বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কি বাংলাদেশ সরকার দিতে পারবে?

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান  এবং বাংলাদেশ


প্রথমে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা।

শরণার্থী আসলে ক্ষতি হবেই এটা স্বাভাবিক। ৭১ সালে যে বাংলাদেশি শরণার্থীরা ভারতে গেছিলো তারা সেখানে ভিজ্ঞান গবেষণাগার তৈরি করে উপকার করে আসেনি। সে সময়ে পার লাশ দাফনের ২৫ টাকা করে মেরে দেওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশের আর্কাইভ এ আছে!!

বিশাল জনসংখ্যা হুট করে চলে আসলে উপকারের কিছু নাই, কিন্তু তাই বলে শরণার্থীদের বিপক্ষে প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ না এতে বাংলাদেশের ই ক্ষতি হবে।

কথায় কথায় রোহিঙ্গাদের সন্তান জন্ম এর কথা বলে বাজে ভাবে নোংরা আক্রমণ করা হয়, একজন বাংলাদেশি মুসলিম হিসাবে মুসলিম নামের সেসব লোকদের কথা দেখলে খারাপ ই লাগে।

আর জিজ্ঞেস করতে চাই রোহিঙ্গা নাহয় বাচ্চা দিচ্ছে তাই খারাপ তো বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ কি এমনি এমনি চলে আসলো?

৭১ এ মানুষ ছিলো ৭ কোটি এখন ৫০ বছরে তা বেড়ে ১৮ কোটি তে কিভাবে আসলো?

বাচ্চা জন্ম দেয়া খারাপ কাজ হলে আজকে বাংলাদেশে এতো মানুষ কিভাবে?

প্রথম প্রশ্নের উত্তরঃ

না ওরা আমাদের উপকার করছে না। উপকার করতে আসেনি, বিপদে পড়ে আসছে। বাংলাদেশ ও ওদের উপকার পাবার জন্য নেইনি, ইচ্ছাতেও নেয়নি, বিপদে পড়ে নিছে।

সে সময় যদি বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের না নিতে চাইতো তাহলে অবশ্যয় মিয়ানমারের মত গুলো করে ওদের তাড়ানো লাগতো যা ঘটলে এদেশের সরকার, দক্ষিন এশিয়ার গতি সবই উলটে পালটে জেতে সময় লাগতো না। তাই সরকার বাধ্য ছিলো নিতে।

২য় প্রশ্নের উত্তরঃ

যখন রোহিঙ্গা আশা শুরু হয় তখন পুরা বিশ্ব মিয়ানমারের গণহত্যার কথা জানতে পেরে বার্মার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো, এমনিতেই বার্মা আগে থেকেই দুনিয়াতে নেগেটিভ একটা দেশ, তার উপর জাতিগত গণহত্যা সব মিলিয়ে তখন বার্মাকে বাংলাদেশ সামরিক ভাবে আক্রমণ করলেও নৈতিক ভাবে, ভু রাজনৈতিক ভাবে , অর্থনৈতিক ভাবে খুব ভুল হতো না। তাছাড়া বার্মা বাংলাদেশেও আক্রমণ করছিলো কয়েকবার। সব দিক দিয়ে আরাকান হামলা বাংলাদেশের জন্য সব দিক দিয়েই পজিটিভ ছিলো। শুধু দ্রুত আক্রমন করে দ্রুত জয় করতে পারলেই সব বাংলাদেশের অনুকুলে থাকতো।

আরাকান দখল করে আলোচনার মাধ্যমে অর্ধেক আরাকান ফিরিয়ে দিয়ে ( শান্তির সাইন) বাকি অর্ধেকে রোহিঙ্গাদের রাখা জেতো, তাহলে বাংলাদেশেও ওদের থাকতে হতো না, পরিবেশ এর উপর চাপ আস্তো না, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে নিজেরা কাজ করে খেতে পারতো।

এখন আরাকানে আক্রমণ করলে চীন অবশ্যয় মাথা দিবে।

আমাদের মনে রাখা দরকার মিয়ানমারের সাথে চীনের খুব দহরম মহরম সম্পর্ক না। কিছুদিন আগেও বার্মার সেনা প্রধান সরাসরি চীন কে সে দেশের বিদ্রোহীদের সাহায্য করার অভিযোগ করছে। দহরম মহরম থাকলে এমন অভিযোগ এভাবে করা যায় না।

