স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা | স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা নিয়ে হাদিস , গল্প ছবি ও ভালবাসার টিপস।

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা | স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা ও স্বামী স্ত্রীর দায়িত্ব ।

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা | স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা নিয়ে  হাদিস , গল্প ছবি ও ভালবাসার টিপস।

 গল্প একঃ  অধরা ভালোবাসা...!

তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী। বিয়ে করেছেন, মাত্র কয়েকদিন হলো। বলতে গেলে, এখনও ফুলশয্যার রেশ কাটেনি। দুজনেই ঠিক করলেন- কোথাও ঘুরতে যাবে। বিয়ের পর সাধারণত নবদম্পতিরা যা করে আরকী! কিন্তু কোথায় যাবেন? সমুদ্রসৈকতে, নাকি বনভোজনে নাকি কোনো নয়নাভিরাম পার্কে? তবে সব ছাপিয়ে সিদ্ধান্ত হলো- আপাতত চিড়িয়াখানায় যাওয়া যাক। নানাজাতের প্রাণী দেখে ভাল্লাগবে।



একদিন ঠিকই তারা চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে বেরোলেন। টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করতেই প্রথমে পড়ল- বানরের খাঁচা। তখন খাঁচায় বানর খেলা করছিল বানরীর সাথে। বানর, বানরীকে এমনভাবে ভালোবাসা দিচ্ছিল, যা মানব-মানবীদের মধ্যেও সহজাত দেখা যায় না! এ অবস্থা দেখে তো গিন্নি আনন্দে আটখানা। তিনি স্বামী মশাইকে আনন্দঘন কণ্ঠে বলে উঠলেন,
-ওগো, দেখো, দেখো। কতইনা মধুর তাদের ভালবাসা!
-হুমম!

স্বামী মশাইয়ের এমন দায়সারা গোছের জবাব ভাল্লাগেনি গিন্নির। স্বামী মশাইয়ের এমন নিষ্প্রাণ জবাব বেচারির আহ্লাদ একেবারে ম্লান করে দিলো! তবে স্বামীর কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি জবাবের আশাও করা ছিল বোকামি। কারণ, স্বামী বেচারা বেশ গম্ভীর। ফুলশয্যা থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত তার কথাবার্তা ও আচরণে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার অনুভূতিসূচক কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বলতে গেলে তাদের মধ্যে একটা পানসেভাব চলছে। তাই ব্যাপারটা নিয়ে গিন্নির অভিযোগের শেষ নেই।

বেশ চুপচাপ ভাব নিয়ে তারা হাঁটছিলেন। এবার সামনে পড়ল- সিংহের খাঁচা। খাঁচার এক কোণে সিংহ বসে আছে চুপচাপ হয়ে। আর সিংহীও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বসে আছে নিশ্চুপ হয়ে। ব্যস, সুযোগ পেয়ে গেলেন গিন্নি। তিনি একটুখানি খুঁচা দিয়ে বললেন,
-ওগো দেখো, এদের মধ্যে কোনো ভালবাসা নেই, কী চুপচাপ তারা!
-হুমম!

বেচারা স্বামী বুঝতে পারলেন- গিন্নির খুঁচাটা। তাই এবারও 'হুমম' বলে দায়সারাভাবে উত্তর দিলেন। এদিকে ভিতরে ভিতরে গিন্নী রেগগেমগে আগুন। কিন্তু সেটা প্রকাশ করে ঘুরেবেড়ানোর স্বাদটা মাটি করতে চাচ্ছেন না। এমন সময় স্বামীজি হুকুম ছোড়ে দিলেন,

-ওগো, শুনছ! তোমার হাতের গ্লাসটা একটু সিংহীর উপর ছুঁড়ে দেখো না- কী হয়!
-ছোড়লে কী হবে?
-আরে, ছোড়েই দেখো না!

