মোটিভেশনাল ছোট গল্প লেখা "আমার প্রিয় ব্যক্তি" |

প্রিয় ব্যক্তিত্বদের এখন আর পছন্দ হয় না! কেন?মোটিভেশনাল ছোট গল্প লেখা "আমার প্রিয় ব্যক্তি" |

  1. মোটিভেশনাল বক্তব্য ছবি
  2. মোটিভেশনাল কথাবার্তা
  3. সেরা মোটিভেশনাল গল্প

একটা সময় ছিলো যখন সোলাইমান সুখন, আয়মান সাদিক, ইউটিউবার শামিম হাসান,মেসি, অ্যাসেজ সংগীত ব্যান্ডের মেইন ভোকালিস্ট জুনায়েদ ইভান ভাই! সহ আরো কিছু ব্যক্তিত্ব ছিলো যাদেরকে খুব ভালো লাগতো, পছন্দ করতাম!

১.সোলাইমান সুখনের মোটিভেশান ভিডিও গুলা যখন দেখতাম তখন মনে হতো আহ, জীবনে যদি সোলাইমান সুখনের মত হতে পারতাম,আরে বাপরে বাপ কি কথার পাওয়ার, কি মোটিভেশন!শরীরের রক্ত টগবগ করতো কথা গুলা শুনার পর, আর মনে মনে বলতাম আমাকে পারতেই হবে, আমিই পারবো! যাইহোক ভিডিও দেখা শেষ হলেই এসব চিন্তা মাথা থেকে উড়ে যেত!

২.আয়মান সাদিক! তরুণ ছাত্রছাত্রীদের আইডল/ পছন্দের ব্যক্তিত্ব ! (আমারও ছিলো একসময়) অনেক বড় একজন মানুষ! টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইবিএ কমপ্লিট করেছেন! বিশ্বসেরা ভার্সিটিগুলা ওনাকে ডাকে তাদের ভার্সিটির হয়ে কাজ করতে! রানী এলিজাবেথের থেকে একটি এওয়ার্ড পেয়েছেন! অনেক বই লিখেছেন! টেন মিনিট অনলাইন স্কুলের জন্য ভিডিও বানান! এখন দেশের উদীয়মান গুনী ব্যক্তিদের নাম নিলে আয়মান সাদিকের নাম আসে আগে!

৩.হাইস্কুলে পড়াকালীন ক্রিকেট,ফুটবলের প্রতি সেই লেভেলের নেশা ছিলো ! যখন ধানের সিজন শেষ হয়ে যেত, তখন ধানের ক্ষেতে পিচ কেটে মাঠ বানাতাম! (আমাদের এলাকায় কোন পার্মানেন্ট মাঠ ছিলোনা) সকাল থেকে শুরু করে যোহরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কড়া রৌদ্দুরের মধ্যে খেলতাম, আবার বিকালে আসরের পর থেকে শুরু করে মাগরিবের আগ পর্যন্ত খেলতাম! যখন খেলার মাঠ থাকত না তখন সারাদিন ক্রিকেট খেলা দেখতাম! আন্তর্জাতিক থেকে শুরু করে আইপিএস, বিপিএল,সিপিএল সব খেলা লাইভ দেখতাম, হাইলাইটস দেখতাম! 

এমন একটা অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো যে কে কোন ম্যাচে কত রান করত, সব আমার প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছিলো!ফুটবলে তেমন বেশি আসক্ত ছিলাম না! শুধু বিশ্বকাপ,প্রীতি ম্যাচ, আর বার্সার খেলা গুলা দেখতাম! ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যখন ফাইনালে শেষ মূহুর্তে জার্মানির কাছে মারিও গোয়েৎজের একমাত্র গোলে হেরে রানার্স আপ হয়ে যায়! ওইদিন প্রচন্ড মন খারাপ হয়ে গেছিলো! 

