বাংলা ফেসবুক গল্প "বুশরা" এক সাহসী নারীর গল্প

ফেসবুক গল্প "বুশরা" এক সাহসী নারীর গল্প ঃ লেখাঃ নুসরাত জাহান

পর্ব-০৫ লেখাঃ নুসরাত জাহান [গল্পটি কাল্পনিক]



আগের পর্ব গুলোঃ এক সাহসী নারীর গল্প 

আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আমরা লেবাননের সীমান্তাবর্তী শহর শিমোনো থেকে সুরঙ্গ পথে ইসরাইলে প্রবেশ করলাম। হামিদা বললেন এই সুরঙ্গটি ইসরাইল তৈরি করেছে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করার জন্য। এই সুরঙ্গের কথা মোসাদ ছাড়া আর কেউ জানে না। হামিদা বললেন আমি মোসাদ এর এজেন্ট হওয়ার সুবাধে এই সুরঙ্গের কথা জানি। মোসাদের ওপর আমার অনেক প্রভাব। যার কারণে মোসাদ তাদের নাম লেখা গাড়িতে করে তোমাকে সীমান্তে ছেড়ে এসেছিলো। কথা বলতে বলতে আমরা সুরঙ্গ থেকে বের হয়ে এলাম। সুরঙ্গ থেকে বের হয়ে দেখলাম সূর্য অনেকটা পশ্চিম আকাশে হেলে গেছে। সূর্য কিছুক্ষণ পরই অস্তমিত হবে। হামিদা বললেন বুশরা ইফতারের সময় অতি নিকটে। ইসরাইলি চেক পোস্ট পার হয়ে আমরা ইফতার করবো। তারপর আমরা এগিয়ে চললাম। আমরা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম তিবিরিয়াস শহরের চেকপোস্টে। হামিদা দেখে ইসরাইলি সৈনিকরা সম্মান প্রদর্শন করলো। হামিদা আমাকে একজন ব্রিটিশ গবেষক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আর এর প্রমাণ স্বরুপ আমার ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখান। যা দেখে আমি রীতিমতো অবাক।

চেকপোস্ট পার হয়ে আমরা তিবিরিয়াস শহরের রেস্টুরেন্ট প্যারেজে গেলাম। রেস্টুরেন্ট এ পৌঁছে হামিদা বললো তুমি নিশ্চয়ই ভাবছো যে, তোমার ব্রিটিশ পাসপোর্ট কোথা থেকে এলো? আমি বললাম হ্যাঁ, আমি এটাই ভাবছি। হামিদা বললেন মিল্লী ইসতিখাবারাত তাশকিলাতী বা এমআইটির মতো সংস্থার কাছে এটা একটা মামুলি ব্যাপার। আমি বললাম ওহ, আচ্ছা। তারপর হামিদা বিফ রোল এবং ডালিমের শরবত অর্ডার করলেন। ইফতারের সময় হওয়ার পর আমরা ইফতার করলাম। তারপর আমরা হামিদার ঠিক করে রাখা গাড়িতে উঠলাম। গাড়িতে উঠে হামিদা বললো আমরা এখন যাচ্ছি ২০ কিলোমিটার দূরের শহর নাজারাথ। আমি বললাম এটা কী সেই নাজারাথ যেখানে হযরত ঈসা আঃ ইসলাম প্রচার করেছিলেন? হামিদা বললেন হ্যাঁ। এটাই সেই নাজারাথ। হামিদা বললেন পুরো ইসরাইলে ৫০০ জন এমআইটি এজেন্ট আছে। যাদের অনেকে মোসাদেরও এজেন্ট। আমি হামিদার কথা শুনে বারবার অবাক হচ্ছিলাম।

১০ মিনিট পর গাড়ি থামলো এক তলা এক বাড়ির সামনে। হামিদা বললেন নামো বুশরা, আমরা এসে গেছি। হামিদা পাসওয়ার্ড লিখে বাড়ির দরজা খুললেন। আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম। বাড়িটা প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর। বাড়ির ভিতর ঢুকতে ঢুকতে হামিদা বললেন আমাদের থাকার জায়গা ও এমআইটির অফিস এখান থেকে ১০০ ফুট নিচে। আমি বললাম তাহলে এত সব আসবাবপত্র? হামিদা বললেন এগুলোতো আই ওয়াশ। তারপর আমরা এক লোহার দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। আমরা একটি রুমে প্রবেশ করলাম। রুমের মাঝখান বরাবর সিঁড়ি। হামিদা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করলেন। আমিও হামিদার পিছু পিছু নিচে নামতে লাগলাম। ৮ মিনিট পর আমরা আরও একটি দরজার সামনে পৌঁছালাম। হামিদা পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজা খুললেন। তারপর আমরা প্রবেশ করলাম এমআইটির অফিসে। হামিদা বললেন এমআইটির এই অফিস হাই সিকিউরিটি জোন। বাড়ির চারিদিকে ১২ জন এমআইটি এজেন্ট সব সময় নিরাপত্তার জন্য সতর্ক। আর ৪০ জন ইসরাইলি পুলিশও এই বাড়ির নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত। আমি বললাম ইসরাইলি পুলিশ নিরাপত্তার জন্য কেন নিয়োজিত থাকবে? এটা কীভাবে সম্ভব? হামিদা বললেন বুশরা তুমি ভুলে যাচ্ছো যে, আমি মোসাদ এজেন্ট সেরিনা। আমি বললাম ও, তাই তো।

