বাংলা প্রেমের রোমান্টিক গল্প "শুধু তোকে চাই" : লেখক আরিয়ান আরমান

বাংলা প্রেমের রোমান্টিক গল্প "শুধু তোকে চাই" : ভালবাসার বাংলা গল্প 

  1. রোমান্টিক ভালবাসার গল্প
  2. রোমান্টিক গল্প pdf
  3. রোমান্টিক গল্প বিয়ে
  4. বাসর রাতের রোমান্টিক গল্প
  5. বাংলা রোমান্টিক গল্প
  6. রোমান্টিক ভালোবাসার ছোট গল্প
  7. রোমান্টিক লাভ স্টোরি গল্প

 মা বিয়ে যদি করতেই হয় আরমান ভাইয়াকে বিয়ে করবো l

১৫ বছরের মেয়ে মিহার মুখে এই কথা শুনে তার মা বাবা রিতিমত অবাক l তারা ভাবতে ও পারে নাই যে তাদের মেয়ে এসব বলছে l


-মিহা মা তুই তো এখনো ছোট l আর আরমান তো তোর মামাতো ভাই হয় তুই এসব কি বলছিস? ( মিহার আম্মু)


- আমি ছোট নয় আম্মু l আমি যখন বলছি আমি আরমান ভাইয়া কে বিয়ে করবো সো ভাইয়া কে ছাড়া আর কাউকে করবো না তোমরা আমার কথা বুঝেছো( মিহা)


- চুপ একদম চুপ এতো টুকু মেয়ে তোমার কারনে এখন দেখো মাথার উপর উঠে গেছে l আমাদের উপরে কথা বলছে সব তোমার জন্য হয়েছে ( মিহার আব্বু)


- আব্বু আমাকে এসব বলে চুপ করাতে পারবে না l যদি আমাকে বিয়ে দিতে চাও আরমান ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিতে হবে আর যদি তোমরা আমার সাথে জোর করো তাহলে এর পরিনাম অন্য কিছু হতে পারে ( মিহা কথাটা চেচিয়ে বলে রুমে চলে গেলো)


- দেখছো দেখছো তোমার মেয়ের কথা কিরকম ( মিহার আব্বু)


- আহা তুমি এরকম কেনো করছো? মিহা এখন ছোট ও না হয় না বুঝে এসব বলছে কিন্তু তুমি মেয়েটা কে রাগিয়ে দিলে কেনো খামাকা ( মিহার আম্মু)


- আমি জানতাম তুমি এই কথা বলবে l ওকে আমি আর তোমাদের মা মেয়ের মধ্যে নেই l তোমরা যা ভালো বুঝো তা করো সমস্যা নেই ( কথাটা বলেই মিহার আব্বু উপরে চলে গেলো)

এই দিকে মিহা রুমে এসে চুপটি করে বসে আছে l হঠাৎ আরমান এর কথা মনে হলো l মিহা ছোট বেলা থেকেই আরমান কে পছন্দ করতো l এই পছন্দ লাগা থেকে কখন যে আরমান কে ভালোবাসে সে নিজে এ প্রথম বূঝতে পারে নাই l পরে অনেক ভেবে দেখলে যে ওর মনের যত ভাবনা আসে সব ভাবনা আরমান কে নিয়ে l 


মিহা ফোনটা হাতে নিয়ে গ্যালারি তে গিয়ে আরমান এর ছবি দেখছে আর মিটি মিটি হাসছে লজ্জা ও পাচ্ছে l মিহা হঠাৎ ওর রুমের ঠক ঠক আওয়াজ শুনে চমকে উঠলো l মিহা এক প্রকার বিরক্তকর ভাব নিয়ে দরজা খুলে দেখে যে এটা আর কেউ নয় তার আম্মু l


- মিহা দরজা বন্ধ করে কি করছিস? শরীর খারাপ নাকি মা? ( মিহার আম্মু ভিতরে ঢুকে)


- না আম্মু আমি ঠিক আছি বাট তুমি কিছু বলবে..? ( মিহা)

- হুম তোকে একটা কথা বলার ছিলো? ( মিহার আম্মু)

- হুম বলো কি কথা বলবে..? ( মিহা)


- আমরা কাল তোর মামাদের বাসায় যাচ্ছি তাই তোর মামা বলছে তোকে নিয়ে যেতে তুই কি যাবি? ( মিহার আম্মু)

মিহা তার আম্মুর মুখ থেকে কথাটা শুনে খুশিতে তার আম্মু কে জড়িয়ে দরলো!


