বাংলা ইসলামিক বই ডাউনলোড : নববী কাফেলা

 উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত ব্যক্তি বসানো সহজ কোন কাজ নয়। এটি বাস্তব জীবনে নেতা ও অনুগত, সবারই সফলতার রহস্য, যুদ্ধ ও শান্তিকালীন উভয় সময়েই।

অবশ্যই এটা কোন সহজ ব্যাপার নয়। কারণ আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত বান্দা ছাড়া, সর্বদাই মন্দের নির্দেশদাতা মানবাত্মা নিজ থেকে জ্ঞান ও যোগ্যতায় উত্তম ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এ দুষ্ট আত্মা তার আশপাশ থেকে চাকচিক্যতা ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় পায় এবং এর ফলে সে ঘোর অন্ধকারে নিমিজ্জিত হওয়ার আশংকায় থাকে।

এই বিষয়টি নেতা ও অনুগতদের সফলতার রহস্য। বরং তাদের সফলতার অঙ্গনে আরো উন্নতির রহস্য। কারণ সৎ ও যোগ্য নেতাগণ তাদের জনগণকে যুদ্ধের সময় বিজয়ের দিকে পরিচালিত করে এবং শান্তিকালিন সময়ে উন্নতি ও সফলতার দিকে নিয়ে যায়।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত। এই সাহায্যের ছিল নিশ্চিত প্রভাব তঁার সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হওয়ার ক্ষেত্রে, ফায়সালা ও বিধান দানের ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ও পরিচালকের আসনে, কমান্ডার ও সৈনিক হওয়ার ক্ষেত্রে, মুরব্বি ও শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে এবং পরিপূর্ণ মানব হওয়ার ক্ষেত্রে, এমন মানব যার কাছে ওহি পাঠানো হয়।


এসব যোগ্যতাই হচ্ছে উত্তম আদর্শ। যে আদর্শকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য একজন বিবেকসম্পন্ন মুমিন অবশ্যই তার দিকে তাকিয়ে থাকবে। কারণ এগুলো এমন যোগ্যতা, যা অর্জন করার জন্য যে কোন অনুসরণীয় ব্যক্তিই সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবে।

মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন,
اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ ۗ
“আল্লাহই এ বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত যে, কোথায় তার রিসালাহ (নবুয়তের দায়িত্ব) রাখতে হবে।” সুরা আনআম: ১২৪।

তবে ওহি দ্বারা সাহায্য একমাত্র নবি রাসুলদের মাঝে সীমাবদ্ধ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত এবং তঁার কমান্ডারগণের জীবনী অধ্যায়ন করে যে জিনিসটা আমি পেয়েছি, তা হল, রাসুল স. এর সকল যোগ্যতার মধ্যে একটি বিরল যোগ্যতা ছিল উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিভা।তিনি এ যোগ্যতাকে তঁার বরকতময় জীবনে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে ছিলেন। এটাকেই তিনি যুদ্ধের দিনে বিজয় অর্জন এবং শান্তির সময়ে আরো অধিক সফলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুনিয়াবি মাধ্যম হিসেবে অবলম্বন করেছিলেন।

রাসুল স. তঁার সাহাবিদের জানতেন সবিস্তারে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে। প্রত্যেক সাহাবিকে তাঁর সেই বৈশিষ্ট্য সহকারে চিনতেন, যে বৈশিষ্ট্য নতুন ইসলামী সমাজের উপকারে আসবে। ফলে সেসব বৈশিষ্টাবলিকে তিনি এই সমাজের উন্নতি ও কল্যাণে এবং সকল মুসলিমের কল্যাণে ব্যবহার করতেন।

