় সলাত আমার জন্য বোঝা তাই আদায় করছি, বরং এমন মনে করি এটা আল্লাহ সুবহানু তায়ালার সাথে কথা বলার মাধ্যম, আর অন্যতম জরুরি বিষয় হচ্ছে দূয়া করা।
·
৪র্থ আমল , সকল স্বাদ বিনস্টকারী মৃত্যুর স্মরণ ।

যে কোনও মুহুর্তে আমার মৃত্যু আসতে পারে, এ বিশ্বাস অন্তরে মজবুত রাখা। গুনাহের অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে কী ভয়াবহ পরিণতি হবে? এ ভয় সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা।

এ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ .
.
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। (সূরা নাযিয়াত : ৪০-৪১)

মৃত্যুর আকিদা অন্তরে বুলন্দ করে নিতে হবে আমাদের। আমাদের যেন এই বিশ্বাস চলে না আসে যে, আমরা যেহেতু জিহাদের দাওয়াহ দেই ,চেস্টা করি সাথে আছি , আমাদের মৃত্যু জিহাদের ময়দানেই হবে, সুবাহান আল্লাহ, আর আমরা মাফ পেয়ে যাব, অনেক সময় দেখবেন শয়তান এই ওয়াসওয়াসা দেবার চেষ্টা করবে । কারন শয়তানের একটা উপায় হচ্ছে যে আপনাকে নেক সুরুতে ধোকা দেবে।

প্রথমেই সে আপনাকে দিয়ে বড় কোন গুনাহের কাজ করবে না। বরং সে আপনার মধ্যে ফ্যন্টাসি তৈরি করবে জিহাদ নিয়ে । আমি তো মুজাহিদ আমার অন্য আমলের তেমন দরকার নেই ……। ভাই এমন খেয়াল মনে আসলেই সাথে সাথে আমাদের সাথে সাথে ইস্তেগফার পড়তে হবে, কত মানুষই তো জিহাদ করেছে অথচ তাদের বিছানায় মৃত্যু হয়েছে , আর আমরা তো ময়দানেও নেই, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক।
.
ভাই মৃত্যুকে বেশী বেশী স্বরন করা। কেননা মৃত্যু হচ্ছে সুখ শান্তি বিনষ্টকারী, আমরা যদি কুরআন এর ধারাবাহিক আয়াত নাযিলের কথা খেয়াল করি তাহলে দেখব প্রথমে জান্নাত , জাহান্নামে , মৃত্যু এই আয়াত গুলো নাযিল হয়েছে, এরপর হুকুম আহকাম গুলো নাযিল হয়েছে।এর কারন হচ্ছে আগে আল্লাহ সুবহানু তায়ালা মুমিনদের অন্তর গুলোকে এগুলো গ্রহনের জন্য প্রস্তুত করেছেন। আল্লাহ রাসুল (স) একদিন ময়লার স্তুপের কাছে নিয়ে গেলেন ,এরপর বললেন এটা হচ্ছে দুনিয়া, ভাই আমাদের দুনিয়ার জীবন তো অস্থায়ী। সাহাবারা কেনো নিজেদের সব কিছুকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিতেন? কারন তাদের মধ্যে এই আকিদাহ বদ্ধমূল ছিল যে আমরা এই অস্থায়ী জীবন ছেড়ে একদিন চলে যাব, স্থায়ী জীবনের দিকে, সেটা হচ্ছে আখেরাত।
.
