মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর এর দোয়া আমল ও ইবাদত ২০২৪ | শবে কদরে এর বিভিন্ন আমল জানুন

মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর এর দোয়া আমল ও ইবাদত ২০২৪ | শবে কদরে এর বিভিন্ন আমল ও নারীদের জন্য কিছু নাসিহাহ 

  1. শবে কদর ২০২৪
  2. শবে কদরের নামাজ
  3. লাইলাতুল কদর ২০২৪
  4. শবে কদর কত তারিখে ২০২৪
  5. শবে কদর 2024

পিরিয়ডে (হায়েয) থাকা নারীরা লাইলাতুল কদরে যেসব আমল করতে পারেন

❑ দু‘আ করা.
পিরিয়ডকালে দু‘আ করতে কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, উত্তম হবে—

অজু করে লাইলাতুল কদরের মহান রজনীতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মনোনিবেশ করা।

এই রাতে দু‘আ কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আই ইবাদত।’’ 
[আবু দাউদ: ১৪৭৯, হাদিসটি সহিহ]

লাইলাতুল কদর এর দোয়া আমল
.
কোনো বিশেষ নিয়ম নয়, স্বাভাবিকভাবে দু‘আর নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে দু‘আ করবেন।
.
❑ তাওবাহ-ইস্তিগফার পড়া.
এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হলো আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ ও ইস্তিগফার পড়া। 


ইস্তিগফারের যত বাক্য মুখস্থ আছে, সবই পড়বেন। পাশাপাশি একটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়তে পারেন। 

সেটি হলো:
.
আয়িশা (রা.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি অধিক মাত্রায় পড়তেন—


.
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
.


[সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি]

.
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। 

[সহিহ মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন: ১৮৮৬]



.
এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করবেন। 



তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো:


কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দিতে হবে,

নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে

এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। 

[ইমাম নববী, রিয়াদুস সালেহীন]




.
তাওবাহ্ করার ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো, আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া। তবে, এটি জরুরি নয়।


যেহেতু হায়েয অবস্থায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ, সেহেতু শুধু তাওবাহ ও ইস্তিগফারের কিছু বাক্য পাঠ করে আন্তরিকভাবে দু‘আ করাই যথেষ্ট।

.

❑ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা

.
সর্বোত্তম দরুদ হলো দরুদে ইবরাহিম। আমরা নামাজের শেষ বৈঠকে যে দরুদ পড়ি, সেটিই দরুদে ইবরাহিম।


এর পাশাপাশি অন্যান্য মাসনূন (হাদিসের) দরুদও পাঠ করা যায়।


.
দুটো সহিহ দরুদ পড়তে পারেন।


.
اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد
আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া 'আলা আ~লি মুহাম্মাদ। [নাসাঈ: ১২৯১; হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন শায়খ আলবানি (রাহ.)]


.
اللهم صل على محمدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
.
[আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা,

ওয়া সল্লি ‘আলাল মুঅ্-মিনী-না ওয়াল মুঅ্-মিনা-ত,
ওয়াল মুসলিমী-না ওয়াল মুসলিমা-ত]


.
অর্থ: 

হে আল্লাহ! আপনি আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। 
আরো রহমত প্রেরণ করুন সকল মুমিন নারী-পুরুষ ও সকল মুসলিম নারী-পুরুষের উপর।
.
হাদিসে এসেছে, যে-মুসলমানের দান-সাদাকাহ করার মতো কিছু নেই, সে যেন দু‘আ করার সময় এটি বলে। এটি তার জন্য যাকাতস্বরূপ। 

[সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৩, হাকিম: ৪/১৩০, মুসনাদে আবু ইয়ালা: ১৩৯৭; হাদিসটিকে হাকিম ও যাহাবি (রাহ.) সহিহ বলেছেন। হাইসামি (রাহ.) হাসান বলেছেন]



.
বিশেষ কোনো সংখ্যা নয়, যতবার ইচ্ছা পড়তে থাকবেন। যত পড়বেন তত লাভ।
.