স্বামীজির কথামতো গিন্নি সত্যিই হাতের গ্লাসটা সিংহীর উপর ছুঁড়ে মারলেন। ব্যস, যা হবার তা-ই হলো। সিংহ ক্ষেপে গেল। গর্জন করতে করতে খাঁচার শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইল! সিংহীকে আঘাত করার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য হুংকার ছুঁড়তে শুরু করল।

এবার বানরীর উপর একটা গ্লাস ছুঁড়ে দেখো তো কী হয়- আবারও হুকুম করলেন স্বামী মশাই।

গিন্নি তা-ই করলেন। কিন্তু এ কী, বানরীর উপর গ্লাস পড়তেই ভয়ে বানরীকে ছেড়ে বানর লেজ উঠিয়ে দিলো এক ভোঁদৌড়! গ্লাসের আঘাত থেকে নিজের পিঠ বাঁচানোর জন্য!

স্বামী মশাই এমনই কিছু একটার অপেক্ষায় ছিলেন। এবার ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ভুল করলেন না। তিনি বেশ আত্মগৌরবের সাথে গিন্নিকে লক্ষ করে বললেন,

-ওগো, বুঝলে! কারো বাহ্যিক অবস্থা দেখে ধোঁকায় পড়ো না। কিছু মানুষ এমন আছে, যে তার বাহ্যিক মিছেমিছি আচরণ দিয়ে অন্যকে ধোঁকা দিতে চায়। আবার অনেক মানুষ আছে, যে তার অনুভূতিকে অন্তরের অন্তঃস্থলেই লুকিয়ে রাখে; প্রকাশ করে বেড়ায় না!

পুনশ্চ : মনুষ্য দাম্পত্যজীবনের খাঁচায়ও এমন দম্পতি আছে, যাদের অবস্থা বানর-বানরী ও সিংহ-সিংহীর মতো। অন্তরে স্ত্রীর প্রতি হয়তো ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও নেই; কিন্তু মুখে বুঝায়- সে বউকে খুব ভালোবাসে। আর বউও সেই মৌখিক উচ্চারণ শুনে আত্মহারা! আবার এমন পুরুষও আছে, যে বউকে খুব ভালোবাসে ঠিক; কিন্তু মুখে উচ্চারণ করে না।

পুনঃ পুনশ্চ : ভালোবাসা- ব্যাপারটা তো আন্তরিক; উচ্চারণের না। ভালোবাসা তো উপলব্ধির; দেখানোর না। ভালোবাসা তো অনুভূতির; জানানোর না! কিন্তু আফসোস, বেশিরভাগ স্ত্রীরা এই সমীকরণটা জানে না। যার কারণে স্বামীর ভালোবাসা পেয়েও পায় না! তাদের ভালোবাসাটা 'অধরা' থেকে যায়!

- Ainul Haque Qasimi


দ্য গল্পঃ চতুর স্বামী, লেখকঃ শাইখ আতিকুল্লাহ (হাফি.)

বিয়ে করেই বউকে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে এনে তুলল। পরদিন সকালে অন্ধকার থাকতেই জামাই উঠে গেলো। বউকে না ডেকেই রান্না ঘরে গিয়ে খুব যত্নের সাথে নাস্তা প্রস্তুত করলো।

খুবই সুন্দর সুন্দর প্লেট-পিরিজে করে নাস্তা এনে ঘুমন্ত স্ত্রীর কাছে রাখলো। তারপর আদর করে, কোমলভাবে স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বললো:

-উঠ একটু কষ্ট করে নাস্তা খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ো।
-এই সাত সকালেই নাস্তা কোত্থেকে এল?
-কেন ঘরে তৈরি করেছি!
-আমাকে ডাকলে না কেন?
-তুমি ঘুমুচ্ছিলে দেখে আর জাগাতে চাইনি।
-আমি তাহলে হাতমুখ ধুয়ে আসি।
-না না, তোমাকে কষ্ট করতে হবে না। এই যে দেখ গরম পানি নিয়ে এসেছি। আর এই নাও তোয়ালে। চিলমচিতে হাতমুখ ধুয়ে ঝটপট নাস্তাটা সেরে ফেলো।
নাস্তা শেষ হলে জামাই বললো:
-এবার একটা চা হলে কেমন হয়?
-দারূন হবে। আমিই চা টা বানিয়ে আনি?
- না, তুমি কেন কষ্ট করতে যাবে? তুমি কম্বলের ভেতর থেকে বের হওয়ার দরকার কী। আমিই সব করছি।
দু’জনে চায়ে চুমুক দিতে দিতে বিভিন্ন বিষয়ে গল্প করতে লাগলো। খাওয়ার পর্ব শেষ হলে, জামাই গিয়ে এঁটো বাসনকোসন রান্না ঘরে রেখে এল। স্ত্রীকে কিছুই করতে দিল না।
ফিরে এসে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো:
-পুরো ব্যাপারটা কেমন হলো, বলো তো?
-দারূণ হয়েছে। পারিবারিক জীবনটা এমনই তো হওয়া চাই।
-তাহলে আগামী কাল থেকে প্রতিদিন সকালে এভাবে আমাকে নাস্তা তৈরী করে এনে দিবে। এর ব্যতিক্রম যাতে না হয়।

