মনীষীদের উক্তি - সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী ও ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প

মনীষীদের উক্তি - সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী ও ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প


মনীষীদের উক্তি - সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী ও ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প

কিসের বড়াই করো তুমি,

কি আছে তোমার?
জীবন-মরণ সবকিছুই
রহম আল্লাহ্‌র ।


___নূর (কিছুটা পরিমার্জিত)

--

বড়োদেরভবিষ্যৎবাণী সিরিজটি নিয়ে কিছু কথা....
সিরিজটি পরিকল্পনার থেকেও বেশি সমৃদ্ধ হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। সিরিজটির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সালাফে সালেহীনদের বিভিন্ন প্রসঙ্গে বলা উক্তিগুলো পরবর্তীতে বা আজকের যুগে এসে বাস্তব হয়েছে- এমনটা বুঝানো নয়। বরং সেই প্রসঙ্গের সূত্র ধরে ইতিহাসের সমুদ্র থেকে পাঠদেকের জন্য জানা অজানা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে আনার প্রচেষ্টা।
আর হ্যাঁ, সিরিজটির নামে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ সিরিজের বিষয়বস্তুর আলোকে পূর্বের নাম বা বর্তমান নাম কোনোটাই একদম যথাযথ মনে হয়নি। নতুন নাম, "সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী"। "বড়োদের" থেকে "সেরা মানুষদের" শব্দদ্বয় কিছুটা যথাযথ মনে হয়েছে।
পাঠকদের সুবিধার্থে হ্যাশট্যাগ সংক্ষিপ্ত করে নতুনভাবে দেওয়া হয়েছে। #ভবিষ্যৎবাণী
তবে পাঠকদের যদি এই সিরিজের বিষয়বস্তু সাপেক্ষে অন্য কোনো নাম যথাযথ মনে হয় তা হলে কমেন্টে জানাতে পারেন। মাত্র কয়েক পর্ব আপলোড করায় নাম চেঞ্জ করতে খুব বেশি ঝামেলা হয়নি। আরো কিছু পর্ব আপলোডের পরে আর নাম পরিবর্তনের ঝামেলায় যাওয়া সম্ভব হবে না।


ইসলামের ইতিহাস - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি


সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০১
--
একে একে ভালো মানুষদেরকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। অবশেষে আটার বোঝার মতো অযোগ্য লোক থেকে যাবে, যাদের সাথে আল্লাহর কোনোই সম্পর্ক থাকবে না।
-খলিফাতুল মুসলিমীন মাওলা আবু বাকর ( رضى الله عنه و علیه السلام)
তিনি সত্যই বলেছিলেন। সালাফে সালেহীনের যুগ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। একের পর এক যুগ যাচ্ছে আর সেই সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভালো মানুষেরা।
সূত্র: ১. কিয়াবুযযুহদ: ২য় খন্ড (ইমাম আহমাদ ইবনে হান্বাল),
২. তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ৯২ (ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ুতী)
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী




সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০২
--
"নাবীজি (ﷺ) নিজের স্বপ্নের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমি নিজেকে একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম। দেখলাম, সেখানে একটি বালতিও আছে। আমি কূপ থেকে পানি উঠালাম। অতঃপর বালতিটি আবূ বাকর নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ‘উমার বিন খত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গেল। তিনি পানি উঠাতে লাগলেন। এই কাজে আমি ‘উমারের মত শক্তিশালী আর কোনো যুবককে দেখিনি।"[1] (
মনীষীদের উক্তি)
বস্তুত এই স্বপ্ন বিবরণীর মাধ্যমে নাবীজি (ﷺ) তার পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত দুজনের ধারাবাহিকতা এবং তাদের শাসনা ব্যবস্থার ধরণ ও শাসনকালের মেয়াদ সম্পর্কে ইঙ্গিতে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন। আর বাস্তবেও এমনটাই হয়েছিল। এখানে বালতি দিয়ে পানি উঠানো দ্বারা ইসলামের নিয়ম নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধনকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর রসুলের (ﷺ) পর প্রথম খলীফা আবূ বাকরের আমলে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও বিদ্রোহের কারণে খিলাফাত পরিচালনা ও তা থেকে সুফল লাভের ধারা বিঘ্নিত হয়। অতঃপর উমার দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে খিলাফাত পরিচালনা করেন। পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকে মজবুত ভিত্তির উপর স্থাপিত করেন। ইসলামী খিলাফাত রাজ্যে রাজ্যে বিস্তৃতি লাভ করে এবং মানুষেরা এর সুফল লাভ করে নিদারূনভাবে তৃপ্ত হয়। (رضى الله عنهم)
এরকমই ব্যাখ্যা করেছেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নববী (রহ.)। তিনি তার তাহযীব গ্রন্থে লিখেছেন, "উলামাগণ উক্ত [স্বপ্নের বর্ণনা শীর্ষক] হাদিছের ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছেন যে, এটা আবূ বাকর আসসিদ্দীক ও উমার বিন খত্তাবের (رضى الله عنهم) ধারাবাহিক খিলাফাতের প্রতি ঈঙ্গিত। আর উমারের খিলাফাতকালে শারীআতের অনেক বিধি-বিধান এবং ইসলামের প্রসার হবে।"[2]
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
.
সূত্র:
1.a.ইবনে উমার ও আবূ হুরাইরা (رضى الله عنهم) থেকে ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহাইনে হাদিছটি উল্লেখ করেছেন। সহিহ বুখারী- হাদিস নং ৩৬৬৪,
আধুনিক প্রকাশনী: ৩৩৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশন: ৩৩৯৯)
b. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা: ১০৭ (ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ুতী রহ.)
2. তাহযীবুল আসমাই ওয়াস সিফাত - (ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী রহ.)


