সালাম দেওয়া আল্লাহ্‌ হাফেজ বলা জঙ্গিবাদ? ইসলাম বিদ্বেষী সন্ত্রাসীদের উত্থান বাংলাদেশে

ইসলাম বিদ্বেষী সন্ত্রাসীদের উত্থান বাংলাদেশে : সালাম দেওয়া জঙ্গিদের লক্ষন আর স্কুল কলেজে পূজার অনুষ্ঠান সম্প্রীতি!! জঘন্য ডাবল স্ট্যান্ডার্ড  

বাংলাদেশ থেকে ভালো ক্রাইম ইনভেস্টিগেটর বের হয় না কেন?
কারণ, এইদেশের ক্রিমিনোলজির অধ্যাপক শেখান, সালাম শুদ্ধভাবে দেয়া জঙ্গিবাদের লক্ষণ। 
এই সুত্র ধরে জঙ্গি খুঁজতে গেলে আপনি বড়জোর ওসি প্রদীপ হইতে পারবেন, শার্লক হোমস না।
- Abul Fatah Munna 


আমরা আগে স্লামালিকুম বলতাম
এখন আসসালামু আলাইকুম বলা হচ্ছে
আমরা খোদা হাফেয বলতাম
এখন আল্লাহ হাফেয বলা হচ্ছে
মিডলক্লাস, এডুকেটেড মিডলক্লাস ছেলেপেলে...
ধানমন্ডি এলাকায় এসব বলছে
এগুলো দিয়ে ডিসকোর্স তৈরি করা হয়েছে।
জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করার করার জন্য
এডুকেটেড মহিলারা বৃহস্পতিবারে, শুক্রবারে বসে একসাথে...
আমরা এসব ইনফরমেইশান জেনেছি।
.
এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন বক্তব্য না। এধরনের বক্তব্য এর আগেও বাংলাদেশের সেক্যুলার এস্টাবলিশমেন্টের দিক থেকে এসেছে। অনেকবার। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক রীতিমতো গবেষণা করে বলেছিল বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে উগ্রবাদ বাড়ছে। আর এর প্রমান হল, তরুণরা –
.
ফোন ধরে ‘হ্যালো’ না বলে সালাম দিচ্ছে
‘বাই’ না বলে আল্লাহ হাফেয বলছে
কথার মধ্যে ইন শা আল্লাহ বলছে।
.
এই গবেষনা নিয়ে প্রথম কালোর প্রথম পেইজে খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনও ছাপা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রীতি বাংলাদেশের সেই কুখ্যাত বিজ্ঞাপনের কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে।
.
এই বাঙ্গালিত্ব আর ইসলাম যে সাংঘর্ষিক সেটা প্রমানের জন্য আমাদের তেমন কষ্ট করতে হয় না। এরা নিজেরাই বারবার খুব স্পষ্টভাবে এটা প্রমান করে দেয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শহুরে সুশীল সমাজ আর তাদের বানানো 'হাজার বছরের বাঙ্গালী' সংস্কৃতি যে অ্যাট ইটস কোর চরম পর্যায়ের ইসলামবিদ্বেষী এ ধরনের কথাবার্তা বলে এটা তারা প্রকাশ করে দেয়।
.
এই সংস্কৃতি বানানোই হয়েছে কলকাতার হিন্দুয়ানী বাবুগিরির অনুকরণে এবং এ অঞ্চলের মানুষের মুসলিম পরিচয়কে কাউন্টার করার জন্যে। তাই ইসলামের কোন চিহ্নই এরা সহ্য করতে পারে। সালাম কিংবা আল্লাহ হাফেযকেও এদের কাছে উগ্রবাদ মনে হয়। কারণ ঈমান আর শরীয়াহ নিয়ে তাদের সমস্যা। তাদের সমস্যা ইসলাম নিয়েই।
.