ভালো স্বামীর কিছু গুন


০১ঃ একজন ভালো স্বামী মুখে না বললেও কাজের মাধ্যমে বুঝতে দিবে সে আপনাকে ভালোবাসে।
সে আপনার নানা কাজে অল্প অল্প হলেও সাহায্য করতে চেষ্টা করবে আপনার কাজের মূল্যায়ন করবে। কথার মাধ্যমে না হলেও মাঝে মাঝে কিছু কিছু কাজের মাধ্যমে তার ভালোবাসা প্রকাশ পাবে।

০২ঃ ভালবাসার প্রকাশঃ 
স্বামী তার স্ত্রীকে ভালবাসলে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করবে বা করার চেষ্টা করবে।
সবাই যে একইভাবে ভালবাসার প্রকাশ করবে তেমন না কিন্তু ভালবাসার প্রকাশ পাবে । আপনি বুঝতে পারবেন সে আপনাকে ভালবাসে।

০৩ঃ স্ত্রীর মন বুঝা ঃ যদিও স্বামী কিংবা স্ত্রী কেউ ই মনের ডাক্তার না কিংবা মন দেখতেও পাইনা কিন্তু একজন অপরজনের মন , মনের চাহিদা বুঝার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাগ অভিমান হলে বুঝতে পারবে এবং অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবে এই গুন স্বামী স্ত্রী দুই জনেরই থাকা উচিত।
এতে আশা করা যায় নিজেদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এ কথাও মনে রাখা উচিত মনের কথা মনে রেখে অভিমান করে বসে থাকলে অনেক সময় অহেতুক সমস্যা তৈরি হয় তাই মনের কথা জানিয়ে দিন। কেন ভাল লাগলো কেন ভাল লাগলো না এসব প্রকাশ করুন দেখবেন এক সময় আসতে আসতে আপনার ভাল লাগা খারাপ লাগা বুঝে যাবে ।তখন আর বলে দেয়া লাগবে না।



বোনদের জন্য ভাল স্ত্রী হওয়ার কিছু টিপস পড়ুন ঃ স্বামীর ভালবাসা অর্জনের উপায়

০৪ঃ  প্রতারনা না করা ঃ শুধু স্বামী না ,সকল মানুষের জন্যই প্রতারনা খারাপ ব্যাপার। আর প্রতারনা যদি হয় স্ত্রীর সাথে তাহলে তো ঘটনা মারাত্মক!
একজন ভালবাসার স্বামীর উচিত হবে না কখনই স্ত্রীর সাথে প্রতারনা করা।
বলার মত হলে সত্য বলুন আর বলার মত না হলে চুপ থাকুন তাও মিথ্যা বলে ধোঁকা দিবেন না।
মনে রাখবেন আমি আপনি কেউ ই প্রতারিত হতে পছন্দ করিনা।

০৫ঃ কাজে সাহায্য করা ঃ 
ভাল স্বামী আপনাকে আপনার বিভিন্ন কাজে সাহায্য করবে। হোক অল্প কিংবা বেশি মাঝে মাঝে কিংবা ডেইলি। সে আপনাকে কাজে হেল্প করতে ভালবাসবে। কেননা আপনার কাজে সাহায্য করার সময় আপনার সাথেই থাকে আপনার কাজ লাঘব করে। সে এই কাজ করতে দ্বিধা করবে না বরং পছন্দ করবে। যদিও আমার ধারনা এটি বিয়ের বেশ কিছু বছর পর কমে যেতে পারে। কিন্তু আপনারা যদি শুধু প্রেম ভালবাসার বদলে দায়িত্ব কর্তব্য এর ভিত্তিতে ইসলাম মেনে সংসার করেন তাহলে ইনশা আল্লাহ্‌ কমবে না বরং বাড়বে।