আমরা যখন এটা মনে রাখব যে একদিন আমাদের মৃত্যু হবে, রবের সামনে দাড়াতে হবে। তাহলে আমাদের জন্য গুনাহ করা কঠিন হবে, যদি আমরা বর্তমান পরিস্থিতির দিকেই নজর দেই, তাহলে আমরা দেখন এই করোনার ভয়ে কত মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। মৃত্যু সত্যি সুখ শান্তি বিনষ্টকারী।

আমরা প্রতিদিন বারবার মনে করব যে আমাদের একদিন মৃত্যু হবে, এতে আরো একটি ফায়দা হচ্ছে। আমাদের মধ্যে থাকা ভিরুতা চলে যাবে, অনেকেই জিহাদের বিরোধিতা করে , কারন কি? অন্যতম কারন হচ্ছে জিহাদের কথা বললে আপনাকে তাগুত অত্যাচার করবে। আপনাকে হত্যা করবে।

যখন আমাদের মনে এই বিশ্বাস থাকবে যে আমরা তো একদিন মারা যাব। তাহলে কেনো আমরা আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কাওকে ভয় পাবো? আল্লাহ আমাদের বেশী বেশী মৃত্যুকে স্বরন করার তাওফিক দান করুক। আমরা বেশী বেশী দুয়া করব যেন আমাদের মৃত্যু এমন অবস্থায় হয় যে, আল্লাহ আমাদের উপর রাজি খুশি হন।

আর একটা ব্যাপার দেখবেন যে, মানুষ বেশী বেশী যে কাজটা করে , যে কাজে সে সব সময় অভ্যস্ত। মৃত্যুর সময় তার কাজ কর্মে সেটাই প্রকাশ পায়, কাজেই আমরা যদি এখন আল্লাহর সাথে সৎ না হই, গুনাহ ত্যাগ না করি , আল্লাহ আমাদের উপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আনজাম না দেই । তাহলে কিভাবে আশা করব যে আমাদের মৃত্যু আল্লাহর রাস্তায় হবে?আফসোস, আমি কতোটা গাফেল !

মৃত্যুকে স্বরন করার অন্যতম উপায় হচ্ছে , কবস্থানে যাওয়া আমরা চেষ্টা করব, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, সপ্তাহে কিংবা ১৫ দিনে একদিন হলেও কবস্থানে যেতে। আমরা বেশী বেশী কবর যিয়ারত করব । এ ব্যাপারে হাদিস ও রয়েছে,

“আমি তোমাদের এর আগে কবর যিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর যিয়ারত করো। কেননা তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখেরাতের স্মরণ করিয়ে দেয়” (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৭১)।

সুবহান'আল্লাহ , আমরা এই এটাকে আমাদের কর্তব্য হিসেবে ধরে নেই, যে আমরা মাঝে মাঝেই করব যিয়ারতে যাব ইনশা'আল্লাহ।
উপস্থিত কিছু ভাইঃ ইন শা আল্লাহ্‌।

আর একটা উপায় হচ্ছে, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া হসপিটালে যাওয়া প্রতিদিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে, কত মানুষ মরন ব্যাধিতে আক্রান্ত।

এসব যখন আমাদের মনে হবে তখন আমাদের মধ্যেও মৃত্যু ভয় আসবে আশা করি, হাসপাতালে না গেলে মানুষ হিসেবে আমাদের অসহায়ত্ব বোঝা মুশকিল, আমরা খুব চেস্টা করব মসজিদে জানাযা হলে তাতে অংশ গ্রহন করতে।
উপস্থিত এক ভাইঃ হাসপাতালে গেলে বোঝা যায় মানুষ কতোটা অসহায়। বিশেষ করে সরকারী হাসপাতালে। মানুষ যে আল্লাহর মুখাপেক্ষী তা বোঝা যায়। উপলব্ধি করা যায়। যে শরীরের সুস্থতা আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এটা আসলেই একটা নেয়ামত। এই বিষয়টা মানুষের অসহায়ত্ব দেখে উপলব্ধী হয় ।
৫ম আমলঃ আল্লাহর যিকির করা ও কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা।
এর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ .
.
ঈমানদার তারাই যারা এমন যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা তাদের প্রতিপালকের ওপরই ভরসা করে।(সূরা আনফাল : ২)
.