হামিদা বললেন এদিকে এসো তোমাকে কিছু জিনিস দেখাই। তারপর হামিদা একটি আলমারি খুললেন আর আসল সেরিনার কিছু মেডেল দেখালেন। হামিদা বললেন সেরিনা এই মেডেলটি হামাসের রকেট হামলা ব্যর্থ করার জন্য পেয়েছিলো। আর এই মেডেলটি ইরানি গোয়েন্দা ফিরোজকে ধরার জন্য পেয়েছিলো। আর এই মেডেলটি সব চেয়ে বিশেষ, এটি সেরিনা পেয়েছিলো ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনার সন্ধান দেওয়ার জন্য। আশা করি তুমি বুঝতে পারছো সেরিনা মোসাদের কত বড় এজেন্ট ছিলো। আমি বললাম হ্যাঁ বেশ ভালোই বুঝতে পারছি। হামিদা বললেন বুশরা ওযু করে মাগরিবের সালাত আদায় করে নাও, তারপর প্ল্যান নিয়ে আলোচনা হবে।

আমরা মাগরিবের সালাত আদায় করার পর প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করলাম। হামিদা বললেন নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট এখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। হামিদা নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ভিজিটের জন্য কাল অনুমতি নেবেন। রাত ৯ঃ০০ টায় নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ভিজিটের পর আমরা আমাদের মিশন শুরু করবো। আমাদের সাথে থাকবে ৫০ জন এমআইটি এজেন্ট। আর নিউক্লিয়ার প্লান্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে ১৮২৫ জন ইসরাইলি সৈন্য ও একশ জন মোসাদ এজেন্ট। আমি বললাম কাজটাতো খুব বিপদজনক। হামিদা বললেন অবশ্যই কাজটা বিপদজনক। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য থাকলে সবই সহজ। আমি বললাম ইনশাআল্লাহ আল্লাহর সাহায্যে আমরাই সফল হবো। হামিদা বললেন আমিন। তারপর আমরা এশার সালাত ও তারাবীহের সালাত আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকাল ১০ঃ০০ টায় হামিদা ফিরে এসে জানান ইসরাইলি ডিফেন্স মিনিস্ট্রি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ভিজিটের অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু সাথে কোন মোবাইল, ক্যামেরা, বা ব্যাগ নেওয়া যাবে না। সন্ধ্যে নাগাদ আমি এবং হামিদা তৈরি হয়ে নিলাম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে যাওয়ার জন্য। হামিদা তার পূর্বের পোশাকের মতোই পোশাক পরেছেন। আমি খ্রিস্টান নারী মিশনারীদের পোশাক পরেছি। নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে প্রবেশের জন্য আমার নাম ড. ইসাবেল। চোখে কালো চশমা পরেছি। আর মুখে লাগিয়েছি প্রচুর ফেইস পাওডার। যার ফলে আসল চেহারা ঢাকা পড়ে গেছে। যেহেতু ব্যাগ নেওয়া যাবে না। তাই কোমরে বাজুবন্ধের মধ্যে নিয়ে নিলাম আমার প্রস্তুত করা কেমিক্যাল সলিউশন। তারপর আমরা গাড়িতে করে রওনা করলাম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের উদ্দেশ্যে।

রাত ৮ঃ৪০ আমরা প্রবেশ করেছি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে। প্ল্যান্টের চিফ এক্সিকিউটিভ আমাদেরকে সেন্ট্রিফিউজ গুলো দেখালেন। মোট ১১২ টি সেন্ট্রিফিউজ। আমি চেক করে দেখলাম এর মধ্যে ৭০ টি ইউরেনিয়াম (U) দিয়ে তৈরি এবং বাকী ৪২ টি প্লুটোনিয়াম (Pu) দিয়ে তৈরি। আমি চিফ এক্সিকিউটিভকে বললাম ইউরেনিয়ামকে আরও তেজস্ক্রিয় করা যাবে যদি এটার সাথে, কথাটা শেষ করার আগেই একটি বিকট শব্দ হলো। তারপর চারিদিকে হইচই শুরু হয়ে গেলো। প্লান্টের চিফ এক্সিকিউটিভ বললেন আপনারা আমার সাথে আসুন নিশ্চয়ই কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে, এই কথাটি বলেই যখন চিফ এক্সিকিউটিভ উল্টো মুখ করে পা বাঁড়ালেন তখনি আমি বাজুবন্ধ থেকে একটি পিন বের করে তার গলার দিকে ছুড়ে দিলাম। আর তিনি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন। হামিদা জিজ্ঞেস করলেন পিনে কী ছিলো? আমি বললাম পটাশিয়াম সায়ানাইড (KCN) এবং অক্সিজেন (O)। হামিদা বললেন কেউ বুঝতে পারবে না তো? আমি বললাম না। কয়েক সেকেন্ডেই পটাশিয়াম সায়ানাইড এর সাথে থাকা অক্সিজেন পটাশিয়াম সায়ানাইড সহ বাতাসের সাথে মিলিয়ে যাবে। আর পিন কিছুই থাকবে না।আমার আঙুলের চাপও থাকবে না। আমি আর হামিদা পা বাড়ালাম সেন্ট্রিফিউজগুলোর দিকে। তারপর-