০৬ঃ কথার মূল্যায়ন ঃ একজন ভাল স্বামী তার স্ত্রীর কথার মূল্যায়ন করবে। বিভিন্ন কাজে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় স্ত্রীর কথা চিন্তা করবে।
(বোনদের উচিত বাঙালি মেয়েলি পরামর্শ না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে স্বামীকে বাস্তব মুখি পরামর্শ দেওয়া জাতে স্বামীর কাছে আপনার কথার ওজন ঠিক থাকে।)

০৭ঃ আপোষ করা ঃ স্ত্রীরা বাকা হবে এটা পুরুষদের জানা থাকা উচিত । তাই স্ত্রী রাগ করুক অভিমান করুন ঝগড়া করুন ঠিক হোক বা ভুল!!! স্বামীদের উচিত তাকেই আপোষ করা এবং সরি বলে মিটমাট করে নেওয়া। মেয়েরা পরে এমনিতেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং মনে মনে কষ্ট পাই। অনেক সময় পরে তারা আপনার কাছে এর জন্য আকারে ইঙ্গিতে ক্ষমা চাইতেও পারে।
যাই হোক, ভাইদের উচিত স্ত্রীর সাথে মন বুঝে চলা।

০৮ঃ  জোকার না হলেও মজাদারঃ বিরক্ত মানুষ কে পছন্দ করে বলেন?

ভাল স্বামী হবে মজাদার। তার মানে এই না যে সে জোকার হবে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় জোকস বলে হাঁসাবে। কিন্তু  স্ত্রীর মন খারাপ থাকলে সে নানা চেষ্টা করবে স্ত্রীর মন ভাল করার।
সেটা হতে পারে মজার কৌতুক বলে , সারপ্রাইজ দিয়ে, পছন্দের খাবার এনে , ঘুরতে নিয়ে যেয়ে কিংবা অন্য কোন ভাবে।

০৯ঃ প্রেক্টিসিং মুসলিম ঃ একজন স্বামী অবশ্যই প্রেক্টিসিং মুসলিম হবে। তার মধ্যে ইসলাম এর না না দিক উপস্থিত থাকবে। আর ৫ ওয়াক্ত নামাজ সে তো ফরয ই । ভাল মুসলিম না হয়ে কেউ ভাল মানুষ কিংবা ভাল স্বামী হতে পারবে না।

১০ঃ গাইরাত ঃ একজন স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি প্রোটেক্টিভ জেয়েলাস থাকবে। স্ত্রীর দিকে নন মাহ্রাম কেউ তাকাক কিংবা স্ত্রী কথা বলুক এসব সে পছন্দ করবেনা। স্ত্রী পর্দা করতে আলসেমি বা আকুপাকু করবে এটাও সে পছন্দ করবে না। এটাই স্বাভাবিক। ভালবাসার মানুষ থাকবে যত্নে, হেলাফেলা ভাবে না যে সবাই দেখবে সবাই জানবে সবাই কথা বলবে ।


স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে ভাইদের জন্য কিছু টিপস।


০১ঃ স্ত্রীর কথা শুনুন।
 তাড়াহুড়া করবেন না কিংবা বিজি ভাব দেখাবেন না। এতে স্ত্রীর মনে ভালবাসার জায়গায় আসতে আসতে অভিমান জমতে থাকবে যা মোটেও ভাল হবে না সম্পর্কের জন্য।
স্ত্রী কি বলছে তা মন দইয়ে শুনুন। প্রতিদিন রাতে কিছু সময় হলেও স্ত্রী কে দিন। শুধু শারিরিক চাহিদার জন্য না, মনের চাহিদার জন্যও।