❑ বিভিন্ন যিকর করা

.
্যান্ডমলি পড়ার যে সকল যিকর আছে, সবই পড়তে পারেন এই রাতে। তবে, উত্তম হবে 



  1. সুবহানাল্লাহ্
  2. আলহামদুলিল্লাহ
  3. লা ইলাহা ইল্লাহ, 
  4. আল্লাহু আকবার 


এই বাক্যগুলো দিয়ে খুব বেশি পরিমাণে যিকর করা। সহিহ হাদিসে এসেছে, এগুলো আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সর্বাধিক প্রিয় বাক্য।

.
আরো একটি অসাধারণ যিকর পড়তে পারেন.
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
.
মোটামুটি উচ্চারণ: 

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু 
ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ 
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু
ওয়া হুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
.
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। 

তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই।
তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা ও রাজত্ব; 
তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
.
এর মাধ্যমে নেকি লাভ, গুনাহ মাফ এবং দাস মুক্ত করার মতো বিরাট ফজিলত রয়েছে।


.
হাদিসে একটি বাক্যকে বলা হয়েছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডার। সেটিও বেশি বেশি পড়তে পারেন—


.
ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ

[উচ্চারণঃ লা হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ]


অর্থঃ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। 


[সহিহ বুখারি: ৪২০৬; সহিহ মুসলিম: ২৭০৪]



.

❑ জীবিত ও মৃত সকল মুমিনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা

.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 


“যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি করে সওয়াব 
আল্লাহ তার আমলনামায় লিখে দেন।” 
[তাবারানি, হাদিসটি সহিহ]



.
এই দু‘আটি পড়তে পারেন.
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏُ
.
[উচ্চারণ: রাব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি-দাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনী-না ইয়াওমা ইয়াক্বূ-মুল ‘হিসাব]
.
অর্থঃ হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে তুমি সেদিন ক্ষমা করে দিও, যেইদিন হিসাব কায়েম করা হবে। 

[সুরা ইব্রাহিম, আয়াত ৪১]


 কদর রাতের প্রার্থনা


❑ কদরের রাতে পড়ার বিশেষ দু‘আটি বেশি বেশি পড়া.
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম,

‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, 
তাহলে ওই রাতে কী বলব?’ 

নবীজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
.
[আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন কারীম, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’অ্ফু ‘আন্নী]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি ক্ষমাশীল, মহানুভব! তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। 


[তিরমিযি: ৩৫১৩, হাসান সহিহ]


.
#মহিমান্বিত_রজনী (২য় পর্ব)
শীঘ্রই আরো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ্
.
#Tasbeeh



  • শবে কদর কবে ২০২৪
  • শবে কদর ২০২৪ কত তারিখ
  • শবে কদর কত তারিখে 2024


লাইলাতুল কদরের হাদিস । 

যদি কেউ লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য অর্জন করতে চায়, তবে রমাদানের শেষ দশটি রাতকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে হবে। 

শেষ দশ দিন এবং ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা পাঁচটি হাদিস তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ্।
.
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাদানের) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ আমল করতেন না।’’ 
[সহিহ মুসলিম: ১১৭৫]

.
তিনি আরো বলেন, ‘‘যখন রমাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’’ [সহিহ বুখারি: ২০২৪, ১১৭৪]


.
সুতরাং, শুধু নিজে ইবাদত করবেন না, পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতে শামিল করবেন। তাদেরকে জাগিয়ে দেবেন। তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন।


.
আয়িশা (রা.) অন্য হাদিসে বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম বিশ দিন (রাতে) সালাত আদায় করতেন ও ঘুমাতেন। কিন্তু শেষ দশকে ঘুমাতেন না; বরং পরিধেয় বস্ত্রকে মজবুত করে বেঁধে সালাতে মনোনিবেশ করতেন।’’ 

[আহমাদ: ৬/৬৮, ১৪৬]


