মদ খাবি মানুষ হবি: মদপানের উপকারিতা এবং অপকারিতা কি কি?

সুপরিচিত মেডিকেল জার্নাল দি ল্যানসেট-এ সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত বড়-মাপের বৈজ্ঞানিক গবেষণা জানাচ্ছে, একটুআধটু মদ্যপান শরীরের জন্য ভালো বলে যে প্রচারণা চালানো হয়, তা কেবলই মিথ! মদ্যপানের কোনো নিরাপদ সীমা নেই, সামান্য পানও ক্ষতিকর! WHO এর প্রতিবেদন জানায়, মদ্যপানের কারণে প্রতি বছর ৩ মিলিয়নেরও (৩০ লক্ষ!) বেশি মানুষের মৃত্যু হয়!

 মদপানের উপকারিতা ও অপকারিতা

শুধু যুক্তরাজ্যেই প্রতিবছর মদ্যপান জনিত অপরাধ, রোগ, কর্মহীনতা প্রভৃতি কারণে ৫২০০ কোটি পাউন্ড অপচয় হয়! কেবল ইংল্যান্ডও ওয়েলস এর পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এই এলাকাগুলোতে যত সহিংস ঘটনা ঘটেতার ৪০% এরও বেশি ঘটে মদ্যপানের কারণে। পশ্চিমে ধর্ষণ, পারিবারিক অশান্তির প্রভৃতিরও অন্যতম বড় কারণ এই মদ্যপান।

মদ্যপান বিশ্বব্যাপী নানাবিধ রোগব্যাধির অন্যতম কারণ। মানবদেহের এমন কোনো সিস্টেম নেই যা মদ্যপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত। ২০১৭ সালে শুধু ইংল্যান্ডেই মদ্যপান জনিত কারণে হাসপাতালে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভর্তিহয়েছে!

একজন বলেছেন, কোনো সচিব সচিবালয়ে গিয়ে মাতলামো করেছে এমনটা কখনো ঘটেনি! অথচ অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আগের রাতে পার্টি কলিগদের সাথে কয়েক বোতল মদ খেয়ে টাল হয়ে অফিসের কাউচে ঘুমিয়ে পড়েন। যার ফলে পরের দিন গুরুত্বপূর্ণ ভোটটাই তিনি দিতে পারেননি, তার সাংসদগণ তাকে টেনেও কাউচ থেকে নড়াতে পারেনি! এর জন্য বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও এই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল প্রায় আট বছর।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সাংসদ ড. সারাহ ওলাস্টনের অভিজ্ঞতা জানায়, কতিপয় সাংসদ এত মদ খেয়ে আসেন যেহাউস অব কমন্স-এ দাঁড়িয়ে থাকাই তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। আরেক মন্ত্রী পার্লামেন্টে মদের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গিয়ে শেষমেশ চাকরিটাই খুইয়েছেন।

তাও ভালো, এই লোকগুলো জামাকাপড় খুলে বসেননি! ভারতে তো মদের ঘোরে বেহুঁশ হয়ে হাফ প্যান্ট আর টি-শার্ট পরে আদালত চত্বরে হাজির হয়েছিলেন এক বিচারক! পরে গায়ের টি শার্টটিও খুলে ফেলেন তিনি!

জর্জিয়ার এক অধ্যাপক বিয়ারের পাঁচখানা ক্যান একদমে সাবাড় করে ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে টাল হয়ে স্টুডেন্ট রুমে ঘুমিয়ে গেছেন। আরেক অধ্যাপক বেচারা ক্লাসে মাতাল অবস্থায় বিয়ারের ক্যান নিয়ে ঢুকে শেষমেশ চাকরিটাই হারিয়েছেন। এদিকে এক হাই স্কুল শিক্ষকেরও একই অবস্থা হয়েছে। মাতাল হয়ে ক্লাসে এসে উল্টাপাল্টা আচরণ করার কারণে তিনিও চাকরি হারিয়েছেন।

তবে সবাই তো আর চাকরি হারান না, কেউ অ্যারেস্ট হন, কাউকে আবার শোকজ করতে বলা হয়। যেমন, এক প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা মাতাল অবস্থায় ব্যাগে গুলি-ভর্তি-পিস্তল নিয়ে ক্লাসে এসে লাল দালানের চাল খেয়েছেন শেষমেশ। কেউ আবার ক্লাসে এসে হট ওয়াটার ব্যাগ থেকে মদ খায়! কেউ কেউ লুকোছাপা ছাড়াই সরাসরি মদের বোতল মুখে তুলে নেয় শিক্ষার্থীদের সামনেই। আর এর সাথে মাতলামি আর অশোভনীয় ব্যবহার তোআছেই। আরেকজন শিক্ষিকা তো জয়েনিং এর প্রথম দিনই মাতাল অবস্থায় চলে এসেছেন। ও আরেকটা কথা বলিনি, বেচারি প্যান্ট পড়তে ভুলে গিয়েছিলেন!

ভারতে মদ্যপান সংক্রান্ত আরও মজার ঘটনা ঘটেছে। ছত্রিশগড়ে এক মাতাল শিক্ষক ক্লাসে এসে বাচ্চাদের ইংরেজি বর্ণমালা শিক্ষা দিয়েছেন, D ফর দারু (অর্থাৎ মদ), P ফর পিয়ো (খাও)! আহা, কী উন্নতমানের শিক্ষা! এছাড়াও শিক্ষক মদের ঘোরে ক্লাসেহুঁশ হারিয়ে ঢুস করে পড়ে যাওয়ার নজিরও বিরল নয়, অন্তর্জাল ঘাটলেই এমন ঘটনাবেশ পাওয়া যায়।
এভাবেই জ্ঞানি, গুণী, শক্তিমান ও সম্মানিত মানুষেরা মদ খেয়ে আসছেন। তাই আমাদেরও মদ খেয়ে মানুষ হয়ে যাওয়া উচিত। আজকের দিনের স্লোগান হোক:
মদ খাবি, মানুষ হবি।

[অবিশ্বাসী কাঠগড়ায় বই থেকে নেয়া। বিস্তারিত রেফারেন্স বইতে পাবেন।]
লেখকঃ রাফান আহমেদ,

প্রাসঙ্গিক ছবিঃ
এডমিন এর কিছু কথাঃ
এত অত মানুষ পান করে বলেই সেটা বৈধ বা উপকারি হয়ে যায় না।
আমেরিকার কয়েক কোটি মানুষ গাঞ্জা সেবন করে বলে গাঞ্জা সেবন বৈধ হয় না।

বাংলাদেশে যেমন বাইক কেনা যায় তেমনি আমেরিকা তে এ্যাসল্ট রাইফেল কেনা যায়!! এমন উন্নত রাইফেল যা বাংলাদেশের আর্মিও ইউজ করে না। যেহেতু আমেরিকাতে সহজে পিস্তল, এ্যাসল্ট রাইফেল কেনা বৈধ সেহেতু বাংলাদেশেও সেটা বৈধ হওয়া উচিত? হিহিহিহি হাহাহাহা

উপরের ছবিতে যে আর্টিকেলে মদ বৈধ করার জন্য ভং চং লজিক দিয়ে আর্টিকেল লিখছে সেটি বাংলাদেশের একটি পত্রিকা। এদের যুক্তির মায়ের কাছে বাবার আকাশ ওরা তারার উপযুক্ত ব্যাখ্যা রাফান ভাই তার বই তে দিয়েছে।

আপনারা কিনে পড়তে পারেন বইটিঃ অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়
Powered by Blogger.