০২ঃ দোষ ত্রুটি শুধরে দিন  কিংবা এড়িয়ে চলুন ঃ 


আমাদের সকলের দোষ ত্রুটি আছে। স্ত্রীর দোষ গুলো কে হালকা ভাবে দেখুন। তার ভাল গুন নিয়ে ভাবুন। শয়তান চাই আমাদের সম্পর্কের মাঝে ঝামেলা সৃষ্টি করতে যাতে আমরা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।
তাই শয়তান আমাদের মনে রাগের সময় কিংবা অন্য সময়ে আমাদের মাঝে স্ত্রীর উপর বাড়তি রাগ তৈরি করে। তখন আমরা স্ত্রী দের সারা বছর এর দোষ সব একসাথে নিয়ে জমা করি।  এমন হলে মনে হবে তার মাঝে সবই দোষ, সংসার ই হবে না। ভুলেও এমন  করবেন না। রাগের সময়, ভুলের সময় ভাল গুন গুলো মনে করুন দেখবেন ব্যাপার সব হালকা হয়ে যাবে।
স্ত্রীর চরিত্র ঠিক থাকলে , ফরয ওয়াজিব মেনে চললে তার ব্যাপারে সহজ হোন।

০৩ঃ স্ত্রীর ঈর্ষা কে সম্মান করুনঃ

 আমাদের মা বোন রা কিছুটা ঈর্ষা কাতর। আর স্বামীর ব্যাপারে তো কথায় নেই!!! তার এই ঈর্ষা কে খারাপ ভাবে না নিয়ে সম্মান দিন।

০৪ঃ পর্দা ঃ 

স্ত্রীর জন্য পর্দা করা যেমন ফরয তেমন ভাই আপনার জন্যও পর্দা করা ফরয। তাই স্ত্রীকে পর্দার মধ্যে রেখে নিজের দৃষ্টিকেও পর্দার মাঝে রাখুন। পর নারির সাথে হাসি তামাশা থেকে দূরে থাকুন।

০৫ঃ সংসারের কাজে সাহায্য করুনঃ 

সংসার শুধু স্ত্রীর না। সংসার আপনার ও, তাই সুযোগ সময় থাকলে তার কাজে হেল্প করুন। বিশ্বাস করুন ভালবাসা বেড়ে যাবে কয়েক গুন।
স্ত্রী আপনার সন্তান সামলায়, ঘর সামলায় আবার আপনার মন ও শরীরের চাহিদা সামলায়।
আপনারও দায়িত্ব তাকে সাহায্য করা। এই সাহায্য তার কাজ কমাবে না কিন্তু তার মনে ভালবাসা তৈরি করবে। আপনি যে তাকে ভালবাসেন, তাকে নিয়ে চিন্তা করেন এটা সে বুঝতে পারবে  ফলে তার মনে আপনার জন্য আলাদা ভালবাসা, সম্মান তৈরি হবে।

০৬ঃ  তুলনা পরিহার করুন।  

আচ্ছা আপনাকে কেউ কার সাথে তুলনা করে ছোট করলে কেমন লাগবে? এটা তো স্বাভাবিক যে কেউ ই এটা পছন্দ করে না। আর মেয়েরা অন্য মেয়ের সাথে তুলনা এমনিতেই পছন্দ করে না। তাই আরেকজনের বউ বা অন্য কার সাথে তার তুলনা করে তাকে ছোট করবেন না। ভুল ত্রুটি থাকলে বুঝান, খোটা দিবেন না।

০৭ঃ ভালবাসার প্রকাশ ঃ 

মেয়েরা ভালবাসার কথা শুনতে পছন্দ করে। আপনার মনে হতে পারে আপনি তাকে ভালবাসেন এটা তো জানেই তাহলে আর বার বার বলার কি দরকার!!!
কিন্তু আসলে আপনার স্ত্রী বার বার আপনার ভালবাসার কথা শুনতে ভালবাসে।
বিভিন্ন ভাবে তার কাছে আপনার  ভালবাসা প্রকাশ করুন। মুখে বলুন, গিফট দিন, তার মন ভালোর দিন তাকে আলাদা করে ভালবাসার কথা বলুন। ভালবাসতে আর ভালবাসার প্রকাশে কিপটামি করবেন না।