শিক্ষামূলক উক্তি - মনীষীদের সেরা উক্তি




সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৩
--
কা'ব আল আহবার রহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন ইসরাইলী আহলে কিতাব। আমীরুল মু'মিনীন উমার বিন খত্তাবের (رضى الله عنه و علیه السلام) শাসনামলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। [1] পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থগুলোর ব্যাপারে তিনি ভালো জ্ঞান রাখতেন বিধায় উমার বিন খত্তাব একবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তো পূর্ববর্তী সহীফাগুলোর ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন, তার আলোকে আমার ব্যাপারে কিছু বর্ণনা করুন।
কা'ব বললেন, আপনার ব্যাপারে বর্ণিত আছে, "তিনি এমন একজন শক্তিশালী শাসক হবেন যিনি আল্লাহর পথে কারো নিন্দার কোনো পরোয়া করবেন না।" উমার বললেন, আর কী আছে? কা'ব বললেন, "আপনার পরে যিনি খলিফা হবেন, নিজ সম্প্রদায়ের বিদ্রোহীরা তাকে শহীদ করে ফেলবে। উমার বললেন, আর কী আছে? কা'ব বললেন, "এরপর চমর বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে"। [2]
.
বাস্তবেও এমনটিই হয়েছিল। মুহাম্মাদ বিন আবু বাকরের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা পরবর্তী খলিফা উসমান বিন আফফানকে শহীদ করে দিয়েছিলো।(رضى الله عنه و علیه السلام)
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
.
সূত্র:
1. আল বিদায়া ওয়াননিহায়া, ২য় খন্ড, ২৬৩ পৃষ্ঠা।
2.a. তাবারানী, উমায়ের বিন রবীআ থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসদের মতে উমায়ের বিন রবীআ সিকাহ রওয়ী।
b. তারিখুল খুলাফা পৃষ্ঠা: ১০৯ (ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ুতী রহ.)


ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৪
--
খলিফা উমার বিন খাত্তাব একবার এক লোককে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী?"
লোকটি বলল, "জামরাহ!" (অর্থ: স্ফুলিঙ্গ)
খলিফা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন,
-তোমার বাবার নাম কী?
-শিহাব! (অর্থ: অগ্নিশিখা)
-গোত্রের নাম?
-হারকা! (অর্থ: আগুন)
-তুমি কোথায় থাকো?
-হিরারাহ! (অর্থ: উত্তপ্ত পাথুরে জমীন)
-এটা কোথায়?
-নাতী (অর্থ: লেলিহান অগ্নিশিখাময়) অঞ্চলে হে আমীরুল মু'মিনীন! দয়া করে বলবেন কি কেন এত প্রশ্ন করছেন?
-জলদি বাড়িতে ফিরে গিয়ে তোমার পরিবারের খোঁজ নাও, তারা পুড়ে মরছে!
লোকটি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে নিজের এলাকায় ফিরে গেল। গিয়ে দেখলো, সত্যিই চুলা থেকে আগুন লেগে ঘরবাড়ি সব পুড়ে গেছে!
( رضى الله عنه و علیه السلام)
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
সূত্র:
1. আল ফাওয়ায়েদ: ১ম খন্ড (আবুল কাসিম বিন বুশরান থেকে)
2. তারিখুল খুলাফা, পৃষ্ঠা: ১১৭ (ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ুতী রহ.)
3. তারিখুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৫
--
একবার রাসুলুল্লাহ(ﷺ) মাসজিদে নাববীর মিম্বার অলংকৃত করে বসে ছিলেন। পাশে বসে ছিলো তার প্রিয় নাতি হাসান বিন আলী (علیه السلام)। নাবীজি কিছু বলার উদ্দেশ্যে একবার লােকদের প্রতি, আর একবার হাসানের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। এরপর সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমার এই নাতি একদিন নেতা হবে আর মুসলমানদের দুটি দলের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দিবে। [1]
প্রায় তিন দশক পরে, মুসলিম জাহানের খলিফা আলী (علیه السلام) এর শাহাদাতের পর সাইয়্যিদুনা হাসান
ছয় মাস খিলাফাতের তখত অলংকৃত করেছিলেন। তার কাছে কুফাসহ বেশকিছু শহরবাসীরা বাইয়াত করেছিলাে। এরপর আমীর মুয়াবিয়া (رضى الله عنه) লড়াই করতে এলে তিনি সন্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এই শর্তে খিলাফাতের দায়িত্ব আমীর মুয়াবিয়ার (رضى الله عنه) উপর অর্পন করেন যে - "আপনার পর খিলাফাত আমার অধীনে থাকবে।" [2]
হযরত আমীর মুয়াবিয়া(رضى الله عنه) এই শর্ত গ্রহণ ও ইমাম হাসানের (علیه السلام) এই সন্ধি করার মাধ্যমে একদিকে মুসলিমদের বিবাদমান দুটি পক্ষ যুদ্ধ থেকে বিরত হয় এবং অন্যদিকে এর মাধ্যমে নাবীজির (ﷺ) ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়!
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
সূত্র:
1. a. সহিহ বুখারি- হাদিছ নং : ২৭০৪
b. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা: ১৬৯ (ইমাম জালালউদ্দীন
সুয়ুতী রহ.)
2. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা: ১৭২ ।





"ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প pdf নতুন শিক্ষামূলক গল্প শিক্ষনীয় ইসলামিক গল্প ইসলামিক ছোট গল্প ইসলামিক গল্প ও কাহিনী নীতি শিক্ষামূলক গল্প ইসলামিক জীবনের গল্প শিক্ষামূলক কিছু গল্প"







সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৬
--
হযরতে মাওলা আলী (রা.) বলেন, আমার কারণে দুটি দল পথভ্রষ্ট হবে এবং জাহান্নামী হবে! একদল আমার ভালোবাসায় বাড়াবাড়ি করার কারণে, অন্যদল আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখার কারণে। [1]
এই কথাটা তিনি বলেছিলেন উম্মাতের রাজনৈতিক ও বিশ্বাসগত বিভাজনের অনেক আগেই। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি ঠিকই উম্মাতের মধ্য থেকে এমন দুটি দল বেরিয়ে গেছে যারা একদল সায়্যিদুনা আলীকে (علیه السلام) ভালোবাসতে গিয়ে তাকে আল্লাহর গুণাবলীতে অলংকৃত করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়ে আল্লাহর আসনে বসিয়ে শিরকে লিপ্ত হয়েছে। এরা হচ্ছে রাফেদী। এরা বেরিয়েছে আহলে তাশাইয়্যুদের মধ্য থেকে। আরেকদল সকল সাহাবীদের প্রতি ইনসাফ দেখানোর নাম করে আলে বাইতের প্রতি পুঞ্জিভূত বিদ্বেষকে আড়াল করে। এরা ইয়াজিদ ও ইবনে ইয়াজিদের মতো মালাউনদের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের প্রার্থনা করে। এরা হচ্ছে নাসেবী। এরা বেরিয়েছে আহলে সুন্নাহর মধ্যে থেকে। তবে আহলে সুন্নাহর সম্মানিত ইমামগণের মতানুযায়ী এরা আহলে সুন্নাহর ই'দিতাল পথ থেকে বিচ্যুত বাতিল ফিরকা।
বি. দ্র. এটা মুহাদ্দিসীনে আজমাইনের একটা উসুল যে যখন কোনো সাহাবা কর্তৃক সহিহ সানাদে এমন কোনও হাদিছ বর্ণিত হয় যা ইলমে গায়েব অথবা কোনো ভবিষ্যৎবাণী ব্যক্ত করছে- তা হলে নিঃসন্দেহে তা সাধারণ মাওকুফ নয়। বরং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কওলের ভিত্তিতেই মাওকুফ, কেননা তিনি (ﷺ) ব্যতীত আর কাউকেই আল্লাহ তাআলা ইলমে গায়েব বা ভবিষ্যতের জ্ঞান দেননি। তাও কেবল যতটুকু আল্লাহ জানিয়েছেন ততটুকুই।
রেফারেন্স:
1. a. ফাযায়েলে সাহাবা- ৯৫২ নম্বর হাদিছ(ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল রহিমাহুল্লাহ) সানাদ সহিহ।
b. হাদিছটি ভিন্ন মাতানে আরো বর্ণিত হয়েছে, মুসনাদে আবু ইয়ালা, বাযযার, ও মুস্তাদরাকে হাকিমেও।
c. হাদিছটি হাকিমের সূত্রে ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ূতীও তার তারিখুল খুলাফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- পৃষ্ঠা ১৫৭।
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৭
.
একবার খলিফা আবু বাকর সিদ্দীকের (রা.) দরবারে কেউ একজন মাংস রান্না করে হাদিয়া পাঠায়। বিশিষ্ট চিকিৎসক হারিস বিন কিলদাহকে (রা.) সাথে নিয়ে খলিফা হাদিয়ার মাংস খেতে বসেন৷ খানিকটা খাওয়ার পরেই হঠাৎ হারিস বলে উঠলেন , "হে খলিফাতুল মুসলিমীন, থামুন। দয়া করে আপনি আর খাবেন না । আল্লাহর কসম! আমার মনে হচ্ছে এতে বিষ মেশানাে আছে! 'আপনি দেখে নিবেন, আমরা উভয়েই একই বছর একই দিনে ইন্তেকাল করবাে।' আবু বাকর (রা.) খাবার থেকে হাত উঠিয়ে নিলেন।"[1]
সেদিন থেকে তাঁরা দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে এক বছর পর উভয়ে একই দিনে ইন্তেকাল করেন।[2]
উম্মুল মু'মিনীন আঈশা সিদ্দীকা রা. থেকে হাকিম বর্ণনা করেছেন, খলিফাতুল মুসলিমীন আবু বাকরের অসুস্থতা এভাবে শুরু হয়েছিলাে যে , তিনি জমাদিউল আখের মাসের ৭ তারিখ সােমবার গােসল করেন। সেদিন ঠাণ্ডা পড়েছিলাে। আর তিনি এতে জ্বরে আক্রান্ত হােন। পনেরাে দিন অসুস্থ থাকার কারনে তিনি বাইরে এসে নামায পড়তে পারেননি । অবশেষে ১৩ ‘ হিজরির জমাদিউল আখির মাসের ২২ তারিখ মঙ্গলবার রাতে ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। [3] (رضى الله عنه و علیه السلام)
ইমাম আমর আশ-শাবী বলেন, “এ দুনিয়ায় আমরা আর কী বা আশা করতে পারি? [যে দুনিয়ায় জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ] রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর আবু বাকর - উভয়কেই বিষ খাওয়ানাে হয়েছে!”[4]
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
রেফারেন্স:
1. a. তাবাকাতে ইবনে সাদ,
b. ইবনে শিহাব থেকে ঐতিহাসিক হাকিমও বিশুদ্ধ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
2. তারিখুল খুলাফা
3. প্রাগুক্ত
4. প্রাগুক্ত




সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৮
.
তোমাদের পরে এমন এক যুগ আসবে যখন অজ্ঞতা ও মূর্খতার বিস্তার ঘটবে, জ্ঞান উঠে যাবে। তখন মানুষের ধনসম্পদ উপচে পড়ার মতো বৃদ্ধি পাবে, [কিন্তু তাদের মাঝে] কৃপণতা ও ঝগড়া-ফাসাদের বিস্তার ঘটবে। সময়ের বরকত কমে যাবে এবং "হারজ" বৃদ্ধি পাবে! [1]
নাবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এমন ভবিষ্যৎবাণী শোনার পর সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, "হারজ কী হে আল্লাহর রসূল?" তিনি বললেন, "হত্যা"[2] খুন-খারাবী"[3]
সুবহানআল্লাহ! প্রিয় নাবীজির (ﷺ) বলা প্রত্যেকটি বাক্যই আমাদের বর্তমান যুগে বাস্তব সত্যে পরিণত হয়েছে! জ্ঞান এবং জ্ঞানীরা আমাদের মধ্যে থেকে উঠে যাচ্ছে। অজ্ঞ আর মুর্খ লোকেরাই আজ সমাজে আসন গেড়ে বসেছে। একদল লোক দুই হাতে টাকা কামাচ্ছে, কিন্তু তারপরেও কিছু মানুষ অর্থাভাবে, অনাহারে মারা যাচ্ছে! কলহ-ফাসাদ, হানাহানির বিস্তার ঘটছে সর্বত্র।
ধনীরা যদি কৃপণতা না করে আল্লাহর (ﷻ) বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে গরিবদের পাওনা যাকাত দিয়ে দিতো তা'হলে একদিকে যেমন সম্পদের ভারসাম্যপূর্ণ বন্টন নিশ্চিত হতো, অনাহারে মানুষ কষ্ট পেতো না। অন্যদিকে দারিদ্রতার কারণে মানুষ অন্যায় ও কলহ-দ্বন্দ্বে জড়ানো থেকে বিরত থাকতো। কিন্তু মানুষ আজ আল্লাহর (ﷻ) বিধান থেকে দূরে সরে গিয়ে গোটা সভ্যতাকেই বিশৃঙ্খল করে ফেলছে। এজন্য সময়ের বরকতও কমে গেছে!
আর অন্যায় হত্যা বা খুন-খারাবীর হার কেমন বেড়েছে তা হয়তো সকলেরই জানা৷ আজ আমরা এমন একটা সময় অতিবাহিত করছি যখন কাউকে হত্যা করার জন্য তার বিরাট কোনো অপরাধ থাকার প্রয়োজন নেই। শুধু নির্দিষ্ট কিছু ট্যাগ লাগাতে পারলেই একজন মানুষকে হত্যা করা বৈধ হয়ে যায়! এমন ঘটনা যেন আজকাল মামুলি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে৷ আর সুরিয়া, ইরাক, আফগান, সোমালিয়া, ইয়েমেন, উইখুর, মিয়ানমারসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে গণহত্যার যে নির্মম দৃশ্য আমরা দেখছি এগুলোও হচ্ছে প্রিয় নাবীজির ভবিষ্যৎবাণীকৃত সেই "হারজ"!
নিশ্চয়ই আপনি সত্য নাবী ইয়া রসুলুল্লাহ! সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম।
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
রেফাফেন্স:
1.a. আবূ মূসা আল আশআরী (রা.), থেকে বর্ণিত মাতানে- সহীহুল বুখারী ৭০৬৩, ৭০৬৫, সাহীহুল মুসলিম ২৬৭২, তিরমিযী: ২২০০, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০৫১ আহমাদ ৩৬৮৭, ৩৮০৭, ৩৮৩১, ৪২৯৪।
b. আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত মাতানে- সাহীহুল বূখারী: ৮৫, ১০৩৬, ১৪১২, ৭১২১, সাহীহুল মুসলিম ১৫৭, মুসনাদে আহমাদ: ৭১৪৬, ৭৪৯৬, ৭৮১২, ৯১২৯, ইবনে মাজাহ: ৪০৪৭
2. প্রাগুক্ত
3. সাহীহুল বুখারী: ১০৩৬



