ইসলামিক বই - আয়নাঘর থেকে শেকলে বাঁধা স্বাধীনতা | মূল - ড. ইয়াদ কুনাইবী

শেকলে বাঁধা স্বাধীনতা | বই - আয়নাঘর, মূল - ড. ইয়াদ কুনাইবী 


প্রজারা যতক্ষণ মুক্তি কিংবা বিদ্রোহের ব্যাপারে বেখবর থাকে, ততক্ষণ নাচগান, মদ আর মাংস নিয়ে তাদের উন্মাদনায় বাগড়া দেয় না রাজা। বরং সস্তা সুখ নিয়ে গোলামদের ব্যস্ততার সুযোগে নির্বিঘ্নে ছিনিয়ে নেয় তাদের সম্মান আর মানবতা।
.
এই হলো আজকের আধুনিক প্রজাদের ‘মুক্তি’ আর ‘অধিকার’ এর বাস্তবতা। অধিকার আর স্বাধীনতা হলো ওইসব সস্তা সুখ আর সাময়িক বিনোদন কেনার সক্ষমতা, যা দাসত্বকে টিকিয়ে রাখে। দীর্ঘায়িত করে।
এ এক শেকলে বাঁধা স্বাধীনতা।
.
রাজারা জনগণের ধনসম্পদ, সহায়-সম্বল ‘বৈধভবে’ লুট করে। দেনার বোঝা কাঁধে নিয়ে আত্মহত্যা করে মানুষ। শেয়ারবাজারে সর্বস্ব হারিয়ে ঝাপসা চোখে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মধ্যবিত্ত। বাধ্য হয়ে ডাস্টবিনে কুকুরের পাশে উবু হয়ে বসে খাবারের খোঁজ করে শিশু। বেকার হয়ে ডিগ্রি হাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় যুবক। নিজ ভিটে থেকে বিতাড়িত হয় কৃষক। পঙ্গু হয়ে যায় অর্থনীতি। কাল যে সম্মানিত ছিল আজ সে হয় লাঞ্ছিত। অন্যদিকে রাজা আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা গাড়ি-বাড়ি, পোশাক থেকে শুরু করে খাবার-দাবার, এমনকি হাতঘড়ির পেছনেও ওড়ায় কোটি কোটি টাকা।
.
এই রাজারাই মুসলিম উম্মাহর ধন-সম্পদ তুলে দেয় উম্মাহর শত্রুদের হাতে। লুট করা সেই টাকা দিয়ে বানানো মিসাইলের আঘাতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয় মুসলিম শিশুদের দেহ।
এই হলো আমাদের আজকের বাস্তবতা।
দুরবস্থার এই সময়ে প্রজাদের কী দেয় রাজারা? গোলামকে শান্ত করতে কী দেয় মনিব?
মনিব তার গোলামদের ‘স্বাধীনতার সীমানা’ বাড়িয়ে দেয়।
কেমন স্বাধীনতা জানেন?
.
গোলাম চাইলে ইচ্ছেমতো নাচতে পারবে, গাইতে পারবে, মাতাল হবে, নগ্ন হবে। যখন ইচ্ছে যার সাথে ইচ্ছে শোবে, নেশা করবে। সব সীমালঙ্ঘন করবে, দ্বীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে।
.
এভাবে স্বাধীনতার তোড়ে দিন দিন বাড়বে ওদের পরাধীনতা। গোলামের গায়ে আরও শক্ত হয়ে চেপে বসবে শেকলের বাঁধন।