পর্ব-০৬

লেখাঃ নুসরাত জাহান

[গল্পটি কাল্পনিক]

তারপর আমারা সেন্ট্রিফিউজ গুলোর দিকে পা বাঁড়ালাম। সেন্ট্রিফিউজ গুলোর ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম বেশ কয়েকটি স্তর দিয়ে সুরক্ষিত। প্রথম স্তরে কাচ। দ্বিতীয় স্তরে লোহা এবং তৃতীয় স্তরে টাংস্টেন। হামিদা বললেন খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে হবে। আমি বললাম এটা বেশ কয়েক স্তর দ্বারা সুরক্ষিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম এন্টি রেডিয়েশন কোটিং যুক্ত বক্স গুলো এসেছে? হামিদা বললো কিছুক্ষণ এর ভিতর এসে পড়বে। ২ মিনিট পর ৪ জন লোক প্রবেশ করলো সেন্ট্রিফিউজ রুমে। তাদের হাতে এন্টি রেডিয়েশন কোটিং যুক্ত বাক্স। তার মানে এরা এমআইটি এজেন্ট। আমার বাজুবন্ধের ভিতর থেকে স্টেইনলেজ স্টীল এর ৪ সে. মি. লম্বা মোটা পিন বের করলাম। পিন বের করে পিন দিয়ে ৪ টি সেন্ট্রিফিউজ কাঁচের স্তরে কয়েকটি জোরে আঘাত করলাম। তারপর এজেন্টদের কাছে বিশেষ ধরনের হ্যামার নিয়ে কাঁচের স্তরে আঘাত করলাম। সাথে সাথে কাঁচের স্তর ভেঙ্গে গেল। হঠাৎই হামিদা এজেন্টদের জিজ্ঞেস করলেন ইসরাইলি সৈনিক এবং মোসাদ এজেন্টরা কী অবস্থায় আছে? এমআইটি এজেন্টদের একজন আমাদের আচমকা বোমা হামলায় ২০০ এর বেশী ইসরাইলি সৈনিক মারা গেছে। আমাদের ১০ জন এজেন্ট এখনো প্লান্টের চারিদিকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে যার ফলে বেশীরভাগ ইসরাইলি সৈনিক এবং মোসাদের এজেন্ট সে দিকে ব্যস্ত। আর কয়েকজন প্লান্টের দিকে এগিয়ে আসছে বলে এক এজেন্ট জানিয়েছে। তাদের এখানে পৌঁছাতে ২০ মিনিট মতো সময় লাগবে।

তারপর হামিদা বললেন, বুশরা আমাদের তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে হবে। আমি বললাম অবশ্যই। তারপর লোহার স্তরে প্রথমে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ঢেলে দিলাম। লোহার স্তর অনেক পাতলা হয়ে গেল। তারপর হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCL) ঢেলে দিলাম। লোহা সম্পূর্ণ গলে গেল। এবার টাংস্টেন এর স্তর। আমি হামিদাকে বললাম টাংস্টেন সবচেয়ে উচ্চ গলনাংক বিশিষ্ট পদার্থ এটাকে এভাবে গলানো যাবে না। হামিদা বললেন তাহলে উপায়। এমআইটি এজেন্টদের বললাম আপনাদের কাছে লাইটার আছে? এমআইটির এজেন্টরা বললো না আমাদের কাছে লাইটার নেই এবং থাকার কথাও না। তখন একজন এমআইটি এজেন্ট বললো আমার কাছে আছে। এই এমআইটি এজেন্টদের কথা শুনে বাকী এমআইটি এজেন্টরা অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলো। তখন ঐ এমআইটি এজেন্ট বললো আসলে হয়েছে কী গুপ্তচরবৃত্তি করার সময় এক ইসরাইলির সাথে বন্ধুত্ব হয়। সেই সিগারেট খাওয়া শিখিয়েছিলো। তাই সাথে করে লাইটার আর সিগারেট দুটোই সাথে রাখি। আমি বললাম আপনার লাইটারটা দিন। লাইটারটা নিয়ে আমি আমার বাজুবন্ধ থেকে ছোট একটা ২০ মিলির একটা শিঁশি বের করলাম।