এই লোকগুলোর এসব কথাবার্তা শুনলে অন্যদের কেমন লাগে জানি না, তবে আমার খুব ভালো লাগে। এদের মাথায় যদি বুদ্ধির ছিটেফোটা থাকতো তাহলে ‘এক্সট্রিমিসম’ দমনের বিষয়টা তারা বাঙ্গালিত্ব বনাম ইসলাম হিসেবে ফ্রেইম করতো না। সালাম আর আল্লাহ হাফেয নিয়ে গা জ্বললেও সেটা প্রকাশ করতো না।
.
বুদ্ধি থাকলে তারা বিষয়টাকে ফ্রেইম করতো ‘ভালো ইসলাম’ বনাম ‘উগ্র ইসলাম’ হিসেবে। ‘গ্রহণযোগ্য ইসলাম’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য ইসলাম’ হিসেবে। মডারেট-র্যাডিকাল শ্রেনীবিভাগ দিয়ে অ্যামেরিকা ঠিক এ কাজটাই করেছে। বুশ ইবনু বুশকে যতো গর্দভ মনে হোক না কেন, এটুকু বুঝ তার ছিল। সে সরাসরি ইসলামকে শত্রু হিসেবে ফ্রেইম করেনি। এবং ট্রাম্পের আগ পর্যন্ত অ্যামেরিকানরা তাদের ওয়ার অন টেররের ন্যারেটিভ এভাবেই ধরে রেখেছিল।
.
কিন্তু এ জায়গাতে বাঙালি ধর্মের অনুসারীর অ্যামেরিকান মানহাজ ফলো করে না। তারা হিন্দুস্তানী মেথডোলজি ফলো করে। অ্যামেরিকান মানহাজ হল বাইরে ইসলামের কিছু চিহ্ন থাকুক কিন্তু ভেতরে কুফর থাকুক। আর হিন্দুস্তানী মেথডোলজিতে ইসলামের সব কিছুতেই সমস্যা।
.
পড়াশুনা করলে এডুকেশন জিহাদ। জমি কিনলে ল্যান্ড জিহাদ। করোনা আক্রান্ত হলে করোনা জিহাদ। হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম করলে লাভ জিহাদ। বাঙ্গালি ধর্ম যেহেতু এই ধর্মের একটা ডেরিভেটিভ তাই এরা এক্ষেত্রে হিন্দুস্তানী পথই ধরেছে। আসসালামু আলাইকুম বলা উগ্রবাদ। আল্লাহ হাফেয বলা উগ্রবাদ।
.
অনেস্টলি এতো ভালোভাবে এতো সংক্ষেপে, এতো টু দা পয়েন্টভাবে ইসলাম বনাম বাঙ্গালিত্ব, হয় মুসলিম হয় নইলে বাঙালি হ্ও – এই ডাইকোটমি আমি দাড় করাতে পারতাম না। এরা সেটা করেছে। আমি চাই এরা এধরনের বক্তব্য আরো দিক। মানুষ আরো বেশি এগুলো শুনুক। তারপর মানুষ নিজে বেছে নিক, সে কী হবে। সে কি বাঙ্গালি হবে নাকি মুসলিম হবে। সে কি ইসলাম মানবে নাকি বাঙ্গালিত্ব মানবে।
.