সুতরাং মুজাহিদীনের অন্তরের খোরাক হলো, কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াত ও দৈনন্দিনের আযকার। আমরা সবাই অবশ্যই এগুলো পালন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।আল্লাহু আকবার। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআ’লার কিতাব তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমাদের অন্তরে নুরের সৃষ্টি হবে। আমি এখানে আমাদের শহিদ ভাই সুলাইমান (রাহিমাহুল্লাহ) এর একটা উক্তি স্বরন করতে চাই, ভাই বলেছিলেন যে, ভাই যখন ঘরে বসে থাকতেন তখন তার সুরা খুব সহজে মুখস্ত হতো না। তিনি যখন আল্লাহর রাস্তায় হিজরতের জন্য বের হোন, তখন আল্লাহ তার জন্য কোরআন কে সহজ করে দেন ।
.
ভাই আমার আমরা সবাই জানি যে, আমাদের উপর পরিক্ষা আসবেই । হয়ত আমরা কেও বন্দি হবো, কেও নির্যাতনের স্বিকার হব, আল্লাহর অবশ্যই পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের থেকে বাছাই করবেন , কে সত্যবাদি আর কে মিথ্যাবাদি। আল্লাহ না করুক আমাদের মধ্যে যদি কোন ভাই কে কারাগারে যেতে হয়, সেই অন্ধকার প্রকোস্টে । তাহলে আমাদের অবস্থা কি হবে? আমরা কিভাবে সময় কাটাব? যদি আমাদের রাখা হয় নির্জনে। যেখানে কোন ভিজিটর থাকবে না, কথা বলার মতো কেও থাকবে না, তখন আমরা কার সাথে কথা বলব? ভাবে আমরা পালিয়ে যাব? জেলের চার দেয়াল থেকে? এর খুব সহজ একটা উপায় হচ্ছে, আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা।
.
আল্লাহ কোরআনে আমাদের সাথে কথা বলছেন, আমাদের জন্য নিদর্শন রেখছেন, কোরআন হচ্ছে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলার আদেশ আমাদের কি করতে হবে, কখন করতে হবে, কিভাবে আগাতে হবে, অদ্ভুত ভাবে দেখবেন, আপনি উত্তর পেয়ে যাবেন, হয়ত এমনো হবে, এর অর্থ আপনার আগে জানা ছিলো, কিন্ত এভাবে কখনো চিন্তা করেন নি, কাজেই ভাইরা আমরা কুর'আনের প্রতি বেশী জোর দেই, খুব বেশী জোর দেই, কারো তাজবিদে কমজোরি থাকলে আমরা শিখে নেই।
আমরা ছোট ছোট সুরাহ গুলো হিফজ করার চেস্টা করি, এরপর রাতে উঠে যাই, কিয়ামুল লাইনে তিলাওয়াত করি, ইনশা'আল্লাহ, আল্লাহ সুবহানু তায়ালা আমাদের অন্তর কে প্রশান্ত করবেন । কারন এখন আমাদের হাতে যে সময় রয়েছে পরে হয়ত সেটা পাবো না। আর যদি আপনার কোরআন শুদ্ধ না হয় তাহলে আপনি সলাতেও সূখুন পাবেন না। কাজেই এটা আমাদের জন্য খুব দরকারি একটা বিষয়, সামনে রামাদান আসছে। আল্লাহু আলাম এইবার হয়ত আমাদের তারাবিহ মিস যাবে, এর চাইতে কষ্টের আর কি হতে পারে? আমরা কোরআনের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, এটা যেন আমরা উপলদ্ধি করতে পারি। ভাই ইচ্ছা করলেই আপনি এখন সলাতে সুমুধুর তিলাওয়াত শূনতে পাবেন না, অথচ আমরা কত গাফেলতি করেছি, কোরআনের হ্বক নস্ট করেছি। ভাই আমরা সেগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে তাওবাহ ইস্তেগফার করি । যেন আল্লাহ আমাদের কে এই নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না করেন। সেই সাথে আমরা চেষ্টা করি রামাদানে যে এবার কোরআন তাফসির সহ খতম দিতে পারি। এখন থেকে শুরু করলে আশা করা যায় সম্ভব ইন শা আল্লাহ্‌। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক।
.
আমরা নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য পাঁচটি আমলের কথা আলোচনা করেছি। আমলগুলো সংক্ষেপে আবার বলছি,
.
