ইসলামে সহশিক্ষা, বাইরে চাকুরী করা

ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের চাকরি করা ও সহশিক্ষা ও ইসলাম। মুনাফিক মোডারেট আধুনিক মুসলিমদের প্রতারনা 

ছবিঃ প্রতীকী 


 ১. উস্তাযাদের কাছে পুরুষ ছাত্ররা শিখতে যেত এবং ভাইস ভার্সা। সুতরাং সহশিক্ষার বিরুদ্ধে নয় ইসলাম।

২. বদরে উহুদে আম্মাজান আয়িশা রা. এর নেতৃত্বে নারীরা আহতদের সেবা করেছে। সুতরাং ডাক্তার, নার্স ইত্যাদি পেশা ইসলামসম্মত। আর্মিতে মেয়েদের চাকরি ইসলাম অনুমোদন দেয়।
৩. আম্মাজান আায়িশা উট চালাতেন, অতএব মেয়েদের ড্রাইভিং ইসলাম সমর্থন করে।
৪. উসমান রা. এর খলীফা হবার আগে জনে জনে মত দেয়া হয়েছে। সুতরাং ইসলাম গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা সমর্থন করে।
৫. মুসলিম নারীরা স্কলার হয়েছে। সুতরাং মেয়েদের স্কুলে-কলেজ-ভার্সিটিতে পড়তে বাধা দেয়ার তুমি কে? ইসলাম মেয়েদের সে অধিকার দেয়।
৬. মদীনায় সকল ধর্মকে সমান স্থান দিয়ে রাষ্ট্র হয়েছে। সুতরাং সেকুলারিজম ইসলামসম্মত।

উপরের উদাহরণ ও যুক্তিগুলোর ভিতরে একটা বড় ফাঁক আছে, যা ইসলাম-মনা অনেকেই ধরতে পারে না। সেকুলার চিন্তাধারার মানুষ তো দূরে থাক। ১ নং উদাহরণটা এলাবোরেট করা যাক।

সহশিক্ষা কি জায়েজ? ইসলামে নারীর পেশা

১ক) উস্তাযাদের কাছে পুরুষ ছাত্ররা শিখতে যেত এবং ভাইস ভার্সা। শরয়ী ইলম, তাকওয়াবান বয়েসী শাইখার কাছে ইলমওয়ালা, তাকওয়াবান ছাত্ররা শিখতে যেত। সেখানে শরয়ী সীমারেখা অবশ্যই মেনে চলা হত। পাঠদানের নানান পদ্ধতি ছিল। কিছু পদ্ধতিতে তো শাইখার মিনিমাম হস্তক্ষেপ দরকার হত। যেমন 'সামাআ' পদ্ধতিতে ছাত্র পড়ে যাবে, উস্তাযা শুধু শুনবেন, ভুল হলে ঠিক করে দেবেন। নিজেও দিতে পারেন, মাহরাম কাউকে দিয়েও ঠিক করিয়ে পারেন। এরকম নানান রকম পাঠদান প্রক্রিয়া ছিল, যাতে আজকের 'লেকচার' এর মত চেহারা দেখানো বা মিক্সিং দরকার হতো না।


আম্মাজান আয়িশা রা. এর পাঠদানের ব্যাপারে বলা হয়: পুরুষ ছাত্রদেরকে তিনি মাহরাম ভাগিনা উরওয়া রহ. এর মাধ্যম দিয়ে পড়াতেন। যদি মুখোমুখি হওয়াও ধরে নিই, ইলম-তাকওয়ায় ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাই সে যুগে শীর্ষস্থানীয়। ( পর্দা থাকতো মাঝে) 

১খ) বর্তমান সহশিক্ষা পশ্চিমায়ন এজেন্ডা। নারীবাদী এজেন্ডা, সহশিক্ষা নারীর প্রতি বৈষম্য কমাবে। জেলায়-উপজেলায় মহিলা কলেজ থাকা সত্ত্বেও সেখানে সীট না বাড়িয়ে সহশিক্ষা প্রোমোট করা হচ্ছে। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে একসাথে ক্লাস, গ্রুপ স্টাডি, ওঠাবসা চলছে, এমনকি সরকারি মাদরাসাতেও ।