আর যে মূর্খরা মনে করে মানুষকে এ দুটোর মধ্যে বেছে নিতে দিলে মানুষ বাঙ্গালিত্ব বেছে নিবে, তাদের আরো বেশি বেশি করে টক শো-তে আনা হোক।
লেখকঃ Asif Adnan


জিয়া রহমান, মমতাজ লতিফদের কাছে বাঙ্গালি নিছক কোন ভৌগলিক পরিচয় না। তারা এই ভৌগলিক পরিচয়কে একটা হিন্দুবান্ধব ধর্মীয় অথোরিটির জায়গায় নিয়ে আসছে। এর আগে শাহরিয়ার কবির বলেছিল, ধর্মীয় পরিচয় নাকি মুছে ফেলা যেতে পারে, কিন্তু বাঙ্গালি পরিচয় না। এরা যেই বাঙ্গালিত্ব বা বাঙ্গালিজমকে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে সেটা আসলে হিন্দু সংস্কৃতি ছাড়া কিছুই না। এজন্যই তাদের একজন বলেছিল, পেট দেখিয়ে শাড়ি না পড়লে আপনি বাঙ্গালি হতে পারবেন না।

এদের কেউ কেউ নিজেকে মুসলিম দাবি করে, কেউ কেউ আবার মুক্তচিন্তক। কিন্তু বাস্তবে তারা সবাই ইসলামভিন্ন আরেকটি ধর্মের অনুসারী। কেউ কেউ হিন্দুবান্ধব বাঙ্গালিজমের অনুসারী। আর কেউ কেউ পাশ্চাত্যবান্ধব লিবারেলিজমের অনুসারী। ফলে দিনশেষে তাদের সমস্ত অপরাধ গবেষণা এবং সাম্প্রদায়িকতা নির্ণয়ের কোপ একমাত্র ইসলামের উপরই পড়ে।

জিয়া রহমানরা সালামের শুদ্ধ উচ্চারণ, দ্বীনি তা'লীম নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। কিন্তু হিন্দুদের "নামাস্তে" আর গীতা অনুষ্ঠান নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তাদের চিন্তা নেই পশ্চিমের "হাই, হ্যালো" আর নানা ধরণের অশ্লিল পার্টি নিয়ে। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে আরবী অক্ষর আর নামাজ ও হিজাবের ছবি থাকাতে মমতাজ লতিফরা সাম্প্রদায়িকতার বিষ দেখছেন। কিন্তু হিন্দুধর্মের বইয়ে মন্দিরের ছবি, ধর্মীয় গীত থাকাতে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজির রাজত্ব দেখে নিজেদের উন্নত ভাবছেন। একেমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ও মূর্খতা!

এজন্যই বলেছি, তাদের সকল এলার্জি ইসলাম নিয়ে। হিন্দুয়ানী আর পাশ্চাত্য সংস্কৃতি তাদের একটুও বিচলিত করে না। কারণ তারা সকলেই এই দুই ধর্মের অনুসারী। কিন্তু আমাদের মুসলিমদেরকে বুঝতে হবে, আমরা হিন্দুবান্ধব বাঙ্গালিজম আর পাশ্চাত্যবান্ধব লিবারেলিজমকে গ্রহণ করলে মুসলিম পরিচয় হারিয়ে ফেলব। আমাদেরকে এই পার্থক্য ভাল করে বুঝতে হবে। এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি নিছক ভৌগলিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে হিন্দুবান্ধব বাঙ্গালি হব নাকি মুসলিম থাকব? আমরা কি পাশ্চাত্যবান্ধব লিবারেল হব নাকি মুসলিম হিসেবেই আল্লাহর সামনে দাঁড়াব?

