রাসূল অবমাননায় মুসলিম নামধারী সেলিব্রেটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবস্থান

ফ্রান্স রাষ্ট্রর শয়তানি এবং তথাকথিত  মুসলিম নামধারী সেলিব্রেটিদের নীরব অবস্থান

 রাসূল অবমাননায় মুসলিম নামধারী সেলিব্রেটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবস্থান

আমাদের কাছে একটা ব্যাপার খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সেটা হল, ইসলাম সংশ্লিষ্ট যেকোন ইস্যুতে কেবল হুজুর আর ইসলামী দলগুলোই সরব হবে। বাকি সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সেলিব্রেটিরা চুপ থাকবে। পারলে ইসলামিস্টদের বিরোধিতা করবে।

এই বিষয়টা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট একটা বার্তা দিচ্ছে। রাজৈতিক পরিচয় ও জনপ্রিয়তা আজকে ধর্মের স্থান দখল করে আছে। ফলে ইসলাম দিয়ে আমরা রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পপুলারিজমকে যাচাই করে দেখছি না। কিন্তু এই দুই পরিচয় দিয়ে ইসলামকে ঠিকই উপেক্ষা করে যাচ্ছি।



রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননায় ব্যথিত হওয়া প্রতিটি মুসলিমের ঈমানের আলামত এবং এর বিরুদ্ধ নিজের সর্বোচ্চ প্রতিবাদটুকু করা হল ঈমানি দায়িত্ব। এই জায়গাটাতে যদি অন্যকোন পরিচয় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তবে বুঝতে হবে এই পরিচয়টাকে আমি ধর্মের অথোরিটি প্রদান করে ফেলছি। আওয়ামীলীগের কয়জন নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করেছে ? বিএনপির কয়জন নেতা প্রতিবাদ জানিয়েছে? আয়মান সাদিকদের মত কতজন পাবলিক ফিগার এর নিন্দা জানিয়েছে?

আজকে যদি কোন রাষ্ট্র শেখ মুজিব সাহেবকে অবমাননার আয়োজন করত, তাহলে দেখা যেত আওয়ামী নেতৃবৃন্দের প্রতিবাদকর্ম! আজকে যদি জিয়াকে নিয়ে কোন রাষ্ট্র ব্যঙ্গাত্মক উৎসবে মেতে উঠত, তাহলে দেখতেন বিএনপি ওয়ালাদের তামাশা! কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি যে, কিছু পাবলিক ফিগারের আপত্তিকর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ করায় তারা কিভাবে ফুসলে উঠেছিল এবং রেসপন্স করেছিল। আপনি যেকোন পাবলিক ফিগারকে একটু সমালোচনা করে দেখেন, তার পক্ষ থেকে কী রেসপন্স আসে!

কিন্তু পুরো একটা দেশের সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে শুধু সমালোচনাই নয়; বরং ব্যঙ্গাত্মক চিত্র প্রদর্শন করছে। কিন্তু তাদের কোন রেসপন্স নেই। তারমানে রাসূলের মর্যাদা আমাদের নিজেদের থেকেও কম হয়ে গেল? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন, আমাদের আত্মীয়স্বজন, ধনসম্পদ এবং আপন প্রাণের চেয়েও যদি রাসূলকে বেশি ভালবাসতে না পারি, তবে আমরা মুমিন হতে পারব না।

কী করা উচিৎ আর কী করা উচিৎ না- এই বিষয়টা আমরা গ্রহণ করছি আমাদের রাজনৈতিক পরিচয়, পপুলারিটি এবং দেশীয় আইন থেকে। একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর দেয়া শরীয়তকে আমরা এক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করছি। এটাই সেকুলারিজম, এটাই দ্বীনহীনতা। এটাই লিবারেলিজম, এটাই প্রবৃত্তিকে ইলাহ হিসেবে মেনে নেয়া। মনে রাখা চাই, আল্লাহর শরীয়তের উপর আদর্শিকভাবে যেই বিষয়টাকেই আমরা প্রাধান্য দিব, সেটাই কুফুর। সেটাই রিদ্দাহ।
- Iftekhar Sifat




বিচ্ছিন্ন কয়েকটা তথ্য।
১। বাংলাদেশ এবং আলজেরিয়ার হ্যাকাররা ফ্রান্সের বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইটে সাইবার অ্যাটাক করেছে।
.
২। ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে নবী ﷺ-এর অবমাননার প্রতিবাদে রাজধানীতে গতকাল বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এখনো পর্যন্ত এ ইস্যুতে রাজধানীতে কর্মসূচী পালন করা একমাত্র ইসলামী দল শিবির।
.
৩। মেইনস্ট্রিম পলিটিকাল লোকজনের মধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের রাশেদ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। আর কারো বক্তব্য আমার চোখে পড়েনি।
.
৪। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছে ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট ম্যাখোর মানসিক পরীক্ষা করা দরকার। এ কথা বলার কারণে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে তুরস্ক থেকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সম্ভবত ফ্রেঞ্চদের কাছে মনে হয়েছে এতে তাদের নেতা আর রাষ্ট্রের অবমাননা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে নবী ﷺ-এর অবমাননা করার পরও কোন মুসলিম দেশ ফ্রান্স থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে কিংবা কোন মুসলিম দেশ ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ধমক দিয়েছে বলে এখনো জানা যায়নি। কাফিরের গ্বাইরত দেখুন। মুমিনের অবস্থা দেখুন।
- Asif Adnan

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেছেন। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক শাস্তি।
[সূরা আহযাব : ৫৭]


আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম কারী ছিলেন না; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।
[সূরা আল আনকাবূত : ৪০]
(Golam Rabbii ভাই এর ওয়াল থেকে)


Powered by Blogger.