০৮ ঃ মনে রাখুন আপনি অভিভাবক ঃ 
স্ত্রী কে ভালবাসতে গিয়ে ভুলে যাবেন না আপনি তার অভিভাবক। ভালবাসতে গিয়ে স্ত্রীর আচলের মধ্যে লুকানো পাবলিক হয়ে যাবেন না।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন, স্ত্রীকে সঠিক পথে রাখতে তাকে ইসলাম মেনে লিড দিন।
স্ত্রীর কথায় উঠা বসা শুরু করবেন না। স্ত্রীর জন্য মা বাবা কে ভুলে বসে থাকবেন না।

০৯ ঃ ভয় দেখাবেন নাঃ 
কথায় কথায় তালাক এর ভয় দেখাবেন না। তালাকের কথা এভাবে বলায় উচিত না।

১০ঃ উপহার দিন।
 খুব দামি কিছু না হলেও মাঝে মাঝে স্ত্রী কে উপহার দিন। আমরা সবাই উপহার পেতে পছন্দ করি। আর উপহার যদি হয় ভালবাসার মানুষ থেকে তাহলে উপহারের মূল্য আরো বেড়ে যায়। স্ত্রিদের ও উচিত মাঝে মাঝে কিছু একটা উপহার দেওয়া। কিছু না পারলেও মাঝে মাঝে সুন্দর করে সেজে স্বামী কে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। এটাও তার কাছে বড় উপহার।