১। বেশি বেশি ইস্তিগফার করা ও গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা।
২। সব সময় আল্লাহকে ভয় করা ও সাদিকীন তথা সত্যবাদীদের সাহচর্য গ্রহণ করা।
৩। সর্বদা আল্লাহ আমাকে দেখছেন, এ মানসিকতা অন্তরে বদ্ধমূল রাখা, বিশেষ করে ইবাদতের ক্ষেত্রে।
৪। যে কোনও মুহুর্তে আমার মৃত্যু আসতে পারে, এ বিশ্বাস অন্তরে মজবুত রাখা। গুনাহের অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে কী ভয়াবহ পরিণতি হবে? এ ভয় সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা।
৫। আল্লাহর যিকির ও কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা, এর মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং ঈমান বৃদ্ধি পাবে।
.
এই আমলগুলো করার দ্বারা আমরা আশা করতে পারি যে, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে নফসের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবেন এবং আমাদের অন্তরকে পবিত্র করে দিবেন। তবে আমরা কখনোই এই দাবী করতে পারবো না যে, আমরা ত্রুটিমুক্ত হয়ে গেছি, আমাদের অন্তর পুত-পবিত্র হয়ে গেছে। কারণ,
আল্লাহ তা’আলা এটা করতে নিষেধ করেছেন,
.
فَلَا تُزَكُّوٓا أَنفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقٰىٓ.
অতএব তোমরা নিজের প্রশংসা করো না বা নিজেকে পবিত্র মনে করো না। তিনি ভালো করেই জানেন, (তোমাদের মধ্যে) কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে। (সূরা নাজাম :৩২)
এটা খুবই জরুরি বিষয় ভাই, এটা শয়তানের অন্যতম একটা ধোঁকা । যে আপনাকে আপনার ইবাদাতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করে ফেলবে। নিজেকে বুযুর্গ ভাবানো শুরু করবে। না'উযুবিল্লাহ এটা খুব ভয়াবহ ব্যাপার, কারন এর থেকে আপনার মনে রোগ তৈরি হবে, আস্তে আস্তে আপনার ইবাদাত কমে যাবে, আপনার অন্যকে ছোট মনে হবে। আমরা সব সময় এটা স্মরণে রাখব যে, আমি হেদায়াত পেয়ে গেছি এর মানে এই না যে আমি আজীবন হেদায়েতের উপর অটল থাকব। বরং আমি সব সময় আল্লাহর কাছে দূয়া করব, এই আশংকা করবো যে, আল্লাহ আমার উপর নারাজ হয়ে গেলে ।
আমি বরবাদ হয়ে যাব। ভাই এই যে আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দিয়েছেন? এটা কার অনুগ্রহ? আমরা কি কোন কৃতিত্ব আছে? যে নিজেকে পুত পবিত্র ভাবা ইয়াহুদিদের চরিত্র।
শাইখ দলিল এনেছেন,
আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার এক আয়াতে তাদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন,
.
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنفُسَهُمْ بَلِ اللّهُ يُزَكِّي مَن يَشَاءُ وَلاَ يُظْلَمُونَ فَتِيلاً.
.