কান্না করছিলাম ওইদিন মেসির জন্য, আহারে কাপটা নিতে পারলো না! তারপর আবার ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বাদ! এই বিশ্বকাপে তেমন ঝোক ছিলো না, ২০১৮ তে এসএসসি দিয়ে কলেজে ভর্তি হলাম, মেসে থাকি,টিভি নাই,খেলা দেখবো কোথায়? এভাবেই খেলা দেখার প্রতি ঝোক কমে গেছে! এখন শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচগুলা দেখি।

৪.শামিম হাসান সরকার (ম্যাঙ্গো স্কোয়াড চ্যানেল)যিনি সর্বপ্রথম ইউটিউবে বাংলায় ভিডিও তৈরী করেন! শামিম হাসান ব্যক্তিটাকে আমার খুব ভালো লাগতো! একজন ইঞ্জিনিয়ার, অভিনেতা, দেশ বরেণ্য ইউটিউবার! সব দিক দিয়ে ভালোই, বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর মেজর! উনার ফেসবুক আইডি আমি সি ফার্স্ট করে রাখছিলাম! যেকোন কিছু আপলোড করলেই নোটিফিকেশন আসত,দেখতাম! কয়েকমাস পর পর দেশের বাইরে ফ্যামিলিসহ ট্যুর! ছবি আপলোড করত।ভাবতাম আহ, জীবন! খালি সুখ আর সুখ! জীবনটা উপভোগ শামিম ভায়ের মত মানুষেরা করল, আমরা হুদাই কিছুই পারলাম না!

৫.জুনায়েদ ইভান ভাই! আহ!ভালোবাসার একজন মানুুষ! অ্যাসেজের গান গুলা যা পুরাই জোস! মানুষ বলে, প্রেমে ছ্যাকা খাইলে নাকি মানুষ অ্যাসেজের গান শোনে! হাজার হাজার যুবক পোলাপাইন ইভান ভাইয়ের ফ্যান! ভাই অনেক সুন্দর সুন্দর পোস্ট করে তার পেইজে! আগে শেয়ার দিতাম! কত পোলাপান ভায়ের লগে একটা সেলফি তোলার আশায় আছে এখনো! ( আমারও ছিলো)! যাইহোক ইভান ভাই ব্যক্তি হিসেবে অনেক ভালো!

আমি আপনি যাকে আইডল, প্রিয় ব্যক্তিত্ব,প্রিয় মানুষ ভাবছি? আসলেই কি এদের আইডল, প্রিয় ব্যক্তিত্ব, প্রিয় মানুষ বানানো উচিত ?

সোলাইমান সুখন , যার ভিডিও দেখলে আপনার দুনিয়াবি জিনিসের প্রতি লোভ জেগে উটবে! সুখনসহ যত মোটিভেশনাল স্পিকার আছে সবারই কথায় মনে হবে দুনিয়াই সব, দুনিয়াতেই সব পাইতে হবে, সফল হইতেই হবে!দুনিয়ার সব জিনিস নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকার দিক নির্দেশনা দিবে! আপনি ভুলেই যাবেন, পরকাল বলতে আরো একটা জীবন আছে, অনন্ত কাল সেখানেই থাকতে হবে, জান্নাত- জাহান্নামের ফয়সালা হবে, হবে আসল খেলা! সোলাইমান সুখনকে আল্লাহ কি এজন্যই বানিয়েছিলেন? মানুষকে দুনিয়াবি জিনিসে উদ্ভুদ্ধ করার জন্য? এমন জিনিস ত্যাগ করা উচিত যা আমাদের দুনিয়ার মোহের দিকে ধাবিত করে, আল্লার আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুক!

আয়মান সাদিকের টেন মিনিটের সামির মুন্তাজির সমকামিতা নিয়ে পোস্ট করে ফেসবুকে, সেই পোস্টেই টেন মিনিটেরই আরেকজন সাকিব বিন রশিদ সমকামিতাকে সমর্থন করে!(নাওযুবিল্লাহ)
ইসলামে বলা হয়েছে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড! এদের ভিডিওগুলাতে পর্নস্টারদের নিয়ে কথা বলা হয়! এরা আসলে (টেন মিনিট স্কুল) কি চায়? এরা কি আমাদের এই সমাজে পাশ্চাত্যের অশ্লীল - কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করতে! আল্লাহ মাফ করুক! আল্লাহ এদের হেদায়েত দান করুক! সঠিক বুঝ দান করুক!