.
এমনকি শেষ দশ দিনের ইতিকাফের অন্যতম একটি কারণ হলো, লাইলাতুল কদর তালাশ করা। কারণ, যে দশটি দিন ও রাত উত্তমভাবে মসজিদের নির্জন পরিবেশে আল্লাহর সান্নিধ্যে কাটাবে, সে ইনশাআল্লাহ্ সহজেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য লাভ করতে পারবে।


.
এই প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে—
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ মহান রাতটি খুঁজলাম, এরপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। 
অতঃপর আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ ১০ দিনের (রাতের) মাঝে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে।’’ [সহিহ মুসলিম: ১১৬৭]

.
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমাদানে ইতিকাফ করতেন।’’ [সহিহ বুখারি: ২০৪১]
.
যাদের পক্ষে সম্ভব হবে, তারা অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন শেষ দশক ইতিকাফে কাটাতে। কারণ ইতিকাফ করলে লাইলাতুল কদর নসিব হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। আর, জীবনে যদি কদরের একটি রাতও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি মহাসৌভাগ্যের সোপান হবে ইনশাআল্লাহ্।
.
হানাফি মাযহাব মতে, নারীরা ইতিকাফ করতে চাইলে বাসায় কোনো একটি রুমের এক কোণে পর্দা টানিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করে ইতিকাফ আদায় করবে। তবে, পুরুষদের অবশ্যই মাসজিদে ইতিকাফ করতে হবে।
.
ইতিকাফের মাসয়ালা বিস্তারিতভাবে আলিমদের থেকে জেনে নিতে হবে।
.
#মহিমান্বিত_রজনী (প্রথম পর্ব)


লাইলাতুল কদরের উপর আরো কয়েকটি পর্ব আসতে পারে। ওয়া মা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ্।
.
#Tasbeeh



  1. লাইলাতুল কদর সূরা
  2. শবে কদর ২০২৪
  3. লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ম
  4. লাইলাতুল কদর কখন হয়

লাইলাতুল কদরে যেসব ফজিলতপূর্ণ সূরা ও আয়াত তিলাওয়াত করতে পারি

.
❖ সূরা ইখলাস
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি, নিশ্চয়ই এই সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’’ [সহিহ বুখারি: ৫০১৩]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস ১০ বার শেষ করবে, তার জন্য জান্নাতে আল্লাহ্ একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’’ [সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৯, হাদিসটি সহিহ]
.
সুতরাং, এই সূরাটি কদরের রাতে খুব বেশি পরিমাণে পড়া উচিত। চাইলে ১০০ বার পড়া যেতে পারে। তবে, সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। যত বেশি হবে, তত লাভ।
.
❖ সূরা কাফিরুন
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সূরা কাফিরুন কুরআনের চার ভাগের এক ভাগ সমমূল্য।’’ [সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৬, হাদিসটি হাসান]
.
এই ফজিলতপূর্ণ সূরাটি বেশ কয়েকবার পাঠ করা যেতে পারে।
.
❖ সূরা মুলক
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কুরআনে এমন একটি সূরা আছে, যার মধ্যে ৩০ টি আয়াত রয়েছে; যেটা একজন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে; এমনকি তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটা হলো তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক)।” [তিরমিযি: ২৩১৫, সহিহ ইবনু মাজাহ: ৩০৫৩, হাদিসটি সহিহ]
.
❖ সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা আল-বাক্বারার শেষ দুই আয়াত রাতের বেলা তিলাওয়াত করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।’’ [সহিহ আবু দাউদ: ১২৬৩, হাদিসটি সহিহ]
.
❖ আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)
.
উবাই ইবনু কা’ব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘তুমি কি জানো, আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ?’’ আমি বললাম, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়া... (আয়াতুল কুরসি) তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত দ্বারা আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করে বলেন, আবুল মুনযির (উবাইয়ের ডাক নাম)! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ।’’ [সহিহ মুসলিম: ১৩৯৬]
.
বেশ কয়েকবার এই আয়াতটি তিলাওয়াত করা যেতে পারে এই রাতে।
.
❖ মুসাব্বিহাত সূরাগুলো
.
ইরবাদ্ব ইবনু সারিয়াহ্ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ না করে ঘুমাতেন না। আর তিনি (নবীজি) বলেন, ‘‘এগুলোতে (মুসাব্বিহাতে) এমন একটি আয়াত আছে, যা ১ হাজার আয়াতের সমান।’’ [তিরমিযি: হাদিসটি সহিহ]
.
উল্লেখ্য, আলেমগণের মতে, মুসাব্বিহাত সূরাগুলো হলো:
.
সূরা ইসরা (বনি ইসরাঈল)
সূরা হাদিদ
সূরা হাশর
সূরা সফ
সূরা জুমু‘আহ
সূরা তাগাবুন
সূরা আ’লা
.
আর, যে আয়াতটি ১ হাজার আয়াতের সমান, সেটির ব্যাপারে ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) বলেন, সেটি হলো: সূরা হাদিদের ৩ নং আয়াত।
.
সম্ভব হলে মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পড়ে নিবেন। সাধারণভাবেই প্রতি আয়াতে দশ নেকি হয়। আর কদরের রাতে সেটি অনেক বেশি হবে, ইনশাআল্লাহ্।
.
এছাড়াও পড়তে পারেন সূরা যুমার ও সূরা আস সাজদাহ। এ দুটো সূরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের পূর্বে পড়তেন। [সিলসিলা সহিহাহ: ৬৪১, তিরমিযি: ২৩১৬, হাদিস সহিহ]
.
লাইলাতুল কদরে এসব পড়া জরুরি কিছু নয়। সাধারণ সময়ে এগুলো অনেক বেশি ফজিলতপূর্ণ সূরা হওয়ায় এখানে তা উল্লেখ করা হলো। যাদের ইচ্ছা হবে, কুরআন থেকে যেকোনো সূরা অথবা আয়াত পাঠ করতে পারেন।
.
#মহিমান্বিত_রজনী (তৃতীয় পর্ব)
আরো কয়েক পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ্। পূর্বের দুই পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। বিশেষত, কদরের রাতে হায়েযা নারীদের আমলগুলো ২য় পর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
.
#Tasbeeh