স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা নিয়ে দুইটা হাদিস ।


IslamQA Bagla থেকে  স্বামী স্ত্রী নিয়ে কিছু কথা। আশা করি পড়লে উপকার পাবেন ।


আলহামদুলিল্লাহ।

স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা: একটি মানুষের সহজাত প্রকৃতি। এ ধরণের বিষয়ের ক্ষেত্রে এ কথা বলা যাবে না যে, শরিয়তে এটি ওয়াজিব। কিংবা শরিয়ত এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে। বরং এ ধরণের বিষয়ের ক্ষেত্রে নতুন কোন শরয়ি নির্দেশ সন্ধানের বদলে প্রকৃতিগত কারণই যথেষ্ট। 
নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি দাম্পত্য জীবনকে শুধু রোমান্টিক উপন্যাস কিংবা গোলাপি স্বপ্ন কল্পনা করে বেড়ায় সে যেন এমন কিছুর সন্ধান করছে মানুষের এই দুনিয়াতে যার অস্তিত্ব অসম্ভব। যে দুনিয়াকে কষ্ট, ক্লেশ ও ক্লান্তির প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “নিশ্চয় আমি মানবজাতিকে কষ্ট-ক্লেশনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।”[সূরা বালাদ, আয়াত: ৪]
কবি বলেন: 
প্রকৃতিগতভাবে জীবন হচ্ছে ক্লেশময়; অথচ তুমি জীবনকে পেতে চাও সমস্যা ও সংকটমুক্ত নির্মল।
যে ব্যক্তি জীবনকে তার সহজাত প্রকৃতি বিরুদ্ধ দায়িত্ব দিতে চায় সে যেন পানির ভেতরে আগুনের অঙ্গার সন্ধান করে বেড়াচ্ছে।
আমরা যদি এইটুকু বুঝে থাকি এবং যথাযথ দৃষ্টিতে জীবনকে দেখি তখন আমরা দেখব যে, কামালিয়াত তথা পূর্ণতায় পৌঁছা কিংবা সর্বদোষ মুক্ত হওয়ার কোন পথ নেই। আপনার জন্য এইটুকু যথেষ্ট যে, আপনি যে দোষ বা ঘাটতি দেখতে পাচ্ছেন সেটা যেন প্রশান্তি ও পথ চলা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয়। এক ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে তালাক দেয়া চিন্তা-ভাবনা করছিল তখন উমর (রাঃ) তাকে বললেন: আপনি কেন তাকে তালাক দিতে চাচ্ছেন? লোকটি বলল: আমি তাকে ভালবাসি না। তিনি বললেন: প্রত্যেক ঘর কি ভালোবাসার ভিত্তিতে গড়ে উঠে? আদর-যত্ম ও লোক-নিন্দাবোধ কোথায়?!!
অর্থাৎ আপনার সঙ্গিনী, আপনার স্ত্রী থেকে প্রাপ্ত কষ্টে ধৈর্য ধরুন। আপনার যে অবস্থা সকল মানুষের তাদের স্ত্রী ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে একই অবস্থা। মানুষ একে অপরের প্রতি সন্তুষ্ট না হওয়া সত্ত্বেও, একে অপরকে পছন্দ না করা সত্ত্বেও একত্রিত হয়। একের প্রতি অপরের প্রয়োজন তাদেরকে সমাবেত করে।!! 
তাই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের যত্ম নেয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে উঠে এবং প্রত্যেকে একের প্রতি অন্যের কর্তব্য বুঝতে পারে। আর লোক-নিন্দাবোধ হচ্ছে প্রত্যেকে এমন আচরণ পরিহার করে চলা যাতে করে তার মাধ্যমে তাদের পথচলা আলাদা হয়ে যাওয়া বা বিচ্ছিন্নতা না ঘটে।
আপনি আল্লাহ্‌ তাআলার এ বাণীটি নিয়ে একটু ভাবনাচিন্তা করুন: 
“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।”[সূরা রূম, আয়াত: ২১]
এখানে আল্লাহ্‌ তাআলা স্বামী-স্ত্রীর মাঝের “ভালোবাসা” কে আল্লাহ্‌র সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন; তাঁর নির্দেশিত আবশ্যক পালনীয় হিসেবে উল্লেখ করেননি। কারণ অন্তরের ভালোবাসা বান্দার মালিকানাধীন নয়। বরং বান্দা যেটার মালিক সেটা হচ্ছে– অনুগ্রহ ও সদাচরণ। 
ইবনে কাছির (রহঃ) বলেন: “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন”। এর অর্থ তোমাদের স্বজাতি থেকে তোমাদের জন্য স্ত্রীর ব্যবস্থা করেছেন। “যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও”। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।”[সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮৯] এর দ্বারা আল্লাহ্‌ বুঝাতে চাচ্ছেন ‘হাওয়া’ কে। আদম (আঃ) এর বাম পাঁজরের ছোটতম হাড় থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। যদি আল্লাহ্‌ সকল বনী আদমকে পুরুষ বানাতেন, আর তাদের নারীদেরকে অন্য জাতি থেকে বানাতেন, যেমন- জ্বিন কিংবা অন্য প্রাণী থেকে তাহলে তাদের মাঝে ও তাদের স্ত্রীদের মাঝে এ ধরণের মেল-বন্ধন তৈরী হত না। বরং স্ত্রীরা অন্য জাতির হলে তাদের পরস্পরের মাঝে বিরাগ ঘটত। বনী আদমের প্রতি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ অনুগ্রহ হচ্ছে যে, তিনি তাদের স্ত্রীদেরকে তাদের জাতি থেকেই সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের পরস্পরের মাঝে অনুরাগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যেটা হচ্ছে- ভালোবাসা। এবং দয়া সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যেটা হচ্ছে- মায়া। তাই একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ধরে রাখেন হয়তো তার প্রতি ভালোবাসার কারণে; কিংবা তার প্রতি মায়ার কারণে– সেই স্ত্রীর ঘরে তার সন্তান থাকলে কিংবা স্ত্রী তার ভরণপোষণের মুখাপেক্ষী হলে কিংবা তাদের দুইজনের মাঝে মেলবন্ধনের কারণে ইত্যাদি।[তাফসিরে ইবনে কাছির (৬/৩০৯) থেকে সমাপ্ত]

                                                                     Tags

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা হাদিস স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা কেমন হওয়া উচিত স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার এস এম এস স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার পিকচার স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা ছবি স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প ইসলামিক স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা বৃদ্ধির আমল
স্বামী স্ত্রী হাদিস স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া ইসলাম স্বামী স্ত্রী সম্পর্কিত হাদিস স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর মিলন হাদিস স্বামী স্ত্রীর মিলন অধ্যায় স্বামী স্ত্রী সম্পর্কে কুরআনের আয়াত
Powered by Blogger.