দারুল উলুম দেওবন্দ ও হাটহাজারী মাদরাসার আন্দোলনেঃ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। আবার পাপে বাপকেও ছাড়ে না

আজকের হাটহাজারী আন্দোলন দেওবন্দ থেকে নিয়ে এখন..........! 


[১]
২০১১ সালের কথা। দারুল উলুম দেওবন্দের সফল মুহতামিম মাওলানা মারগুবুর রহমান কাসিমি রহ. ইনতেকাল করেন। দেওবন্দের শুরা কমিটি মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি সাহেবকে মুহতামিম নিয়োগ করে। 

এই গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দের একজন গুরুত্বপূর্ণ শুরা সদস্য। ভারতের একজন পরিচিত আলিমে দীন। মুম্বাইয়ের আক্কেলপোয়ায় তার নিজের বিশাল একটি মাদরাসা আছে। যেখানে ১০-১২ হাজার ছাত্র লেখাপড়া করে। তবে তার মাদরাসাটি বেশ আধুনিক। 

দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম নিয়োগ হয়ে থাকেন শুরা সদস্যদের থেকে অধিক যোগ্য কেউ একজন। সেই হিসেবে গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবিকে অধিক যোগ্য বিবেচনা করে মুহতামিম নিয়োগ দেওয়া হয়। 

তবে সমস্যা ছিল এক জায়গায়। গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি সাহেবের চিন্তাধারা অনেকটা দেওবন্দি চিন্তাধারার সাথে খাপ খেত না। তিনি ছিলেন বেশ আধুনিকমনস্ক। এজন্য দারুল উলুমের প্রায় বেশিরভাগ আসাতিযা তার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না। কিন্তু যেহেতু শুরা কমিটি তাকে মুহতামিম নিয়োগ দিয়েছে, সেহেতু এটা অমান্য করারও কোনো সুযোগ ছিল না।

দারুল উলুম দেওবন্দের রেওয়াজ হলো, যখন নতুন কেউ মুহতামিম নিয়োগ হন, তখন মসজিদে রশিদে ছাত্র-উস্তাদদের একটি মজলিসের আয়োজন করা হয়। সেখানে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মুহতামিম সাহেব স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সিনিয়র উস্তাদগণও সম্ভাষণমূলক বক্তব্য রাখেন। বাস্তানবি সাহেব মুহতামিম হবার পরও সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। 

কিন্তু যেহেতু গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি সাহেব ছিলেন অনেকটাই আধুনিকমনষ্ক; আবার তার চিন্তাধারা অনেকটাই দেওবন্দি চিন্তাধারার সাথে মিলে না; সেহেতু তিনি স্বাগত বক্তব্যে তার আধুনিকমনস্কতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন করার উদ্যোগের কথা বলেন।

তার বক্তব্যের পর সর্বপ্রথম বক্তব্য রাখেন দারুল উলুমের সিনিয়র মুহাদ্দিস, উস্তাদে মুহতারাম হজর‍ত মাওলানা রিয়াসত আলি বিজনুরি রহ.। তিনি বক্তব্যে মুহতামিম সাহেবের চিন্তাধারার জবাবি বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন আরেকজন সিনিয়র মুহাদ্দিস, উস্তাদে মুহতারাম হজরত মাওলানা আরশাদ মাদানি দা.বা.। তিনিও তার বক্তব্যে মুহতামিম সাহেবের চিন্তাচেতনা ও উদ্যোগের শক্ত প্রতিবাদ করেন। 

ব্যস, এরপর থেকেই দারুল উলুমে একটা চাপা গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। তোপের মুখে পড়েন মুহতামিম সাহেব। ছাত্ররা বুঝতে পারে- আসাতিযাগণ সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মুহতামিম সাহেবের ওপর সন্তুষ্ট নন। তার হাতে দেওবন্দি চিন্তাচেতনা নিরাপদ নয়। এই চাপা গুঞ্জন বাড়তেই থাকে। একসময় তা ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়। 