একই সময়ে তিনি সকল সাহাবির স্বভাবজাত ত্রুটি সম্পর্কেও খবর রাখতেন। সেসব ত্রুটির থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখতেন, সেগুলোকে সংশোধনের চেষ্টা করতেন এবং সেগুলোর অনিষ্টতা থেকে দূরে রাখতেন। তিনি সকল সাহাবিকে তঁার উত্তম বৈশিষ্টের সাথে স্মরণ করতেন ও সেটার ব্যাপারে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি সাহাবিদেরকে তাঁদের মুসলিম ভাইদের দোষ ত্রুটি এড়িয়ে গিয়ে এবং তাদের উত্তম বৈশিষ্টগুলোকে মূল্যায়ন করে উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশ দিতেন।

রাসুল স. তাঁর এই চমৎকার পদ্ধতির মাধ্যমে সাহাবাদের উত্তম বৈশিষ্টাবলির দ্বারা দৃঢ় করে তুলতেন এবং সেটাকে মুসলিমদের কল্যাণে ব্যবহার করতেন। আর তঁাদের ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে উত্তম পন্থায় সংশোধন করতেন।
এই বিস্ময়কর পদ্ধতির মাধ্যমেই রাসুল স. একজন মুসলিমকে গড়তেন, তাঁকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতেন। বক্রতাকে সোজা করতেন, সোজা করতে গিয়ে ভেঙ্গে ফেলতেন না। বর্তমান ও ভবিষ্যত উভয়টাকে একসাথে মজবুত করতেন। শুধু বর্তমান বা একটি সময়ের জন্য সংহত করতেন না।

সাহাবিদের মাঝে থাকা বৈশিষ্টাবলি বেকার রেখে দিতেন না। বরং নতুন সমাজের কল্যাণে তা ব্যবহার করতেন। এর মাধ্যমে তঁাদের সেসব বৈশিষ্ট্য পরস্পরে একীভূত হয়ে উম্মাহর মেরুদন্ড শক্তিশালী করত এবং উম্মাহকে বিজয় ও নিমার্নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেত।

রাসুল স. তাঁর সাহাবিদের সক্ষমতা এবং যোগ্যতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতেন। কোন যোগ্যতাকেই তিনি ছোট মনে করতেন না এবং উপেক্ষা করতেন না কোন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তির যোগ্যতাকে। ফলে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার সাথে আরো যোগ্যতা এসে যোগ হত। এরপর তঁার মাঝে সে যোগ্যতাগুলো চমকাতে থাকত।
তিনি প্রত্যেক উত্তম যোগ্যতার অধিকারীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে নির্বাচন করতেন।
যে দুই শর্তকে সামনে রেখে রাসুল স. নেতৃত্ব প্রদান করতেন, সে দুই শর্ত হল ইসলাম এবং যোগ্যতা।

আর মজবুত আকিদা ছিল নেতৃত্ব পাবার মৌলিক শর্ত, যাতে নেতা তার কাজের মূল ভূমিকা পালন করতে পারে এবং তার কর্মের ফল যেন সন্দেহ-সংশয় থেকে মুক্ত থাকে এবং যেন তা পূর্ণতা পর্যন্ত পৌঁছায়। কারণ এ ধরণের বিশ্বাসী কমান্ডার তার যোগ্যতা আর আকিদার ভিত্তিতে সঠিক পথে ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে কাজ করতে পারে। নিজের এবং পরিবারের তুলনায় সে তার আকিদা ও সমাজের জন্য বেশি কাজ করে। আর এটাই হচ্ছে আকীদা-বিশ্বাসহীন কমান্ডারের উপর অথবা যে কমান্ডারের খারাপ আকিদা থাকে, ফলে সে তার খারাপ বিশ্বাসের কারণে সমাজ বা জনকল্যাণে কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে- তাদের উপর বিশ্বাসী কমান্ডারদের শ্রেষ্ঠত্বের গোপন রহস্য।