- আরে আরে কি হয়েছে? আমি বুড়ি মানুষ আমাকে এভাবে জড়িয়ে দরে আছিস কী হয়েছে আমার মেয়ে এতো খুশি কেনো? ( মিহার আম্মু)


- আম্মু তুমি যেই কথাটা বললে খুশি না হহয়ে কি পারি? কত দিন হলো মামাদের বাসায় যায় না কখন যাবো আমরা ( মিহা হাসি নিয়ে কথাটা বললো)

-

 পাগলী মেয়ে l আমরা কাল সকালে যাচ্ছি ওখানে কিছু দিন থাকবো তোর সব কিছু প্যাক করে নে.. আমি গেলাম তোর আব্বু ডাকছে ( মিহার আম্মু কথাটা বলেই চলে গেলো)

এই দিকে মিহা দরজা বন্ধ করে বিছানায় উঠে খুশিতে নাচতে শুরু করলো l কারণ মিহা এবার তার ভালোবাসা কে নিজের সামনে দেখতে পাবে l এর থেকে খুশির খবর আর কি হতে পারে l মিহা ফোনটা আবার হাতে নিয়ে আরমান এর ছবি তে একটা কিচ দিয়ে বললো যে " আমি তোমার কাছে আসছি বাবু অপেক্ষা করো তুমি আমি আসছি " কথাটা বলেই মিহা আরমান এর ফটো কে নিজের বুকের সাথে দরে শুয়ে তাকে অনুভব করতে লাগলো l পরের দিন.......


প্রেমের গল্প ২য় পর্ব 


মিহা আরমান ছবি বুকে নিয়ে তাকে অনুভব করতে লাগলো..

পরের দিন মিহা সবার আগে ঘুম থেকে উঠে সব কিছু গুছিয়ে নিজের ইচ্ছা মতো সাজু গুজু করে নিলো l মিহা আজ হালকা ব্ল কালারের একটা শাড়ি পড়েছে l মিহা আয়নার সামনে দাড়ানো মাএই সে নিজের উপর নিজে এ ক্রাস খেয়েছে l আজ মিহা কে এতো সুন্দর লাগছে না বলে বুঝানো যাবে না l মিহা কাল থেকে একটু চিন্তায় আছে আরমান সামনে দাড়ানোর পর তার কি অবস্থা হবে l রুমের বাইরে থেকে তার মায়ের কন্ঠ শুনে দরজা খুলে দিলো l


মিহা কে তার মা দেখে হা করে তাকিয়ে আছে l

- আম্মু কি হয়েছে তোমার? এরকম করে তাকিয়ে আছো কেনো? ( মিহা)

- তাকাবোই না কেনো? আজ আমার মেয়েকে এতো সুন্দর লাগছে যে বলে বুঝানো যাবে না পুরো একটা রাজকুমারী l (মিহার মা)

মিহার কপালে চুমু দিয়ে এই কথাটা বললো তার মা l 
মিহা তার মায়ের কথায় একটু লজ্জা পেলো l পরে আবার নিজেকে সামলে নিলো l

- আম্মু সময় তো হয়ে গেছে l কখন যাবো আমরা? (মিহা)

- হুম আমি তোকে ডাকতেই এসেছি l তোর আব্বু নিচে আছে তুই তাড়াতাড়ি নিচে আয় l(মিহার মা)


মিহার মা যাওয়ার পর,, মিহা সব কিছু আবার দেখে নিলো ঠিক আছে কিনা l এরপর নিচে গেলো l তারপর সবাই মিলে গাড়িতে গিয়ে বসলো l ডাইভার গাড়ি ডাইভ করছে গাড়ি তার আপন গতিতে যাচ্ছে l. ২০ মিনিট এর মধ্যে আরমান দের বাসার সামনে গাড়ি রাখলো l গাড়ি থামানোর সাথে সাথে মিহার বুক ধুক ধুক করে উঠলো l মিহা গাড়ি থেকে নেমে তার মা বাবার সাথে ভিতরে গেলো l 


ভিতরে যাওয়ার পর আরমান এর মা আর বাবা তাদের দেখতে পেয়ে খুশি হয়ে গেলো l বিশেষ করে মিহা কে আরমান এর মা জড়িয়ে দরলো l মিহা কে আরমান এর মা পছন্দ করে l মিহা যেনো তার শাশুড়ির সাথে কথা বলছে এরকম করে কথা বলে l তাদের গেস্ট রুমে থাকতে দেওয়া হলো l মিহা কে যেই রুম টা দেওয়া হলো ওটা আরমান এর পাশের রুম l 


মিহা তো আরো বেশী খুশি হয়েছে যে দুজন এর রুম একসাথে পাশাপাশি l আরমান এর একটা ছোট বোন আছে ক্লাস ১০ এ পড়ে তার নাম ফারিয়া l মিহা আরমান দের বাসায় আসার পর থেকে তার দুচোখ শুধু আরমান কে খুজতেছে l কিন্তু কোথাও দেখতে পাচ্ছে না l হঠাৎ নিচে কোনো মেয়ের কন্ঠ শুনে মিহা রুম থেকে বের হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলো যে এটা তো ফারিয়া l


 তাহলে আমার ননদ স্কুল থেকে ফিরলো l মিহা নিচে নামার পর ফারিয়া মিহা কে দেখতে পেয়ে আপু আপু বলে জড়িয়ে দরলো l

- এতো দিন পর আসলি? আগে বললে তো আজ স্কুল এ যেতাম না l (ফারিয়া)

- তাই বুঝি? এতো দুষ্ট হলি কখন? পড়াশোনা ঠিক ভাবে করছস তো? আমি কিন্তু তোর বিষয়ে সব জানি মামি সব বলছে হা হা হা মিথ্যা বলে লাভ নেই l(মিহা)


- মিহা আপুনি তুই তো আমার মান সম্মান সব খেয়ে ফেলবি l (ফারিয়া হাসি দিয়ে)

দুজন দুষ্টামি করতে করতে উপরে গেলো l ফারিয়া মিহা কে তার রুমে নিয়ে গেলো l মিহার রুম টা খুব সুন্দর l. এখনো ফারিয়া খেলনার জিনিস রাখে l মিহা মনে মনে ভাবছে মেয়েটা আসলেই এখনো বাচ্চা বাচ্চা রয়ে গেলো l আচ্ছা আমি কি ফারিয়া কে জিজ্ঞেস করবো আরমান কোথায়?


