তুরস্কের রাজনীতি, ইসলাম ও মসজিদের ছবি ঃ এরদোগান ইতিহাস ও জনপ্রিয়তার কারণ

 মসজিদের ছবি ও তুরস্কের এরদোগান এর রাজনীতি । সুলতান এরদোগান ?


  1. এরদোগান ইতিহাস
  2. এরদোগান কোন দেশের প্রেসিডেন্ট
  3. এরদোগানের ছবি
  4. এরদোগানের জনপ্রিয়তার কারণ



এরদোগান ও কিছু কথা 

প্রথমেই জানিয়ে দিতে চাই এরদোগান কোন সুলতান না। সে কোন আহামরি ইসলামিক কিছুও না। সে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় থেকেও লোক দেখানো বাহ্যিক কিছু কাজ ছাড়া ইসলাম এর জন্য কিছুই করেনি বরং তারা NATO এর সাথে মিলে তুরস্কের ঘাটি থেকে ইসলামিক ইমারাত আফগানের মুজাহিদ সিরিয়ার মুজাহিদদের উপর বিমান হামলা চালায়।
তুরস্ক এখনো সেকুলাঙ্গার আর পশ্চিমাপন্থি।

তবে ে কথা ঠিক এরদোগান পাকা খেলোয়াড় এবং সে ভালো মতই সিরিয়া লিবিয়ায় রাশিয়ার সাথে সমানে খেলে যাচ্ছে আবার এদিকে গ্রিস ফ্রান্স কেও টেক্কা দিচ্ছে ।অপর দিকে আমেরিকার হুমকি সত্তেও নানা কাজ করছে।

কিন্তু এগুলো কে জাস্ট রাজনীতি হিসাবেই দেখা উচিত কারন এগুলো রাজনীতিই। কামাল পাশা কয়েক বছরের মধ্যে ৬০০ বছরের ইসলামি খিলাফত ভেঙ্গে চুরমার করে দিলো ইসলাম এর নাম নিশানা তুরস্কের মাটী থেকে মুছে ফেলার কাজ করতে পারলো আর সুলতান এরদোগান ১৫ বছর ধরেও আগের জাস্ট ৬০/৭০ বছরের মুরতাদ কামাল পাশার সেকুলার শয়তান কে দূর করতে পারলো না?
না আসলে সে চাইইই নি। এরদোগান তুরস্কের মুসলিম আবেগ কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করছে মাত্র আর এজন্য  মিডিয়া কাভারেজ বেশি এমন কিছু প্রকল্পে হাত দিছে।

আমরা  এরদোয়ান কে ইসলামি সুলতান বলি না আবার তাকে একদম পশ্চিমাদের পা চাটা দালাল ও বলি না। আমরা তাকে একজন দক্ষ রাজনৈতিক হিসাবে দেখি যে একই সাথে একাধিক মাঠে খেলতে পারে আবার গোল ও দিতে পারে।


নিচের লেখা গুলো আরেক ভায়ের। পড়তে পারেন পড়ার জন্য। 

চামলিজা মসজিদ: সুলতান এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের জানান দিচ্ছে যে স্থাপনা

মসজিদের শহর হিসেবে ঢাকার পরিচয় থাকলেও রাজকীয় মসজিদের শহর যদি বলা হয় তাহলে ইস্তাম্বুলকে ছাড়িয়ে যাবে এমন সাধ্য আর কোনো শহরের নেই। ইস্তাম্বুলের এই রাজকীয় মসজিদগুলোর প্রত্যেকটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে কোনো না কোনো অটোমান সুলতানের নাম। অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতানরা নিজেদের নামে অনিন্দ্য সুন্দর সব মসজিদ তৈরি করতেন যা শত শত বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসকের অর্থায়নে সর্বশেষ নির্মিত মসজিদ হচ্ছে হামিদিয়ে মসজিদ। ১৮৮৪-৮৬ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের ৩৪তম সুলতান দ্বিতীয় হামিদ নিজের নামে মসজিদটি তৈরি করেন। এরপর ১৯২৩ সালে যখন কামাল আতার্তুক ফ্রান্স থেকে ধার করে আনা ধর্মনিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠা করেন তারপর থেকে এরদোয়ানের আগ পর্যন্ত কোনো শাসকের তত্ত্বাবধানে বা নির্দেশে কোনো মসজিদ তৈরি হয়নি।

আতার্তুক ক্ষমতায় থাকাকালীন তুরস্কের সরকার, রাজনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মকে বিদায় করে পাশ্চাত্য মুখী এক রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৩৫ সালে আতার্তুক ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া মসজিদকে যাদুঘরে রূপান্তর করে আরো একবার রাজনীতি থেকে ধর্মকে দূরে সরিয়ে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন। কামাল পাশার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে ছিল রাজধানীকে ইস্তাম্বুল থেকে সরিয়ে আঙ্কারায় নিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে তিনি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন আধুনিক তুরস্ক আর অটোমান সাস্রাজ্যের দিকে ফিরে যাবে না। বরং আতার্তুক পশ্চিমা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে তুরস্কের ইসলামী ঐতিহ্যকে চরমভাবে ধ্বংস করেছিলেন।