 পড়ছে সেকুলার ধর্মবিদ্বেষী কারিকুলাম। আসলে সহশিক্ষার ফলাফল কী, সেটা আমাদের চোখোর সামনে। না দেখার ভান করলে ভিন্ন কথা। অথচ আলাদা রাখাটা কোনো বিষয়ই ছিল না, উপজেলা পর্যায়ও সেই অবকাঠামো আছে। মেয়েদের জন্য মেয়ে, ছেলেদের জন্য ছেলে শিক্ষক রিক্রুট করাটা কোনো বিষয়ই ছিল না। এরপরও সহশিক্ষা বাড়ানো হচ্ছে, কারণ বিদেশের চাপ আছে।


ছাত্রী-শিক্ষক অঘটন অহরহ ঘটছে। একটা ভিডিও দেখলাম মাঝে, স্যার ছাত্রীর মুখে গলায় হাত বুলিয়ে যত্নসহকারে পড়াচ্ছে। পরিমল এর মতো আরও কতশত ঘটনা #MeToo এর মাধ্যমে জানা গেল। পর্নোসাইট ভর্তি 'শিক্ষিকা-ছাত্র' পর্নো দিয়ে। বয়স্ক মহিলা আর তরুণ পুরুষের পর্নো দিয়ে। কিশোর বেলায় প্রথম ক্রাশ নাকি থাকে শিক্ষিকা, এটা আবার সাহিত্য-সিনেমারও টপিক।

১গ) সুতরাং ইসলামে সহশিক্ষা অনুমোদিত। ইসলাম এতো কঠিন না।

১ক+১খ থেকে ১গ সিদ্ধান্তে আসা গেল? এভাবে প্রতিটি পয়েন্টেই আমাদের যুক্তিগুলো এমন হাস্যকর হয়ে যায়। ইসলামের যে উদাহরণ টানা হয়, তা এক ভিন্ন দর্শনের, ভিন্ন প্রেক্ষাপটের, ভিন্ন উদ্দেশ্যের, চরিত্রগুলো ভিন্ন। আর বর্তমানে মেয়েদের ক্যারিয়ার, ড্রাইভিং, সহশিক্ষা এগুলোর দাবি ভিন্ন দর্শনের, ভিন্ন চরিত্রের, ভিন্ন উদ্দেশ্যের। 

এসব যখন আপনারা ইসলামপন্থীরা বলেন, শয়তান আর পশ্চিমা দোসররা হাসে: এরাই তো আমাদের কাজ করে দিচ্ছে। এসবের পিছনে নারী বৈষম্য বিলোপ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীমুক্তি, স্বাবলম্বনের মত মুখরোচক কিন্তু শরীর-মন-পরিবার-সমাজ বিধ্বংসী কিছু পুঁজিবাদী-নারীবাদী পশ্চিমা এজেন্ডা। আরব খৃষ্টানদের মুখে 'আল্লাহ' শুনে খুশি হবেন না। তাদের আল্লাহর ভিতর যীশুও শামিল। তারা যখন বলে, তখন আপনার 'আল্লাহ' বলে না, অন্যকিছু বলে, যা আপনার ঈমান নিমেষে কেড়ে নেয়। না বুঝলে তেজপত্র।

এতো কথা তো পোস্টে লেখা যায় না। বিস্তারিত জানতে পড়ুন:
১. চিন্তাপরাধ (আসিফ আদনান)
২. হিউম্যান বিয়িং (ইফতেখার সিফাত)
৩. ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২.০ (বান্দা)

সমাধান কি? সামগ্রিক অস্থিরতার চিকিৎসাও সামগ্রিক। সমস্যা আলোচনাটা সমাধান বুঝার আগের ধাপ। আজকের বোনেদের যত সমস্যা সব সিস্টেমের কারণে। সমস্যাকে সামগ্রিকভাবে পড়তে হবে।

- শামসুল আরেফিন শক্তি 

Powered by Blogger.