নাস্তিক সমকামি লিবারেল মিশনারীদের ভাঙ্গা ক্যাসেট!

সমকামীতা, ড্রাগ ইউস এবং ‘সেক্সুয়াল লিবারেশন’-এর মতো কনসেপ্টগুলো প্রচারে লিবারেল মিশনারীদের ব্যবহার করা যুক্তিগুলো আমাকে নিয়মিত অবাক করে। যেকোন বিচারে এগুলো দুর্বল। অবস্থানগুলো এতোটাই নড়বড়ে যে একেবারে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এ ভেঙ্গে পড়ে। বছরের পর বছর তবুও মানুষ এসব জোড়াতালি দেয়া, অন্তসারশূণ্য বুলি আওড়ে যায়। ব্যাপারটা বিস্ময়কর।
.
দুটো উদাহরণ দেই।
সমকামীতার পক্ষে দেয়া একটা যুক্তি হল- প্রকৃতিতে সম লিঙ্গের সাথে যৌনতার উদাহরণ আছে। বিভিন্ন প্রানীর মধ্যে এমন আচরণ দেখা যায়। অতএব, মানুষের মধ্যেও সম লিঙ্গের সাথে যৌনতা স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক।
.
তর্কের ধরে নিলাম, প্রকৃতিতে এমন আচরণ পাওয়ার বিষয়টা সত্য এবং এমন আচরণের হার স্ট্যাটিসটিকালি সিগনিফিক্যান্ট। কিন্তু তাতে মূল সমস্যার সমাধান হয় না। প্রকৃতিতে, অন্য প্রাণীদের মাঝে কোন আচরণ থাকার অর্থ কি সেটা সঠিক হওয়া? প্রাণীজগতে ‘ক’ আচরণ দেখা যায়, অতএব মানুষের জন্যও ‘ক’ আচরণ স্বাভাবিক, সঠিক এবং প্রাকৃতিক – এটা কি খুব শক্ত অবস্থান? এই অবস্থান কি কনসিসটেন্টলি মেইনটেইন করা সম্ভব?
.
প্রকৃতিতে সেক্সুয়াল ক্যানিবালিসম দেখা যায়। যৌনসংগমের পর মেয়ে ব্ল্যাক উইডো মাকড়শা সঙ্গীকে হত্যা করে খেয়ে ফেলে। প্রজাপতি, হনুমান, সিংহ, ইদুরসহ বিভিন্ন প্রানী নিজ প্রজাতির শিশুদের হত্যা করে। কখনো নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য, কখনো নিহত শিশুদের মায়ের সাথে সঙ্গমের জন্য। সমুদ্রের ভোঁদড় (সী-অটার) শিশু সীলদের ধর্ষন এবং হত্যা করে। পেঙ্গুইনের একটা জাত আছে যারা নিজ প্রজাতির নারীদের গ্যাং-রেইপ করে। অনেক সময় মৃতদেহের সাথে সঙ্গম করে। ডলফিনদের মধ্যে কোন কারণ ছাড়া পরপইস নামের প্রানীকে টর্চার এবং হত্যা করার মতো আচরন দেখা যায়। এছাড়া ডলফিনরা দলবেঁধে নিজ প্রজাতির নারীদের রেইপ করে।
.
‘প্রকৃতিতে আছে তাই কাজটা স্বাভাবিক এবং মেনে নেয়া উচিৎ’- এই যুক্তি কনসিস্টেন্টলি অনুসরণ করা হয় তাহলে বলতে হবে ক্যানিবালিসম, সেক্সুয়াল ক্যানিবালিসম, রেইপ, গ্যাং-রেইপ, নেক্রোফিলিয়া, স্যাডিসম-সব প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক। মানুষের মধ্যে এমন আচরণ দেখা গেলে তা সঠিক এবং স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া উচিৎ, কারণ প্রানীজগতেও এসব আচরণ দেখা যায়। এগুলো ন্যাচারাল। পশ্চাৎপদতা থেকে বের হয়ে এসে আমাদের এগুলো মেনে নেয়া উচিৎ। কিন্তু ক্লিয়ারলি কোন সুস্থ মানুষ এমন কথা বলে না। যারা সম লিঙ্গের সাথে যৌনতার স্বাভাবিকীকরণ চায়, তারাও (হোপফুলি) এমন বলবে না। অর্থাৎ কনসিসটেন্টলি এই যুক্তি মেইনটেইন করা সম্ভব না।
.