২০১১ সালের জুলাই মাস। গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি মুহতামিম হবার মাত্র সাতমাস চলে। একদিন হঠাত করেই দারুল উলুমের প্রায়সব ছাত্র আন্দোলনে নেমে পড়ে। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মুহতামিমকে বরখাস্ত করার জন্য তারা জোর দাবি জানাতে থাকে। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বে না বলেও শ্লোগান দেয়। এমনকী তারা ক্লাস করা বর্জন করে। 

শেষমেশ আর কী করা, ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে দেওবন্দের মুহতামিম গোলাম মুহাম্মাদ বাস্তানবি সাহেবকে অব্যাহতি দেওয়া হয় কিংবা তিনি নিজেই ইহতিমামের পদ ছেড়ে দেন। এরপর অস্থায়ীভাবে মাওলানা আবুল কাসিম নুমানি দা.বা.-কে মুহতামিম নিয়োগ দেওয়া হয়। দেওবন্দে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। যদিও পরে আবুল কাসিম নুমানি সাহবেকে স্থায়ীভাবে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়।

[২] 
মাওলানা আনাস মাদানি সাহেবকে বহিষ্কার করার জন্য এবং আরও কিছু যৌক্তিক দাবিদাওয়া আদায় করার জন্য হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা কঠোর আন্দোলনে নেমেছে, তার পুরোপুরি মিল রয়েছে দেওবন্দের ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে। যদিও প্রেক্ষাপটের সাথে মিল নেই; কিন্তু উভয় আন্দোলনের পন্থা ও উদ্দেশ্যে পুরোই মিল রয়েছে। উভয় আন্দোলনের উদ্দেশ্য হলো মাদরাসার স্বকীয়তা বজায়করণ এবং সার্বিক কল্যাণকামিতা। 

সেই হিসেবে হাটহাজারী ছাত্রদের আজকের এই আন্দোলন কোনো ভিত্তিহীন আন্দোলন নয়। এর শেকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের চেতনার বাতিঘর, মাদরে ইলমি দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে। এটা বিদ্রোহ বা হঠকারিতা নয় মোটেও; এটা নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং মাদরাসার ভবিষ্যৎকে স্বার্থান্বেষী মহলের কালো হাত থেকে বাঁচানো। 

দেওবন্দের ছাত্ররাও তখন 'মুহতামিম খেদাও' আন্দোলনে নেমেছিল, আজকে হাটহাজারীর ছাত্ররাও এখন 'আনাস খেদাও' আন্দোলনে নেমেছে। দেওবন্দ তখন ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কোনোরূপ বাধা দেয়নি। বরং তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। দেওবন্দের অনুসারী হিসেবে হাটহাজারীর কর্তৃপক্ষেরও উচিত ছাত্রদের যৌক্তিক ও কল্যাণকর এসব দাবি মেনে নেওয়া। 

তবে ছাত্রদের এ আন্দোলন হতে হবে সম্পূর্ণ ইখলাসপূর্ণ। যেকোনোপ্রকার ব্যক্তিস্বার্থ থেকে মুক্ত। সম্পূর্ণ দীনের জন্য হতে হবে। আল্লাহর জন্য হতে হবে। এবং সব প্রকার বাড়াবাড়ি ও বেয়াদবিমূলক শ্লোগান ও আচরণ থেকেও মুক্ত। কারণ, এই আন্দোলনে শরিকদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ মাওলানা আনাস মাদানি সাহেবের কাছে সবক গ্রহণ করেছেন। 

[৩] 
সত্য যখন আসে, মিথ্যা তখন পলায়ন করে। বস্তুত, সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। কারণ, সত্যকে বেশিদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। আবার মিথ্যাকেও বেশিদিন পেলেপুষে বড় করা যায় না। মিথ্যা যখন জুলুমে পরিণত হয়, সত্য তখন বিক্ষোভে পরিণতি লাভ করে। আজকের হাটহাজারী আন্দোলন সেটারই চাক্ষুষ প্রমাণ। 

কওমি অঙ্গণে ঘাপটি মেরে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, অসাধুতা, স্বার্থপরতা ও কুচক্রের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে কওমিয়াতের স্বকীয়তাকে দুপয়সার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে, তাদের জন্য আজকের আন্দোলন অশনিসংকেত। এখনও সময় আছে, তারা যেন শুধরে যায়। নইলে ভবিষ্যত প্রজন্ম কেন; বর্তমান প্রজন্মের কাছেই তারা নব্য আবুল ফজল বলে চিরস্মরণীয় হয়ে রইবে। 

