রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতি চিরন্তন বিদ্বেষ - শত বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে দখলদারিত্ব আর নির্যাতন চালিয়ে আসছে ফ্রান্স

কারা দায়ি? কে শুরু করছে প্রথমে? মরে মুসলিম অপমানিত মুসলিম আবার দোষ ও মুসলিমের?  

যারা এ ঘটনার জন্য শিশানী ভাইকে দায়ী করে তাদের জন্য - 

টাইমলাইন দেখুন -

২০০৪ এর অগাস্টে নেদারল্যান্ডের পরিচালক থিও ভ্যান গ' এর বানানো শর্টফিল্মে কুরআন অবমাননা করা হয়। এটার স্ক্রিপ লিখেছিল, সোমালি মুরতাদ আয়ান হিরশ আলি।
নভেম্বরে মুহাম্মাদ বুইয়েরি নামের মুসলিম ভ্যান গগকে হত্যা করে।

২০০৫ সেপ্টেম্বর - ডেনমার্কে পত্রিকায় রাসূলুল্লাহ ﷺ কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশ

২০০৫ অক্টোবর - ডেনমার্কে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল

২০০৫ অক্টোবর - দশটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করে, যাতে প্রধানমন্ত্রী ইসলাম ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননার সাথে ড্যানিশ সরকারের দূরত্বের ঘোষণা দেয়। ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতদের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করে।

২০০৫ অক্টোবর - মুসলিমরা কার্টুন প্রকাশকারী পত্রিকার বিরুদ্ধে ড্যানিশ পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পরে নাকচ করে দেয়া হয়।

২০০৫ নভেম্বর - জার্মান ও বসনিয়ান পত্রিকায় কার্টুন প্রকাশ। বাংলাদেশ সরকার ড্যানিশ দূতাবাসের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়।

২০০৫ ডিসেম্বর - ২২ জন ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত, মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে দেখা না করার জন্য ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে। আরব লীগের যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে ড্যানিশ সরকারের সমালোচনা করে।

২০০৬ জানুয়ারি - নরওয়ে, সুইডেন, কার্টুন পুনঃপ্রকাশিত হয়। সৌদি আরব নিন্দা জানায়। ডেনমার্ক থেকে সৌদি সরকার তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে। সৌদি ও কুয়েতে ড্যানিশ পণ্য বয়কট শুরু। লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, বাহরাইনে বিক্ষোভ। ড্যানিশ সরকার মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার কারণে দুঃখপ্রকাশ করে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ড্যানিশ পণ্য বয়কটের নিন্দা করে। একে আন্তর্জাতিক বানিজ্যের লঙ্ঘন বলে।

২০০৬ ফেব্রুয়ারি - ফ্রান্সের একটি পত্রিকায় কার্টুনগুলো প্রকাশ করা হয়। এই পত্রিকা নিজেরা একটি কার্টুন যুক্ত করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মাঝে আমেরিকা, ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, স্পেন, মেক্সিকো, ইটালি, ভারত, হন্সডূরাস, কোস্টারিকা, বেলজিয়াম, কানাডা, নিউযিল্যান্ড, পোল্যান্ড, প্যারাগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন মাত্রায় কার্টুন পুনঃপ্রকাশিত হয়।
বিভিন্ন দেশে ড্যানিশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ।
শার্লি এবদো পত্রিকা কার্টুনগুলো প্রকাশ করে, নিজেদের পক্ষ থেকে একটি যোগ করে।
এগুলো ২০০৬ এর ঘটনা 

শার্লি এবদোতে আক্রমন হয়েছে কখন?
২০১৫তে। আক্রমনের পর ৫ বছর ওরা চুপ ছিল। ২০২০ এ তারা আবার কার্টুন প্রকাশের তোরজোর শুরু করে। আর তাদের সবরকমের সমর্থন দেয় ফ্রেঞ্চ সরকার।

যারা বর্তমান অবস্থার জন্য মুসলিমদের দায়ী করতে চায় সেই প্রতিবন্ধীদের প্রশ্ন করুন। কোন আক্রমনের কারণে ইউরোপ ইসলাম অবমাননা শুরু করেছিল?

তারা কি না জেনে কথা বলে, নাকি জেনেবুঝে মিথ্যা বলে?
-Asif Adnan


রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতি চিরন্তন বিদ্বেষ - শত বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে দখলদারিত্ব আর নির্যাতন চালিয়ে আসছে ফ্রান্স
.
ফ্রান্স বাকস্বাধীনতা আর স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সমর্থন করার বলে। মানবাধিকারের কথা বলে। এগুলোর পক্ষে লড়াই করার কথা বলে। পরমতসহিষ্ণুতার কথা বলে। কিন্তু নিজেদের সেক্যুলার আদর্শকে আগ্রাসীভাবে, অস্ত্রের জোরে চাপিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ফ্রান্স বরাবরই বাকি সবার চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর সেক্যুলারিসম চাপিয়ে দেয়ার জন্য শত বছরের বেশি সময় ধরে জঘন্য আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ফ্রান্স।

.