লাইলাতুল কদরে পাঠ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সহিহ যিকর ও তাসবিহ

.
❖ [যিকর নং: ০১] সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে পড়া।
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
.
► ‘‘যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, সে ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
.
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে, সে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মুজাহিদ প্রেরণের সওয়াব পাবে;
.
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, সে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সওয়াব পাবে;
.
► যে ব্যক্তি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে।’’ [ইবনু মাজাহ: ২/১২৫২, মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৪৪, হাদিসটি হাসান]


❖ [যিকর নং: ০২] একটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করা।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার পড়বে—
.
لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
.
[মোটামুটি উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।]
.
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
.
► সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
► তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
► তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
► ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
► ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [সহিহ বুখারি: ৩২৯৩, আবু দাউদ: ৫০৭৭]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি দশবার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৪০৪]
.
❖ [যিকর নং: ০৩] লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ খুব বেশি পরিমাণে পড়তে থাকা।
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ ’ [তিরমিযি: ৩৩৮৩, হাদিসটি হাসান]
.
❖ [যিকর নং: ০৪] ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহি’ বেশি পরিমাণে পাঠ করা।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি—
سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ
.
(সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহি) পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’’ [তিরমিযি: ৩৪৬৪, হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
❖ [যিকর নং: ০৫] ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম’ বেশি করে পড়া।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ
.
[উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বি‘হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৪০৬]
.
❖ [যিকর নং: ০৬] ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ ১০০ বার বা আরো বেশি পাঠ করা।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যদি কেউ দিনের মধ্যে ১০০ বার পড়ে—
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ
.
(সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি) তার সকল (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৪০৫]
.
❖ [যিকর নং: ০৭] লা ‘হাউলা ওয়া লা কুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ বেশি বেশি পাঠ করা।
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবন কায়েস! আমি কি জান্নাতের এক রত্নভাণ্ডার সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করবো না?” আমি বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বলেন, “তুমি বলো—
لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
.
[উচ্চারণ: লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ]
.
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় নেই এবং (নেক আমল করার) কোনো শক্তি কারো নেই।’’ [সহিহ বুখারি: ৪২০৬; সহিহ মুসলিম: ২৭০৪]
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [সহিহ বুখারি: ২০২০]
.
সুতরাং আজ রাতেও আমরা সাধ্যানুযায়ী নেক আমল করব ইনশাআল্লাহ্। প্রকৃতপক্ষে, শেষ দশকের প্রতিটি রাতই সম্ভাবনাময়, যদিও বেজোড় রাতগুলোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।
.
পরবর্তী পর্বগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সহিহ দরুদ, দু‘আ ও ইস্তিগফার থাকবে ইনশাআল্লাহ্।
.
#মহিমান্বিত_রজনী (ষষ্ঠ পর্ব)
পূর্বের পাঁচটি পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। পড়ে নিতে পারেন।
.
#Tasbeeh