- ওই আপুনি কি ভাবছিস এতো? প্রেমিকের কথা নাকি.. হি হি হি.. (ফারিয়া)

- ফারিয়য়য়য়য়া খুব দুষ্টামি তাই না.. (মিহা ভ্র কুচকে)

- সরি আপুনি রাগ করিস না এমনি মজা করছি l (ফারিয়া)

- ওকে l আচ্ছা ফারিয়া তোমার ভাইয়া কোথায়? (মিহা)

- কার কথা বলছিস আপু? (ফারিয়া)

- আরে আরমান ভাইয়া কোথায়? (মিহা)


- ও ভাইয়া তো ঢাকা গিয়েছিলো l কাল সকালে আসবেl (ফারিয়া)

ফারিয়ার কথা শুনে মিহার মন টা খারাপ হয়ে গেলো l শয়তান টা এখন ঢাকা যেতে হলো l এই দিকে যে ওকে ছাড়া আমার কিছু ভালো লাগছে না l


মিহা ফারিয়ার সাথে আরও অনেক সময় আড্ডা দিয়ে খাওয়া দাওয়া করে পুরো দিন টা পার করে দিলো l রাতের বেলায় মিহার ঘুম আসছে না ছাদে গিয়ে ছাদের এক কোণায় দাড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে আর আরমান এর কথা ভাবতেছেl হঠাৎ লক্ষ করলো বাসার নিচে একটা গাড়ি এসে থামলো l 


মিহা বিষয়টা ক্লিয়ার ভাবে বুঝার জন্য আরেকটু কাছে গিয়ে দেখলো একটা ছেলে বাসার দরজার সামনে বেল বাজাচ্ছে l রাত বাজে ১ টা l এত রাতে কে আসতে পারে? মিহা ভয়ে ভয়ে ছাদ থেকে নামলো l কলিংবেল বেল কয়েকবার বাজতেছে l মিহা দরজার কাছে গিয়ে কাপা কাপা হাত নিয়ে দরজা খুলে দেখে যে মাথায় ক্যাপ পিছন একটা ব্যাগ হাতে ফোন ক্যাপ এর কারনে মুখটা দেখা যাচ্ছে না l 


হুট করে কারেন্ট ও চলে গেলোl মিহা ভয়ে বাইরে থাকা ছেলেটা কে জড়িয়ে দরলো l মিহা কাকে জড়িয়ে দরে আছে এখনো সে বুঝতে পারে নাই l ১ মিনিট পর লাইট গুলো সব অন হয়ে গেলো l আর মূহুর্তের মধ্যে সবাই একসাথে বলে উঠলো,


মিহা পিছন থেকে সবার গলার আওয়াজ শুনে সাথে সাথে ছেলেটা কে ছেড়ে দিলো l এবার ছেলেটা মাথা থেকে ক্যাপ টা সরানোর পর মিহা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখলো যে......

(যারা বলছেন আমি গল্প টা কপি করছি l ওকে ঠিক আছে আমি আর গল্প দেবো না আপনারা যে আসল রাইটার থেকে পড়ে নিবেন l আরে ভাই গল্প একটা লিখতে অনেক মাথা খাটিয়ে লিখতে হয় l এতো কষ্ট করে গল্প লিখি আপনাদের সাথে আনন্দ শেয়ার করার জন্য l আর আপনারা যদি বলেন আমি কপি করি সরি ভাই এবং আপুরা এতো অপবাধ নিয়ে গল্প লিখা অসম্ভব কোনো ভুল করে থাকলে মাপ করবেন ধন্যবাদ সবাইকে)



ছেলেটা মাথা থেকে ক্যাপ টা সরানোর পর মিহা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখলো যে এটা আর কেউ নয় তার ভালোবাসা আরমান l

মিহা লজ্জায় দুড় দিয়ে আরমান এর মায়ের পিছন ফিরে পালালো l হঠাৎ মিহার মনে হলো এতো রাতে আরমান এসেছে তাও আবার সবাই মিলে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো l বাট কেনো? তাহলে কি আজ আমার বাবুটার জন্মদিন l ইসস রে আমার তো একদম খেলায় নেই l কিন্তু আমি এখন ওর সামনে কি করে যাবো? আমি তো ওকে জড়িয়ে দরেছিলাম আমার কাছে তো অনেক লজ্জা লাগছে ( মিহা মনে মনে এসব ভাবছিলো)

হঠাৎ আরমান ভিতরে ঢুকে...