এ এক অদ্ভুত স্বাধীনতা, জনগণের নতুন আফিম।
.
কৌশলটা চমৎকার। আমরা এক ঢিলে দুই পাখি মারার কথা বলি। এই কৌশলে এক ঢিলে তিন পাখি মারা পড়ে:
.
১। শোষিত, নির্যাতিত জনগণ চেপে রাখা আবেগ, কষ্ট, ক্ষোভ উগড়ে দেয়ার একটা পথ পায়। তারা বিদ্রোহ করে। তবে শোষকের বিরুদ্ধে না। তারা বিদ্রোহ করে ওই দ্বীনের বিরুদ্ধে, যা তাদের মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে।
.
২। ‘স্বাধীনতা’ নামের আফিম দিয়ে অনুভূতির দেয়াল অবশ করে ছিনিয়ে নেয়া হয় মানুষের মুক্তি ও সম্মান। ছিনিয়ে নেয়া হয় যুলুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি— দ্বীন। মুক্তি, সম্মান দ্বীন হারিয়ে মানুষ পরিণত হয় নফস আর কামনা দ্বারা চালিত পশুতে। যাকে নিশ্চিন্তে গোলামির বাঁধনে আজীবন আটকে রাখা যায়।
.
৩। রাজা আর প্রজা দুজনেই আন্তর্জাতিক ক্রুসেইডার-যায়োনিস্ট শাসকগোষ্ঠীর গোলাম থেকে যায়।
.
প্ল্যানটা প্রায় নিখুঁত বলা চলে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার একটা শর্ত আছে। আগে সরিয়ে দিতে হবে এতে বাগড়া দেয়ার মতো সব মানুষগুলোকে। ওইসব মানুষগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে যারা সাহাবী রিবি’ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষকে বলে,
.
'আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন, মানুষকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে স্রষ্টার দাসত্বে নিয়ে আসতে। সমস্ত বাতিল ধর্মের জুলুম থেকে মানুষকে মুক্ত করে দ্বীন ইসলামের ইনসাফের দিকে আনতে। এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে যেতে।'
.
একবার এমন চিন্তা করা, এমন কথা বলা মানুষগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারলে নিশ্চিন্তে বাস্তবায়ন করা যাবে মাস্টারপ্ল্যান। সবাইকে সস্তা সুখের উল্লাসে ব্যস্ত রেখে লুটে নেয়া যাবে মানবজাতির দুনিয়া ও আখিরাত। তাই আজ আন্তর্জাতিক শাসকগোষ্ঠী আর আঞ্চলিক রাজাদের প্রথম টার্গেট এই মানুষগুলো। সব অস্ত্র তাক করা তাদের বুকে। সব প্রপাগ্যান্ডার তীর তাদের দিকে। তাঁদেরই থামাতে মহাসমারোহের আয়োজন।
.
ড. ইয়াদ আল-কুনাইবি
প্রকাশিতব্য #আয়নাঘর থেকে
- Asif Adnan