হামিদা বললেন এটাতে কী আছে? আমি বললাম এটাতে আছে হিলিয়াম গ্যাস (He)। হামিদাকে বললাম আপনাকে যে, ১০ সে. মি লম্বা যেই পাইপটা দিয়েছিলাম দিন তো। হামিদার কাছ থেকে পাইপটা নিয়ে তা শিঁশির মুখে বসিয়ে দিলাম। তারপর লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালালাম আর হিলিয়াম গ্যাস আগুনের জ্বালানি। আগুনের জ্বালানি হিসেবে হিলিয়াম ব্যবহার এর ফলে প্রচন্ড তাপ সৃষ্টি হলো। ফলে টাংস্টেন মূর্হুতেই গলে যেতে লাগলো। তারপর আমি বললাম এন্টি রেডিয়েশন কোটিং যুক্ত বাক্স গুলো নিয়ে আসুন। বাক্সগুলো গলিত সেন্ট্রিফিউজ গুলোর সামনে রাখা হলো এন্টি রেডিয়েশন কোটিং এর পাইপের সাহায্যে বাক্সে পড়তে লাগলো। এই প্রক্রিয়ায় আমরা ৯০ টি সেন্ট্রিফিউজ এর ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম নিয়ে নিলাম এন্টি রেডিয়েশন কোটিং যুক্ত বাক্সে। এমআইটির একজন এজেন্ট বললো এখনো ২২ টি সেন্ট্রিফিউজ বাকী কিন্তু সময় আছে ১ মিনিট।

হঠাৎই ১০ জন ইসরাইলি সেনা সেন্ট্রিফিউজ রুমে প্রবেশ করলো। তারা বললো কেউ নড়বে না। আমি বললাম বললেই হলো না কী। আমার এই কথা শুনে ইসরাইলি সেনারা বললো একটা কথা বললে খুলি উড়িয়ে দেবো। তখন আমি আমার বাজুবন্ধ থেকে লাল রংয়ের ব্রোমিনের (Br) জলীয় দ্রবণ বের করলাম। আমি বললাম তাই না কি। তারপর আমি একজন ইসরাইলি সেনার বন্দুকে ব্রোমিনের জলীয় দ্রবণ ঢেলে দিলাম। আর সাথে সাথেই ইসরাইলি সেনার বন্দুক ক্ষয় হয়ে বাতাসের সাথে মিশে গেল। এতে বাকী সেনারা আতংকগ্রস্থ হয়ে গেলো। এই সুযোগে আমি সবার গলায় পিন ছুড়ে দিলাম। সাথে সাথে সবাই মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তারপর এমআইটি এজেন্টরা সেন্ট্রিফিউজ রুম এর প্রবেশদ্বার বন্ধ করতে চাইলো। কিন্তু পাসওয়ার্ড জানা থাকায় তারা ব্যর্থ হলো। আমি বাকী সেন্ট্রিফিউজ গুলোর প্লুটোনিয়াম এন্টি রেডিয়েশন কোটিং যুক্ত বাক্সে নিয়ে নিলাম। আমি বললাম হামিদা মিশন কমপ্লিট। কোথাও যাতে আমাদের হাতের চাপ না থাকে তার জন্য চারিদিকে ব্রোমিনের জলীয় দ্রবণ ছিটিয়ে দিলাম। তারপর এমআইটি এজেন্টরা বাক্সগুলো নিয়ে বের হয়ে গেলো। আর বের হয়ে যাওয়ার আগে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আমার আর হামিদার হাত পা শিকল দিয়ে বেঁধে দিয়ে গেলো। প্রায় ৩০ মিনিট পর ইসরাইলি সেনারা আমাদের শিকল খুলে আমাদের উদ্ধার করলো। হামিদা তাদের বানিয়ে বানিয়ে অন্যরকম এক ঘটনা বললো। তারপর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে ভোর ৬ টা নাগাদ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়ার পর আমাদের হামিদার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

২২ শে মে ২০১৯ সকাল ১০ঃ০০ টা। হামিদা বললো বুশরা আল্লাহর সাহায্যে আমরা আমাদের মিশন সম্পন্ন করলাম। আমি বললাম তাহলে এবার আমি দেশে ফিরে যায়। হামিদা বললেন এখনো মিসাইলের মিশন বাকী। আমি বললাম বেশ ঐ মিশনটা শেষ করেই যাই। হামিদা বললো Let's draw a plan. আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিলাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা আবার লেবানানে ফিরে গেলাম। লেবানন এর রাজধানী বৈরুত থেকে ছোট জাহাজে করে পৌঁছালাম ইসরাইলের সমুদ্র তীরবর্তী শহর হাইফাতে। হাইফাতে ইসরাইলি চেক পোস্টে হামিদা আমার আমেরিকান পাসপোর্ট দেখালো। তারপর আমরা প্রবেশ করলাম হাইফাতে। হামিদার ঠিক করে রাখা গাড়িতে করে পৌঁছালাম একটি দোতলা বাড়িতে। ইফতারের পর হামিদা বললো মিসাইল যেখানে ইনস্টল করা হয়েছে সেই জায়গা এখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে। তাই এবার ভিন্ন উপায়ে কাজ করতে হবে। তখনই হঠাৎ কেউ বাড়ির দরজায় কড়া নাড়লো। হামিদা গিয়ে দরজা খুললেন। এক ভদ্রলোক বাড়িতে প্রবেশ করলেন। আর বললেন আপনি ধরা পড়ে গেছেন হামিদা গুল। মোসাদ আপনাকে ধরে ফেলেছে। তারপর-


পর্ব-০৭

লেখাঃ নুসরাত জাহান

[গল্পটি কাল্পনিক]

