মুসলিমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে কাফেররা শান্তি অবস্থান মেনে নিবে? বাস্তবতা কি বলে?

তথাকথিত শান্তিকামি কাফের ইউরোপ ও অতীতের আরবের মুশ্রিকদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা 


মুসলিম জাতী কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ যদি নাও করে তবুও এজাতীর উপর নানা বিপদ-আপদ, নির্যাতন নিপীড়ন নেমে আসবেই। এজাতীকে কোণঠাসা সিচুয়েশানে পড়তে হবেই ভাই। চিন্তা করুন সেই সময়টার কথা। সারা বিশ্বের সবচেয়ে এবং একমাত্র শান্তিকামী মানুষটার কথা, যাকে বিধর্মীরাও আল-আমিন অর্থাৎ বিশ্বাসী বলে ডাকতেন।

মক্কার কাফেরেরা যখন তাকে হত্যা করতে আসছিল তখনও তাদের গচ্ছিত আমানত তার হাতেই ছিল। জীবন বাঁচাতে পলায়নের সময় তিনি সেঘরে রেখে যান হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে, যাতে তিনি সেসব কাফিরদের তাদের ধন-সম্পদ ঠিকঠাক বুঝিয়ে দিতে পারেন। আপন শত্রুরাও যাকে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য, ন্যায়বিচারক ও সত্যবাদী বলে জানতেন, মানতেন এবং মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন সে মানুষটাকেও তারা হত্যাচেষ্টা থেকে পিছপা হয়নি শুধুমাত্র তার শান্তিপূর্ণ ইসলাম চর্চা ও তার প্রচার প্রসারের জেরে। অবিশ্বাসীরা কখনো চায়না, তাদের পাল্লা হালকা হোক। ঐ নবীর চাইতে শান্তিকামী, শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী এই দুনিয়ার জমিনে আর কেউ জন্ম নেয়নি, নিবেওনা। আমরাতো দুধভাত।

অতএব এসব তথাকথিত শান্তির বুলি আওড়িয়ে লাভ নাই ভাই। এ পৃথিবী সৃষ্টিই হইছে ধ্বংসের জন্য আর সেটা সেদিকে যাবেই। পৃথিবীর মানুষ যতই জ্ঞান-বিজ্ঞানে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নত আর সচেতন হোক না কেন, এই মানুষই এই পৃথিবীটাকে ধীরে ধীরে তার ধ্বংসের দ্বারপ্তান্তে নিয়ে যাবে। মানুষের উপরে মানুষের কর্তৃত্ব আর ক্ষমতার নোংরা চর্চা যুগেযুগে চলে আসছে, এবং চলবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার হই বা না হই। প্রতিবাদ করি বা না করি।


প্রতিবাদ করলেই যদি আমাদের উপর আসন্ন বিপদ নিয়ে আমরা শংকিত হই তাহলে সে যুক্তিতে আমাদের ৭১ এর যুদ্ধও অযৌক্তিক ছিলো। তৎকালীন পাকিস্তানের শক্তি সামর্থের তুলনায় আমাদের অবস্থান আদৌ কি ভালো ছিল? একবার ভাবুনতো, সেযুদ্ধে হারলে বাঙ্গালী জাতীকে কি অবস্থা করতো সভ্যতার নিকৃষ্ট কুকুর পাকিস্তানী সেনাবিহিনির হানাদারেরা!

সব অন্যায়, অত্যাচার আর নিপীড়নে চুপ থাকাটাই যদি শান্তির একমাত্র পন্থা হতো, তাহলে প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশটাকে আজ ফ্রান্সের পা চাটতে হতোনা। তাদের তাবেদারী করতে হতোনা। তাদের গোলাম হয়ে থাকতে হতোনা। পৃথিবী সভ্যতার এমন স্বর্ণযুগে এসেও আজকে আফ্রিকার জনগণ নিজেদের অর্থ নিজেদের সম্পদ নিজেরা ভোগ করতে পারেনা শুধুমাত্র প্রতিবাদহীন মিথ্যা এবং তথাকথিত শান্তি চুক্তির কারনে। চুক্তিতে তারা স্বাধীন হলেও ফ্রান্সের পালা গোলাম হয়েই জীবন কাটাতে হচ্ছে শুধুমাত্র স্বাধীনতা ছিনিয়ে না নেয়ার কারনে।


আমাদের অবস্থাও আজকে তাই হতো যদি একাত্তরে আমরা আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিনিয়ে না নিতাম। অথচ আজকে দেখুন, বৃটিশ-পাকিস্তান দ্বারা নির্যাতিত নিষ্পেষিত মানব সভ্যতা তাদের থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান, অর্থনীতি আর সামরিক শক্তিতে খুব একটা পিছিয়ে না। তখন যদি আমাদের এরূপ চিন্তা ভাবনা আসতো যে তাদের দয়ায় আমরা বাঁচি, আমাদের দেশ বাঁচে, বাঁচে আমাদের অর্থনীতি, তাহলে আজও আমরা বৃটিশ/পাকিস্তানের গোলাম হয়েই থাকতাম।
হামিদ হোসাইন আজাদ
২৯|১০|২০২০
Powered by Blogger.