এবং এটাও মাথায় রাখা দরকার বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক শত্রুতার না, সহযোগিতার ।তাই বাংলাদেশ যদি চীন কে আশ্বাস দিতে পারতো যে আরাকানে থাকা ওদের কোন প্রকল্প ক্ষতি হবে না বন্ধ হবে না তাহলে চীনের দিক থেকে বেশি খুব বেশি চাপ আসতো না।

আবার ওদিকে আমেরিকা তো আরাকানে যুদ্ধই চাই(!) তাই ওদের থেকেও বাধা আসতো না।

তুরস্ক মালেশিয়া এরাও সমর্থন দিতো।

অর্থাৎ যখন আক্রমণ করে তখন বাংলাদেশের উচিত ছিলো পাল্টা আক্রমণ করে আরাকান দখলে নেওয়া এবং ভারত চীন এদের আলোচনার মাধ্যমে ঐদিকের অর্ধের আরাকান ফিরিয়ে দিয়ে বাকি অর্ধেক আরাকানে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া। আর নিরাপত্তার জন্য সেখানে বাংলাদেশ আর্মির ক্যাম্প রাখা। বিজিবি রাখা।

আপনি যে প্রশ্ন করছেন এর সমাধান কি এইটা হইলো সেটার প্রাথমিক উত্তর।

কেননা এখন আর সহজে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বাংলাদেশের হাতে নাই। বার্মা কোন ভাবেই রোহিঙ্গা সব নিবে না। অনেক অনেক চাপ দিলে কিছু রোহিঙ্গা নিবে কিন্তু ওদের কে চীনের মত বাধ্যতামূলক ক্যাম্পে রেখে দিবে ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হবে না বরং নতুন সমস্যা তৈরি হবে।

যখন আক্রমণ শুরু হয় তখন সমাধানের পথ ছিলো কিন্তু করেনি।

সামরিকভাবে, ডিপ্লোম্যাটিক ভাবে সব ভাবেই বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে অসফল। ভুল পথে হাঁটছে।

আর এখন শুরুর মত অবস্থাও নেই যে সামরিক ভাবে সমাধানের পথ আসবে, বার্মা এখন অনেক গুছিয়ে নিছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে । 

বাংলাদেশের কাছে থাকার মত আছে ঐ ICC এর মামলা!!! 

এখন আরেকটা সমাধানের পথ হলো আরাকান আর্মির মত বড় মাপের বিদ্রোহী দল তৈরি করে দেওয়া যারা নিজেদের আরাকানের জন্য নিজেরা লড়বে।

যেমন ৭১ এ ভারত বাংলাদেশের জন্য করছিলো। ফলে ১ কোটি শরণার্থী সমস্যার সমাধান ও ভারত করতে পারছিলো দ্রতু সময়ে।

( ভুল হতে পারি, কিন্তু এটাই আমার মত। আপনার মতের সাথে মিলতে নাও পারে। যাদের মতের সাথে মিলবে না তাদের সালাম কেননা বহুত আলোচনা তর্ক দেখছি এসবে সমাধান নাই। যুদ্ধবাজ এর সাথে যুদ্ধ করেই জবাব দিতে হয় নাহয় অপমান নিয়ে বাচতে হয়। আলোচনা সভ্যদের সাথে হয়, অসভ্য সরকার এর সাথে হয় না। বার্মিজ সরকার, আর্মি েরা অসভ্য এর চেয়ে বেশি কিছু। এদের কে শক্ত ভাবে জবাব না দিলে আলোচনায় লাভ নাই যা বছরের পর বছর দেখে আসছি। রোহিঙ্গা তো আজে নতুন না, ৯০ দশক থেকেই আসছে। আলোচনায় সমাধান হলে আগেই হতো, হইছে?

৮০/৯০ দশক থেকেই আলোচনা হচ্ছে ? লাভের লাভ কি হইছে? উল্টা ২০১৭ সালে আরো রোহিঙ্গা আসতে বাধ্য হলো।

Powered by Blogger.