হামিদা বললেন কী আজে বাজে কথা বলছেন, আমি তো সেরিনা, হামিদা আবার কে? ঐ লোক বললেন তাই না কী। মোসাদের কোন এজেন্ট ইসরাইলের ক্ষতি করবে এটাতো প্রথমবার দেখলাম। হামিদা বললেন মানে? মোসাদের এজেন্ট বললেন কাল সেন্ট্রিফিউজ রুমে এই ছোট টিউবটি পেয়েছি যেখানে ব্রোমিনের (Br) জলীয় দ্রবণ ছিলো। আর এই টিউবে ড. ইসাবেল এর আঙুলের চাপ আছে। আমি মনে মনে ভাবলাম, ইশ বড্ড ভুল হয়ে গেছে। মোসাদের এজেন্ট বললেন অপরাধী যত চালাকই হোক না কেন সে একটা না একটা ভুল করেই। হামিদা ইশারায় মানা করা সত্ত্বেও আমি প্রতিবাদ করে বললাম কে অপরাধী আমরা? অপরাধীতো আপনারা। মোসাদের এজেন্ট বললেন আমি এখানে কোন যু্ক্তি শুনতে আসি নি। আমি এখানে কাজের কথা বলতে এসেছি। মোসাদ এজেন্ট বললেন প্রথমত আপনাদের এই জঘন্য কাজের কথা এখনো মোসাদের কেউ জানে না। আমি এ ব্যাপারে এখনো কাউকে জানাই নি। হামিদা বললেন কেন জানান নি, আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। যেহেতু আপনি জানান নি, তার মানে আপনার নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে। মোসাদ এজেন্ট বললেন এই তো বুদ্ধিমানের কথা। তাহলে বলে ফেলি আমার কী স্বার্থ বা আমার কী চাই?

মোসাদ এজেন্ট বললেন আসলে জেরুজালেমে একটা চার একরের সুন্দর ডুপ্লেক্স বাড়ি দেখেছি। বাড়িটা কিনবো ভাবছি। কিন্তু বাড়ির দামটা একটু চড়া। দাম ২৫ লক্ষ ডলার বা ৮৪ লক্ষ শেকেল। আমার এই মোসাদের ১৪ হাজার ডলারের চাকরিতে এই বাড়ি কেনাটা শুধুই স্বপ্ন। তাই স্বপ্নটাকে সত্যি করতে হামিদা গুল আপনি যদি ৩০ লক্ষ ডলার আমাকে দেন তাহলে আমি আপনাদের মুক্তি দিতে পারি। হামিদা বললেন এত ডলার আমি কোথা হতে পাবো। আপনি আমাকে মোসাদের হাতে তুলে দিতে চাইলে দিন, আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। মোসাদের এজেন্ট বললেন হামিদা গুল এটাই একমাত্র দাবি নয়। আমি জানি আপনি অনেক সুন্দরী নারী, আপনার মতো সুন্দরী নারীর লোভ আমি সামলাতে পারছি না। তাই আমি আপনাকে চাই সারাজীবনের জন্য। যদি আপনি এগুলো দিতে অস্বীকার করেন তাহলে ইসরাইলে থাকা ৫০০ এমআইটি এজেন্টের প্রত্যেককে আজ রাতের ভিতর মোসাদ নির্দয়ভাবে হত্যা করবে আর আপনার বন্ধু ছদ্মবেশী ড. ইসাবেলকেও হত্যা করবে কিংবা ইসরাইলি কুখ্যাত জেলের বন্দি বানাবে। এবার আপনি ভাবুন আপনি কী করবেন।

হামিদা বোধ হয় এবার সত্যি ভয় পেয়ে গেছেন। হামিদা বললেন এমআইটি এজেন্টদের কথা আপনি জানলেন কী করে? মোসাদ এজেন্ট বললেন আসলে হয়েছে কী হামিদা ২১ তারিখ সকালবেলা, আমি ক্ষতিগ্রস্থ নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেন্ট্রিফিউজ রুমে আপনার ছদ্মবেশী বন্ধুর আঙ্গুলের ছাপ যুক্ত টিউবটা পেলাম। নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বাইরে আপনাদের চালাক ও সর্তক একজন এমআইটি এজেন্টকে দেখতে পেলাম। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলো। আমি আপনাদের এমআইটি এজেন্টকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলাম। হঠাৎই সে আতংকগ্রস্থ হয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলো। তারপর আপনাদের গুপ্তচরকে ধাওয়া করলাম এবং পায়ে গুলি করে ধরাশায়ী করলাম। তারপর সারারাত নির্যাতন করে আপনার সমস্ত তথ্য জানলাম। আপনাদের সকল এমআইটি এজেন্টের তথ্য সংগ্রহ করলাম। কী কাজটা ভালো করি নি। হামিদা কিছু বললেন না। হামিদা তার পিস্তল বের করে মোসাদ এজেন্টকে গুলি করতে চাইলেন তখনি মোসাদ এজেন্ট হামিদার হাতে গুলি করলেন। আর বললেন হামিদা আমি একদম চালাকি পছন্দ করি না। আমি টেবিলে থাকা ফল কাটার ছুরি নিয়ে মোসাদের এজেন্টকে আঘাত করতে উদ্বত হলাম তখন আমাকে পেটের মধ্যে লাথি মেরে নিচে ফেলে দিলেন। হামিদা যন্ত্রণার মধ্যেও বললেন তুমি ঠিক আছো বুশরা? মোসাদ এজেন্ট বললেন ভালোই হলো ছদ্মবেশীর নামও জানতে পারলাম। তাহলে আমার নামটা বলাই যায়। আমার নাম জ্যারেড গান্টজ। আমি কোন মতে সামলে বললাম আমি ঠিক আছি।