তাহলে বিষয়টা শেষ পর্যন্ত কী দাড়ালো? প্রানীজগতের মাঝে কোন আচরণ থাকা সেটা মানুষের জন্য স্বাভাবিক, সঠিক এবং অনুকরনীয় গণ্য হবার জন্য যথেষ্ট না। যদি যথেষ্ট হতো তাহলে ধর্ষনের পক্ষেও প্রানীজগত থেকে দলিল দেখানো যেতো। ব্যাপারটা আসলে এলিমেন্টারি। পশুর মতো হওয়া কখনোই মানবজাতির লক্ষ্য ছিল না। বরং আমাদের প্ল্যান ছিল, যথাসম্ভব পশুত্ব থেকে বের হয়ে আসা। কিন্তু আধুনিক মানুষ কোন এক কারণে উল্টোটা করছে।

.
কোন আচরণ স্বাভাবিক, সঠিক, নৈতিক কিংবা সুস্থ কি না – সেটা মাপার জন্য আলাদা মাপকাঠি লাগবে। প্রানীজগতে সেটার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। সেই আলাদা মাপকাঠি কী? সেটার ভিত্তি কী? সেটার প্যারামিটার কী? এখানেই দ্বীনের প্রশ্ন আসবে। ওয়ার্ল্ডভিউয়ের প্রশ্ন আসবে। আপনি কী বিশ্বাস করেন, কেন বিশ্বাস করেন, জ্ঞান বলতে কী বোঝেন, কোনটাকে জ্ঞানের বৈধ উৎস মনে করেন-এসব প্রশ্ন আসবে। কাজেই সম লিঙ্গের প্রতি যৌনতাকে প্রানীজগতের কথা বলে ন্যাচারাল এবং স্বাভাবিক প্রমানের টেকনিক সঠিক না। এবং চায়ের দোকানের আড্ডার বাইরে অন্য কোন আলোচনায় আসার মতো না।
.
লিবারেল মিশনারীদের নড়বড়ে যুক্তির আরেকটা উদাহরণ দেখা যাক। টেন মিনিট স্কুলের শামির মোন্তাজিদ, এলএসডি বন্দনা করতে গিয়ে বলেছে, ‘বিশ্বের অনেক কবি-সাহিত্যিক-পেইন্টার এলএসডি খেয়ে নিজেদের কল্পনার জগতকে প্রসারিত করেছে। স্টিভ জবসেরও খুব পছন্দের জিনিস ছিল এলএসডি’।
.
বুদ্ধিমান পাঠক হয়তো ধরতে পারবেন, এই কথটা প্রানীজগতে ‘সমকামী’ আচরণ থাকার অজুহাতের মতোই। মূল বক্তব্য অনেকটা এরকম -
অমুক মানুষ কিংবা প্রজাতি ‘ক,খ’গ’ করে, অতএব ‘ক,খ,গ’ ভালো/স্বাভাবিক/প্রাকৃতিক/নৈতিক ইত্যাদি।
.
কোন আচরণ কোন বিখ্যাত মানুষের মধ্যে থাকার অর্থ কি সেটা ভালো? সেটা নৈতিক? সেটা অনুসরনীয় বা কাঙ্ক্ষিত? কবি, সাহিত্যিক, পেইন্টার কিংবা বিলিয়েনেয়ার আন্ট্রোপ্রোনোররা যা কিছু করেছে তা কি অনুসরনীয়? আধুনিক বুদ্ধিজীবিদের আর্কেটাইপ রুশো ছিল একটা লম্পট, যার কমপক্ষে ৫ জন জারজ সন্তান ছিল। একজনকেও সে সামাজিক স্বীকৃতি দেয়নি, একজনেরও দায়িত্ব নেয়নি। জন্মের পর সবার স্থান হয়েছে এতিমখানায়। এবং সেই সময়ে এতিমখানায় শিশুমৃত্যুর হার অনুযায়ী এদের অধিকাংশের শৈশবে মৃত্যু হবার কথা। হয়তো রুশো তার যৌন জীবন এবং ব্যক্তিজীবনকে প্রসারিত করার জন্য এমন করেছিল। এখন আমাদেরও কি তাই করা উচিৎ?

.
বীট জেনারেশনের বিখ্যাত কবি এবং ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’-খ্যাত অ্যালেন গিন্সবার্গ ছোট ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। ছোট ছেলেদের রেইপ করার পক্ষে বিভিন্ন সময় বক্তব্যও দিয়েছিল ‘অ্যামেরিকান ম্যান বয় লাভ অ্যাসোসিয়েশান’ (NAMBLA)-এর সদস্য গিন্সবার্গ। ভালো কথা, গিন্সবার্গও কল্পনাকে প্রসারিত করার জন্য বিভিন্ন ড্রাগস ব্যবহার করতো।
.