লাইলাতুল কদরে পড়তে পারেন শ্রেষ্ঠ ৪ টি দু‘আ, ৭ টি ইস্তিগফার ও ৪ টি দরুদ (গুরুত্বপূর্ণ সব মণি-মুক্তা একত্রে দেওয়া হলো)
▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬
.
❑ ইস্তিগফার: [০১]
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি—
.
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ
[আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [সহিহ ইবনু হিব্বান: ৯২৮, হাদিসটি বিশুদ্ধ]
.
❑ ইস্তিগফার: [০২]
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলব?’ নবীজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ

[আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন কারীম, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’অ্ফু ‘আন্নী]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি ক্ষমাশীল, মহানুভব! তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। [তিরমিযি: ৩৫১৩, হাসান সহিহ]
.
(অন্য হাদিসে ‘কারীম’ শব্দটি নেই। মূলত দুটো হাদিসের বর্ণনাই সহিহ)
.
❑ ইস্তিগফার: [০৩]
ইবনু মাস‘ঊদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’’ 
.
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
.
[আসতাগফিরুল্লাহ আল্লাযি (অথবা আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি) লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [আবু দাউদ: ১৫১৭, তিরমিযি: ৩৫৭৭, হাদিসটি বিশুদ্ধ]
.
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘‘আসতাগফিরুল্লাহাল ‘আযীম, আল্লাযি... (বাকি অংশে কোনো পরিবর্তন নেই)।’’ [তিরমিযি: ৩৫৭৭, হাসান]
.
❑ ইস্তিগফার: [০৪]
সাইয়িদুল ইসতিগফার অর্থাৎ এই ইস্তিগফারকে হাদিসে বলা হয়েছে ‘ইস্তিগফারের নেতা’।
.
ﺍَﻟﻠّٰﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻟَﺎ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮْﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮْﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
.
[আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতা ত’তু আ‘উযুবিকা মিন শাররি মা সনা’তু আবূ-উ লাকা বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূ-উ বিযানবী, ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা] (অবশ্যই আরবি দেখে শিখুন, বাংলা উচ্চারণ সঠিক হয় না)
.
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার রব। তুমি ছাড়া কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমারই গোলাম। তুমি আমার কাছ থেকে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছো, সাধ্যানুযায়ী আমি তার ওপর চলবো। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছো তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় এ দু‘আটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পড়বে, অতঃপর সেদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এটি পড়বে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’ [সহিহ বুখারি: ৬৩০৬]
.
❑ ইস্তিগফার: [০৫]
.
رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
.
অর্থ: হে আমাদের রব, নিশ্চয়ই আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [সূরা আ~লে ইমরান, আয়াত: ১৬]
.
❑ ইস্তিগফার: [০৬]
আদম (আ.) ও মা হাওয়া যখন ভুল করেন, তখন তাঁরা এই দু‘আ (ইসতিগফার) করেন এবং আল্লাহ্ তাঁদের দু‘আ কবুল করেন। 
.
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ
.
‘‘হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হহয়ে যাব।’’ [সূরা আল আ‘রাফ, আয়াত: ২৩]
.
ইস্তিগফারের জন্য শ্রেষ্ঠ দু‘আগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। অসাধারণ দু‘আ!
.
❑ ইস্তিগফার: [০৭]
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর চমৎকার দু‘আ (ইসতিগফার)। এর মাধ্যমে একই সাথে নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং সকল জীবিত ও মৃত ঈমানদারের জন্য দু‘আ করা হয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ। 
.
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ 
.
‘‘হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়ো।’’ [সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
.
❑ দরুদ: [০১]
.
সর্বশ্রেষ্ঠ দরুদ সেটিই, যা আমরা প্রত্যেক নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু...)-এর পর পড়ি। সেটি হলো: আল্লাহুম্মা সল্লি আলা.....শেষ পর্যন্ত। সবারই মুখস্থ আছে, তাই এখানে উল্লেখ করছি না। [সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আবু ইয়ালাসহ প্রায় সব হাদিসগ্রন্থেই আছে এটি]