হামিদা বললেন জ্যারেড আল্লাহ তোমাকে কোন দিন ক্ষমা করবে না। জ্যারেড বললো তোমাদের আল্লাহ ক্ষমা করার আগে আমিই তোমাদের ক্ষমা করবো না। ডাকো তোমাদের আল্লাহকে ডাকো। দেখি তিনি আমাকে শাস্তি দিতে পারেন কি না। তখন আমার হঠাৎ করে মনে পড়লো পটাসিয়াম সায়ানাইড (KCN) যুক্ত পিনের কথা। যা আমি সকালবেলা টেবিলের নিচে রেখেছিলাম সুরক্ষিত করে। আমি ধীরে ধীরে টেবিলের নিচের দিকে গেলাম। পটাসিয়াম সায়ানাইড যুক্ত পিনের বিশেষ খাঁজ থেকে পিন বের করলাম। এই সময় আমি মনে মনে আল্লাহর সাহায্য কামনা করছিলাম। তারপর সুযোগ বুঝে আমি পিন জ্যারেড গান্টজ এর গলার দিকে ছুড়ে দিলাম। পিন তার গলায় গিয়ে বিধলো। আর সাথে সাথেই জ্যারেড গান্টজ মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।

হামিদা বললেন যাক, আল্লাহ রক্ষা করেছেন। হামিদা নিজেই নিজের হাতের রক্ত বন্ধ করার জন্য হাতে কাপড় বাঁধলেন। হামিদা বললেন এই লাশটাকে কী করবো? আমি বললাম এটার সমাধান আমার কাছে আছে। আমি লাশটাকে টেনে নিয়ে গেলাম বাড়িটার পেছন দিকে। এসিড ঢেলে লাশটা জ্বালিয়ে দিলাম। তারপর হামিদা আমাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। ডাক্তার বললেন আমার বাচ্চার কোন ক্ষতি হয় নি। আমি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমার বাচ্চাই ফয়সালের সর্বশেষ স্মৃতি। আমার বেঁচে থাকার কারণ।

২৯ শে মে ২০১৯। হামিদার হাতের জখম এখন অনেকটা ভালো। হামিদা বললেন বুশরা তুমি তোমার দেশে ফিরে যাও। আমি বললাম না। আমি এই মিশন শেষ করেই ফিরবো। আমার জেদের কাছে হামিদা বললেন বেশ তাই হোক। তারপর আমরা মিশনের প্ল্যান সাজালাম। ১ লা জুন ২০১৯ মিসাইল ইনস্টলের স্থানে আমি আর হামিদা। এমআইটি এজেন্টদের পরিকল্পিত চোরাগোপ্তা হামলার সুযোগে আমি আর হামিদা ভিতরে প্রবেশ করলাম। আমরা ভিতরে ঢুকেই বুঝতে পারলাম এখানে আমাদের কোন প্ল্যান কাজ করবে না। হামিদা বললেন তাহলে উপায়? তখন কেউ বললো উপায় আমার কাছে আছে। আমার মনে হলো কেউ যেন কথাটা ফয়সালের গলায় বলছে। আমি পেছন ফিরে তাকালাম। তারপর -

বুশরা [এক সাহসী নারীর গল্প]

পর্ব-০৮

লেখাঃ নুসরাত জাহান

[গল্পটি কাল্পনিক]

আমি পেছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম এটা সত্যিই ফয়সাল। ফয়সালকে দেখেই আমার যেন শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমি দৌড়ে ফয়সালের কাছে গেলাম। আমার অনেক কিছু জানার ও বোঝার আছে। ফয়সালের কাছে যেতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমি যখন চোখ খুললাম তখন দেখলাম আমি ফয়সালের কোলে। ফয়সাল বলছে, বুশরা চোখ খোলো দেখো আমি ফিরে এসেছি। আমি ফয়সালকে প্রশ্ন করলাম এতদিন কোথায় ছিলে? ফয়সাল বললো সব হবে আগে মিশন শেষ হোক। তারপর আমি ফয়সালের সাহায্যে উঠে দাঁড়ালাম। ফয়সাল বললো এখানে তোমাদের প্ল্যান মোতাবেক কোন কাজ হবে না। তা তো বুঝতেই পারছো। হামিদা বললো অবশ্যই বুঝতে পারছি। ফয়সাল বললো তাই এখন আমাদের যেতে হবে কন্ট্রোল রুমে। কন্ট্রোল রুম থেকে সিস্টেম জ্যাম করে দিলে সবগুলো মিসাইলই অকেজো হয়ে যাব। আমরা কন্ট্রোল রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। আমরা কন্ট্রোল রুমের কাছে পৌঁছালাম। কন্ট্রোল রুমের সামনে ৬ জন নিরাপত্তা রক্ষী ছিলো। তারা আমাদের দিকে অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। তারা আমাদের কাছে মিসাইল ইনস্টলেশন এরিয়ায় আসার জন্য অনুমতি পত্র দেখতে চাইলো। হামিদা নিরাপত্তা রক্ষীদের অনুমতি পত্র দেখালো। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না যে, হামিদা এসব কোথায় পেলো। আমরা কন্ট্রোল রুমের ভিতর প্রবেশ করলাম। কন্ট্রোল রুমে দুজন লোক ছিলো। ফয়সাল তাদের বললো কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোল সিস্টেমের বাগ ক্লিয়ার করে সিস্টেম রিফর্ম করতে হবে। তারা বললো আমরা জানি আপনাদের কী কাজ? ফয়সাল বললো মানে? তারা বললো মানে টা এখনই বুঝতে পারবেন।