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। আবার পাপে বাপকেও ছাড়ে না। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। তবে আফসোস, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না!
আইনুল হক কাসিমী

কিছু কথা, কিছু ব্যাথা:

টানা ৪৮ ঘন্টা পর মাত্র আড়াই ঘন্টা ঘুমিয়ে ঘুম থেকে উঠে লিখতে বসেছি বাধ্য হয়ে, কারণ এ দুইদিনে আজ একটু ফেসবুকের নিউজ ফীড ঘুরে দেখলাম। বহু পল্টিবাজের চেহারা দেখতে পাচ্ছি, অনেক সুবিধাবাদী চক্রকে দেখতে পাচ্ছি। তাদের নিয়ে কিছু কথা বলে রাখি।

এক.
পুরো আন্দোলন চলাকালে আমার এবং আমাদের উপর প্রশাসনিক প্রেশারের চেয়ে সুশীল আলেম ও বিশেষ একটি কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের কর্মী-সমর্থকেরা মানসিক নির্যাতন করে গেছেন প্রতিনিয়ত, এসত্য উচ্চারণ করতে আমি বিন্দুমাত্র পরওয়া করবোনা। তাদের পোষ্ট ও কমেন্টগুলো আমাকে অনেকেই দেখিয়েছেন, তারা আমাকে অনুরোধ করেছেন দু' কলম লিখুন, আমি তাদেরকে বলেছি বলতে দিন ওদেরকে,
খাসলাতুন্ নেফাক নিয়ে ওরাই সুবিধার দিনে শায়খের দু'আর বরকতের ক্রেডিট নিয়ে বরাবরের মত হাজির হবে, ঠিক হচ্ছেও তাই!

দুই.
এখন একশ্রেনীর অতিউৎসাহী লোকের আবির্ভাব হয়েছে যারা এমন ভাব নিচ্ছেন যে, তারাই সব করে উল্টে ফেলেছেন, উলামায়ে কেরামকে নিয়ে মুখে যা আসছে তাই লিখে যাচ্ছেন!
একটা কথা সাফ যে, আমাদের সাথে বিশেষ করে আমার সাথে কোন শীর্ষ আলেমের যোগাযোগ ছিলোনা এবং এমনকি আজও পর্যন্ত নেই, বারবার বলে আসছি যা করছি একক নিজের বুদ্ধি বিবেককে কাজে লাগিয়ে। আমি কোন সংঘবদ্ধচক্রেও নাই, যাষ্ট আন্দোলনে যারাই আমাদের সহযোগী সবাইকেই আপন মনে করি।
অতএব কেউ কারো উপর দোষ চাপিয়ে কিংবা ক্রেডিট দেখাতে অতিউৎসাহী হয়ে বানোয়াট কল্পিত কাহিনী বলতে আসবেন সেটাকেও যেমন প্রত্যাখ্যান করবো তেমনি যারা আমাদের উস্তায এবং উস্তাযতুল্য উলামায়ে কেরাম নিয়ে উপহাস ও বিদ্রুপ করে যাবেন তাদের সাথেও আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক নাই।

কিভাবে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের মুরুব্বীদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে তা বললে আপনাদের বিশ্বাস হবে কিনা জানিনা, ঘটনা প্রবাহে অনুমান করে নিন। তবে হ্যাঁ, কেউ সাহস করে সব চাপ উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে কথা বলতে পেরেছেন কেউ আড়ালে মনের ব্যাথায় তাঁর সাধ্যের মধ্যে করেছেন। কিন্তু আমাদেরকে বিদ্রুপাত্মক কিছু বলেননি, যারা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনকে শুরু থেকে এ পর্যন্ত মৌন সমর্থন দিয়েগেছেন মোবারকবাদ তাঁদের প্রতিও।