- what is this..? ( একটু রেগে)

- বাবা রাগ করিস না এটা তো তোর জন্মদিন এর গিফট.. ( আরমানের মা)

- কিহ..? আজ আমার জন্মদিন ছিলো? আজ আমার জন্মদিন অথচ আমি জানি না l আর তোমরা আমাকে কত বড় একটা গিফট দিলে l আমি খামাকা তোমার উপর রাগ করছিলাম আম্মু সরি আম্মু ( আরমান)


আরমান এতক্ষন তার মায়ের দিকে খেয়াল করে এসব বলছিলো বাট তার চোখ খেলো তার খালার দিকে l আরমান তার খালাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিলো l

- আরে খালা মনি তুমি? কখন এলে তোমরা? মামা ভালো আছেন? (আরমান)

- জি আলহামদুলিল্লাহ! তোমার কি অবস্থা বাবা..? (মিহার বাবা)

- জি আলহামদুলিল্লাহ l আপনারা সবাই মিলে আমাকে আজ যা দিয়েছেন এই কথা সারাজীবন মনে থাকবে l (আরমান)

- আমরা কিছু করি নাই l যা করছে তোমার মায়ের প্লেনl ( খালা মনি)

- কিরে ফারিয়া বোন কেমন আছোস..? (আরমান)

- জি ভাইয়া আলহামদুলিল্লাহ! (ফারিয়া)

আরমান সবার সাথে কথা বলছিলো হঠাৎ আরমান এর মনে হলো আমাকে তখন কে জড়িয়ে দরছিলো l হঠাৎ লক্ষ করলো যে মায়ের পিছনে কে দাড়িয়ে আছেl নীল রং এর একটা টপ পড়া l খুব সুন্দর ভাবে দেখা যাচ্ছে কিন্তু তার মুখটা দেখা যাচ্ছে না l

- আম্মু তোমার পিছনে কে...? (আরমান)

আম্মু পিছন ফেরার পর..

- আরে মিহা.. তুমি এএভাবে পিছনে লুকিয়ে আছো কেনো? সামনে এসো দেখো মেয়ে লজ্জা কেনো পাচ্ছো এটা তো তোমার আরমান ভাইয়া l ছোট বেলায় তুমি আর আরমান মিলে খেলছিলে ভুলে গেছো সব..? (আরমানের মা)

- ওমা মাই গড! এটা কি সেই ছোট বেলার মিহা যেই মেয়ে আমার মুখে কামড় বসিয়ে দিয়েছিলো..? এই দেখো এখনো দাগ আছে...! মিহা তুই এতো বড় হয়ে গেছিস কি অবস্থা তোর..? (আরমান)

- আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি l ভাইয়া আপনি কেমন আছেন! সরি ভাইয়া তখন ভয় পেয়ে আপনাকে জড়িয়ে দরছিলাম... (মিহা)

- কিরে আপুনি আগে তো দুজন তুই তুই করে বলতি এখন আপনি কেনো... (ফারিয়া)

- ফারিয়া ওরা বড় হয়েছে না... (আরমানের মা)


আচ্ছা সবাই আসো মিহা আরমান আসো কেক কাটতে হবে l

সবাই আরমান কে ঘিরে দরলো l আরমান এর এক পাশে ফারিয়া আরেক পাশে মিহা l মিহা লজ্জার কারণে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে l একদিকে মিহার মুখে খুশি দেখা যাচ্ছে আরেক দিকে লজ্জার কারনে মাথাই তুলতে পারছে না l

কেট কাটার পর এক এক করে সবাই কে দিলো l মিহা কে যখন কেক দিলো মিহা আরমান এর দিকে এক নজরে তাকিয়ে ছিলো l এটা সবার চোখ আড়াল হলেও আরমান এর চোখ আড়াল হয় নাই l এরপর বেশি রাত হওয়ায় সবাই ঘুমিয়ে পড়লো l সকালে মিহা ঘুম থেকে উঠে প্রথম ছাদে গেলো ব্রাশ করতে করতে l চারপাশের পরিবেশ দেখে মিহার মন ভরে গেলো l মিহা এখন আরমান এর কথা ভাবছে ' এই পরিবেশে আমার বাবুটা থাকলে জমে আরো খির হয়ে যেতো ' মনের অজান্তেই মুচকি হাসি বের হয়ে আসলো l


- কি আপু কাকে দেখে হাসতেছো..? (ফারিয়া)

এই কথাটা শুনে মিহা চমকে উঠলো l পাশে তাকিয়ে দেখে এটা তো ফারিয়া l

- ফারিয়া তুই..? (মিহা)

- তো কাকে আশা করছিলে..? ভাইয়া কে নাকি..? (ফারিয়া)

- মানে? ফারিয়া কি বলছিস এসব তুই..? (মিহা)

- ও আপুনি আর ঢং করিস না l আমি সব জানি l তুমি ভাইয়াকে ভালোবাসো l আমি তোমার ফফোনে ভভাইয়ার ছবি দেখছি l (ফারিয়া)

- অবশেষে তুই যেনে গেলি..! আমার না খুব ভয় করে l (মিহা)

- কীসের ভয় আপু..? ( ফারিয়া)