বস্তুত কাফেরদের এহেন বোকামি আচরণগুলো মাঝে মাঝে প্রকাশ পায় এজন্য যে, যেন আমরা আদর্শিক দ্বন্দ্বটা বুঝতে পারি এবং নিজেদের অবস্থান এবং সিদ্ধান্তে আরো সুস্পষ্ট হতে পারি। মহান আল্লাহ তা'য়ালাই তাদের মাধ্যমে এই আচরণগুলো প্রকাশ করেন নেয়ামত স্বরূপ। বুদ্ধিমান আর সৌভাগ্যবান তো সে-ই, যে এই নেয়ামতের কদর করে এবং পরিপূর্ণরূপে নিজ দ্বীনে প্রবেশ করে।

- Iftekhar Sifat





২০১৩ এর কথা অনেকের-ই মনে থাকার কথা। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় নিয়ে শাহবাগে অনেক মানুষ জমায়েত হয়েছিলো। প্রথম দিকে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারের ফাঁসির জন্য আন্দোলন ভেবে নিয়ে, সাতপাঁচ না ভেবে অনেকেই এতে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলো। দিন যতো যেতে থাকলো, ততো দেখা গেলো এখানে টার্গেট মূলত জামাত ইসলামী নামক রাজনৈতিক দলটি নয়। এই গণজাগরণ মঞ্চের পেছনে যারা কুশীলবের ভূমিকায় ছিলো, এদের বেশ বড়ো একটা অংশ ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক। কাদের মোল্লা একটি উপলক্ষ্য মাত্র। নতুবা উচ্চ আদালতের যেকোনো রায় ডিফেন্ড করার জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়া থাকে। রাস্তায় নেমে দুটো স্লোগানে মঞ্চ কাঁপালেই রায় পরিবর্তন হয়ে যায় না। একটা পর্যায়ে সেই মঞ্চ থেকে ডাক এলো, ধর্মভিত্তিক (তথা ইসলামী) রাজনীতির বিলোপ সাধন করা লাগবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলাম ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থাকবে, এতো অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভারতে যেমন আছে বিজেপি। তবে জামাত বা বিজেপি- কে ভালো/ খারাপ আজ আলোচনার মুখ্য বিষয় সেখানে নয়। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশে যেসকল ইসলামী দল কার্যকলাপ চালাচ্ছে তাঁদের কারো মতাদর্শও আমি সঠিক মনে করি না। এজন্য আমার নিজের কাছে এর ব্যাখ্যা আছে। এছাড়া এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেও ইসলাম কায়েমে আমি বিশ্বাস করি না। হোয়াটএভা, এসব কারণে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামী কোনো রাজনীতৈক দল না থাকাটা সমর্থন করা যাবে না, এই কারণে যে- যারা এই দলগুলোর বিলোপ চাচ্ছেন- তারা এই কারণে চাচ্ছেন না যে, এদের কাছে শরীয়াহ পছন্দনীয়। এর গোড়ার কারণ হলো এরা এই সমাজে রামরাজত্ব কায়েম করতে চান। একজন দুর্বল ইমানের মুসলিম হিসাবেও আমাদের এতে আপত্তি থাকা উচিৎ। একটি পর্যায়ে গণজাগরণ মঞ্চ ওয়ার্ক-আউট করেনি।
.
এই পুরানো কাসুন্দি ঘাঁটার কারণ হলো- সম্প্রতি ধর্ষণ নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। এবং এখানেও ধর্ষণ ইস্যুটির কাঁধে বন্দুক রেখে দেশকে ডি-ইসলামাইজেশানের পথে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। ধর্ষণের ডিসকোর্সে কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই ইসলামের ব্যাপারটা আমরা দেখে নিতে চাই। ইসলামে নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশার ক্ষেত্রে প্রতিকারের আগে প্রতিরোধের দিকে নজর দেয়। পুরুষদের দৃষ্টি অবনত রাখতে বলা হয়েছে, নারীদের যথাযথ পর্দা করতে বলা হয়েছে। এই দুটো ব্যাপার নারী-পুরুষ উভয়ে মেনে চললে ধর্ষণ বহুলাংশে কমে যাবে। বহুলাংশ বলতে- সেটি কতো শতাংশ জানিনা। ধরে নিলাম, নব্বই শতাংশ কমে যাবে। বাকি দশ শতাংশ তো ধর্ষণ করবে। ভিক্টিমের অনুমতি নিয়ে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও হতে পারে কিংবা শিশু মেয়ে, বৃদ্ধা কিংবা বুরকা পরিহিতা মহিলাও ধর্ষিত হতে পারে। এই দশ শতাংশ বখাটে আর দুশ্চরিত্র ছেলেদের জন্য শাস্তি হিসাবে আছে বেত্রাঘাত (অবিবাহিত পুরুষ হলে) কিংবা পাথর মেরে হত্যার (একে রজম বলে। বিবাহিত পুরুষ হলে এটি প্রযোজ্য) বিধান। একই অপরাধ কোনো নারী করে থাকলে তারও একই শাস্তির বিধান। এখন একজন নারী তো আর একজন পুরুষকে ধর্ষণ করতে পারে না। আই মিন, করতে পারলেও সেটা ব্যতিক্রম। আর ব্যতিক্রম নিয়ে এখানে কথা বলা হবে না। তাহলে নারী যদি স্বেচ্ছায় কোনো পুরুষের সাথে সংগম করে, এবং সেটি প্রমাণিত হয়- তবে নারীর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। এই হলো সংক্ষেপে নারী পুরুষের ব্যাপারে ইসলামের বিধান।
.
