বাংলাদেশে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট ও অসহায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ মূলক প্রোপ্যাগান্ডা

বাংলাদেশে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্টকে আড়াল করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোহিঙ্গা বিরোধী সেন্টিমেন্ট জাগ্রত করার চেষ্টা চলছে!



প্রিয় পাঠকগণ ! আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে সম্প্রতি ভারতে একটি নাগরিকত্ব বিল পাশ করা হয়েছে যার দ্বারা ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে মুসলিম ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি নির্যাতিত হয়েছে দাবী করে ভারতে আসে তাহলে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। মুসলিম ব্যতীত অন্য ধর্মীয় মানুষদেরকে যুক্ত করলেও বিলটি যে পাশ করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশের হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য তা বলাই বাহুল্য।


এখন চিন্তার বিষয় হলো মুশরিকদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা এতটাই যে তারা চায় না যে তাদের ধর্মের কোন মানুষ কোনভাবে অসুবিধায় পড়ুক। একই চেতনা দেখা যাবে ইহুদীদের ক্ষেত্রেও।


কিন্তু খুবই কষ্টের বিষয় হলেও সত্য যে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের নির্যাতিত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। কিন্তু তাদেরকে তাড়াতে ব্যতিব্যস্ত বাংলাদেশের মানুষ!


অথচ বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসরত ১১ লাখের বেশি ভারতীয় হিন্দুদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ একেবারেই নীরব যে হিন্দুরা বাংলাদেশে অবৈধভাবে থেকে টাকা ও সম্পত্তি পাচার করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে।


আমরা যদি বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী ভারতীয় হিন্দুদের কথা বাদও দিই, বাংলাদেশের নাগরিক হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে টাকা ও সম্পত্তি পাচার করে ভারতে। তাদের একটা বিরাট অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিকত্ব উপভোগ করে। তাদের বেলায় কেন নীরব বাংলাদেশের মানুষ ?


কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ?

আজকে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষদেরকে উস্কানি দিচ্ছে রোহিঙ্গা বিতাড়নের জন্য। অনেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য সমগ্র রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠী কে গালি দিচ্ছে। তারা একটু ভেবে দেখে না, এই নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আজকে ৭০টি বছর ধরে সর্বপ্রকার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।


বর্মী জান্তা সরকার তাদেরকে সর্বপ্রকার নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তারা ক্রাইম এর সাথে জড়িয়ে যায়। মনোবিজ্ঞান বলে সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায় এমনিতেই আত্মগ্লানি থেকে অপরাধপ্রবণতায় পর্যবসিত হয়ে থাকে।


আজকে রোহিঙ্গারা বৈদেশিক ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তে উৎখাত হয়েছে বলে আমরা কিছু কিছু অতি উৎসাহীদেরকে দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গা বিতাড়নের ডাক দিচ্ছে। কিন্তু এরা ভেবে দেখেনা যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদের পূর্বপুরুষরাই শরণার্থী হিসেবে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিল। কি হতো সেদিন যদি আশ্রয় না পেতো?


বাংলাদেশের যা রাজনৈতিক অবস্থা সেদিন দূরে নয় যে বাংলাদেশ কেও রোহিঙ্গাদের মতো পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হতে পারে। মোটেই অসম্ভব নয় !


আপনারা অবগত আছেন যে রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীদের গণহত্যা করা হয়েছে মায়ানমারে। রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করা হয়েছে সেখানে। তাদের সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ঘর বাড়ী সম্পত্তি মসজিদ গ্রাম সবই জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।


এবার আপনারা বলুন, কোন মুখে এই নির্যাতিত জনগোষ্ঠী'কে বের করে দেয়ার কথা বলেন আপনারা। কয়েকদিন পর বিদেশি এজেন্টরা যখন আপনাদেরকে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দিবে দেশান্তরী করবে তখন কোথাও আশ্রয় পাবেন তো?


নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে সারা পৃথিবীর মুসলমান একটি শরীরের মতো। কোন একটি অঙ্গ আক্রান্ত হলে যেমন সমস্ত শরীর অসুস্থ হয়ে যায়, তেমনি ভাবে একজন মুসলমান আক্রান্ত হলে সমস্ত মুসলমানরা আক্রান্ত হয়।


মুহম্মদ বিন কাশিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভারত আক্রমণ করেছিলেন একজন মাত্র নির্যাতিত নারীর কারণে।

আজ অগণিত নির্যাতিত ও ধর্ষিত রোহিঙ্গা নারীদের কথা জেনেও আমরা তাদের বিতাড়িত করতে চাই।


আমরা কেন সেই শিক্ষা গ্রহণ করলাম না?

আমাদের এই ধরণের আচরণ আমাদেরকে হিন্দুদের চাইতেও খারাপে পরিণত করে। কারণ ভারতীয় হিন্দুরা কিন্তু ঠিকই রোহিঙ্গা হিন্দুদের গ্রহণ করেছে, তাড়িয়ে দেয় নি।
- Bahaudiin Kabir

Powered by Blogger.