- আরমান কে হারানোর ভয়..! আমি ছোট বেলা থেকেই আরমান কে নিজের বর হিসেবে জানি l কিন্তু ভয়ে আমার মুখ থেকে কিছু বের হয় না l( মিহা)

- হা হা হা এতো ভয় পেলে হয় নাকি? ভাবি তোমাকে আরো শক্ত হতে হবে l (ফারিয়া)

- ভাবি..? ( মিহা)

- তুমি আমার ভাইয়ার বৌ হলে তুমি তো আমার ভাবি হবে তাই না.. ( ফারিয়া)

- ফারিয়া লজ্জা লাগছে আমার খুব... (মিহা)

- ভাবি অবশ্যই তোমাকে এভাবে খুব সুন্দর লাগবে l (ফারিয়া)

- আচ্ছা আরমান কোথায়? সকাল থেকে ওকে দেখছি না যে... (মিহা)

- ও আল্লাহ! বিয়ে না হতেই বর এর জন্য এতো টান! নিজের ননদ কে একটু সময় দাও না! হি হি হি... (ফারিয়া)

দুজন আরো কিছু সময় ছাদে থেকে নেমে যে যার রুমে চলে গেলো l এরপর নিচে সবাইকে ডাক দিলো খাবার খেতে l

আরমান মিহা দুজন এ রুম থেকে বের হতেই দুজন এর রুম পাশাপাশি থাকায় মিহা স্লিপ করে যখনি পড়ে যাবে তখন এ আরমান দুড় দিয়ে গিয়ে মিহা কে দরে ফেললোl মিহা আরমান এর গলা এক হাত দিয়ে দরে রাখলো l আরমান মিহার কোমরে এক হাত দিয়ে দরলো l দুজন দুজন এর দিকে তাকিয়ে আছে l মনে হচ্ছে কোনো রোমান্টিক মুভির সিন চলছে l এভাবে ২ মিনিট এর মতো তারা দুজন এক অপরকে দেখতে লাগলো l হঠাৎ পাশ থেকে ফারিয়ার কাশির শব্দ শুনে তারা দুজন ঠিক হয়ে দাড়ালো l মিহা ফারিয়া কে দেখতে পেয়ে লজ্জায় নিচে নেমে গেলো!


বাংলা ভালবাসার ছোট গল্প 


মিহা ফারিয়া কে দেখতে পেয়ে লজ্জায় দুড় মারলো নিচে l

আরিয়ান মাথায় চুল কচলাতে কচলাতে রুমে ঢুকে গেলো l

ফারিয়া মিহা আর তার ভাই এর কান্ড দেখে হাসছে l ফারিয়া ভাবছে যে ' ভাইয়া মিহা আপুর দিকে কিরকম হা করে তাকিয়ে ছিলো! দুজন দুজন এর দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলো যেভাবে মনে হচ্ছিলো স্বামী স্ত্রী l তাহলে কি ভাইয়া আপু কে পছন্দ করে? কি জানি ভাইয়া তো আবার খুব রাগী মানুষ l কখন কি করে বসে তা তো বলা যায় না l যাই আমি নিচে আপুর সাথে মজা নেওয়া যাক হি হি হি...

ফারিয়া উপর থেকে নেমে মিহার পাশে গিয়ে বসলো l
মিহা তো লজ্জায় একদম উপর এর দিকে তাকাতেই পারছে না l ফারিয়া মিহার কানে কানে গিয়ে বললো যে..

- ভাবি ফ্রি তে সিনেমাটা দেখতে পেলাম l আরেকটু থাকো নাই কেনো? হি হি হি চালিয়ে যাও তুমি সব পারবে l

মিহা এবার একটু রেগে গেলো ফারিয়ার কথা শুনে..

- খুব পাকনামি তাই না..? তুই আমার চাচাতো ভাই রনির সাথে কথা বলছ আমি সব জানি কিছু বলবো নাকি হা হা হা..!

- না মানে... ( ফারিয়া ভাবছে রনির কথা মিহা আপু কিভাবে জানলো)

এর মধ্যে আরমানের মা কিচেন রুম থেকে বের হয়ে মিহা আর ফারিয়া কে বললো খেতে বসতে l ইতিমধ্যে সবাই টেবিলে বসে গেছে বাট এখনো আরমান আসে নাই l আরমান এর মায়ের ডাকে ৫ মিনিট পর আরমান উপর থেকে এসে সবার সাথে টেবিলে খেতে বসলো l মিহা আরমান এর দিকে একবার তাকালো l আরমান সাদা একটা শার্ট চুল গুলো একটু বাকা ঠোঁট দুটো গোলাপি সব মিলিয়ে মিহা আরমান এর উপর ক্রাস খেলোl এরপর খাওয়া দাওয়ার এক পর্যায়ে সবাই যার যার রুমে চলে গেলো l মিহা ফারিয়ার সাথে নিচে বেশ কিছুক্ষন আড্ডা দিলো l এরপর যখনই নিজের রুমে ঢুকতে যাবে হঠাৎ খেয়াল করে দেখে আরমান এর রুমের দরজা খোলা l কি ব্যাপার আরমান তো দরজা খোলা রাখে না কিন্তু আজ ওর দরজা এভাবে খোলা কেনো আছে? আমি কি ভিতরে ঢুকে দেখবো? আরমান কে তো একটা কথা বলার ছিলো তাই যা কিছু হয়ে যাক আমি ভিতরে ঢুকে দেখি l