এবার আসি, বর্তমান সময়ে ধর্ষণ নিয়ে অতি উৎসাহী নারীবাদী এবং এদের বন্ধুদের কথাবার্তাতে। স্বাভাবিকভাবে এই কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের অনেক তথাকথিত আলেম যখন মাহফিলে বয়ান করেন, তখন ইউফেমিজম ব্যবহার না করার কারণে এমনভাবে অনেক শব্দ চয়ন করে থাকেন, যার মাধ্যমে যেকারো মনে হতে পারে নারীকে ইসলামে অপমানিত করা হচ্ছে। এই দোষ পার্টিকুলার সেই আলেমকে দেওয়া যেতে পারে, এবং একজন আলেমের কোনটা ভুল আর কোনটা সঠিক- সেটি বোঝার জন্যেও আপনাকে মিনিমাম লেভেলে দ্বীনের জ্ঞানার্জন করতে হবে। সারাজীবন একোনমিক্স নিয়ে পড়াশুনা করে আসা লোকজন যদি পাওয়ার প্ল্যান্টের ডিজাইন করতে বসেন, তা যেমন শোভনীয় নয়। তেমন একজন আম ব্যক্তি হিসাবে আলেমের ভুল ধরতে গেলেও ব্যাপারটা লেজেগোবড়ে হয়ে যাবে। তো, নারীবাদীরা ঠিক এই জিনিসটাকেই মোক্ষম সুযোগ হিসাবে নিয়ে থাকেন। এদের সাথে জ্বালানি হিসাবে কাজ করে এদের মিডিয়াগুলো। সুরা ফাতিহা পড়তে না পারা লোকজনও আজকাল নির্দ্বিধায় বলে ফেলছে, ইসলামে কী আছে কী নেই। ইসলাম কতোটুকু আধুনিক ধর্ম এসব আজ তারা বয়ান করে বেড়াচ্ছেন। এরপরে ব্যাপার হলো, সেই ২০১৩ এর মতো ঘটনা; যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভগুলো একসাথে উগড়ে দেয়।
.
মেয়েদের পোষাককেই কেনো ধর্ষণের কারণ হিসাবে দেখা হবে, একজন মেয়ে রাত করে কেনো বাহিরে থাকতে পারবে না, একজন মেয়ের স্বাধীনভাবে চলাচলে কেনো হস্তক্ষেপ করা হবে ইত্যাদি ব্যাপারগুলো সামনে এনে ধর্ষণ আর এসব ঘটনাকে মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ হিসাবে দেখানোর একটা পাঁয়তারা করা হয়। ইসলামে কিন্তু কেবল একপেশে কাউকে দোষ দেওয়া হয়নি (সেকথা উপরে বলা আছে)। পাঁচ বছরের শিশু বা সত্তর বছরের বৃদ্ধা ধর্ষিত হলে তাঁদের পোষাকের দোষ কেনো আসবে- এটি হলো নারীবাদীদের উদাহরণ। অথচ, বারবার বলা হয়েছে যে, সেখানে নারীর পোষাকের চেয়েও বেশি ভূমিকা আছে ১) ধর্ষকের বিকৃত মানসিকতা এবং ২) বলিউড, নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে (এবং দেশীয় তথাকথিত সুশীল কবি-সাহিত্যিক এবং মিউজিশিয়ানদের যৌন সুড়সুড়িমূলক সাহিত্যকর্ম কিংবা গান) সমাজে হাইপারসেক্সুয়াল একটা জেনারেশানের। এবং শরীয়াহ অনুযায়ী এদের শাস্তি কত নির্মম সেটাও বলা আছে।
.