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ০৯
--
নাবীজি (ﷺ) বলেছেন, "সর্ব প্রথম যে আমার সুন্নাতের মধ্যে পরিবর্তন করবে সে উমাইয়্যা বংশের [বাদশাহ] ইয়াজিদ!" (1)
এখানে সুন্নাতের মধ্যে পরিবর্তন বলতে আসলে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়াকেই বুঝানো হয়েছে। কেননা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা উসমান-আলী-হাসান-মুয়াবিয়া (رضي الله عنهم) পূর্ববর্তী চারজন খলিফার প্রত্যেকের শাসনামলেই কমবেশি ছিলো। মানবিক ভুল ত্রুটির বাইরে তার পূর্ববর্তী সকলেই ছিলেন মৌলিকভাবে নাবীজির (ﷺ) আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত, শারীয়াহ ব্যতীত অন্য কিছুই তারা উম্মাতের উপর চাপিয়ে দেননি। এই দিক থেকে ইয়াজিদই প্রথম কেউ যে নাবীজির (ﷺ) আদর্শ থেকে একেবারে বিচ্যুত হয়ে অভিশপ্তের কাতারে নেমে গিয়েছে। আবু উবাইদের থেকে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "আমার উম্মাত সর্বদাই ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, কিন্তু উমাইয়্যা বংশের ইয়াযিদ নামক একজন [শাসক] ইনসাফের পথে ব্যাঘাত ঘটাবে। (2)
রাজনৈতিক মতদ্বৈততা থাকা সত্ত্বেও ইয়াজিদের সম্মানিত পিতা আমীরুল মু'মিনীন মুয়াবিয়া (রা.) হারামাইন এলাকায় সামরিক অভিযান চালানো তো দূরের কথা, পবিত্র মাসজিদ অভিমুখে সেনা মার্চ করানোর কথা কল্পনায়ও আনেননি। এতদসত্ত্বেও, খলিফাতুল মুসলিমীন মাওলা আলী (রা.) তো রাজধানীই মাদীনা থেকে স্থানান্তরিত করে ইরাকের কুফায় নিয়ে গেলেন যাতে প্রিয় নাবীজির শহর, মাদীনাতুল মুনাওয়ারায় এই যুদ্ধের আঁচ না লাগে!
অথচ এই মালঊন ইয়াজিদ মাক্কা-মাদীনায় শুধু সামরিক অভিযানই চালায়নি, মিনযানিক দিয়ে কাবার ছাদ ধ্বসিয়ে দিয়েছিলো! বস্তুত সেই অভিযানে ইয়াজিদের জুলুম অত্যাচার আর অপরাধের ফিরিস্তি অবর্ণণীয়! প্রখ্যাত তাবিয়ী হাসান আল বাসারীর মাদিনা মুনাওয়ারায় ইয়াজিদের ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর নির্যাতন থেকে মাদীনাবাসীর একজনও পরিত্রাণ পায়নি। সহস্রাধিক সাহাবায়ে কেরামকে শহীদ করা হয়! অসংখ্য মুসলিম মা-বোনকে ধর্ষণ করা হয়! রসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,(3)" যে ব্যক্তি মাদিনাবাসীকে ভীতসন্ত্রস্ত করবে, আল্লাহ তাকে প্রকম্পিত করবেন। আল্লাহ, ফেরেস্তারা ও সমস্ত মানুষেরা তাকে অভিশাপ দেবে। (4)
রেফারেন্স:
1. a. মুসনাদে রুয়ানী- আবুদ দারদাহ রা. থেকে বর্ণিত
b. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা ১৮৮
2. a. মুসনাদে আবু ইয়ালা।(এর সানাদে কিছুটা দুর্বলতা আছে)
b. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা ১৮৭
3. সহিহ মুসলিম
4. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা ১৮৮
বি. দ্র. এক ও দুই নং হাদিছ দুটিতে ইয়াজিদের নামের আগে "বাদশাহ" বা "শাসক" শব্দদ্বয় উল্লেখ নেই। বন্ধনী আবদ্ধ করে শব্দটা ব্যবহারের পিছনে আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে করে কেউ ইয়াজিদ বলার দ্বারা কোন ইয়াজিদের কথা বলা হচ্ছে তা বুঝতে ভুল না করে৷ কেননা উমাইয়্যা বংশীয় একজন সাহাবী ছিলেন ইয়াজিদ বিন আবু সুফিয়ান (রা.) নামে। তিনি রশিদুন খিলাফাতের একজন সেনা কমান্ডার ছিলেন। তিনি সম্পর্কে এই বাদশাহ ইয়াজিদের চাচা হন।