.
❑ দরুদ: [০২]
.
اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد
.
আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া 'আলা আ~লি মুহাম্মাদ।
.
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের উপর রহমত প্রেরণ করুন)
.
[নাসাঈ: ১২৯১; হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন শায়খ আলবানি (রাহ.)]
.
❑ দরুদ: [০৩]
.
أللهم صل على محمد، وَأَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
.
আল্লাহুম্মা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আনযিলহুল মাক্ব‘আদাল মুক্বাররাবা ‘ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ্।
.
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং কিয়ামতের দিন আপনার সন্নিকট তাঁকে স্থান দিন)
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে এটি বলবে, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হবে।’’ [আহমাদ: ২/৩৫২, তাবারানি: ৫/২৫-২৬, আত তারগিব: ২/৫০২-৫০৩; হাদিসটিকে হাসান বলেছেন হাইসামি ও মুনযিরি (রাহ.)]
.
❑ দরুদ: [০৪]
.
اللهم صل على محمدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
.
আল্লাহুম্মা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়া সল্লি ‘আলাল মুমিনী-না ওয়াল মুমিনা-ত, ওয়াল মুসলিমী-না ওয়াল মুসলিমা-ত। 
.
(হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর রহমত প্রেরণ করুন এবং সকল মুমিন-মুমিনা ও মুসলিম-মুসলিমার উপরও রহমত প্রেরণ করুন)
.
হাদিসে এসেছে, ‘‘যে-মুসলমানের দান-সাদাকাহ করার মতো কিছু নেই, সে যেন দু'আ করার সময় এটি বলে। এটি তার জন্য যাকাতস্বরূপ।’’ [সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৩, হাকিম: ৪/১৩০, মুসনাদে আবু ইয়ালা: ১৩৯৭; হাকিম ও যাহাবি (রাহ.) সহিহ বলেছেন। হাইসামি (রাহ.) হাসান বলেছেন]
.
❑ শ্রেষ্ঠ দু‘আ: [০১] 
.
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সকাল-সন্ধ্যায় এই বাক্যগুলো বলতেন—
.
​​​​​​​اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي 
.
[উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়াদুনইয়া-ইয়া, ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি—আমার দ্বীন ও দুনিয়ার; আমার পরিবার ও সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন। [আল-আদাবুল মুফরাদ: ১২০০, হাদিসটি সহিহ (হাদিসটি আরো দীর্ঘ)]
.
❑ শ্রেষ্ঠ দু‘আ: [০২]
.
উম্মে সালামা (রা.) বলেন—রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু'আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–
.
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِيْنِكَ
.
[মোটামুটি উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব! সাব্বিত ক্বালবী ‘আলা দীনিকা]
.
[অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।]
[তিরমিযি, হাদিস: ৩৫২২, হাসান]
.
❑ শ্রেষ্ঠ দু‘আ: [০৩]
.
اللَٰهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ، وَأَحْيِنَا مُسْلِمِينَ، وَأَلْحِقْنَا بِالصَّالِحِينَ، غَيرَ خَزَايَا وَلَا مَفْتُونِينَ
.
[মোটিমুটি উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা তাওয়াফফানা মুসলিমীন, ওয়া আ‘হয়িনা মুসলিমীন, ওয়া আলহিক্বনা বিস স-লিহীন, গায়রা খাযা-য়া ওয়া লা মাফতূ-নীন]
.
[অর্থ: হে আল্লাহ! মুসলিম অবস্থায় আমাদের মৃত্যু দিও; মুসলিম অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো; (মৃত্যুর পর) ভালো মানুষদের সাথে আমাদের জুড়ে দিয়ো; আমাদের অপদস্থ করো না এবং পরীক্ষায় ফেলো না] [বুখারি, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৯৯, সহিহ]
.
❑ শ্রেষ্ঠ দু‘আ: [০৪]
.
اَللّٰهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الأُمُورِ كُلِّهَا، وَأجِرْنَا 
مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرَةِ
.
আল্লাহুম্মা আ‘হসিন ‘আ-ক্বিবাতানা, ফিল উমূ-রি কুল্লিহা, ওয়া আজিরনা— মিন খিযয়িদ দুনইয়া, ওয়া ‘আযা-বিল আ-খিরাহ
.
[অর্থ: হে আল্লাহ! সকল কাজে আমাদের উত্তম পরিণতি দাও। আর আমাদের রক্ষা করো—দুনিয়ার লাঞ্ছনা-অপমান থেকে ও আখিরাতের আযাব থেকে]
.
বুসর ইবনু আরতাআ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবে দু'আ পড়তে শুনেছি...(অতপর তিনি উপরের দু'আটি বর্ণনা করেন)।’’ 
[বুখারি, আত তারিখুল কাবির: ১/৩০, ২/১২৩, হাদিসটি হাসান]
.
#মহিমান্বিত_রজনী (নবম পর্ব)
পূর্বের আট পর্বের লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। পড়ে নিতে পারেন। সেখানে নফল নামাজ, তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন আমলের আলোচনা আছে।