এতোকিছুর পরেও যখন কেউ বলছে যে নারীরা যা খুশি তা পরে বেরুতে পারে, তাতে পুরুষ কেনো তাকে উত্যক্ত করবে- তখন সেই ব্যাপারটি যতটুকু না নারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বলা, এর চেয়েও বেশি ইসলামের পর্দার যে মৌলিক বিধান সেটা খর্ব করতেই বলা। কারণ, আপনি মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে আপনাকে মেয়েদের অনেক ব্যাপার নিয়েই কথা বলা লাগবে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা মেয়েরা যেটা বাহিরে গিয়ে পোহায় সেটা হলো- পাবলিক টয়লেটের ঝামেলা। একজন ছেলে যেকোনো ভাবে এই প্রয়োজন সেরে নিতে পারলেও, একজন নারীর সেই সুযোগ নেই বা তা খুব সীমিত। একজন নারী বাহিরে গিয়ে কাজের প্রয়োজনে সালাত আদায় করতে চাইলে, তিনি তা পারছেন না। ঢাকা শহরে অল্প সুবিধা থাকলেও অন্যান্য শহরে তা কতোটা অপ্রতুল সেটা কারো অজানা নয়। এর পরে আছে, কর্পোরেট অফিসগুলো মেয়েদের নানা প্রকার হয়রানির শিকার হওয়ার ব্যাপার। সব মেয়ে স্বাবলম্বী হতে চাকুরী করতে যায় ব্যাপারটা এমন না। কাউকে নিতান্ত প্রয়োজনে পড়ে হলেও হালাল জীবিকা অন্বেষণে চাকুরী করতে হয়। তারা কর্মক্ষেত্রে যেসব নির্যাতনের শিকার হন, এসব নিয়ে ক’জন সিইও, সিএফও, জিএম এর শাস্তি আজ পর্যন্ত আমরা দেখেছি, আমরা ক’জন মন্ত্রী, আমলার শাস্তি দেখেছি, যারা কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজের কার্যালয়ে ডেকে এনে নারীদের শ্লীলতাহানি করেছেন দিনের পর দিন? অথচ প্রেস ক্লাবের সামনে স্লোগান দেওয়া নারীবাদীদের অধিকাংশই এসব হোমড়া-চোমড়াদের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন নতুবা মাস শেষে যে প্যাকেট আসে, সেটি আসা বন্ধ হয়ে যাবে।
.
যে ছেলে ক্লাসরুমে বা অফিসে তার ক্লাসমেইট বা অফিস কলিগ মেয়েটির নামে সস্তা কৌতুক করছে, সেও আজ ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে শামিল। এই দুশ্চরিত্র ছেলেদের কাহিনী অল্পবিস্তর তাদের পাশে থাকা মহিলারাও জানেন। এরপরেও এদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। এবং যথারীতি, সকল দোষ দাঁড়ি-টুপিওয়ালা লোকদের ঘাড়ে পড়ছে। হ্যাঁ, মাদ্রাসায় পেডোফাইল শিক্ষক আছেন। এটি শতভাগ সত্য। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী এদের জন্যেও বেত্রাঘাত বা রজমের শাস্তির বিধান আছে। আলেম হলেই যে তিনি শাস্তি থেকে বেঁচে যাবেন, ব্যাপারটি মোটেও তেমন নয়। এবার আপনি রেশিও হিসাব করুন। মাদ্রাসায় যেসব পেডোফাইলের কেইস পাওয়া যায়, তার সাথে অপর দিকে বাকি সমস্ত ধর্ষণের কেইসগুলো রাখুন। আরো রাখুন ইভ টিজিং, অনলাইন হ্যারেসমেন্ট ইত্যাদি। এবার দেখুন পাল্লাটি সেকুলারদের দিকে ভারী হচ্ছে কিনা?
.