মুসলিম মনীষীদের বাণী - বিখ্যাত মনীষীদের বাণী


সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ১০
"আব্দুল মালিকের ব্যাপারে আবু হুরাইরার (রা.) ভবিষ্যৎবাণী"
--
কিশোর বয়সে একবার আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান কোনো একটি হাদিছের ব্যাপারে জানার জন্য বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরাইরার (রা.) কাছে আসলেন। চলে যাওয়ার পর আবু হুরাইরা (رضى الله عنه) তার গোলাম সুহাইমকে বললেন, "এই ছেলে একদিন আরবের বাদশাহ হবে।"[1]
তিনি যখন এই মন্তব্য করেন তখনও আব্দুল মালিকের পিতা মারওয়ান বিন হাকাম বাদশাহ হননি। এমনকি হওয়ার সম্ভাবনায় দেখা দেয়নি৷ অনেক বছর পরে মারওয়ান বাদশাহ হয়। তার মনোনয়ন সূত্রে তার মৃত্যুর পরে আব্দুল মালিক উমাইয়্যা সিংহাসনে বসেন।
অনেক বছর আগে আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহুর করা ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবায়িত হয়। আব্দুল মালিক আরবের বাদশাহ হন৷ মুসলিম জাহানের খলিফা হন। শুধু আরব আর মুসলিম জাহানই নয়। তৎকালীন পৃথিবীর সবথেকে বৃহৎ ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যের সম্রাট হন৷ তার উত্তরসূরীরা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা জুড়ে তিন মহাদেশ ব্যাপী বিস্তৃত ভূখণ্ড শাসন করেছে।
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
Information Source : تاریخ الخلفاء

মুসলিম মনীষীদের বিখ্যাত উক্তি


সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ১১
খলিফা উমার বিন খত্তাবকে (রা.) একবার কা'ব আল আহবার(রহ.)[1] বললেন
-“আমি তাওরাতে জেনেছি। আপনি শহীদ হবেন।
-“এটা কী করে সম্ভব? আমিতো বেশিরভাগ সময় হেজাজেই থাকি![2] আর জিহাদ তো এখন সব হেজাজের বাইরে।
-"আল্লাহ চাইলে আপনি মাদীনায় থেকেই শহীদ হবেন"[3]
উমার (রা.)এর গোলাম আসলাম বর্ণনা করেন, এরপর উমার আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন, হে আল্লাহ! আমাকে আপনারই পথে, আপনার হাবীবের শহরে [মাদিনা মুনাওয়ারায়] শাহাদাত অর্জনের সৌভাগ দান করুন" [4]
এর কয়েকবছর পর, হিজরি ২৩ সালে, (৬৪৪ ইসায়ী সালে) আবু লুলু ফিরোজ নিহাওয়ান্দি নামক এক অগ্নিউপাসক দাসের ছুড়িকাঘাতে নাবীজির (ﷺ) শহরে তারই মাসজিদে ফজরের নামাজরত অবস্থায় উমার (রা.) শহীদ হন। [5]
হত্যাকারী ছিলো এক সাবেক পার্সিয়ান সেনা। কাদেসিয়ার যুদ্ধে পারস্যের বাহিনী ও তাদের বিখ্যাত সেনাপতি রুস্তম পরাজিত হলে অনেকের সাথে এই অভিশপ্ত অগ্নিপূজক ফিরোজও যুদ্ধবন্দী ও দাস হয়।[6]
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
রেফারেন্স:
1. আল বিদায়া ওয়াননিহায়া, ২য় খন্ড, ২৬৩ পৃষ্ঠা।
2. হেজাজ বলতে সাধারণ ভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপ উদ্দেশ্য করা হয়। যদিও অনেক গবেষকদের মতে হেজাজ বলতে সৌদি আরবের পশ্চিম অংশকে বুঝায়। তাদের মতে ঐতিহাসিকভাবে হেজাজ সৌদি আরবের পূর্ব দিকের বাকি নাজদ অংশ থেকে পৃথক বিবেচিত হয়ে এসেছে। সূত্র: "Oman, UAE & Arabian Peninsula"- Page: 316
3.তারিখুল খুলাফা
4. প্রাগুক্ত
5. প্রাগুক্ত
6. "Modern reformist thought in the Muslim world" By Mazheruddin Siddiqi, Adam Publishers & Distributors, p:147 (পরবর্তীতে "এক পলকে ইতিহাস" সিরিজে এই হত্যা ও হত্যাকারীর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য থাকবে ইনশাআল্লাহ)