আমাদের অবশিষ্ট জাতীয় দাবিগুলোও তারা অতিসত্ত্বর বাস্তবায়ন করে সদ্য সৃষ্ট ভুলবোঝাবুঝিরও অবসান ঘটাবেন ইনশাআল্লাহ্ এই আশাবাদ ব্যাক্ত করি। একটা কথা পরিস্কার বলে রাখি আমরা বারবার সময়মত পদক্ষেপ নিতে ব্যার্থ হই বলে অন্যকেউ সুযোগে সদ্ব্যবহার করে উস্কানি দেওয়ার রাস্তা পায় এবং ছোট্ট বিষয়গুলো অনেক বড় হয়ে দাড়ায়।

আরো অনেক কথা অনেক বিশ্লেষণ জরুরী ছিলো বটে তবে চোখে প্রচন্ড ঘুম, ব্রেনেও তেমন কাজ করছেনা, উপরে কতটুকু মনের ভাব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি তাও জানিনা। কেউ ইমার্জেন্সী প্রয়োজন ছাড়া ইনবক্সে বিরক্ত করবেননা আশাকরি। শারীরিক ও মানসিকভাবে একটু সোজা হয়ে নেই তারপর ইনশাআল্লাহ্ আরো তাফসীল লিখবো।

আমার শেষ পয়গাম:
আমরা মুরুব্বীহারা নই, আমরা বেয়াদবও নই। অতএব মনে যা আসলো তাই বলা থেকে বিরত থাকি।
মুরুব্বীদের কাছেও আরয্ তাঁরা যেন অতিসত্ত্বর অবশিষ্ট জাতীয় সমস্যাগুলো নিরসন করার ব্যাপারে তৎপর হন নতুন কোন বিস্ফোরণের পূর্বে।

আল্লাহ্ তা'য়ালা সকলের জন্য কল্যাণের ফায়সালা করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।।

𝑼𝒔𝒂𝒎𝒂 𝑴𝒖𝒉𝒂𝒎𝒎𝒂𝒅


কে মুহতামিম হবেন বা নায়েব হবেন এসব ঠিক করা আমার-আপনার দায়িত্ব নয়:

আমরা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জন্য আন্দোলন করিনি, আমরা তার কথা কিংবা পরামর্শ তো দূরে থাক সমর্থন নিয়েও আন্দোলন করিনি। এমনকি তিনিও আন্দোলনকারীদের তীব্র বাধার মুখে পড়ে কঠিন পরিস্থতির শিকার হয়েছিলেন,পরিস্থতির কারণে তাঁকে দুপুরের খাবার সন্ধ্যায় খেতে হয়েছিলো। কঠিনভাবে অবরুদ্ধ ছিলেন আন্দোলন চলাকালীন উভয়দিন।
এসব নিয়ে পরে কোন একসময় তাফসীল লিখবো ইনশাআল্লাহ্।

তারপরও হলুদ মিডিয়া এবং দালাল গং যেভাবে বাবুনগরী বাবুনগরী জিগির তুলে মিথ্যাচার করে কালারিং করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এরপর আবার কতিপয় আবেগী ভাই তাঁকে মুহতামিম বানানোর দাবী নিয়ে ফেসবুক পোষ্টের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন এটা মোটেও কাম্য নয়। এটা একধরনের আসাবিয়্যাত ও ব্যাক্তিপূ্ঁজা। আমাদের বর্তমান সমস্যাগুলো সৃষ্ট এখান থেকেই। আমরা স্পষ্ট বলে দিয়েছি যে, শূরা যা সিদ্ধান্ত নিবে তাই হবে। শূরা যোগ্য কারো হাতে মাদরাসার দায়িত্বভার তুলে দিলেই আলহামদুলিল্লাহ্। সেটা মাদরাসার ভিতর থেকেও হতে পারে আবার দারুল উলূম দেওবন্দের মতো বাহিরের কেউ মুহতামিম হলে হতে পারেন। ব্যাক্তি বিশেষের প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র কোন টান নেই।

শুরা বসে যা করবে, আমরা তাই মেনে নিবো ইনশাআল্লাহ্। অনর্থক ফেসবুক প্রচারণা বন্ধ করি। এটা সবার জন্যই কল্যাণকর।

𝑼𝒔𝒂𝒎𝒂 𝑴𝒖𝒉𝒂𝒎𝒎𝒂𝒅


Powered by Blogger.