আপনি আমি রাত জেগে মেসি- নেইমারের খেলা দেখছি! রাত জেগে খেলা দেখছি আর বলছি মেসি সেরা নাকি নেইমার নাকি রোনালদো? রাত জেগে বলছি ফোর্সা বার্সা, লেওঅনডোস্কির গোলটা দেখ মাথা নষ্ট! নেইমারের দাম ২২২ মিলিয়ন ইউরো,মেসিকে ম্যানচেষ্টার ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে হলেও কিনবে! ওদিকে ফজরের নাম নেই, তাহাজ্জুদের তো প্রশ্নই আসে না! মেসি,নেইমারের শরীরে ইলুমিনাতির ট্যাটু আছে!(ছবি ভাইরাল হইছিলো)জানেন আপনি? এরাই তো দাজ্জালের প্রমোটকারী! 

প্রতিটি ম্যাচে কি পরিমাণ বাজি হয় জানেন আপনি? ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলে এক লক্ষের মত পতিতার আগমন ঘটে !জানেন আপনি? কেনো হয়েছিলো? অনেক মানুষজন দেশ- বিদেশ থেকে আসবে খেলা দেখবে, যখন শুনবে আশেপাশেই হাজারো পতিতা, তখন জিনার মত জগণ্য কাজ করতে আকাংক্ষা জাগতেই পারে ! যেই খেলা জিনার মত কাজকে হাতের কাছে এনে দেয় সেই খেলা হালাল?

  • মোটিভেশনাল পোস্ট
  • Motivational গল্প
  • ছাত্রদের জন্য মোটিভেশনাল কথা


 আপনি এখনও বলবেন ফুটবল খেলা দেখা হালাল? ফুটবল খেলা হালাল তবে সেটা শারীরিক কসরতের জন্য হতে হবে! ক্রিকেটের প্রত্যেকটি বিশ্বকাপে,বিভিন্ন লীগের খেলায় বেশ কয়েকজন বেগানা নারী গ্যালারির আশেপাশের স্টেজগুলোতে উঠে শরীর প্রদর্শন করছে! এগুলা হালাল? ক্রিকেট ফুটবল খেলা মাল্টিপল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে!আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক!

শামিম সরকার, যে নাটক,গান বাজনা সিনেমায় মশগুল! ইসলামে এই সবগুলোই হারাম! জাহান্নামে যাবেই মোটামুটি নির্দিষ্ট করেই বলা যায় এক ব্যক্তিবর্গ, যারা সিনেমা তৈরী করে! শামিম হাসান, আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব সে নিজেও তো নাটকে অভিনয় করে, ইউটিউবে ভিডিও বানায়! তাহলে আমার প্রিয় ব্যক্তিটাও এই দলের মধ্যে চলে আসতেছে!

জুনায়েদ ইভান ভাই গান লেখে,গান গায়!
ইসলামে গান- বাজনা, বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ রূপে হারাম! গান বাজনা অন্তরে মুনাফিকি সৃষ্টি করে! মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য তিনটি! ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে,২. ওয়াদা ভঙ্গ করে,৩.আমানতের কিয়ায়ত করে! ইভান ভাইসহ আরো সকল সংগীত শিল্পীরা নিজেরাও তো অন্তরে মুনাফিকি সৃষ্টির কাজ খুব সুন্দর করে চালিয়ে যাচ্ছে, নিজেরা পাপ কামাচ্ছে, আবার যারা শুনছে তাদেরও অন্তরে মুনাফিকি সৃষ্টি হচ্ছে! এদের হারাম কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সংগীতশিল্পীদের সদকায়ে জারিয়া হিসেবে আমলনামায় গুনাহ যুক্ত হচ্ছে!

