ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি এবং জিনাকে সহজ করার পরিনাম

বিয়ে কঠিন কিন্তু জিনা(প্রেম) আর ধর্ষণ সহজ ঃ ইসলামে জিনার শাস্তি কি?   

ধর্ষণ নারীর অসম্মতিতে পুরুষের প্রচণ্ড চাপের কারণে হয়। নারী মাজলুমা, পুরুষ জালিম। এক্ষেত্রে নারী দায়মুক্তি পান। আল্লাহর রাসূল ﷺ এমন ধর্ষিতাকে দায়মুক্তি দিয়েছেন। শাস্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন ধর্ষকের ওপর।

জেনা হয় নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে। সঙ্গমকালীন তারা উভয়েই থাকে সক্রিয়, আন্দোলিত এবং শিহরিত। দুজনই মাঠ কাঁপানো খেলোয়াড়। এক্ষেত্রে দুজনই শাস্তির আওতাধীন হবে। কারোর প্রতি শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।


নির্মম সত্য হচ্ছে, বর্তমানে আমরা ধর্ষকদের প্রতি যতোটা ক্ষিপ্ত ঠিক ততোটা কোমল জেনাকার এবং জেনাকারিনীর প্রতি। জনতার বিরাট যে অংশটা আজকাল ধর্ষণের শাস্তি চাচ্ছে ঠিক তারাই পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া রতিক্রিয়াকে কোনো-না-কোনোভাবে প্রমোট করছে। লিভ টুগেদারকে আধুনিকতার অবদান ভাবছে। ধর্ষণ অন্যায় হলে জেনা কেন অন্যায় হবে না—এই প্রশ্নের উত্তরে তারা যা বলবে তা ঈমান বিধ্বংসী। এমন বিধ্বস্ত ঈমানদারদের জন্য জনপদ শান্তিময় হয় না। হিংস্র-উচ্ছৃঙ্খল পশুদের বন কখনো নিরাপদ হতে পারে না।


পরিবারগুলো অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে তাদের ছেলেকে দেখলে 'জাত গেল জাত গেল' বলে আর্তচিৎকার করলেও ভাবীর সাথে দেবরকে বেড়াতে পাঠিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ব্যতিক্রম খুবই কম।


বোন তার কুমারী বোনকে নিজের স্বামীর সাথে বাধাহীন কানেক্টেড থাকতে যতরকম সহযোগিতা লাগে, করে। দুলাভাই শালিকে নিয়ে মজা-মাস্তি করে। তখন পরিবার একটুও আপত্তি করে না। অথচ সেই দুলাভাইয়ের মোবাইলে অপরিচিত নারীকন্ঠ বেজে উঠলেই আগুন জ্বলে।


এই সমাজ অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে তাদের ছেলে সদস্যকে দেখলে মাথায় হাত রেখে জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলে, "জানোয়ারটা করছে কি!" অথচ তারাই চাচাতো বোনের সাথে জেঠাতো ভাইয়ের রসায়নকে পারিবারিক সম্প্রীতির লক্ষণ মনে করে তুষ্ট হয়।


এই রাষ্ট্র ১৩ বছর বয়সের আগে বিবাহিতা স্ত্রীর সাথে স্বামীর সহবাসকে ধর্ষণ বললেও ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সাথে ১৫ বছর বয়সী ছেলের প্রেমকে সাধুবাদ জানায়। বাল্যবিবাহকে হারাম ফতোয়া দিয়ে বাল্য প্রেমখেলাকে জায়েজ করে।


যে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র জেনাকে নরমালাইজ করে সেই পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে অস্থিরতা বিরাজ করবেই। ধ্বংস ধেয়ে আসা তো খুব মামুলি ব্যাপার। ধর্ষণ হচ্ছে জেনার এক্সট্রিম এপিসোড।


নেশাখোররা প্রাথমিক অবস্থায় গোপনে নেশা করে। যখন তারা ক্রমিক নেশাখোর হয়ে যায়, সে অবস্থায় যদি নেশার উপাদান ক্রয় করতে তারা অপারগ হয়, তখন তারা কাছে যা পায় তাই বিক্রি করে। কিছু না থাকলে চুরি করে। চুরির সুযোগ না থাকলে ডাকাতি করে। যে করেই হোক তারা নেশার খোরাক কেনে। ঠিক তেমনি ধীরেধীরে অবাধ যৌনতার নেশায় যারা নেশাগ্রস্ত হয় তখন তারা এক্সট্রিম হয়ে যায়। 


সহজে পেলে তো ভালোই, না পেলে জোর করে হলেও কার্যসিদ্ধি করে। ধর্ষক একদিনে তৈরি হয় না। ধর্ষক তৈরি হয় অনেক ধাপ পেরিয়ে। সেই ধাপগুলোতে আমরাই তাদেরকে সাহায্য করি। প্রশিক্ষণ দিই। দক্ষ করে তুলি। সুতরাং বিচার তাদের সাথেসাথে আমাদেরও হতে হবে। পরিবারের হতে হবে। সমাজের হতে হবে। রাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হবে। এই দায় সবার।


প্রোফাইল পিকচার ব্লাক কালার দিয়ে মোটেও লাভ হবে না। এসব ছেলেমির কোনো মানে হয় না। বরঞ্চ, প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসা মানবিক বিপর্যয়ের ঘোর আঁধারে ঢেকে যাবে পুরো জীবন। তখন সর্ষে ফুলও দেখা যাবে না। অনুতপ্ত এবং অনন্য ক্ষমাপ্রার্থী না হলে ধ্বংস অনিবার্য। আজ অথবা কাল।


রাসূল ﷺ-এর যুগে জনৈক পুরুষ ধর্ষণ করেছিল। তিনি আবার রাসূল ﷺ-এর কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছিলেন। শুধু স্বীকারেই ক্ষান্ত থাকেননি, রাতদিন এমন তাওবাই করেছিলেন যা পুরো মদীনাবাসীর জন্য যথেষ্ট ছিল।


এমন তাওবাহর প্রতি ধর্ষকদেরকে ধাবিত করতে পারলেই এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণ সম্ভব।

ইয়া আইয়ুহাল উম্মাহ! ইত্তাকুল্লাহ! ইত্তাকুল্লাহ

- Nazrul Islam 


Powered by Blogger.