তারা বললো আপনারা একের পর এক সব ধংস করবেন আর আমরা কিছুই টের পাবো না। বেশ হাস্যকর না। আপনি যখন স্পেশাল নন ডিকেশন বোটে করে হাইফাতে আসছিলেন তখন গোয়েন্দা ড্রোন আপনাকে শনাক্ত করেছে। আপনারা ভেবেছিলেন ইসরাইল আপনাদের ডিক্টেট করতে পারবে না। কিন্তু আমরা আপনাদের নন ডিটেক্টিং বোটের মধ্যেও আপনাকে ধরে ফেলেছি। আপনাদের মনে রাখা উচিত ছিলো যে, আমরা ইসরাইলিরা সমগ্র আরবের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছি। আর সেরিনা আপনি বিশ্বাসঘাতক তা আমরা ভাবতেই পারি নি। ফয়সাল আর হামিদা দুজনেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কিছুটা পিছনে সরে আসলো। মোসাদের গোয়েন্দারা বললো একদম চালাকি না। আপনাদের পরিণতি এখন একটাই আর তা হলো মৃত্যু। কন্ট্রোল রুমের বিভিন্ন অংশ থেকে আরও কয়েকজন বের হয়ে আসলো। তারা সবাই হাতে রাইফেল তুলে নিলো। ফয়সাল আমাকে আড়াল করে দাঁড়ালো আর বললো বুশরা ভয় পেও না। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে। তুমি ঐ বাজ এর আড়ালে চলে যাও। আমি ফয়সালের কথা মতো অতিদ্রুততার সাথে বাজের নিকট যাচ্ছিলাম তখন কেউ আমার পায়ে গুলি করলো। যন্ত্রনায় আমি সাথে সাথে বসে পড়লাম। কোনমতে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসলাম। আমার কাফতানের ভিতর থাকা এক টুকরো কাপড় দিয়ে আমার পা বেঁধে নিলাম। মোসাদের গোয়েন্দারা সবাই এক সঙ্গে ফয়সাল ও হামিদাকে লক্ষ করে গুলি করছিলো। ফয়সাল ও হামিদা গুলি থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে নিলো। ফয়সাল আচমকা পিস্তল বের করে গুলি করলো। দুজন গায়েল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। তখন আমি আমার কাফতানের পকেটে আমার এক অদ্ভুত আবিষ্কার খুঁজছিলাম।

হঠাৎই ফয়সালের পায়ে গুলি লাগলো। ফয়সাল পায়ের যন্ত্রণাকে তোয়াক্কা না করে আরও একজনকে গায়েল করে ফেললো। মোসাদ বুঝতে পারলো যে, এভাবে জেতা সম্ভব না। তারা কৌশল পরিবর্তন করে ফয়সাল ও হামিদাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেললো। তারা একসঙ্গে ফয়সাল ও হামিদাকে গুলি করবে এই মুহূর্তে মোসাদের দুজন গোয়েন্দা মাটিতে লুটিতে পড়লো। মোসাদের বাকী গোয়েন্দারা ঘটনার আকস্মিকতায় ঘাবড়ে গেল। তাদের আরও দুজন হামিদার গুলিতে গায়েল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। মোসাদের গোয়েন্দরা হঠাৎই ফয়সালের বুকে গুলি করলো। ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি পা নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে ফয়সালের দিকে আসতে লাগলাম। তারপর আমি মোসাদের গোয়েন্দাদের দিকে ছুড়ে দিলাম অ্যামিনো টক্সিক পিন। যা আমার অদ্ভূত আবিষ্কার। এই পিন গুলো ৯ ইঞ্চি পুরু জিনিস ছেদ করেও মুহূর্তেই মানুষকে মেরে ফেলতে সক্ষম। পটাসিয়াম সায়ানাইড পিন পুরু জিনিস ছেদ করতে পারে না। তাই অ্যামিনো টক্সিক পিন বানিয়েছি। মোসাদের গোয়েন্দাদের তিনজন সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি ফয়সালের কাছে আসলাম। তখনি মোসাদের গোয়েন্দারা আমার হাতে গুলি করলো। হামিদা আরেক হাতে ফয়সালের পিস্তল নিয়ে দুহাতে বেপরোয়াভাবে গুলি চালাতে লাগলো। হামিদার গুলিতে দুজন মোসাদের গোয়েন্দা গায়েল হয়ে গেল। তারপর আমি হাতের যন্ত্রণা নিয়ে মোসাদের সর্বশেষ গোয়েন্দার দিকে ছুড়ে দিলাম অ্যামিনো টক্সিক পিন। আর সাথে সাথেই মোসাদের গোয়েন্দা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। আমি হাত ও পায়ের যন্ত্রণা সত্ত্বেও উঠে দাড়ালাম। হামিদাকে বললাম আপনার কাছে ছুরি আর স্পিরিট ল্যাম্প আছে। হামিদা বললো ছুরি আছে। কিন্তু ল্যাম্প নেই। তখন হামিদা বললো দাড়াও। হামিদা মৃত মোসাদের গোয়েন্দাদের পকেটে কিছু খুঁজতে লাগলো।

