প্রতিবাদ নাকি প্রতিরোধ ?

 এখন কোনটা করতে হবে - প্রতিবাদ নাকি প্রতিরোধ ?

যে কোন ধরণের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য এক পবিত্র মানবাধিকার। কিন্তু যখন কোন স্বৈরাচারী শাসকের অত্যাচারকারণে নিপীড়িত মানুষের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না তখন তাদের আর কি করার থাকে বা কি করা উচিৎ?
উত্তরের জন্য আমরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম এবং ইতিহাস দুটো থেকেই আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

পবিত্র দ্বীন ইসলাম অনুযায়ী ঈমানের স্তর ৩ টি- সর্বোত্তম স্তর হচ্ছে অন্যায় কাজে হাত দিয়ে বাধা প্রদান করা, ২য় স্তরের ঈমান হচ্ছে বাধা প্রদান করতে না পারলে মৌখিক প্রতিবাদ করা, উল্লেখিত ২টি কাজটিও করা সম্ভব না হলে ৩য় স্তরের ঈমান হলো ঐ অন্যায় কাজটিকে ঘৃণা করে ঐ স্থান ত্যাগ করা।

ইতিহাস সাক্ষী ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী স্বৈর শাসকের অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশের অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর সে সুযোগ নেই, সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে হিন্দুরা মহা সমারোহে মুসলমান হত্যার ধর্মীয় কর্তব্যে নিয়োজিত। সমস্ত ভারতে মুসলমান হত্যা তো হচ্ছেই, সেইসাথে বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতের হিন্দু বি এস এফ বাহিনী নির্বিচারে বাংলাদেশী মুসলমানদের হত্যা করে যাচ্ছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়টি হলো বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে মোট বাহিনীর ৫০% হিন্দু নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওরা এখন পুলিশের ইউনিফর্মে থেকে নির্বিচারে ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে দেশ জুড়ে মুসলমান হত্যা করে যাচ্ছে।

এক ওসি প্রদীপই মেরেছে ২০৪ জন মুসলমান মাত্র দেড় বছরে। গোটা দেশের হিন্দু পুলিশের হাতে তাহলে কত মুসলমান মরেছে ?

ব্রিটিশ স্বৈরাচারের বিরদ্ধে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে কাজ হয়নি, কিন্তু যখন মানুষ ১৯৪৭ সালে তীব্র প্রতিরোধ তৈরী করতে সমর্থ হয়েছে, তখনই উপমহাদেশ স্বাধীন হয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছে কিন্তু স্বৈরাচারের পতন হয়নি, বরং পতন হয়েছে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার পর।

বর্তমানে চলমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে অখন্ড ভারতের পতাকা তলায় সমর্পণ করতে চায়, দলের লোক নিজেদেরকে দাবী করে মুসলমান হিসাবে কিন্তু আসলে ওরা সকলেই হয় ছুপা হুয়া হিন্দু কিংবা মুনাফিক কিংবা মুসলমান নামের কলঙ্ক।

ভারতের হিন্দু নেতারা মাইক বাজিয়ে বলে মুসলমান মেয়েদের কবর থেকে তুলে ধর্ষণ করতে আর বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কুলাঙ্গার মুসলমান নেতারা বলে সংবিধান থেকে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম তুলে নিতে।

একটু তুলনা করলে দেখা যাবে যেভাবে ভারতের বিজেপির ছাত্র সংগঠন সে দেশের মুসলমান মেয়েদের ধর্ষণ করে, তেমনি বাংলাদেশের ছাত্রলীগ এ দেশের মেয়েদের ধর্ষণ করে।

বিষয়টি এখন পরিষ্কার যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য হিন্দুত্ববাদী ভারতের গোলামে পরিনত হয়েছে এবং সেই সাথে দেশের জনগণের শত্রুতে পরিনত হয়েছে। তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে বর্তমান সরকারের হিন্দু পুলিশ বাহিনী। এই অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি হিন্দুও ক্রস ফায়ারে মারা যায়নি সকলেই মুসলমান।

যদি বলা হয় মুসলমানদের সংখা বেশী (৯৭%+) তাই তাদের মৃত্যুর হারও বেশী সেক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগে হিন্দুদের সংখ্যা ৫০% হলো কিভাবে?

বুঝতে হবে বর্তমান সরকার আর তার পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আজ আর জনগণের বন্ধু নয়, তারা চরম শত্রুতে পরিনত হয়েছে। প্রতিবাদে আর কোন কাজ হবেনা বরং এখনই হলো সময় প্রতিরোধের।

তাই দুদিন পর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে না চান তাহলে এখনই প্রতিরোধ করতে হবে বর্তমান সরকার ও তার হিন্দু পুলিশ বাহিনীকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যেতে পারে?


১। ভারতীয় মুসলমানরা যে ভুল করেছে সেই ভুল করলে চলবে না। তারা সবসময় বলেছে এসব আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, বাইরের কারো নাক গলানোর দরকার নেই। কিন্তু তার ফল কি হয়েছে তা আমরা সবাই জানি।

একটি বিষয় খেয়াল করবেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা যতই জামাই আদরে সুখে থাকুক না কেন, তারা কিন্তু গোটা দুনিয়ায় প্রচার করে যে বাংলাদেশের হিন্দুদের গণহত্যা করা হয়, অত্যাচার করা হয়।

দেশের স্বার্থে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিদেশে অবস্থানরত সকল বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনকে জরুরী ভিত্তিতে জানিয়ে দিন এবং তৎক্ষনাৎ ব্যাপকভাবে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করুন। আন্তর্জাতিক নিন্দা ও সমালোচনা একটি বিরাট ফ্যাক্টর।

২। দেশ ও দেশের মানুষের জান মাল ও ইজ্জত রক্ষার জন্য এলাকায় এলাকায় সংঘবদ্ধ হোন, বিশেষ করে হিন্দু প্রভাবিত এলাকাগুলোকে।

৩। সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনারা দেখেছেন যে শ্যামলী ট্রান্সপোর্টের হিন্দু মালিক প্রতিজ্ঞা করেছে যে বাংলাদেশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করবেই।
তাহলে বাংলাদেশের মুসলমানদের কি প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত ?

মুসলিমদের প্রতিরোধ শুরু হওয়া উচিত এই শ্যামলীর বাস যাতে রাস্তায় চলতে না পারে তার ব্যবস্থা করে।

৪। অবৈধ সরকার যদি হিন্দু পুলিশকে ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে বিনা বিচারে মুসলমানদেরকে হত্যা করার অধিকার প্রদান করতে পারে, তবে জান বাঁচানোর মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য তাদেরকে তাদের ভাষাতেই জবাব দেওয়া।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টিকর্তা অধিকার দিয়েছেন অন্যায়ভাবে আক্রমণরত হত্যাকারীকে প্রতিহত করার।
- Bahauddin Kabir
Powered by Blogger.