কথাটা বলেই মিহা ভিতরে ঢুকে দেখে যে ভিতরে শুধু আরমান এর ফোনটা বিছানায় পড়ে আছে l. ওয়াশ রুম হতে সব জায়গায় দেখলো কিন্তু মিহা আরমান কে রুমে পেলো না l মিহার মনটা খারাপ হয়ে গেলো l মিহা ভাবছে ' কি ব্যাপার এসময় তো আরমান নিজের রুমে থাকে ' কিন্তু আজ রুমে নেই l গেলো কোথায়? মিহা আরমান কে খুজতে খুজতে সব জায়গায় দেখলো কিন্তু কোথাও দেখতে পেলো না l সব জায়গায় দেখা হয়ে গেছে l কিন্তু এখন শুধু ছাদ বাকি আছে l আমি কি ছাদে যাবো? মিহা কথাটা ভাবতে ভাবতে ছাদে গিয়ে দেখে যে ছাদের কোণায় আরমান পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে l. চার দিক থেকে বাতাস আসছে ওর চুল গুলো একটু বড় সাইজের ছিলো তাই বাতাসের কারণে সব চুল গুলো উঠছে l মিহা আস্তে আস্তে আরমান এর পিছনে গিয়ে দাড়ালো l আরমান পিছনে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে পিছনে ঘুরে দাড়িয়ে দেখলো যে তার পিছনে মিহা দাড়িয়ে আছে l এসময় মিহা কে ছাদে দেখে আরমান এক প্রকার চমকে উঠলোl

- মিহা তুই এসময় ছাদে কেনো..?

- না মানে ভাইয়া আসলে তোমাকে খুজতে খুজতে ছাদে চলে এলাম l

- আমাকে? আমাকে কেনো খুজতে খুজতে ছাদে আসলি..?

- আসলে একটা কথা বলার ছিলো ভাইয়া..!

- এটার জন্য ঘুরিয়ে পিছিয়ে বলা লাগে নাকি? যা বলবি ক্লিয়ার করে বলে পেল..!

- আসলে কথাটা কি করে যে বলি...

- শুন যা বলার তাড়াতাড়ি বল না হলে আমি চলে যাচ্ছি..

- এই না না ভাইয়া দাড়াও..

- হুম তাড়াতাড়ি...

- আসলে বিকালে আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাবে! আমি কত দিন পর তোমাদের এই দিকে আসছি একটু ঘুরাফেরা হয় না তাই আর কি..

- ও এই কথা! ওকে আমি ফারিয়া কে বলে দিতেছি ও তোকে সাথে করে বিকালে নিয়ে যাবে l

- না..

- না মানে..?

- আমি তোমার সাথে যাবো l ফারিয়া তো মেয়ে মানুষ এখন তো দেশের অবস্থা খারাপ l ভাইয়া প্লিজ না করিস না প্লিজ প্লিজ...

আরমান মাথায় হাত দিয়ে কি যেনো ভাবছিলো.. এরপর...

- ওকে ঠিক আছে l বিকালে রেডি থাকিস...!

কথাটা বলেই আরমান ছাদ থেকে নেমে নিচে চলে গেলো l আরমান চলে যাওয়ার পর আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো l মিহা খুশিতে বৃষ্টিতে লাফালাফি শুরু করে দিলো l বেশি ভিজলে জর আসতে পারে তাই ছাদ থেকে নেমে রুমে চলে গেলো l

বিকেল বেলা...

আরমান নিচে বসে বসে মোবাইল টিপছে... মিহা একটা নীল রং এর শাড়ি পড়েছে এর সাথে হালকা মেকাপ l হাতে ছুড়ি দিয়েছে এরপর আয়নার সামনে দাড়িয়ে একটা হাসি দিয়ে নিচে নেমে দেখে আরমান ফোন টিপছে..

- ভাইয়া...

আরমান ভাইয়া ডাক টা শুনে বসা থেকে উপর এর দিকে তাকিয়ে দেখে তো হা করে আছে l আজ মিহা কে এতো সুন্দর লাগছে যে আরমান চোখ এ ফেরাতে পারছে না l আরমান এখনো মিহার দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে l মিহার ছুড়ির আওয়াজ শুনে বাস্তবে ফিরলো...

- ভাইয়া কখন থেকে ডাকছি শুনছো না যে..? ভাইয়া আমাকে কেমন লাগছে..?

- হুম ভালো..!

- শুধু ভালো l এতো কষ্ট করে ওনার জন্য সাজলাম শয়তান টা শুধু ভালো বললো ধুরর মোড টটাই খারাপ করে দিলো l (মিনমিন করে)

- তুই কিছু বললি নাকি..?

- না ভাইয়া l ওকে বের হওয়া যাক..!