হামিদা বললেন পেয়ে গেছি। হামিদা হাতে করে লাইটার নিয়ে আসলেন। তারপর বললেন আমি ছুরি উত্তপ্ত করছি। তোমার পা থেকে গুলি বের করবো। হামিদা ছুরি উত্তপ্ত করে তা আমার পা ঢুকিয়ে গুলি বের করলেন। তারপর হাতেও উত্তপ্ত ছুরি ঢুকিয়ে গুলি বের করে কাপড় বেধে দিলেন। ফয়সাল আমার নাম ধরে ডাকলো। আমি ফয়সালের কাছে গেলাম। ফয়সাল আমরা হাতে একটা ডিস্ক দিয়ে বললো এটা জ্যামার প্রোগ্রাম। এটা দিয়ে মিসাইলগুলোকে অকেজো করা যাবে। আমি ফয়সালের হাত থেকে ডিস্কটা নিলাম। তারপর ফয়সালের নির্দেশমতো প্রোগ্রাম করে মিসাইলের সিস্টেম জ্যাম করে দিলাম। আমি বললাম জ্যাম করা হয়ে গেছে। হামিদা বললো চলো এখান থেকে বের হওয়া যাক। ফয়সালের বুকে গুলি লাগায় আমি আর হামিদা ছুরি দিয়ে গুলি বের করার চেষ্টা না করে কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়ার সিদ্বান্ত নিলাম। আমি হাতে ও পায়ে যন্ত্রনা সহ্য করে হামিদার সাহায্যে ফয়সালকে নিয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে বের হলাম। বাইরে থাকা এমআইটি এজেন্টদের সহায়তায় আমরা গাড়িতে করে নাজারাথের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

হামিদা বললো মোসাদ হয়তো আমাকে এতক্ষণে চিনে ফেলেছে। কিন্তু ফয়সালের জন্য আমাদের নাজারাথ যাওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে। ৪০ মিনিট পর আমরা নাজারাথ পৌঁছালাম। নাজারাথ এর হাসপাতালে ফয়সাল ও আমার চিকিৎসা হলো নির্বিঘ্নে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার আমরা ইসরাইলের প্রশাসন টের পাওয়ার আগেই ইসরাইল ছেড়ে জর্ডানে পা রাখলাম। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে পৌঁছার একদিন পর ফয়সাল বেশ খানিকটা সুস্থ। ফয়সাল বললো তার সাথে এই কদিনে কী ঘটেছে। ফয়সাল বললো মোসাদের কিলিং স্কোয়াড ফয়সালকে গুলি করার পর আমাকে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। আর এই সুযোগে এমআইটি এজেন্টরা যারা কিলিং স্কোয়াডের গুলি করার পর ঐ স্থানে পৌঁছেছিল তারা ফয়সালকে নিয়ে চলে যায়। ইস্তাম্বুলের সামরিক হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর ফয়সাল সুস্থ হয়। ফয়সাল তখন আমাকে সব জানাতে চেয়েছিলো কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে জানাতে পারে নি। মিসাইল ধংস করার মিশনের সময় এমআইটি ফয়সালের বেঁচে থাকার খবর হামিদাকে জানায়। তারপর মিসাইল ধংস করার মিশনে যোগদান করার মাধ্যমে সব গোপনীয়তার অবসান ঘটে। আমি বললাম ফয়সাল এখন কী হবে? ফয়সাল বললো আল্লাহর সাহায্য মুসলিমরা অনেক বড় বিজয় অর্জন করেছে। যা ইসরাইল কিছুদিন পর পুরোটা জানতে পারবে। আর তখন এই ঘটনাগুলোর কথা অবশ্যই মনে রাখবে। আমি বললাম আমি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর পাই নি। ফয়সাল বললো এখন আমরা নিশ্চিন্তে আমাদের নিরাপত্তার হুমকি ছাড়াই দেশে ফিরে যেতে পারি। ফয়সাল আবার বললো বুশরা, সব কিছুর জন্য আমার প্রতি কোন রাগ নেই তো? আমি বললাম না। ফয়সাল বললো সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর জন্য। তারপর আমি ফয়সালকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।

[সমাপ্ত]


Powered by Blogger.