একজন নারী হিসাবে আপনার চারপাশে এমন অনেক সেকুলার ছেলে পাবেন, যাদের ভাষ্য অনেকটা এমন, “একজন নারী যেহেতু পোষাক ঠিক রেখে রাস্তায় বেরোয় না, সুতরাং তাকে ধর্ষণ করা উচিৎ।” এই কথাগুলো অধিকাংশ সময় আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছেলেদের মুখেই শোনা যায়। কারণ, এরা এভাবেই ভাবতে পছন্দ করে। এই ধরণের কথা অন্তত একজন আলেমের মুখে শোনা যাবে না। একজন মাদ্রাসার ছাত্রের মুখে শোনা যাবে না। একজন সেকুলার লাইফ থেকে দ্বীনে আসা জেনারেল ছেলের মুখে শোনা যাবে না। হ্যাঁ, এখন অনেক ওয়াজ মাহফিলে তো হুজুররা এসব কথা বলছে। তাহলে সেটা নিয়ে কী বলবেন? সেটা নিয়ে কিছু বলার আগে আপনাকে দেখা লাগবে ১) কুর’আন-হাদীসে এই ধরণের কোনো কথা আছে কিনা- যেখানে স্পষ্ট লিখা আছে মেয়েদের পোষাক ঠিক না থাকলে তার সাথে অসদাচরণ করা যাবে কিংবা ২) আমাদের ক্লাসিক্যাল আলেম অর্থাৎ যারা সালাফদের যুগের এবং এর নিকটবর্তী সময়ে যেসব হকপন্থী আলেম ছিলেন তাদের কোনো কওল-এ এই ধরণের কথা আছে কিনা। বাজি ধরে বলতে পারি, সেখানে এমন কিছু পাবেন না। অতএব, বর্তমানে টাকালোভী কয়েকজন আলেম দিয়ে পূর্বের সমস্ত আলেম এবং উম্মাতের উত্তম চরিত্রের লোকদের ব্লেইম করা অত্যন্ত বোকামোর কাজ।
.
পুরুষ বা মহিলা কেউ কাউকে দোষারোপ না করে, যার যার জায়গা থেকে যার যার কাজ করে যেতে হবে। বাকি শাস্তির জন্যে শরীয়াহতে যেই পদ্ধতি আছে, তা পালন করতে হবে এবং তা জনসম্মুখে। সকলের সামনে যখন একজন ধর্ষক বা জিনা-ব্যভিচারীকে শাস্তি দেওয়া হবে, বাকিরা সেই কাজে এগোতে পারবে না। একই সাথে বন্ধ করতে হবে ট্রিলিয়ন ডলারের এই এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে শেখানো হচ্ছে পারস্পরিক সম্মতি যেকোনো সম্পর্কের মূল কথা। এবং সেই সম্পর্ক কোনোভাবে না টিকলে, তখন সহজেই ধর্ষণের মামলা করে দেওয়া যাচ্ছে উক্ত পুরুষের নামে। তখন কেউ বলছে না যে, গত কয়েকবছর তাদের যে সম্পর্ক ছিলো সেখানে মিউচুয়াল কনসেন্ট ছিলো। একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই সমস্ত কাজ করেছে। এসবের ফলে সবচাইতে বড়ো সমস্যা হচ্ছে, সেই র্যানডম মহিলার যিনি সত্যিই ধর্ষিত হয়েছেন, যেখানে সত্যিই তার কোনো দোষ ছিলো না। যেখানে কোনোভাবেই ব্যাপারটি সেই তথাকথির “মিউচুয়াল কনসেন্ট” এর মাধ্যমে হয়নি। কিন্তু আল্ট্রা ফেমিনিস্টদের অতীতের কর্মকান্ডের কারণে একজন সত্যিকারের ভিক্টিম মহিলা বিচার না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং বাকি পটেনশিয়াল ধর্ষকদের জন্যেও সামনে অপরাধের পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন।
- মিসবাহ মাহিন
Powered by Blogger.