ইসতিগফারের সীমাহীন মর্যাদা ও লাভ [কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে] | আল্লাহ্‌র কাছে মাফ বা ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব

ইসতিগফারের সীমাহীন মর্যাদা ও লাভ | আল্লাহ্‌র কাছে মাফ বা ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব 



.
(১) আযাব-গযব থেকে সুরক্ষা:
.
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে বলেন, ‘‘আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব দিবেন না, যতক্ষণ আপনি (নবীজি) তাদের মাঝে অবস্থান করবেন এবং তারা ইসতিগফার করা অবস্থায়ও তাদের উপর আযাব অবতীর্ণ করবেন না।’’ [সূরা আনফাল, আয়াত: ৩৩]
.
আযাব আসার প্রতিবন্ধক ছিলেন নবীজি। তিনি চলে গেছেন। এখন বাকি আছে ইসতিগফার। সুতরাং এর গুরুত্ব কত বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
.
(২) দুনিয়া ও আখিরাতে উপভোগ্য জীবনের নিশ্চয়তা:
.
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘আর তোমরা নিজেদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, তাঁর দিকে ফিরে আসো। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (দুনিয়াতে) উৎকৃষ্ট জীবন উপভোগ করাবেন এবং অধিক আমলকারীকে (আখিরাতে) বেশী করে দেবেন। আর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে থাকো, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা-দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।’’ [সূরা হুদ, আয়াত: ০৩] [তাফসিরে ইবনে কাসির: ২/৪৩৬]
.
(৩) ইসতিগফার করলে গুনাহ মাফ করা হয় এবং আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত হয়:
.
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ্ বলেন, ‘‘হে আমার বান্দারা! তোমরা দিনে-রাতে গুনাহ্ করছো; আমি আমি তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করব; অতএব, তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা (ইসতিগফার) করো।’’ [সহিহ মুসলিম]
.
‘‘যে গোনাহ করবে অথবা নিজের উপর জুলুম করবে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, দয়াময় পাবে।’’ [সূরা নিসা, আয়াত: ১১০]
.
(৪) ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধি এবং উত্তম জীবনের নিয়ামত লাভ:
.
‘‘(নূহ আ. বলেন) অতঃপর আমি বললাম: তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’’ [সূরা নূহ, আয়াত: ১০–১২]
.
(৫) শয়তানকে পরাজিত করার শক্তিশালী এক হাতিয়ার হলো ইস্তিগফার:
.
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, “ইবলিস তার রবকে বললো: আপনার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি আদম-সন্তানকে পথভ্রষ্ট করতেই থাকব, যতক্ষণ তাদের মধ্যে রূহ থাকে। আল্লাহ বলেন: আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমিও তাদের ক্ষমা করতেই থাকব, যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইসতিগফার করবে।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিসটি হাসান]
.
(৬) ইসতিগফার অন্তরের সংকীর্ণতা দূর করে এবং শক্তিমত্তা বৃদ্ধি করে:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার অন্তর (আল্লাহর স্মরণ হতে) বাধাপ্রাপ্ত হয়, (তাই) আমি দিনে শতবার ইসতিগফার করি।’’ [সহিহ মুসলিম: ২৭০২]
.
[আরো দেখুন: সূরা হুদ, আয়াত: ৫২]
.
(৭) জান্নাতের নিশ্চয়তা: সাইয়িদুল ইসতিগফার (ইসতিগফারের শ্রেষ্ঠ দু‘আ) দু‘আটি মুখস্থ করে নিতে হবে।
.
হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় এ দু‘আটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পড়বে, অতঃপর সেদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এটি পড়বে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৩০৬]
.
(৮) শেষ রাতের ইসতিগফারকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ প্রশংসা করেন:
.
আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে বলেন, ‘‘আর আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি (সু)দৃষ্টি রাখেন, যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের মাফ করে দাও এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।’ ’’ [সূরা আ~ল ইমরান, আয়াত: ১৫-১৬]
.
তাঁদের প্রশংসায় আল্লাহ্ বলেন, ‘‘তারা সবরকারী, সত্যবাদী, অনুগত, (সৎপথে) ব্যায়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।’’ [সূরা আ~ল ইমরান, আয়াত: ১৭]
.
(৯) দুনিয়ার সংকীর্ণতা, কষ্ট ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় হলো ইসতিগফার:
.
হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।” [বায়হাকি: ৬৩৬, মুস্তাদরাক হাকিম: ৭৬৭৭; সহিহ]
.
(১০) নারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম দুই উপায় হলো: সাদাকাহ ও ইস্তিগফার:
.
একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, ‘‘হে নারীরা! তোমরা সাদকাহ করতে থাক এবং অধিক মাত্রায় ইসতিগফার করো। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীরূপে দেখলাম।...(হাদিসটি দীর্ঘ)’’ [সহিহ মুসলিম: ৭৯, ৮০]
.
এছাড়াও ইসতিগফার—
.
√ সুন্নাতুল আম্বিয়া (নবিদের সুন্নাহ);
√ মুত্তাকিদের সিফাত (গুণ);
√ গুনাহের ময়লা দূর করে;
√ অন্তরে প্রশান্তি আনে;
√ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করে;
√ ঈমানের মিষ্টতা এনে দেয়;
√ যেকোনো বিপদ দূর করে;
√ ডিপ্রেশন থেকে রক্ষা করে;
√ আল্লাহর প্রিয় বানায়।
.
মহান রব আমাদের ইসতিগফারে লেগে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
.
#Tasbeeh
Next Post Previous Post