রোজা ভাঙ্গা নিয়ে ও অন্যান্য কিছু ভুল ধারনা | মাহে রমজান ২০২০

রোজা ভাঙ্গা নিয়ে ও অন্যান্য কিছু ভুল ধারনা | মাহে রমজান ২০২০ 

রামাদানের দুটো ভুল ধারণা:
▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬
.
[এক.]
‘‘সাহরি খেতে না পারলে রোজা হয় না’’ এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর। সাহরি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা সাহরি খাও; কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে।’’ [সহিহ বুখারি: ১৯২৩]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের সিয়ামের মাঝে পার্থক্য হলো, সাহরি খাওয়া।’’ [সহিহ মুসলিম: ১০৯৬]
.
সুতরাং অল্প কিছু দিয়ে হলেও সাহরি খেয়ে রোজা রাখা উচিত। তবে, কোনো কারণে সাহরি খেতে উঠতে না পারলেও রোজার কোনোই ক্ষতি হবে না। সাহরি যথাসম্ভব শেষ সময়ে খাওয়া উত্তম।
.
[দুই.]
‘‘তারাবি না পড়লে রোজা হয় না’’ এটি সম্পূর্ণ ভুল কথা। তারাবি এবং রোজা ভিন্ন দুটো আমল। একটার জন্য আরেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তারাবি পড়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ্; সুতরাং, তারাবি পড়তে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় রামাদানে (রাতে নামাজে) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের সকল (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [সহিহ মুসলিম: ৭৫৯]
.
তবে, কোনো কারণে তারাবি না পড়লেও রোজা ছাড়া যাবে না। কারণ রোজা রাখা ফরজ আর তারাবি সুন্নাত।
.
#মহিমান্বিত_রামাদান
.
#Tasbeeh


রমাদানে যেসব ভুল করা যাবে না (২য় পর্ব)
.
[ছয়.]
ইফতারকে সুস্বাদু ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে গিয়ে অনেকেই ইফতারের পূর্বের মহামূল্যবান সময়টা নষ্ট করে ফেলেন। অথচ ইফতারের পূর্বমুহূর্তে দু‘আ কবুল হয়। এ সময়ে বেশি করে ইস্তিগফার ও দু‘আ করা উচিত।
.
[সাত.]
অনেকেই রামাদানে দ্রুত কুরআন খতম করতে গিয়ে তিলাওয়াতের হক আদায় করেন না। বেশি খতমের আকাঙ্ক্ষায় এমনভাবে তিলাওয়াত করবেন না যে, পড়া সহিহ হয় না। এতে তেমন ফায়দা হবে না। যেটুকু পড়বেন, ধীরে-সুস্থে, আগ্রহ সহকারে, ভালোবাসা নিয়ে পড়বেন। পরিমাণ কম হলেও আল্লাহ্ এতে বেশি খুশি হবেন। রমাদানে কোয়ান্টিটির চেয়ে কোয়ালিটিকে প্রধান্য দিন।
.
[আট.]
রামাদান মাসে অনেকের খরচ বেড়ে যায়। এত এত আইটেম আর এত এত দামি খাবার খান, ফলে প্রচুর টাকা পয়সা খরচ হয়ে যায়। এছাড়া শেষ দিকে ঈদের শপিংয়ের জন্য সেইরকম তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। এগুলো একদম অনুচিত। রামাদানের মূল কনসার্ন হওয়া উচিত ইবাদত, গুনাহ মাফ করানো এবং তাকওয়া অর্জন করা।
.
[নয়.] 
রোজার সময় কাটানোর জন্য অনেকে বিভিন্ন অলস খেলাধুলায় (লুডু, দাবা, কেরাম) লিপ্ত হন, যেগুলোতে ন্যূনতম শরীরচর্চাও হয় না। এই খেলাগুলো এমনিতেই শরিয়ত সমর্থন করে না, আবার এসব খেলে রোজার সময় কাটান অনেকে। আবার কারো দিন কাটে সোশাল মিডিয়াতে ফান-ট্রল করে, গান শুনে, মুভি দেখে। এগুলো সবই রোজার শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক—আত্মাকে কলুষিত করে।
.
[দশ.]
অনেকে রামাদানের অর্জনকে ঈদের দিনেই শেষ করে দেন। আড্ডা, গান, নেশা, নাটক-মুভি, গিবত, কুদৃষ্টি—সবকিছু যেন আগের রূপে ফিরে আসে। তারা ভুলে যান—কষ্টকর রোজা, তাহাজ্জুদের নামাজ, আন্তরিক মুনাজাত, পবিত্র কুরআনের মধুর তিলাওয়াত আর ইফতারের আনন্দের কধা। দীর্ঘ এক মাসের শারীরিক ও আত্মিক প্রশিক্ষণ সব বৃথা করে দেন। এটি খুবই দুঃখজনক। 
.
প্রথম পর্বে উল্লেখিত পাঁচটি ভুল পড়ুন↓
.
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2467455840021383&id=1698393090260999
.
#মহিমান্বিত_রামাদান
.
#Tasbeeh




বেশির ভাগ কাজে শুরু করে কিছুদূর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই একটু কঠিন, এরপর থেকে সহজ। একটা উদাহরণ দেইঃ
আপনি রমাদানে প্রথম ৩-৪ দিন প্রতিদিন এক থেকে দেড় পারা করে তিলাওয়াত করছেন, এরপর কিন্তু একটা বাধ্যতা চলে আসবে পুরাটা শেষ করতে। কিন্তু প্রথম দিকেই যদি আপনি এক পারার কম পড়েন এবং মনে করেন পরে মেকাপ করে নিব, ৯৯% চান্স যে সেটা হবে না। খতম তারাবীতে অ্যাটেন্ড করাও অনেকটা সেরকম, আপনি প্রথম ৮-১০ রাত রেগুলার মসজিদে পড়লে, পরে দরকার হলে ইফতারের দাওয়াত ইগনোর করেও পুরা মাসে কুরআন খতম করবেন। সবই হচ্ছে আল্লাহর দিকে প্রথমে এগিয়ে যাওয়া এবং দৃঢ়তা বজায় রাখা। এই হাদিসে কুদসি সবাই শুনেছি, আবারও দেখে নেই।
আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
আল্লাহ বলেন, আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।’’
[বুখারি ৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৬, ৭৫৩৭, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযি ২৩৮৮, ইবন মাজাহ ৩৭২২, আহমদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ৯৪৫৭]

--
ফরমুলাঃ- শুরু + দৃঢ়ভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা + ইখলাস।
-  M. Mahbubur Rahman
Powered by Blogger.