তুরস্কের আবারও ইসলামী ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার ফিরে যাওয়ার জন্য আতার্তুকের বিপরীত মতাদর্শী একজন নেতার প্রয়োজন ছিল। অবশেষে তুর্কিরা সেই নেতাকে খুঁজে পেয়েছে। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যিনি ইতোমধ্যে সুলতান এরদোয়ান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন। এরদোয়ান উঠে এসেছেন তুরস্কের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবার থেকে। সত্তরের দশকে ইসলামিক রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতিতে নাম লেখান তুরস্ক তখন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। এরপর তিনি দেশের রাজনৈতিক পদ্ধতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন। রাজনীতিতে এরদোয়ানের পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। ১৯৯৯ সালে মেয়র ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকা অবস্থায় একটি কবিতা আবৃত্তির জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে এরদোয়ান তুরস্কের পোড় খাওয়া নেতাদের একজন। থাক সেসব কথা, পূর্বের আলোচনায় ফিরে আসা যাক।

আতার্তুক যেখানে আয়া সোফিয়ার নামের পাশে থেকে মসজিদ নামটি কেটে দিয়েছিলেন, এরদোয়ান পুনরায় তা প্রতিস্থাপন করেছেন। এখানেই শেষ নয়। ১৯২৩ সালের পর থেকে তুরস্কের প্রথম শাসক হিসেবে গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণ করেছেন যার নাম 'চামলিজা মসজিদ', যা ইতোমধ্যে 'এরদোয়ান মসজিদ' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি তুরস্কের সর্ববৃহৎ মসজিদ যেখানে একসাথে ৬৩ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে ৩৫০০ স্কয়ার মিটারের আর্ট গ্যালারি, ৩০০০ স্কয়ার মিটারের কনফারেন্স হল, যেখানে একসাথে ১০৭১ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া ভেতরে ৩৫০০ গাড়ী পার্কিং করার ব্যবস্থা আছে। চামলিজা মসজিদের স্ট্রাকচার থেকে শুরু করে দরজা জানালার কাঁচ ও রং পর্যন্ত অটোমান নকশায় তৈরি।

চামলিজা মসজিদ এরদোয়ানের রাজনৈতিক লক্ষ্যের বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তিনি এক নতুন তুরস্ক প্রতিষ্ঠার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। যে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ইসলামিক ভাবধারায় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজ গঠনের চেষ্টা করছে। এবং পাশ্চাত্য অভিমুখ থেকে সরে এসে প্রাচ্যের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এরদোয়ানের চামলিজা মসজিদ অনেক বার্তা বহন করে। অটোমান সুলতানরা ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ নির্মাণ করতে পছন্দ করতেন। এতে করে মসজিদ পুরো ইস্তাম্বুল শহর থেকে দেখা যেতো। এরদোয়ানও সেই পথে হেঁটেছেন। বরং নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছেন। তিনি তার মসজিদ নির্মাণ করেছেন ইস্তাম্বুলের সাত পাহাড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়া 'চামলিজা'য়। এই চূড়ার নাম অনুসারেই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও লোকমুখে এখন তা এরদোয়ান মসজিদ নামেই পরিচিত।

চামলিজা মসজিদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তার মিনার সংখ্যা। এই মসজিদে মোট ৬টি মিনার রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মিনার ১০৭.১ মিটার উঁচু, যা ১০৭১ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে বিপক্ষে সেলজুকদের মানজিকার্ট যুদ্ধ জয়কে। বাকি দুইটি মিনারের উচ্চতা ৯০ মিনার। ইস্তাম্বুলে চামলিজা মসজিদ ছাড়া একমাত্র সুলতান আহমেদ মসজিদ বা ব্লু মস্কে ছয়টি মিনার আছে।

চামলিজা মসজিদের ৭২ মিটার উঁচু গম্বুজ কয়েক মাইল দূর থেকে দৃষ্টিগত হয়, যা মূলত ইস্তাম্বুলের ৭২টি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় বহন করে। আর ৩৪ মিটার উঁচু গম্বুজ দ্বারা ইস্তাম্বুল শহরের পরিচয় বহন করে। যে শহরের সাধারণ মানুষ ১৯৯৪ সালে এরদোয়ানকে মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি শহরের রূপ বদলে দিয়েছেন রাতারাতি। মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের সাফল্যই পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রের, সরকারের প্রধান ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেছে। একে একে জিতেছেন ১৩টি নির্বাচন। যা তুরস্কের রাজনীতির ইতিহাসের আর কোনো নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট। ইস্তাম্বুলে তার প্রতিষ্ঠিত সুলেমানিয়ের মসজিদের গম্বুজের উচ্চতা ৫৩ মিটার। যা আয়া সোফিয়া ও সুলতান আহমেদ মসজিদকে ছাঁড়িয়ে এত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সুলতান সুলেমানের মসজিদকেও ছাড়িয়ে গেছে চামলিজা তথা এরদোয়ান মসজিদের গম্বুজ। তবে কী সুলতান এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান সুলেমানকেও ছাড়িয়ে যেতে চান? সম্ভবত তার রাজনৈতিক লক্ষ্য তেমনই। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ এক সময় অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল উত্তরে পোল্যান্ড, দক্ষিণে সোমালিয়া, পশ্চিমা মরক্কো আর পূর্বে ইরান পর্যন্ত। এরদোয়ান অটোমান সাম্রাজ্যের হারানো প্রতিপত্তি কতটুকু উদ্ধার করতে পারবেন তা সময়ই বলে দিবে। তবে অটোমানদের একসময়ের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যে নতুন সুলতানের আগমন ঘটেছে তা পরিষ্কার। তিনি হলেন সুলতান রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান৷

Zahid Hasan Mithu
Powered by Blogger.