আলজেরিয়াতে এই খুনী, নাস্তিক, ফ্রেঞ্চ বাহিনীর হাতে ১৮৩০ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫ মিলিয়নের মতো মুসলিম। পঞ্চাশ লক্ষ!। নিচের ভিডিও দুটো থেকে ফ্রেঞ্চ কুকুরদের নৃশংসতা এবং মুসলিমদের প্রতি ঘৃণার কিছু নমুনা দেখতে পাবেন

১। https://tinyurl.com/y4an2vx2
২। https://tinyurl.com/y58xwkrc
৩। ফেইসবুক লিঙ্ক - https://tinyurl.com/y63m637p
.
ওরা ধর্মনিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা আর মুক্তি নামের মূর্তির পূজা করার দাবি করে। কিন্তু আলজেরিয়া আর উত্তর আফ্রিকাতে যখন ওরা ঔপনিবেশিক লুটপাট চালাচ্ছিল তখন অনর্থক হয়ে গিয়েছিল এসব বুলি। তখন এসব মূর্তির কথা ওরা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল।
.
কী! মুসলিমরা স্বাধীনতা আর ফ্রেঞ্চ গণতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে? এতো বড় দুঃসাহস! বুকের মধ্যে বেয়োনেট আর মাথার মধ্যে একটা বুলেট ঢুকিয়ে দাও। আর ওদের পরিবারের মেয়েদের ফ্রেঞ্চ সেনাদের জন্য যৌনদাসীতে পরিণত করো! এটাই ওদের উপযুক্ত পাওনা! ফ্রান্সের আনা গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা প্রত্যাখ্যান করে! কতো বড় সাহস! এটাই ওদের দাওয়াই।
.
কী! মুসলিমদের নারীরা পর্দা করে? আমরা হিজাব আর নিক্বাব অবৈধ ঘোষণা করে আমাদের দখলদারিত্বের ইতিহাস মুসলিম মনে করিয়ে দেবো। আমরা মুসলিমদের মনে করিয়ে দেবো, কীভাবে মুসলিম নারীদের “উন্মুক্ত”করে দেবার এক অবিরাম, কামুক বাসনা নিয়ে আমরা; সভ্য ফরাসীরা ঝাপিয়ে পড়েছিলাম আলজেরিয়ানদের ওপর। মুসলিম নারীর পর্দা পরিণত হয়েছিল আমাদের অবদমিত কামনাবাসনা, লালসা আর ফ্যান্টাসির কেন্দ্রবিন্দুতে
.
ঔপনিবেশিকতা বিরোধী বুদ্ধিজীবী, এবং আজন্মের দেশপ্রেমিক ফ্রেঞ্চ নাগরিক ফ্রাঞ্জ ফ্যানোঁ আলজেরিয়াতে ফ্রান্সের পলিসির বর্ণনা দিয়েছিল এই বলে -
.
“যদি আমরা আলজেরিয়ান সমাজ কাঠামোকে গুঁড়িয়ে দিতে চাই, গুঁড়িয়ে দিতে চাই এর প্রতিরোধের সক্ষমতাকে, তবে অবশ্যই আমাদেরকে সবার আগে জয় করে নিতে হবে তাদের নারীদের। আমাদেরকে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে পর্দার আড়াল থেকে যেখানে তারা নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং সেই ঘরের ভেতর থেকে যেখানে তাদের পুরুষরা তাদেরকে দৃষ্টির আড়াল করে রাখে।”



.
এগুলো শুধু একটা ভূখন্ডে ফ্রান্সের সীমালঙ্ঘনের অল্প কিছু নমুনা। তাদের কুকর্মের ফিরিস্তি আরো অনেক, অনেক লম্বা। ফ্রান্সের অগণিত অপরাধের মধ্য থেকে আরেকটার কথা এখানে বলা যেতে পারে। ১৯৪৪ সালে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যানারে সেনেগালে কয়েকশো কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানকে নির্মমভাবে খুন করেছে এই ফ্রান্স। পশ্চিমের বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিম নাগরিকদের খুন করে চলা ফ্রেঞ্চ জেটের গর্জন আর বোমাবর্ষণের আওয়াজের কথাই বা ভুলি কী করে?
.
ফ্রান্স আজ দাবি করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অবমাননা করতে দেয়ার অধিকার সমুন্নত রেখে ওরা নাকি স্বাধীনতা রক্ষা করছে। কিন্তু বাকস্বাধীনতার গল্প বলা ফ্রান্সে জাতীয় পতাকার অবমাননা করা, ইহুদীবাদের বিরুদ্ধে বলা কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হলোকাস্টের ব্যাপারে ‘সরকারী তথ্য’-এর বাইরে অন্য কিছু বলা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ! এ কেমনতরো বাকস্বাধীনতা? এই বাস্তবতা তাদের মুখের দাবির সাথে একেবারেই বেমানান। ফ্রেঞ্চ সরকার, দেশপ্রেমিক ফ্রেঞ্চ নাগরিক, সরকারকে সমর্থন করা ফ্রেঞ্চ – সবাই একেকটা ভন্ড, প্রতারক আর মিথ্যাবাদী।
.
আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর সম্মান কিয়ামত পর্যন্ত ঐসব লোকের গলায় অবিনাশী, শক্ত কাঁটার মতো বিঁধে থাকবে যারা তাঁর অবমাননা করা দুঃসাহস দেখায়।
#BoycottFrance
#OurProphetOurHonour