এরপর দুজন একসাথে বাসা থেকে বের হলো l

- মিহা বাইকে করে যাবি নাকি রিকশায় করে যাবি..?

- আরে কি বলচো তুমি ? আমরা ঘুরতে যাচ্ছি সো রিকশা করে যাবো l

এরপর আরমান একটা রিকশা নিলো l আরমান আর মিহা দুজন পাশাপাশি রিকশায় বসে আছে l হঠাৎ রিকশা ওয়ালা বলে উঠলো l

- ভাইয়া যদি কিছু মনে না করেন আপনাকে একটা কথা বলি..?

- হুম বলেন..?

- ভাইয়া ভাবি কে আর আপনাকে আপনাদের দুজন কে অনেক সুন্দর লাগছে l যে কেউ দেখলে নজর দিবে l

রিকশাওয়ালা এমন কথা বললো আরমান কিছু বলতে ও পারছে না l আরমান কিছু বলে নাই বধায় মিহা তো খুব খুশি হয়ে গেলো l মিহা ভাবছে তাহলে আমাকে ওনার বৌ বলে সম্মতন করলো l আচ্ছা ওনি আমার দিকে তাকালে মনে হয় যে ওনি আমাকে ভালোবাসে কিন্তু মুখ ফুটে তো কোনো দিন বলে না l না না এসব কি ভাবছি ওনি যা রাগী মানুষ ওনি আমাকে শুধু হিংসা করে আমাকে ভালোবাসে না যা করার আমাকে নিজে এ করতে হবে l

দুজন একটা পার্কে গেলো l অনেক ঘুরাঘুরি করলো l এরপর বাইরে থেকে খাওয়া দাওয়া করে বাসায় চলে আসলো l মিহা আজ খুব খুশি এই দিনের কথা মিহার সারাজীবন মনে থাকবে l

রাতে খাওয়ার সময় আরমান বললো যে কালকে নাকি তার একটা ফেন্ড আসবে l তাই সবাই মিলে একটু নার্ভাস আছে l বিশেষ করে মিহা l মিহা অন্য কোনও ছেলে সামনে থাকলে নার্ভাস ফিল করে l রাতে মিহা তেমন ঘুমাতে পারে নাই l সকালে আরমান তার বন্ধু কে আনার জন্য সকাল সকাল বের হয়ে গেলো l ৩০ মিনিট পর কলিংবেল বাজতে শুরু করলো l. সবাই উপরে নিচে শুধু মিহা l মিহা আরমান ভেবে খুশি মনে গিয়ে দরজা খুলে একটা হাসি দিলো l কিন্তু দরজার সামনে যাকে দেখলো তাকে দেখার পর মিহার মুখটা একদম কালো হয়ে গেছে...

( গল্পটি বড় করতাম নাকি ছোট আকারে শেষ করতাম কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ সবাইকৈ)



মিহার সামনে দাড়িয়ে আছে আরমান এর বন্ধু l আরমান এর বন্ধু মিহা কে দেখে ক্রাস খেলো l মিহা বিরক্ত কর ভাব নিয়ে পিছন ফিরে তাকালো দেখলো যে আরমান পিছন দাড়িয়ে আছে l

- হ্যালো আমি রাকিব ইসলাম ( মিহার দিকে হাত বারিয়ে দিয়ে)

মিহা রাগের সাথে সোজা উপরে চলে গেলো l মিহা অপরিচিত কারো সাথে কথা বলে না l মিহা এমনিতেই টেনশন এর মধ্যে ছিলো তার মধ্যে আরমানের বন্ধু এসে সব কিছু এলোমেলো করে দিলো l

মিহা রাগে রুমে গিয়ে ভাবছে যে " যেই করেই হোক আমি আরমান কে আমার মনের কথা গুলো সব খুলে বলতে হবে l কিন্তু ওর বন্ধুটা আমার কাছে তেমন সুবিধার মনে হয় নাই l কেমন করে যেনো তাকিয়ে ছিলো মনে হচ্ছে কখনো কোনো মেয়ে মানুষ কে দেখে নাই যতসব l

এই দিকে নিচে...

- আরে রাকিব বাবা কেমন আছো? কত দিন পর আমাদের বাসায় আসলে তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছে..?

- জি আন্টি সবাই আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে l সরি আন্টি কিছু ঝামেলার জন্য কিছু দিন বাইরে ছিলাম এখন তো চলে এসেছি আর আন্টি এতো সহজে কিন্তু আমি যাচ্ছি না এই বাসা থেকে l

- পাগল ছেলে তোমাকে যেতে দিলে তো যাবে l আচ্ছা পরিচিত হয়ে নাও আপা এটা হচ্ছে রাকিব l রাকিব এটা হচ্ছে আরমানের খালা আর ওনি হচ্ছে ওনার হাজব্যান্ড l আর একটা মেয়ে এখন উপরে চলে গেলো যে ওটা হচ্ছে মিহা এদের একমাত্র মেয়ে l

এরপর রাকিব সবার সাথে পরিচিত হয়ে নিলো l আরমান রাকিব কে তার রুমে নিয়ে গেলো l রাকিব আর আরমান দুজন ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় এক ঘুম দিলো l আরমান এর ঘুম ভেঙে গেলো l আরমান কি বুঝে ছাদে চলে গেলো l রুমে এখন শুধু রাকিব আছে l

মিহা রুম থেকে বের হয়ে আরমান এর রুমের দিকে আসছে যে করে হোক আরমান কে এখন আমার মনের কথা সব বলতে হবে l

মিহা কথাটা বলেই আরমান এর রুমে ঢুকে গেলো l ভিতরে গিয়ে দেখে যে পিছন ফিরে কে যেনো দাড়িয়ে আছে l মিহা ভাবছে নিশ্চয়ই এটা আমার আরমান l মিহা সাহস এর সাথে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো যে..