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র বলে থাকে অথচ আল্লাহ যাকে (পবিত্র করার) ইচ্ছা করেন (একমাত্র) তাকেই পবিত্র করেন? বস্তুতঃ তাদের উপর সুতা পরিমাণও অন্যায় হবে না। (সুরা নিসা: ৪৯)
এরপর শাইখ বলেছেন, উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, কারও জন্যই নিজেকে পুত-পবিত্র বলে দাবী করা বৈধ নয়। এটি বৈধ না হওয়ার তিনটি কারণ হতে পারে,
১ম কারণঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মপ্রশংসার কারণ হয়ে থাকে কিবির বা অহংকার ও অহমিকা। কাজেই এই নিষিদ্ধতা মূলত কিবিরের কারণেই।
ভাই গুরুত্বপূর্ন একটা কথা বলেছেন । শাইখ বলেছেন যে, নিজেকে পুত পবিত্র মনে করা জায়েজ নেই। কারন এর থেকে অহংকার এর সৃষ্টি হয়। আর অহংকার শুধু মাত্র আল্লাহ সুবহানু তায়ালার জন্য। অন্তরে বিন্দু মাত্র অহংকার থাকলে সেই ব্যাক্তি জান্নাতে যাবেনা। কাজেই এই অহংকার কে আমাদের না পেয়ে বসে। অহংকার এর মুলত চারটা ধাপ আছে। আমরা এটাকে একটা চারাগাছের সাথে তুলনা করতে পারি।
প্রথব ধাপ হচ্ছে, ওজব - অর্থাৎ এটা হচ্ছে অহংকারের বিজ।
এখনে প্রশ্ন হচ্ছে কিভাব বুঝব এই বিজ আমার অন্তরে আছে?
এর উপায় হচ্ছে, যদি আপনার অন্তর প্রশংশা পেতে যায়। কোন ভালো কাজ করেছেন, আপনার অন্তর চাচ্ছে কেও আপনাকে প্রশংশা করুক। তাহলে বুঝে নেবেন আপনার অন্তরে অলরেডি অহংকারের বিজ বোপন হয়েছে। ভাই আপনি যে এই কাজটা করছেন, যেটা করার ক্ষমতা কে আপনাকে দিয়েছে? আপনি সুন্দর লিখতে পারেন । তিলাওয়াত করতে পারেন, রান্না করতে পারেন । এই ক্ষমতা কি আপনি নিজে অর্জন করেছেন? নাকি আল্লাহর অনুগ্রহ?
এখন অহংকারের ২য় স্তর হচ্ছে কিবির। বিজ থেকে চারা গাছে রুপান্তরিত হয়ে গেছে এই পর্যায়ে এসে। এই পর্যায়ে এসে আপনি নিজেকে প্রশংসা পাবার যোগ্য মনে করবেন ।মুখ প্রকাশ করবেন। অন্তরে আর রাখবেন না, যেমন ধরেন আপনি ভালো নাশিদ গান। আপনি মানুষকের প্রশংসা পাবার জন্য গাইবেন। মানুষ যেন আপনার প্রশংশা করে সেটা চাইবেন, আপনার নামের পাশে যেন ভারি ভারি লকব লাগানো হয়, কোকিল কন্ঠ এসব চাইবেন।
৩য় পর্যায়ের অহংকার হচ্ছে তাকাব্বুর । আপনার একটা গুন আছে, অন্যের সেটা নাই। এজন্য আপনি তাকে ছোট ভাববেন। এটা বোনদের ক্ষেত্রে বেশী দেখা যায়। আল্লাহ হেফাজত করুক, আমাদের ভাইদের মধ্যেও এই গুন দেখা যায়। আল্লাহ হিফাযত করুক। আপনি আইটি বিষয়ে ভালো দক্ষতা রাখেন, কেও সামান্য ব্যাপার গুলো বুঝে না, তাকে আপনি ছোট ভাবেন । এটা হলে বুঝবেন আপনার অন্তরের অহংকারের গাছ বড় হয়ে গেছে।
আর সর্বশেষ স্তর হচ্ছে ইস্তেগবার। ক্ষমতার দাপটে এখন সে মানুষ কে মানুষ ভাবে না। সব জায়গায় মানুষ তার জয় জয়কার করুক। এটা চায়। না হলে সে রেগে যায়। তার নামে যে স্লোগান দেয়া হয়, তাকে বড় পদ দেয়া হয়। এসব রোগ হচ্ছে আলামত।
এসব রোগ এর লক্ষন দেখা দিলেই আমাদের দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে, তা না হলে এর থেকে শিরকের পর্যায়েও যেতে পারে। ফেরাউন, এরপর মক্কার কাফেররা এই অহংকারের কারনের হ্বক গ্রহন করতে পারে নি। আমরা আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দোয়া করব। যেন আল্লাহ আমাদের অন্তর কে পরিশুদ্ধ করেন, অংকারের ছিটে ফোটাও যেন না থাকে।
সব সময় মনে করব আমাকে আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলেই আমি পারি। আমার ধন সম্পদ, আমার স্কিল, আমার সৌন্দর্য্য সব, আল্লাহ সুবহানু তায়ালার অনুগ্রহ, এসবের জন্য আমি কিভাবে অহংকার করতে পারি?
