দাড়ি টুপি জঙ্গির আলামত ও মানসিকভাবে পরাজিত আমাদের মুসলিম সমাজ

দাড়ি রাখলে কিংবা গান/ হারাম বাদ দিলে তুমি জঙ্গি তোমার চাকরি হবে না, অযথা প্রমান ছাড়ায় জঙ্গির মামলা খাবা! 


আজ সকালে ফেসবুকে পরিচিত এক ছোট ভাই পরামর্শ চেয়ে মেসেজ দিলেন। তাঁর মেসেজের মূল কথা হলো, তাঁর মুখে সদ্য দাড়ি উঠেছে এবং সে দাড়ি রাখতে চাচ্ছে... কিন্তু পরিবারের কথা হলো এ বয়সে দাড়ি রাখা যাবে না, দাড়ি রাখলে ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়া যাবে না, পরিবার থেকে আরো নানা সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল থেকে তার মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, এবং সে দাড়ি কাটার আগ পর্যন্ত কিছু খাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন। তার বাবাও দাড়ি কাটার জন্য চাপ দিচ্ছে , এ পরিস্থিতিতে তাঁর করণীয় কি ভাইটি জানতে চাচ্ছেন।

যে ছোট ভাই এই মেসেজটি দিয়েছে, সে এখনো স্কুলের দরজা অতিক্রম করেনি, তার আগেই দীন পালনে এতো কঠিন চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে। (আল্লাহ তায়ালা তাঁর দীনের উপর চলা সহজ করে দিন, তাঁর মর্যাদা উন্নতি করুন) তাঁর কথায় যতটা বুঝতে পারলাম তাঁর বাবা-মা কেউই রাসূল বিদ্বেষ বা সুন্নাহ বিদ্বেষের যায়গা থেকে এরকম কথা বলছেন না। 

তারা মূলত বলছেন ভয় থেকে, আতঙ্ক থেকে, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এসব কথা বলছেন। তাদের মধ্যে ধারণা কাজ করছে দাড়ি টুপি তথা ইসলামী লেবাস ধারণ করলে ভবিষ্যতে নানাঝুঁকি ঝামেলা পোহাতে হবে। কাঙ্খিত ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব হবে না। এছাড়া বিপদও হতে পারে।

তাদের ধারণা কতটুকু মূলক আর অমূলক সে প্রসঙ্গে আলাপের আজ ইচ্ছে নেই। তবে এরকম চিত্র শুধু একটি পরিবারের না, সারা দেশেই এ চিত্রটি বিরাজমান। ইসলামের বিরুদ্ধে দশকের পর দশক জুড়ে যে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হয়েছে তার প্রতিফল হচ্ছে এই অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা। 

সাধারণ পরিবার থেকে দীনের পথে উঠে আসা কোন ছেলেরা দাড়ি রাখতে চাইলে বা কোন বোন শারয়ী পর্দা করতে চাইলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক টর্চারের পাশাপাশি শারীরিক টর্চারের ঘটানাও ঘটে। বোনদের জন্য তো পরিস্থিতি আরো কঠিন হয় অনেক সময়।

এটাতো গেলো কেবল পরিবারের বাঁধার কথা, এ ধাপ পার হবার পর নানা কটুক্তি ফেস করতে হয় বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত পরিমণ্ডল থেকে। শুনতে হয় নানা খোঁচা দেয়া কথা, কিরে জঙ্গি হয়ে গেলি নাকি! চুলকায় না! ভণ্ড! টুপির নিচে শয়তান থাকে! ইত্যাদি আর বোনদের বেলায় যুক্ত হয় কীরে তোর গরম লাগে না! নিনজা প্রভৃতি। এরপর নানা কর্তাব্যক্তিদের মিশ্র অভিব্যক্তি তো আছেই।

ইসলামী কৃষ্টি কালচারের বিরুদ্ধে যে প্রোপাগান্ডা চলে আসছে তার বীভৎস প্রতিফলের এসব ক্ষুদ্র খণ্ড চিত্র মাত্র। আর এই প্রোপাগান্ডায় অবচেতনে অনেক মাদ্রাসা শিক্ষিত বক্তাদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। যখন কোন মৌলভি সাহেব 'তাদের' সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলেন মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয় না, জঙ্গি তৈরি হয় কলেজ ভার্সিটিতে।

 তখন কলেজ ভার্সিটিতে পড়েও যারা দীন পালন ও প্রচারের চেষ্টা করছেন তাদের অবস্থাটা কী হয় একবার ভেবে দেখার ফুরসৎ হয়তো এই মৌলভী সাহেবরা পান না।[একটা ছেলে কিসের দাবিতে জঙ্গী হয়ে যাচ্ছে সে প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে কোথায় বেশি জঙ্গি তৈরি হয় এ নিয়ে বিতর্ক উদ্দেশ্যমূলক ও ক্ষতিকর মনে করি] যারা আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থেকে ইসলাম চর্চা পছন্দ করেন না , তারা তো একটা সুযোগই পেয়ে যান ট্যাগ লাগিয়ে তাদের চরম অপছন্দের কাজটি বন্ধ করতে।