- দেখেন আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চায় l আমি আপনাকে যখন দেখলাম আপনার চোখ আপনার ঠোঁট আপনার পেজ সব মিলিয়ে আমার রাজকুমারের মতো সো আমি আপনাকে ভালোবাসি l

মিহা কথাটা বলেই জড়িয়ে দরলো l দরজার পাশ থেকে কারো গলার কাশির শব্দ শুনে মিহা সাথে সাথে ছেড়ে দিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো যে দরজার কাছে আরমান মিহার দিকে তাকিয়ে আছে l মিহা তো যেনো আকাশ থেকে পড়লো l এই আমি কাকে জড়িয়ে ধরলাম l এরপর লোকটা পিছন ফিরতেই দেখে যে এটা আর কেউ নয় রাকিব l

- কিরে মিহা আমার বন্ধুকে পছন্দ হয়েছে আমাকে তো একবার বলতে পারতি l

- না মানে ভাইয়া তুমি ভুল বুঝতেছো..

- আরে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই আমি খালার সাথে কথা বলছি l

কথাটা বলেই আরমান নিচে চলে গেলো l

মিহা রূম থেকে দুড় দিয়ে বের হয়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে কান্না শুরু করে দিলো l হঠাৎ পিছনে কারো ছোয়া পেয়ে মিহা চোখ মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো ..

- আপুনি কি হয়েছে তোর কান্না করছিস কেনো..

- আরে ফারিয়া তুই? কোই কান্না করছি না তো চোখে কি যেনো পডছে..

- দেখ আমি সব কিছু বুঝতে পারি কি হয়েছে বল আমাকে..?

এরপর মিহা ফারিয়া কে সব কিছু খুলে বললো..

- আপুনি এখন তো ভাইয়া খুব ভুল বুঝেছে তোকে..

- ফারিয়া এখন কি কোনো ভাবে আরমান কে বলা যায় না...

- সরি আপু আমার পক্ষে কিছু করার সম্ভব নয় l নিচে শুনলাম তোমার আর রাকিব ভাইয়ার বিয়ে নাকি কালl

- হোয়াট? আমি আমার আরমান কে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না l

- আপু আমাকে মাপ করে দিস আমি গেলাম l

সারা রাত মিহা কান্না করে চোখ মুখ লাল করে ফেলছেl চেনা নাই জানা নেই একটা ছেলেকে তার লাস্ট পযন্ত বিয়ে করতে হচ্ছে l সকাল সকাল ফারিয়া এসে মিহা কে বৌ এর সাথে সাজিয়ে দিলো l নিদিষ্ট টাইম অনুযায়ী মিহা কে বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া হলো নিচে l রাকিব এর পাশে মিহা কে বসানো হলো l আরমান মুখে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে l কাজী সাহেব বললো যে..

- মা বলো কবুল...

মিহা আরমান এর দিকে একবার তাকিয়ে বসা থেকে দাড়িয়ে গেলো l

- না এই বিয়ে হবে না!

- মিহা কি বলছিস মা এসব..?

- হুম আম্মু আমি আরমান ভাইয়া কে ভালোবাসি l আমি পারবো না আরমান ভাইয়াকে ছাড়া বাচতে l

মিহা কান্না করেই যাচ্ছে l.

মিহার কান্না দেখে সবাই একসাথে হেসে উঠলো l

এরকম একটা মূহুর্তে সবাই হাসছে দেখে মিহা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সবার দিকে l

- কি ব্যাপার তোমরা হাসতেছো কেনো?

- আমি বলছি.. l আসলে আরমান আপনাকে ও ভালোবাসে আমি আগে থেকেই জানি কিন্তু আরমান চাইছিলো আপনি সবার সামনে আপনার মনের কথা খুলে বলেন আর এসব বিয়ে মিথ্যা সব কিছু আরমানের প্লেন l

মিহা আরমান এর দিকে রাগী ভাবে এগিয়ে গিয়ে আরমান এর বুকে যত ইচ্ছা কিল গুসি মারছে l এরপর শক্ত করে আরমান কে জড়িয়ে দরলো মিহা l আরমান ও তার ভালোবাসা কে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো l

সমাপ্ত🔚

( গল্পটা কেমন হয়েছে জানি না তবে ভুল হলে মাপ করবেন নেক্সট গল্পের অপেক্ষায় থাকেন ধন্যবাদ সবাইকে)

 আল্লাহ হাফেজ

লেখক আরিয়ান আরমান  




Powered by Blogger.