২য় কারণঃ শেষ পরিণতি সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই জানেন যে, তা ভালো হবে, নাকি মন্দ হবে। কাজেই নিজে নিজেকে পবিত্র বলে আখ্যায়িত করা খোদাভীতির পরিপন্থী। একটি হাদীসে এসেছে, হযরত সালামা বিনতে যয়নব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? তখন যেহেতু আমার নাম ছিল বাররাহ (যার অর্থ পাপমুক্ত) কাজেই আমি তা-ই বললাম। তখন তিনি বললেন,
لا تزكوا أنفسكم، إن الله أعلم بأهل البر منكم
তোমরা নিজেকে পাপমুক্ত বলো না। কারণ, একমাত্র আল্লাহই জানেন, তোমাদের মধ্যে কে পবিত্র-পাপমুক্ত। এরপর তিনি বাররাহ নামটির পরিবর্তে যয়নব রেখে দেন। (তাফসীরে মাযহারী)
চিন্তা করি শুধু নামের কারনে আল্লাহর রাসুল (স) এই কথা বলেছেন, আর আমরা যারা অল্প কিছু ফরয আমল করেই নিজেদের বূজুর্গ ভাবি তাদের কি হালত হবে? আচ্ছা কেও কি আমলের মাধ্যমে জান্নাতে যেতে পারবে? আল্লাহ আমাদের যে নেয়ামত দিয়েছেন তার শোকর কি আমরা আদায় করে শেষ করতে পারব? আমরা যেখানে আল্লাহর শোকর আদায় করেই শেষ করতে পারব না, সেখানে নিজেকে কিভাবে মুলত মনে করব? আল্লাহ যদি আমাদের গোপন গুনাহ গুলো প্রকাশ করে দেন, তাহলে আমাদের অবস্থা হবে একবার ভাবি? যেসব মানুষ আমাদের দ্বিনি ভাই ভাবেন, যারা আমাদের থেকে নাসিহাহ নেয়, তাদের সামনে আমরা আর যেতেই পারব না। আল্লাহ আমাদের গোপন গুনাহ ঢেকে রেখেছেন। এটাও আল্লাহর একটা রহমত। কাজেই আমাদের উচিত বেশী বেশী এই রহমতের শোকরিয়া আদাইয় করা, নফল ইবাদাত বারিয়ে দেওয়া এবং একাকিত্বে আল্লাহ কে ভয় করা। কারন এখন একাকি গুনাহে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, এক সময় না এক সময় তা প্রকাশ পাবেই, সেটা হোক দুনিয়ায় কিংবা, ইয়ামুল কিয়ামাতে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক।
৩য় কারণঃ অধিকাংশ সময় এ ধরণের দাবী করতে গিয়ে মানুষের মনে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়ে থাকে যে, সে আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে সে মুক্ত। অথচ এটি কখনোই হতে পারে না। কারণ, সবার মধ্যেই অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। এই তিনটি কারণে নিজের প্রশংসা করা বৈধ নয়। হ্যাঁ, এখানে একটি কথা আছে, তা হল, যদি উল্লেখিত কারণগুলো না থাকে তাহলে শুধু আল্লাহর নেয়ামতের কথা প্রকাশ করার নিয়তে নিজের কোনো গুণ বর্ণনা করার অনুমতি আছে। (বয়ানুল কোরআন)
এটা শয়তানের একটা বড় ধোকা যে, যেটা আমরা যারা আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদের ইচ্ছা পোষণ করি , কিংবা হেদায়েতের উপর আছি তাদের হয়ে থাকে যে, আল্লাহ যেহেতু আমাদের বাছাই করেছেন । আমাদের দিয়ে কিছু কাজ করাচ্ছেন। তার মানে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। আমরা বুঝি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে ফেলেছি। না ভাই , আল্লাহ তো অনেক সময় ফাসেক , কাফেরদের দিয়েও দ্বীনের কাজ আনজাম দেন। আল্লাহ তাঁর দ্বীনের কাজ আনজাম দিবেনই। হোক সেটা আবাবিল পাখি