মূল – দা মুসলিম রিয়ালিস্ট

Asif Adnan




অপেক্ষা সেই দিবসের যেদিন ধ্বংস হবে এই জালিমদের,হতেই হবে। যেমন ধ্বংস হয়েছে নমরূদ কিংবা ফেরআউনের।

- আশফিকা নওশিন


শৈশবটা আমার রাসূলের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গল্প শুনে কাটেনি যেমনটা নিজ সন্তানের বেলায় নিয়্যাত করেছি।
তবে যখনই ক্ষমা করবার কথা উঠতো, তখনই মনে পড়তো বুড়ির সেই পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখার গল্পটা।
মাঠে খেলতে যেতাম যাদের সাথে, তার মধ্যে একদল থাকতো শত্রু। খেলা শেষ হতো কিন্তু শত্রুতা শেষ হতো না। এর মধ্যে কেউ ব্যথা পেলে এগিয়ে যেতে চাইতাম না মোটেও। কিন্তু যখন বুড়ির সেবা করার গল্পটা মাথায় আসতো, স্যান্ডেল হাতে নিয়ে দৌঁড়ে ওর কাছে যেতাম।
ছোট মানুষ, দ্বীনের গন্ডির বাইরে। আমি শুধু জানতাম আমাদের ইসলামে একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি খুবই ভালো সবাইকে ভালোবাসতেন,আমাদের মুসলিম করিয়েছেন। শাফায়েত জিনিসটা মোটেই বুঝতাম না, তবে এটুকু বুঝতাম দেখাদেখি করে হোমওয়ার্ক কম্প্লিট করলেও জাহান্নামে যাবোনা। ঐ মানুষটা সাথে করে জান্নাতে নিয়ে যাবেন।
আস্তে আস্তে বড় হলাম।জানতে পারলাম শুধু ইসলাম নয়, পুরো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কোরআন শিখতে গিয়ে দরূদ মুখস্ত হলো, এই দরূদ ৫ওয়াক্ত সালাতের সাথেই শুধু পড়তাম।১০বছর বয়স, ভাব-মূলভাব-অর্থ-কারন কিছু না জেনেই পড়তাম। আয়াতুল কুরসী মুখস্থ হয়না কোনোভাবেই, ভয় পেলেই এই দরূদে ইবরাহীম আর সূরা ফাতিহা পড়তাম।
এরপর? আরো বড় হয়ে জানলাম সহীহ্ হাদিসে এই বুড়ির কাঁটা বিছানো নিয়ে কোনো গল্পই আসেনি। তবে কি সে ভুল মানুষ!!
না, জানলাম আরো হৃদয় বিদারক গল্প যা অন্তরকে ছিঁড়ে ফেলে। কলিজাকে ঝলসে দেয়। কেমন ছিলেন তিনি! যারা সীরাত শুনিনি কখনো বৃথা আমাদের শ্রবণশক্তি, যারা সীরাত পড়িনি কখনো বৃথা আমাদের দৃষ্টি শক্তি,জ্ঞানশক্তি।
ওরে ইনি সেই মানুষ, যিনি স্কুলের হোমওয়ার্ক দেখে কম্প্লিট করলেও আপনার আমার হাতটা ধরবে জান্নাতে নিয়ে যাবার জন্য।
ও ভাই এ তো সেই মানুষ, যিনি অবুঝ শিশুর মতো কাঁদতে থাকবেন সেদিন ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি বলে। ঐদিন কিভাবে তাঁর সামনে দাঁড়াবো!
আপনাকে আজ খুব মনে পড়ছে হে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ অন্তর তো আপনার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে এদিক সেদিকে। আপনি থাকলে পারতেন শান্ত করতে। আমরা জানি আপনার সম্মান, সেই সম্মান কোনো কাফেরের বিদ্রুপে ক্ষয়ে যাবে না বিন্দু পরিমাণও। কিন্তু মন তো মানেনা!!
আল্লাহ আজ্জাওয়াজাল কতটা ধৈর্য্যশীল আজও কি প্রমাণ পাওনি তোমরা! দেখ মুহূর্তেই পারে তোমাদের মতো কাফেরকে শেষ করে দিতে৷ কিন্তু, আজ তার মোস্তফাকে (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনভাবে কটাক্ষ করছো দেখেও চুপ আছেন।
এইতো আর ক'টা দিন, একে একে মরবে সে অপেক্ষায় আমি আমরা সবাই। অপেক্ষা সেই দিবসের যেদিন ধ্বংস হবে এই জালিমদের,হতেই হবে। যেমন ধ্বংস হয়েছে নমরূদ কিংবা ফেরআউনের।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 🖤
Powered by Blogger.