শুদ্ধভাবে সালাম দেওয়া জঙ্গিবাদের লক্ষন বলা মানুষ ঢাবির শিক্ষক হয় কোন যোগ্যতায় ?

 তো আপনারা কি ভাবসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষকই সুস্থ, এবং তারা জাতির বিবেক??

কলোনাইজড রাষ্ট্রগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার একটা মৌলিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই শিক্ষাব্যবস্থা কিছু লোকাল মিডল ক্লাস বাবু ও হাই ক্লাস জমিদার তৈরি করে। এইসব বাবুরাও কমবেশি ওয়ান্নাবি জমিদার টাইপ হয়। সুযোগের অভাবে এরা একেকজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হইতে পারে না আর কি।

ছবিঃ ImanBd.Com (Google Image) 


এই মিডল ক্লাস বাবু ও হাই ক্লাস জমিদার উভয় শ্রেনীর বৈশিষ্ট্য হইতেসে, এরা কেবলমাত্র সাদা চামড়াকেই মানুষের চামড়া এবং সাদাদের (অপ) সভ্যতাকেই একমাত্র সভ্যতা মনে করে। এরা আরও মনে করে, ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্টের আগে জগত ছিল আন্ধার। 


ইউরোপিয়ান এনলাইটেনমেন্ট জগতের বর্বর মানুষদের আলো চিনাইসে। বাস্তবে, এদের কাছে জগত বলতে বুঝায় ইউরোপ। ইউরোপ এনলাইটেনমেন্টেরআগে আন্ধার ছিল এইটাও আসলে ইউরোপিয়ান লিবারেল প্যাগানিস্ট-স্যাটানিস্টদের বয়ান। আমরা তালাশ করলে দেখতে পাবো, হাই মিডল এইজে ইউরোপের বেশ কিছু অঞ্চলে জ্ঞান বিজ্ঞানের বেশ ভাল চর্চা হইসে, কারন সেই সময় তারা আন্দালুসকে ফলো করার চেষ্টা করতো।

 
ইভেন, ইউরোপ বলতে কি বুঝায় এইটাও যদি এইসব ওয়ান্নাবি জমিদারদের আপনি জিগান, এরা বলতে পারবে না। 


তাপমাত্রা কইমা যাওয়া, চার্চ ও কাইজারের দ্বন্দ এবং এই সংক্রান্ত আরো কিছু সমস্যার কারনে, হাই মিডল এইজের ইউরোপের উত্থানটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যাই হোক, সেইসব নিয়া আলাপ করতে গেলে লেইখা কুলান যাবে না। আমরা ছিলাম এই ওয়ান্নাবি জমিদারদের আলোচনায়।


এই ওয়ান্নাবি জমিদাররা একমাত্র সভ্যতা বলতে বুঝে এনলাইটেনমেন্ট পরবর্তী ইউরোপিয়ান সভ্যতা, সাদা মানুষের সভ্যতা। এই সভ্যতা আবার বাকি সমস্ত সভ্যতারে মনে করে বর্বরতা। তাই, ইসেনশিয়ালি এইটা হইতেসে একটা রেইসিস্ট সভ্যতা। এর ফলোয়াররাও তাই হয় রেইসিস্ট কিসিমের, তাতে নিজের রেইস যাই হোক না কেন। মাল্টিকালচারালিজম, প্লুরালিজমের ভড়ং কইরা একটা পাগড়ী বা জুব্বাকে সহ্য করতে না পারা হইতেসে এই ধরনের ওয়েস্টক্সিফিকেশানের লক্ষণ।


ঢাবি না শুধু, গোটা তৃতীয় বিশ্বের তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কমবেশি এই ধরনের মানুষই তৈরি করে। এরা নিজেরা চাষীদের টাকায় পড়ালেখা কইরা মানুষরে চাষা কইয়া গাইল দিতে ভালোবাসে।


এই ধরনের মানুষদের মধ্যে সবচাইতে রটেন টোম্যাটোগুলার একাংশ এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার হয়। (ডিসক্লেইমারঃ সব টিচার এইরকম না, আল্লাহর রহমতে ভাল মানুষ এখনো আছেন)


আমাদের লোকাল কনটেক্সটে এই সাদামো আবার বিশেষভাবে ইসলামোফোবিয়ার সাথে জড়িত। ইসলামোফোবিয়ার মাধ্যমে এরা জানান দিতে চায় এরা শেকড়ছেড়া উপনিবেশিত বরকন্দাজ দাস শ্রেনী। এরা ন্যাটিভ না, এরা ন্যাটিভ ইনফরমার।


এরা ইসলামকে কোন চোখে দেখবে তা নির্ভর করে ইউরোপ ইসলামকে কিভাবে দেখে তার উপরে। এরা নিজের বাপকে কি ডাকবে তা নির্ভর করে ইউরোপ এদের বাপকে কি ডাকে তার উপরে। 


এইজন্য দেখবেন বাংলাদেশের অনেক সরকারী অফিসার ও তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয় নামের জমিদারপাড়াগুলারশিক্ষকদের অনেকে সাদা চামড়ার কোন অর্ধশিক্ষিত বিদেশী দেখলেও হাত কচলায়ে কূল পায় না, কিন্তু একাডেমিক ভবনের বারান্দায় একজন লুঙ্গিপরা মানুষ দেখলে এদের গুহ্যদ্বার দিয়া বারো হাত ফিতাকৃমি বাইর হয়ে আসতে চায় বলে মনে হয়।


এর মানে, এরা মোটের ওপর বর্নবাদী, অসভ্য, বরকন্দাজ শ্রেণীর উপনিবেশিত দাস।

এবং এরা হইতেসে কলোনিয়াল টোকেন। কলোনি যে এখনো টিকা আছে এবং এখনো যে এর বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে, এইসব টোকেনবাবু দেইখা আমরা বুঝতে পারি।


রেজাউল করিম রনি ভাইয়ের মত আমিও বলি, আধুনিক শিক্ষা একপ্রকার অভিশাপ হয়ে দাড়াইসে। এই দেশে সেইসব পাঠার পুত্রদের অনেকে শিক্ষক খেতাব নামের পাশে লাগানোর সুযোগ পাইসে যাদের শিক্ষা দেয়ার তো দুরের কথা নেয়ারও ক্ষমতা নাই।
ইসলামোফোবিয়াটা এদের তরফ থেকেই আসে।


এদের হাত থেকে মুক্তির উপায় কি??
নিজের পরিচয় নিয়া সচেতন হওয়া, সার্টিফিকেটের বাইরে এদের সামাজিক-রাজনৈতিক ও নৈতিক অথরিটিকে জুতা মারা এবং শিক্ষাকে ডিকলোনাইজ করার জন্য প্রচেষ্টায় থাকা।

- Muhammad Sajal 


  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষকদের তালিকা
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তালিকা
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন
  4. ঢাবি সমাবর্তন
  5. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ সমূহ
  6. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা কত
  7. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস
  8. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন

Powered by Blogger.