রমজানের শেষ ১০ দিনের যে কোন রাত লাইলাতুলকদর হতে পারে। কি আমল করব?
--প্রথমত খেয়াল রাখতে হবে বড় জায়গায় ছোট বেয়াদবি ও বড় হয়ে যায়। তাই এই রাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব গুনাহ যাতে আমার দ্বারা না হয় কোনভাবেই।
-- দ্বিতীয়ত তওবার নিয়তে কিছু নফল সলাত পড়ব ইন শা আল্লাহ।
-- মাগরিব, ইশা, ফজর, তারাবি জামাত সহকারে পড়ব।
-- সুরা ইখলাস ১০ বার পড়লে জান্নাতে একটা বাড়ির ওয়াদা আছে। কমপক্ষে ১০০ বার না পারলেও ১০ বার পড়ব।
-- খুব মনোযোগ সহকারে দুয়া করব।
-- সদাকা সাধ্যমতো যা পারি করব।
-- সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহু আকবার লা ইলা হা ইল্লাল্লাহ, ১০০ বার করে পড়ব।
-- সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম ১০০ বার পড়ব।
-- লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ১০০ বার পড়ব।
-- লা ইলা হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইইন ক্বদির ১০০ বার পড়ব।
-- লাইলাতুলকদর এর হাদিসে বর্ণিত দুয়া, ইস্তিগফার আর দরুদ সাধ্যমতো পড়ব।
-- তিলাওয়াত নিজের সুবিধা মত করব। ইন শা আল্লাহ। শেষ ১০ দিন প্রতি রাতে এই আমলগুলো করতে থাকলে আশা করি লাইলাতুলকদর এর বরকত থেকে মাহরুম হবনা ইন শা আল্লাহ।
বিঃদ্রঃ যেসকল মা বোনের মাসিক অসুস্থতা থাকবে তারা নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত বাদে বাকি আমলগুলো করলেই কদরের বরকত লাভ করব ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ তা'আলা সকল কে আমলের তৌফিক দান করুন আমিন।
- Ishtiak Ahmad Tushar
Next Post Previous Post