তাছাড়া উচ্চতর যোগ্যতাও ছিল কমান্ডিং পাবার একটি মৌলিক শর্ত। যাতে কমান্ডার তার দায়িত্ব আদায়ে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। এবং তার কর্ম সন্দেহ সংশয় থেকে মুক্ত থেকে পরিপূর্ণতার কাছাকাছি থাকে। কারণ যোগ্যতা সম্পন্ন কমান্ডার যোগ্যতার বলে এর নির্ভরতা নিয়ে কাজ করে। অস্থির এবং এলোপাতাড়ি কাজ করে না। যোগ্যতা তাকে ভুল থেকে বাঁচিয়ে সঠিকতার দিকে পরিচালিত করে। তাড়াহুড়া থেকে দূরে রেখে সুচিন্তিত কাজের নিকটবর্তী করে।
নববী কাফেলা বই থেকে : Iftekhar Sifat



-

সমাজে অশ্লিলতার প্রচারক সেলিব্রিটি, নায়ক, নায়িকা, মডেল, প্রতিষ্ঠানের প্রতি যারা আবেগ, ভালবাসা ও উন্মাদনা রাখেন তারা একনিষ্ঠভাবে কেবল একবার পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটি নিয়ে ভেবে দেখুন।
যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জাননা। (সুরা নুর, আয়াত ১৯)
আপনি কাদেরকে নিয়ে উন্মাদন হয়ে আছেন, কাদের ভালবাসায় আপনি অন্ধ হয়ে আছেন, কাদের প্রতি আপনি মুগ্ধতা অনুভব করছেন, কাদের মত হওয়ার জন্য আপনি আপ্রাণ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন!
যাদেরকে আপনার রব আযাবের ভীতি প্রদর্শন করছে, যাদেরকে আপনার সৃষ্টিকর্তা অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে, যাদেরকে আপনার ইলাহ দুনিয়া ও আখেরাতে অপদস্থতার বাণী শোনাচ্ছে, যাদেরকে আপনার প্রতিপালক অসম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরছে।
অমুক সেলিব্রেটির ফ্যানগ্রুপ খুলে গ্রুপে তাকে নিয়ে যত ধরণের উন্মাদনা আছে প্রকাশ করছেন। অশ্লিলতার প্রচারক কোন অভিনেতাকে নিয়ে গেট টু গেদার করার জন্য আত্মহারা হয়ে যাচ্ছেন। তার হাতের ছোঁয়া কিংবা কথার শব্দে আপনি আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন। মুগ্ধ হয়ে তার ছবি, ভিডিও কিংবা গান শেয়ার দিচ্ছেন, অনুপ্রেরণা বা মুগ্ধতা প্রকাশকারী কমেন্ট করছেন, রিয়েক্ট দিচ্ছেন।
আপনি ভাবছেন এগুলো জাস্ট এমনি। কক্ষনো না। আপনি ভুল ধারণায় আছেন। এগুলোই তার প্রতি আপনার ভালবাসা ও মুগ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। এই এক্টিভিটিগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার রবের বিরুদ্ধাচারণ করছেন। সমাজে অশ্লিলতার প্রসারে আপনিও ভূমিকা পালন করছেন। উল্লেখিত প্রতিটি কর্মের হিসেব আপনাকে দিতে হবে, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন।আপনার লাইক, কমেন্ট, ভিউ তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয়। তাদের কর্মকে আরো প্রভাবশালী করে।
একদিকে আপনি আপনার রবের অবাধ্যতায় লিপ্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে আপনি এগুলোর মাধ্যমে কী পাচ্ছেন সেটা ভেবে দেখেছেন? কিছুই না। উন্মাদনা আর ফ্যান্টাসি ছাড়া কিছুই না। কিন্তু হারাচ্ছেন অনেক কিছু। তারা আপনার দ্বীন, কর্মোদ্যমতা, সৃজনশীলতা, বৈধ প্রতিভা, যোগ্যতা সব কিছুকে কেড়ে নিচ্ছে। আপনাকে অথর্ব ও প্রতিবন্ধী এক খেলনার পাত্রে পরিণত করছে। আপনাকে আপনার দ্বীন ও দুনিয়ার দায়িত্ব ও অধিকার থেকে বেখবর করে রাখছে। সেই সুযোগে আপনি হয়ে বসেছেন পৃথিবীর কিছু মানুষের দাস।
- Iftekhar Sifat
Powered by Blogger.