ইসলামিক উপদেশ বাণী সেরা ইসলামিক উক্তি ইসলামের বাণী সমূহ



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ১২
--
আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা.) শিশুকালে যখন প্রথম কথা বলা শুরু করেন, তিনি সর্বপ্রথম "سيف" শব্দটি উচ্চারণ করেন। যার অর্থ হলো, "তলোয়ার"! এরপর এই ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তার পিতা যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) ছেলের মুখে উচ্চারিত শব্দ শুনে বললেন, “তােমাকে তলোয়ার দিয়েই অনেক অনেক কিছুর মীমাংসা করতে হবে।"[1]
বস্তুত হয়েছিলোও তাই! তিনি মাক্কায় খলিফা থাকা অবস্থায় মারওয়ান বিন হাকাম দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার সূত্র ধরে মিসর ও সিরিয়ার ক্ষমতা দখল করে নেয়। তার অধীনস্থ এলাকা থেকেও কিছু লোক আমীরুল মু'মিনীন আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা.) এর কাছে বাইয়াত দেয়। এতে মারওয়ান তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে উমাইয়্যা নিয়ন্ত্রিত রাজধানী দামেস্কাসে নিজেকে খলিফা ঘোষণা দেয় এবং তৎকালীন খলিফা আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত হয়৷ খলিফা সেই যুদ্ধ সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেন। এছাড়াও তিনি ইসলামের জন্য একাধিক জিহাদ পরিচালান করেছেন। অনেক ফিতনা ফাসাদই তিনি তলোয়ারে মাধ্যমে বীরত্বের সহিত মোকাবেলা করেন। অবশেষে ৭৩ হিজরিতে মারওয়ানের উত্তরাধিকারী আব্দুল মালিকের নির্দেশে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ চল্লিশ হাজার সেনার বিশাল বাহিনী নিয়ে মাক্কায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং খলিফা আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে। জমাদিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখ এই মহান নেতা, হাজ্জাজের হাতে শাহাদাত বরণ করেন। [2]
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
1. Information Source : تاریخ الخلفاء
2. " এক পলকে ইতিহাস" সিরিজে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ১৩
"এক উমারের ব্যাপারে আরেক উমারের ভবিষ্যৎবাণী"
--
উমার বিন খত্তাব রা. বলেছেন, আমার বংশধরদের মধ্যে থেকে এমন একজনের আবির্ভাব ঘটবে যার চেহারায় ক্ষতচিহ্ন থাকবে। তার শাসনামলে পৃথিবীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। [1] হায় আমি যদি সেই বংশধরের শাসনকাল পেতাম, যিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন![2]
সায়্যিদুনা উমারের (رضى الله عنه) এই ভবিষ্যৎবাণীর প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরে, ৬৩ হিজরীতে উমাইয়্যা শাহজাদা ও মিসরের উমাইয়্যা গভর্নর আব্দুল আযিযের ঔরসে এবং লাইলা বিনতে আসেম এর গর্ভে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় উমার!
বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন তুখোড় অশ্বারোহী! অশ্বারোহনের সময় একবার ঘােড়ার পদাঘাতে তার মুখে একটি ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তখন তার পিতা আব্দুল আযিয তার রক্তাক্ত চেহারা মুছে দিতে দিতে বললেন “ক্ষতচিহ্নবিশিষ্ট বানু উমাইয়্যাগণ সৌভাগ্যবান হয়।”[3]
তার দ্বীনদারিতা, বীরত্ব, সাহসিকতা, বদান্যতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সার্বিক যোগ্যতার কারণে চাচা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান এর খিলাফাতকালে তিনি যুবক বয়সেই মাদীনাতুল মুনাওয়ারার প্রাদেশিক গভর্ণর নিযুক্ত হন। তার সুশাসনের কথা মাদীনার জনগণের কাছে অত্যন্ত সুবিদিত ছিলো।।
পরবর্তীতে চাচাতোভাই সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক (রা.) খলিফা হলে তাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করা হয়। খলিফা সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের ওফাতের পর- তার মনোয়নের ভিত্তিতে উমার বিন আব্দুল আযিয (রা.) সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা ও তিন মহাদেশব্যাপী বিস্তৃত সুবিশাল উমাইয়্যা সাম্রাজ্যের বাদশাহ হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৫ বছর।
মাত্র আড়াই বছরের শাসনকালে তিনি সাম্রাজ্যকে খুলাফায়ে রশিদুনের ন্যায় আদল ও ইনসাফ দিয়ে ঢেলে সাজান। দুর্নীতি অনিয়ম আর বিদাআতের মূলোৎপাটন করতে সক্ষম হন। তার ইনসাফভিত্তিক সুশাসন এ পর্যায়ে মাদীনার বাইরেও পুরো তিন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই সাথে সত্য হয় তার পূর্বপুরুষ উমার বিন খত্তাবের (রা.) করা ভবিষ্যৎবাণী। তার মা উম্মে আসেম লাইলা হচ্ছেন খলিফা উমার বিন খত্তাবের ছেলে আসিম বিন উমার এর কন্যা। তার মা হচ্ছে উমার বিন খত্তাবের নাতনী। অর্থাৎ মায়ের দিক থেকে তার বংশপরাম্পরা হচ্ছে, "উমার বিন লাইলা বিনতে আসিম বিন উমার বিন খত্তাব।"
সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের ধারক হিসেবে ইসলামী শারীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অনমনীয়তার দিক থেকে ইতিহাসের লৌহমানব খ্যাত খলিফা উমার বিন খত্তাবের সাথে তার মিল থাকার কারণে ইতিহাসে তিনি পরিচিত হয়ে আছেন "উমার-ই-সানী" বা দ্বিতীয় উমার হিসেবে।[4]
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
.
রেফারেন্স:
1. তিরমিযি
2. তাবাকাত ইবনে সাদ
3. তারিখুল খুলাফা- পৃষ্ঠা: ২০৮
4. তার শাসনকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বিজয়াভিযান নিয়ে "এক পলকে ইতিহাস" সিরিজে আলোচনা থাকবে ইনশাআল্লাহ।