কিংবা অন্য কোন প্রানীকে দিয়েই। আমাদের উচিত আল্লাহ আমাদের এই কাজের জন্য সিলেক্ট করেছেন এর জন্য বেশী বেশী শোকরিয়া আদায় করা এবং আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহ কে ভয় করা। কেননা , দায়িত্ব খুব কঠিন বিষয়, এর ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের আল্লাহর কাছে জবাব দিহিতা করতে হবে, আমরা কি আসলেই আমাদের সব টুকু দিয়ে এই কাজ গুলো আদায় করেছি কিনা বা চেষ্টা করেছি কিনা, আমাদের উপর যখন কোন কাজ আসবে, তখন আমরা অবশ্যই এই ব্যাপার গুলো ভাববো, তাহলে আমাদের কাজ আরো সুচারু হবে , সুন্দর হবে ইনশা'আল্লাহ।
এরপর শাইখ, শাইখ আব্দুল্লাহ ইউসুফ আযযাম (রাহি) এর কিছু উপদেশ এনে তাঁর আলোচনা শেষ করেন ।
রাহবারে উম্মত, মুজাহিদে মিল্লাত শহীদ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম রহ মূল্যবান তিনটি উপদেশ বলে আজকের আলোচনা শেষ করছি। শাইখ রহ. বলেন,
এক, যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় তাকে অবশ্যই অন্য কারও ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন এর সাথে গীবতের ব্যাপার ও চলে আসতে পারে, মুসলিমদের দোষ গোপন রাখা, আমাদের জন্য কর্তব্য। তবে কেও যদি প্রকাশ্যে গুনাহ করে বেড়ায় সেটা ভিন্ন ব্যাপার।
এটাই ব্যাপারেই বলতে যাচ্ছিলাম, গীবত এর কিছু প্রকার ভেদ আছে, কিছু ক্ষেত্রে হালাল, কোন সময়ে হারাম, কোন সময়ে জায়েজ, কোন সময়ে ওয়াজিব, ইনশা'আল্লাহ এটা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।
এখানে আরো একটি ব্যাপার হচ্ছে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ রাখা, এটা খুব জরুরি। বিশেষ করে যারা আমরা অনলাইনে আছি। এক্ষেত্রে জিহ্বা অবশ্য কিবোর্ড, অনেক সময় দেখা যায়, আমার এই টপিকে জ্ঞান নেই, তার পরেও আমি একটা কিছু বলে বসলাম, ঘন্টার পর ঘন্টা তর্ক করে কাটিয়ে দিলাম, অথচ এখানে না আছে দ্বীনের ফায়দা না আছে দুনিয়ার, এব্যাপারে আমরা খুব খেয়াল রাখব, অহেতুক কথা বার্তা, কমেন্ট, এগুলা যদি আমরা ত্যাগ করতে পারি , তাহলে আমরা অনেক গুনাহ থেকে বাচতে পারব ইনশা'আল্লাহ।
যেমন, বান্দার হ্বক। অনেক সময় আপনার কথার দ্বারা , লিখনির দ্বারা কেও কষ্ট পেতে পারে, সেক্ষেত্রে যদি আপনি তার কাছে ক্ষমা না চান , তাহলে আপনার মাফ পাবার সম্ভাবনা নেই ,কারন বান্দার হ্বক আল্লাহ মাফ করবেন না। এমন কি শহিদেরও না। কাজেই এই ব্যাপার টা খুব করে খেয়াল রাখব। এটা করার সহজ উপায় হচ্ছে , আমি কোন কাজ কি কারনে করছি আল্লাহর সন্তটির জন্য নাকি, নিজের জেতার জন্য, লোকে আমাকে বাহবা দেবে, সে জন্য, আর একটা উপায় হচ্ছে আপনি এই কমেন্ট বা কথা বললে কারো কোন লাভ আছে কিনা বা না বললে কারো কোন বা দ্বীনের ক্ষতি হবে কিনা যদি তা না হয় তাহলে চুপ থাকাই উত্তম।
উপস্থিত এক ভাই: ভাই, এখন আমরা জানলাম বান্দার হ্বকের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, কিন্তু ভাই আমরা আগে যখন এসব না জানতাম তখন এমন অনেক খারাপ করে ফেলসি সেটা থেকে আল্লাহর কাছে কিভাবে ক্ষমা চাবো?