গতো তিন দশক জুড়ে বুদ্ধিজীবি হতে হলে যার মুরিদ হওয়া ওয়াজিব, সেই মিশেল ফুকো তিউনিশিয়াতে গিয়ে ছোট ছেলেদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষন করেছিল। বন্ধুদের ভাষ্যমতে নিজের এইডস আক্রান্ত হবার বিষয়টি জানার পরও ফুকো বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের সাথে অনিরাপদ যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিল।
.
আরেক ফরাসী সার্ত্রের শখ ছিল ছাত্রীদের সাথে প্রেম করা। নিত্যনতুন কচি প্রেমিকা জোগাড় করার কাজটা সার্ত্রের হয়ে অনেক সময় করতো সার্ত্রের দীর্ঘদিনের পার্টনার এবং ফেমিনিস্ট আইকন সিমন দ্যা বোভোয়ার। বিখ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে পানির মতো মদ খেতো। স্ত্রী (দের) সামনে প্রেমিকাদের সাথে দলাদলি করতো এবং শেষ বয়সে মুখে শটগান ভরে সুইসাইড করেছিল।
.
বিখ্যাতদের আরো জঘন্য কাজের বিবরণ দেয়া সম্ভব। বিখ্যাত লোকেরা ওপরের কাজগুলো করেছে, তাই আমাদেরও কি এখন এগুলো করা উচিৎ? আমাদের কি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সামনে এই কাজগুলো গ্লোরিফাই করা উচিৎ? এলএসডি কি বখাটেরা খাচ্ছে নাকি বিখ্যাতরা খাচ্ছে সেটা থেকে এলএসডি খাওয়ার কাজটার ব্যাপারে জাজমেন্ট দেয়া যায় না। ভালোমন্দ, উচিত-অনুচিতের মাপকাঠি স্বতন্ত্র হয়। ব্যক্তিনির্ভর হয় না। এক অর্থে এলএসডির পক্ষে শামির মোন্তাজিদদের ওকালতি পীরদের অন্ধ অনুসরণ ঐসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষদের মতোই, যারা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শ্রেনীর অন্ধ অনুসরণ করে। ব্যাপারটা আয়রনিক।
.
এরকম ঠুনকো সব যুক্তি আর ফাঁপা বুলি দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে কর্পোরেইশান আর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঠিক করে দেয়া মূল্যবোধ কিশোর-তরুণদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে আধ্যাত্মিক অন্ধকার আর দিকভ্রান্তির গোলকধাঁধায়। আর এই পুরো জিনিসটাকে প্যাকেজ করা হচ্ছে ‘নন-কনফরমিসম’, ‘মুক্তচিন্তা’, ট্র্যাডিশান বিরোধিতার নামে। অন্ধ দাসত্বের মার্কেটিং করা হয়েছে বিদ্রোহের পোশাকে।
.
আমার কাছে যেটা অবাক লাগে তা হল, এতো নড়বড়ে কথাবার্তা কিভাবে মানুষ এতো আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে যায়? কিভাবে মানুষ এসব ঠুনকো যুক্তি বিশ্বাস করে? এবং এগুলো ভিত্তিতে নিজের দ্বীন ঠিক করে? এসব প্রশ্নের আমি একটা ছাড়া আর কোন উত্তর পাইনি।
.
যারা এসব যুক্তি গ্রহণ করে তারা যাচাইবাছাই, পর্যালোচনা করে। তারা আসলে সত্য খোঁজার চেষ্টা করছে না। সত্য তো অনেক দূরের কথা, তারা সুসংলগ্ন কোন চিন্তার কাঠামো তৈরি করতেও আগ্রহী না। তারা একটা স্রোতের সাথে চলছে। নিজের অবস্থানগুলোর পেছনের পূর্বধারণা এবং ভিত্তিগুলোকে নিয়ে চিন্তা করছে না। প্রশ্ন করছে না। যেটা ডমিন্যান্ট কালচার, যা কিছু ট্রেন্ডিং সেটা অনুসরণ করছে অন্ধভাবে। আর তর্কের সময় কিছু মুখস্থ বুলি আর ইমোশনাল আরগুমেন্ট উগড়ে দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বাজানো সুরের সাথে তাল মেলাচ্ছে।
আর তারপর ভাবছে তারা মুক্তচিন্তক।
মানুষের আত্মপ্রতারণার ক্ষমতা আসলেই বিস্ময়কর।
#লিবারেল_মিশনারী
- Asif Adnan
Powered by Blogger.