সেরা মানুষদের ভবিষ্যৎবাণী- ১৪
"ভাগ্য অস্বীকারকারী দলের পরিনতি"
--
হিজরি ৯৮ সালের দিকে কাদরিয়া[1] নামক নতুন এক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যারা সুকৌশলে কুরআন ও হাদিছের রেফারেন্স এর অপব্যাখ্যা করেই ভাগ্যকে অস্বীকার করতো। এবং অন্যদের মধ্যেও তাদের ওই বাতিল মতবাদ প্রচার করতে থাকে। তখন খলিফা ছিলেন উমার বিন আব্দুল আযিয (রা.)। তিনি তখন এই দলের লোকদের দরবারে ডাকলেন। এবং তাদের আকিদার ভুল গুলো তুলে ধরে তাদেরকে তওবা করতে। তারা তওবাহ করলো এবং কৃতজ্ঞতা দেখিয়ে খলিফাকে বলল, "আমরা পথভ্রষ্ট ছিলাম, আপনি আমাদেরকে হিদায়াতের আলো দিলেন! ইয়া আমীরুল মু'মিনীন!"
বাহ্যিকভাবে তারা তওবাহ করলেও। মানুষদের অন্তরের অবস্থা তো আর বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তা তিনি বললেন, তোমরা যদি সত্যই মন থেকে তওবা করে থাকো, তা হলে ভালো। আর যদি মিথ্যা হয়, তবে অচিরেই তোমাদের হাত পা কেটে শুলে চড়ানো হবে! এর পর তিনি আল্লাহর এই দুআ করলেন, হে আল্লাহ যদি তাদের কথা সত্য হয় তবে ভালো নতুবা তাদেরকে যেন হাত পা কেটে শুলে চড়ানো হয়।
বস্তুত এই লোক প্রাণ বাঁচানোর জন্যই তওবাহ করেছিলো। কিন্তু তাদের এই বাতিল বিশ্বাস তারা পরিবর্তন করেনি। যার প্রমাণ মেলে খলিফা উমার বিন আব্দুল আযিযের (রা.) ওফাতের পরে তারা তাদের পূর্বের বাতিল বিশ্বাস নিয়ে আবারো সরব হয়। পরবর্তী খলিফা ইয়াযিদ বিন আব্দুল মালিক এ ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, তার পরের খলিফা হিশাম বিন আব্দুল মালিকের (রা.) শাসনামলে ১০৬ -১০৭ হিজরিদ দিকে এই ভাগ্য অস্বীকারকারী দলকে উমার বিন আব্দুল আযিযের (রা.) দুআ ও ভবিষ্যৎবাণী মোতাবেক হাত পা কেটে শুলে চড়িয়ে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
একক্লিকে
#ভবিষ্যৎবাণী
Information Source : تاریخ الخلفاء
تاريخ الاسلام الكبير (الامام الذهبي)
টীকা:
1.আবু বাকর (রা.) থেকে বর্ণিত, নাবীজি (ﷺ) বলেছেন, " আমার উম্মাতের মধ্যে মুরজিয়া আর কাদরিয়া- এই দুটো ফিরকা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"
[সুনানে দারে কুতনী]
বি. দ্র. মুরজিয়া বলতে প্রাথমিক বা বর্তমান উভয়ে যুগের মুরজিয়ারাই এর মধ্যে শামিল। তবে কাদরিয়া বলতে বর্তমান বাংলাদেশ, হিন্দুস্তান-পাকিস্তানের কাদরিয়া তরিকার লোকেরা উদ্দেশ্য নয়। বরং হাদিছে কাদরিয়া বলতে তাকদীর বা ভাগ্য অস্বীকারকারী বাতিল ফিরকাকে বুঝানো হয়েছে।

Shakir Mahmud Safat

Powered by Blogger.