এর উপায় হচ্ছে, আপনার তার কাছে মাফ চাইতে হবে। যদি আপনার দ্বারা তার কোন সম্পদের ক্ষতি হয়, তাহলে তা শোধ করতে হবে, যেমন আপনার কারনে কারো ব্যবসায়িক লোকসান হলো, আপনাকে সেটা পুষিয়ে দিতে হবে, কষ্ট পেলে মাফ চেয়ে নিতে হবে। এভাবে বলা যেতে পারে যে, ভাই অনেক সময় তো অনেক কথাই বলি, কষ্ট পেলে মাফ করে দিয়েন। এখন ধরেন সে মারা গেছে, তাহলে তার নামে সাদাকা করা যেতে পারে। এরপর আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করা যেতে পারে, আল্লাহু আলাম ।
তবে দ্বীনের ক্ষতি হলে সেটা ভিন্ন বিষয়, যেমন মাদখালিরা দীনের অপব্যাখা করে, সেখানে আমার দায়িত্ব হচ্ছে তার বিরুদ্ধে বলা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক।
দুই, যে ব্যক্তি তার দৃষ্টিকে হেফাজত করতে চায় তাকে অবশ্যইি অযথা এদিক-ওদিক তাকানোর অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। এটা খুব জরুরি ভাই, দৃষ্টির হেফাজত।এটার খেয়ানত আমাদের খুব বেশী হয়। অনলাইন অফলাইন সর্ব ক্ষেত্রেই যেন আমরা নিজেদের হেফাজতে রাখি। কারন দৃষ্টির খেয়ানত আপনার অন্তর থেকে নুরকে দূর করে দেয়। এটা নিয়ে আমরা আগেও আলোচোনা করেছিলাম।
তিন, যে ব্যক্তি যিনা-ব্যাভিচার পরিত্যাগ করতে চায় তাকে অবশ্যই এমন প্রতিটি কাজ পরিত্যাগ করতে হবে যা তাকে ওই অশ্লীল কাজের দিকে নিয়ে যায়। -(আত তাওহীদুল আমালী, পৃঃ ৫৪-৫৫)।
এটাও খুব জরুরি আমাদের জাহিলিয়াতের সমাজে, যেখানে বিয়ে কঠিন হয়ে গেছে, সেখানে আমাদের জন্য এটার উপর আমল করা খুব কঠিন হয়ে যায়, কেননা এই ব্যাপার টা ক্ষুধার মতই , এ ব্যাপারে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, আমরা বেশী বেশী সাওম রাখতে পারি। অনলাইনে বেশী সতর্কতা জরুরি, আপনি না চাইলেও আপনার সামনে এগুলা চলে আসবে, এজন্য এড ব্লক এবং অনান্য যেসব সফটওয়ার আছে, তা ইউজ করা যেতে পারে। অন্তরে বদ খেয়াল আসলেই আমরা ওজু করে নেব, সলাতে দাঁড়িয়ে যাব, আল্লাহর কাছে দোয়া কান্না কাটি করব, যাদের সামর্থ আছে , তারা দ্রুত বিয়ে করে নেব ইনশা'আল্লাহ, এ খেয়াল যাতে না আসে বিবাহ জিহাদের পথে বাধা, আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক-
- Topu Ahmed (মূলধারা)
Powered by Blogger.