এখন নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি,নিজের র্যাশোনাল মাইন্ডকে জিজ্ঞাসা করি, আমি একজন মুসলিম! আমি যাদের আইডল মানি, যে সব কার্যক্রমকে ভালোবাসি তা কি ইসলাম সমর্থন করে?
যেই সুখনের কথা শুনলে দুনিয়াবি জিনিসের ওপর লোভ জন্মায় আমি কেন সেই কথা শুনবো! আমি মুসলিম, আমার লোভ থাকবে জান্নাতে যাওয়ার প্রতি!
যেই আয়মান সাদিকের দল সমকামিতাকে সমর্থন করে আমি কেনো তাদের আইডল মানবো! আমি কেনো তাদের ভিডিও দেখবো? আমি মুসলমান! আমার উচিত যেকোন কাজে পরিশ্রম করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া নিশ্চয়ই তিনি সাহায্য করবেন! আমার মোটিবেশনের দরকার নেই!

আল্লাহ তাআলা কুরআনের একটি আয়াতে বলছেন,
"হে মুমিনগণ ,ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও 
নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
-সূরা আল-বাকারাহ,আয়াঃ-১৫৩

আমার মোটিভেশন কেনো লাগবে? আমার আল্লাহর কাছে চাইতে কিসে বাধা দেয়? যেই আয়মানের দল সমকামিতাকে সমর্থন করে তাকে বর্জন করাই শ্রেয়, কারণ আমি মুসলমান! যেই মেসি নেইমার ইলুমিনাতির সদস্য, যারা নাকি দাজ্জালকে প্রমোট করে আসছে তার খেলা আমার কেনো দেখা লাগবে? তার ভক্ত হওয়া লাগবে কেনো? তাকে নিয়ে তর্ক বির্তক করা লাগবে কেনো?

যেই শামিম হাসান সরকার সবসময় গান, বাজনা, নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম তাকে আমার পছন্দের ব্যক্তিত্বের তালিকায় কেন রাখবো? তার কাজকে ঘৃণা করে তাকে বর্জন করাই শ্রেয়, কারণ আমি মুসলিম!

যেই জুনায়েদ ইভান গান বাজনার মত স্পষ্ট হারাম কাজে সবসয়ম লিপ্ত থাকে তাকে কেনো আমি আইডল মানবো? কেনো তাকে পছন্দের ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান দিবো? তার গান-বাজনা সহ তাকে বর্জন করাই আমার জন্য শ্রেয়, কারণ আমি মুসলিম!

ফেসবুকের বায়োতে "আই এম প্রাউড বিকজ আই এম মুসলিম", "আমি ভাগ্যবান কারণ পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্মের মধ্যেও আমার ধর্ম ইসলাম" ইত্যাদি ইত্যাদি বায়ো দেওয়াই মুসলমানের পরিচয় না! আমরা ঠিক কোন এঙ্গেল থেকে এগুলা বলি? আমরা কোন এঙ্গেল থেকে নিজেকে মুসলমান দাবি করি? মোডারেট মুসলিম হয়ে কোন লাভ নাই! 

পারলে প্র্যাকটিসিং মুসলমান হওয়ার চেষ্টা করি সবাই,দ্বীনের পথ থেকে বিমুখ, পথভ্রষ্ট প্রিয় ব্যক্তিত্বগুলাকে পছন্দের তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলি! ইসলাম বিমুখ কোন সেলিব্রিটিকে আইডল/ প্রিয় ব্যক্তিত্ব মানার চাইতে সদ্য দ্বীনে ফেরা একজন ভাই/ বোনকে অনুসরণ করাই শ্রেয়!

আল্লাহ সুবাহান ও তাআ'লা আমাদের দ্বীনের সুস্পষ্ট জ্ঞান দান করুক,হেদায়েত দান করুক! দ্বীনের পথে অটল থাকার তৌফিক দান করুক! (আমিন)
রাকিবুল ইসলাম সাগর.
Powered by Blogger.