বই - আয়নাঘর
মূল - ড. ইয়াদ কুনাইবী
অনুবাদ - ইলমহাউস অনুবাদক টিম
সম্পাদনা - Asif Adnan
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০০
নির্ধারিত মূল্য - ২০০ টাকা
অর্ডার করার জন্য যোগাযোগ করুন এই পেইজে -
নিদা পয়েন্ট - https://www.facebook.com/nidapointbd/

অথবা নিচের নাম্বারে - +880 1716-122518


অভিশপ্ত আর বিতাড়িত হওয়ার পর ইবলিসের ধ্যানজ্ঞান হয়ে দাঁড়ায় মানুষকে সীরাতুল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুত করা। যত বেশি সম্ভব বনী আদমকে নিজের সাথে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে হিংসা আর বিদ্বেষের আগুনে নিয়ত জ্বলতে থাকা ইবলিস।
قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَـٰذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلً
সে (ইবলিস) বলল, ‘দেখুন, এ ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার ওপর সম্মান দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেন, তবে অতি সামান্য-সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদের অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব।’ [তরজমা, সূরা বনী ইসরাইল, ৬২]
.
মানুষের মধ্যে ইবলিসের কিছু অনুসারী আছে, যারা হুবহু একই কাজ করে।
.
ওদের যৌনাকাঙ্ক্ষা বিকৃত। তাই মুসলিম যুবক-যুবতীদের যখন পবিত্রতা বজায় রাখতে দেখে, তখন ওরা সহ্য করতে পারে না ওরা।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আমাদের এ ধরনের মানুষের কথা জানিয়েছেন। যেমন লূত আলাইহিস সালাম ও তাঁর অনুসারীদের তাঁদের সম্প্রদায়ের লোকেরা বলেছিল,
أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ
‘তাদের তোমরা তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় তারা এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়।’ [তরজমা, সূরা আল আ’রাফ, ৮২]
.
এধরণের মানুষ আজও আছে। শয়তানের এই অনুসারীরা চায় অন্যেরাও তাদের মতো অধঃপতিত হোক। অপবিত্র হোক। মানুষকে যিনা, ব্যভিচার আর যৌন বিকৃতির দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য ওরা হাজির হয় গান, সিনেমা আর পর্নোগ্রাফির সম্ভার নিয়ে। হরেক রকম অশ্লীলতার পসরা সাজিয়ে, ফেরি করে বেড়ায় নিরন্তর। যাতে যুবক-যুবতীদের কামনা জেগে ওঠে, কুপ্রবৃত্তি শক্তিশালী হয় এবং তাঁরা সীমালঙ্ঘন করে।
.
মহান আল্লাহ বলেন,
وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَن تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا
...আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা প্রবলভাবে (সত্য পথ থেকে) বিচ্যুত হও। [তরজমা, সূরা আন-নিসা, ২৭]
.
ইবলিসের মতোই ওরা নিজেরা বিচ্যুত এবং অন্যদেরও বিচ্যুত করতে চায়। ওরা নিজেরা নষ্ট, অন্যকেও নষ্ট করতে চায়। ওরা মানসিকভাবে অস্থির, অসুস্থ, ভারসাম্যহীন। তাই ঈমানদারের অন্তরের প্রশান্তি আর চোখের শীতলতা ওরা সহ্য করতে পারে না।
.
মৃত্যুর পর কী আছে, কী হবে—এ নিয়ে ওরা দুশ্চিন্তায় ভোগে।
যদি দুনিয়ার এ জীবনটার ওপারে কিছু না-ই থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কি শুধু ঘুম, খাওয়া, যৌনতা, প্রাকৃতিক কর্ম সারা আর তারপর মরে যাওয়া? চিন্তাগুলো ওদের অন্তরের অন্ধকারকে আরও গাঢ় করে।
আমাদের আখিরাতের জন্য কাজ করতে দেখলে ওদের রাগ বেড়ে যায়। ওদের কুঁড়ে-কুঁড়ে খায় অন্ধ ক্রোধ।
.
মহান আল্লাহ বলেন,
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً
তারা চায় যে, তারা নিজেরা যেমন কুফরী করেছে, তোমরাও তেমনি কুফরী করো, যাতে তোমরা তাদের সমান হয়ে যাও। [তরজমা, সূরা আন-নিসা, ৮৯]
.
ভেতরে ভেতরে ওরা জানে, তুমি সত্যের অনুসারী আর ওরা মিথ্যের। কিন্তু তবু ওদের অনুশোচনা নেই। ওরা তাওবাহ করতে চায় না। আত্মসমর্পণ করতে চায় না আসমান-যমীনের মালিকের কাছে; বরং ওরা তোমাকেও নামিয়ে আনতে চায় ওদের কাতারে। যেন তুমিও ওদের মতো কলুষিত হও। যেন ওদের আর নিজেদের নিকৃষ্ট মনে না হয়।
ইবলিস জানে সে জাহান্নামে যাবে। কিন্তু সে জাহান্নামে একা থাকতে চায় না।
ওরাও চায় না।

ওরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
.
তাই ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং নিজের দৃষ্টি অবনত করো। গ্রহণ করো ঈমান ও হিদায়াতের শ্রেষ্ঠত্ব।
وَلَا يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ
...আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে। [তরজমা, সূরা আর-রূম, ৬০]
.
ড. ইয়াদ আল-কুনাইবী হাফিযাহুল্লাহ
প্রকাশিতব্য আয়নাঘর থেকে
Powered by Blogger.