ভণ্ড সুশীল সেকুলারদের ফাঁদে পা দিবেন না। মুনাফিক মোডারেট সেকুলারদের ইসলাম নিয়েই চুল্কানি

 সেকুল্যারদের ফাঁদে পা দিবেন না ঃ RealityCheckBd



কালিমাখচিত পতাকা নিয়ে সেকুল্যারদের চুলকানি উঠবেই। এটা ওঠা স্বাভাবিক। তবে ভাই, এটা নিয়ে রাসূলপ্রেমী মুসলিমদের মাথা ঘামানো যাবেনা। এটা একটা ফাঁদ। 

সেকুল্যাররা কয়েকদিন ধরে ব্যাকফুটে আছে। ওরা ভেবেছিল যে শাপলার পর আর কখনো ইসলামের কোনো ইস্যুতে মুসলিমরা রাজপথে নামার সাহস করবে না। কিন্তু ওদের সব সমীকরণ উলটে দিয়ে হাজার হাজার নবী প্রেমিক জনতা রাজপথে নেমেছে। তাদের আশাভঙ্গ হয়েছে।

এমনিতে আগে থেকেই অনলাইনে তারা ব্যাকফুটে আছে। সর্বাত্মকভাবে তারা চেষ্টা চালিয়েছিল বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ করে ৯০’স কিডদের ইসলাম থেকে দূরে সরাতে চেয়েছিল। কোনোধরণের পদ্ধতিই তারা বাকী রাখেনি। আইটেম সং, ওয়েব সিরিজ, পর্ণ, মাদক তুলে দিয়েছে তরুণ প্রজন্মের হাতে। বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক মিলন, প্রেম সবকিছুর সবক দিয়েছে। জাফর স্যারেরা চেতনার সবক গিলিয়েছেন। 

আয়মান সাদিক গ্যাং থেকে শুরু করে সালমান মুক্তাদির বা তাহসীনেশানকে… কৌশলে বা খোলাখুলিভাবে প্রজন্মকে অসুস্থ বানানোর ক্যাম্পেইন করতে দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো গ্যাং সুশীলতা শিখিয়েছে। ৭১ টিভি ডিবিসি নিউস ইত্যাদি মিডিয়া ইসলামকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করেছে। 

পাঠ্যপুস্তক থেকেও ইসলাম ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতোকিছু করার পর তারা ভেবেছিল এই প্রজন্মকে বোধহয় ধর্মহীন করা গিয়েছে। পুরোপুরি নিশ্চিত তারা অবশ্য কখনোই হতে পারেনি। মাঝে মধ্যেই সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে- ঢাবি শিক্ষকের সালাম দেওয়া নিয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশের মতো ঘটনাগুলো থেকে। তবে এই ফ্রান্স ইস্যুতে অনলাইনে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ সেকুল্যারদের একবারে শেষ ধাক্কা দিয়েছে।

এই প্রজন্মকে নিয়ে তারা কত স্বপ্ন দেখেছে! মাথা খাটিয়ে, ইউরোপ আমেরিকা থেকে পাওয়া কত কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। কিন্তু আজ তারা দেখছে তাদের সব পরিশ্রম একেবারে পন্ডশ্রম হয়ে গিয়েছে। 

তাদের স্বপ্নের প্রজেক্ট আজ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে যাদেরকে নিয়ে তারা বাংলাদেশকে ধর্মহীন নাস্তিক রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছিল তারা কীভাবে রাসূলের সম্মানের জন্য উঠে দাঁড়াচ্ছে। পাবলিকের হাতে ভার্চুয়াল ধোলাই খাবার ভয়ে তাই তেমন কিছু বলতেও পারছেনা। 

ভেতরের একটা ক্রোধ তাদের মধ্যে কাজ করছে। আর সেটা বাস্তবায়ন করার সুযোগ তারা পাচ্ছেনা। তাই বিভিন্ন তুচ্ছ জিনিস সামনে নিয়ে এসে আন্দোলনকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে। কালিমাখচিত নবীর পতাকার আদলে বানানো পতাকা নিয়ে নিউস করা হয়েছে ঠিক এজন্যেই। এখন বল আমাদের কোর্টে। সেকুল্যাররা অস্বস্তিতে আছে। 

কিন্তু আপনি যখনই কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে কথা বলা শুরু করবেন মানে সেকুল্যারদের নিকট এপোলজি দিতে যাবেন তখনই বল ওদের কোর্টে চলে যাবে। ওরা এটাকে টেনে নিয়ে অন্য দিকে চলে যাবে। 

মাঝখান থেকে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট ইস্যুটা হারিয়ে যেতে পারে। বা দুরবল হয়ে যেতে পারে আন্দোলন। 
তাই, ওরা কথা বলছে বলুক, আমরা কেউ পাত্তা দিব না। এতে তাদের মধ্যে হতাশা ক্রোধ আরো বেড়ে যাবে। 


আর একটি কথা- অল্পকয়েকদিনের ভেতরেই অন্য কোনো হট ইস্যু চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান। এটাও করা হবে মনোযোগ ঘোরানোর জন্য। রানা প্লাজা ট্রাজেডির সময় যেমন রেশমা ইস্যু এনে মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো হয়েছিল তেমন। তাই যতই হট ইস্যু আনা হোকনা কেন, ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের আন্দোলন থেকে পিছু হটা যাবেনা। 
সেকুল্যারদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবেনা।
Powered by Blogger.