পূর্ণ দীনের উপর চলতে চাইলে তরুণ প্রজন্মের উপর পরিবার থেকেই যে প্রথম বাঁধা আসছে তার পেছনে ইসলাম বিরোধী মহলের দীর্ঘ সাধনা যেমন রয়েছে তেমনিভাবে আমাদের গাফিলতিও কিন্তু এরজন্য কম দায়ী নয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীরাই প্রাথমিক ধর্ম শিক্ষার সুযোগও পান না। যাদের মাদ্রাসায় পড়ার সুযোগ হয়না তাদের জন্য দোরগোড়ায় বিকল্প কোন ইসলাম শিক্ষার ব্যাবস্থাও নেই বললেই চলে।

 উম্মাহর মায়েরা যদি ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিতই থেকে যায়; এর ফলাফল যা হবার তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোকাবেলায় দাওয়াহ'র এক শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারতো মানসম্মত শর্ট ফিল্ম নির্মাণ। কিন্তু একসময় মঞ্চ নাটকে ইসলামপন্থীদের কিছুটা কাজ থাকলেও তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতার যুগে তা আর যুগউপযোগী হয়ে উঠেনি।

সর্বোপরি আমাদের দাওয়াতি কাজ সর্বোচ্চ সুন্দরভাবে ও প্রায়োরিটি ঠিক করে চালিয়ে যেতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ পূর্বের তুলনায় এখন বই প্রকাশনী সেক্টরসহ অনেক সেক্টরে মানসম্মত কাজ হচ্ছে, এর ইতিবাচক প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে , পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করেছে , ইনশাআল্লাহ এ আঁধার কেটে যাবে, এই প্রজন্মই হাল ধরবে আগামী পৃথিবীর ।
- মনির আহমেদ মনির 


বাংলা ইসলামিক বই আমার ঘুম আমার ইবাদত 


বর্তমান মুসলিম জাতি সার্বিকভাবে অধঃপতনের শিকার। তাদের ইমান, ইবাদাত, আখলাক, আদব সব কিছু ভিন্ন সংস্কৃতির আগ্রাসনের শিকার। ইমান হয়ে গেছে বস্তুবাদী, ইবাদাত হয়ে গেছে নফসবাদী, আদব- আখলাকের কেন্দ্র হয়ে গেছে পাশ্চাত্যবাদী। মুসলিম উম্মাহকে সামগ্রিক এক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করা অপরিহার্য বিষয়।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারা থেকে ইসলামের আদব, সুন্নাহ একেবারেই বিদায় নিয়েছে। মানব জাতির জীবনধারার অন্যতম এক অংশ হল ঘুম। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে ইসলামের সুশৃঙ্খল ও আভিজাত্যময় নির্দেশনা আছে। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিমই এব্যাপারে উদাসীন ও বেখবর। মুসলিম জীবনের প্রতিটি কর্মই ইবাদাত হতে পারে। এমনকি ঘুমের মত নিশ্চল, কর্মহীন সময়টাও। ঘুম কখন ও কীভাবে ইবাদাতে পরিণত হয়, এই বিষয়ে প্রিয় আহমাদ সাব্বির ভাইয়ের লেখা একটি ধারাবাহিক সিরিজ নাশাত পাবলিকেশন থেকে বই আকারে প্রকাশ হতে যাচ্ছে।
বইটি এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিমদের ঘুম বর্তমানে ইবাদাতের পরিবর্তে নরকে পরিণত হয়ে পড়েছে। অশ্লিল বিনোদনে বুঁদ হয়েই অধিকাংশ তরুণ আজ ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে। ঘুম থেকে অনেকেই পায়না কাঙ্ক্ষিত শান্তি। কারো চোখে ঘুম আসেই না। এমন নারকীয় ও অশান্তিময় পরিস্থিতে বইটি অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে। আশা করি বইটি পাঠকদেরকে প্রশান্তিময় এক ইবাদাতের জগতের সন্ধান দিবে।
বই সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এর পুরো লভ্যাংশ আহমাদ সাব্বির ভাইয়ের অসুস্থ বন্ধুর চিকিৎসার পিছনে ব্যয় হবে। লেখক ও প্রকাশকের এমন দরদী সিদ্ধান্ত যথাযথ মূল্যায়নের দাবি রাখে। আর এই দায়িত্বটা পাঠকদের হাতে। তাই পাঠকদের কাছে বইটির যথাযথ মূল্যায়ন কামনা করছি।
বইটির প্রি-অর্ডার চলছে।
লিংক: rb.gy/s6pku3
- Iftekhar Sifat
Powered by Blogger.