বিজ্ঞান শেখানোর নামে সমকামিতার প্রচার | উসমানী খিলাফাহর শেষদিকে সমকামীতাকে ডিক্রিমিনালাইজ করা ও আজকের ১০ মিনিট ইস্কুল!

বিজ্ঞান শেখানোর নামে সমকামিতার প্রচার | উসমানী খিলাফাহর পতন ও আমাদের শিক্ষা 


#৩২৪৭ - Muhammad Sajal

উসমানী খিলাফাহর শেষদিকে সমকামীতাকে ডিক্রিমিনালাইজ করা ও ব্যাংক ব্যবস্থা, পেপার মানি প্রচলনের কারন আমি খুব সংক্ষেপে লিখছি। 

এইটিন্থ সেঞ্চুরির শেষদিক থেকেই উসমানীরা স্পষ্টভাবে অনুভব করে, ইউরোপ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাকি বিশ্বের চেয়ে বহুগুন বেশি এগিয়ে গেছে। 

যুদ্ধের ময়দানে আধুনিক ইউরোপিয়ান যুদ্ধকৌশল-প্রযুক্তি ও অস্ত্রের সামনে বারবার পরাজিত হওয়ার পর উসমানী সুলতান ও পাশারা এই সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হন, 

যেভাবেই হোক ইউরোপ থেকে তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান শিখে আসতে হবে এবং এক্ষেত্রে উসমানী উলামাদের নিষেধাজ্ঞায় কান দেয়া যাবে না।



ফলে এন্দেরুন থেকে কিছু গ্র‍্যাজুয়েটকে প্রতিবছর ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ও জার্মানীতে পাঠানো হতে থাকে। 

এই পাশারা ফ্রেঞ্চ-ইংলিশ ও জার্মান ভাষায়, বিশেষ করে ফ্রেঞ্চে পারদর্শী হয়ে ওঠেন।


সেকালে, টেন মিনিট স্কুলের মত অনেক টেন ইয়ার্স স্কুল ছিল যেখানে বিজ্ঞানের সাথে একটু আধটু ভ্যালুজও শেখানো হত। তাদের শিক্ষকরা অনেকেই ছিলেন সাকিব বিন রশিদের মত লিবারটাইন প্রকৃতির, আই মিন খান্নাস।


তো দেখা গেল, পাশাদের পাঠানো হল সায়েন্স শিখতে, তারা সায়েন্স যতটা না শিখলেন তার চাইতে বেশি শিখলেন ফ্রি সেক্স, ফ্রিডম অফ চয়েস আর লাভ ইজ লাভ।


এইভাবে, একের পর এক এন্দেরুন ব্যাচ পশ্চিম থেকে এসে উসমানী দিউয়ানের পলিসি মেইকিং লেভেলে ঢুকতে থাকলেন। 

প্রায় পঞ্চাশ থেকে সত্তর বছর পর, এরাই ছিলেন অটোমান এলিটদের এক বিরাট অংশ। সায়েন্সে এগিয়ে থাকলেও মানসিকতায় এদের অনেকেই ছিলেন ইউরোপিয়ান।


ক্রিমিয়ার যুদ্ধে ফ্রেঞ্চ-ব্রিটিশরা উসমানীদের পক্ষে রাশিয়ার সাথে লড়ে জিতিয়ে দিল বটে, কিন্তু এর বিনিময়ে তারা উসমানী খিলাফাহর পলিসির ওপর খবরদারী শুরু করলো।

 প্রথম পকেটে পুরলো অর্থনীতি। খিলাফাহ ব্যাংকরাপ্ট হয়ে গেছ যুদ্ধের খরচ সামাল দিতে। সেই সুবাদে তারা উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে পুরো অর্থনৈতিক নীতির নিয়ন্ত্রন নিল।


অর্থনীতির নিয়ন্ত্রনের সাথে সাথে শিক্ষা ও আইনের কিছু সংস্কারের দাবিও তুললো ব্রিটেন ও ফ্রান্স।


বাইরে থেকে আসা এই চাপের সাথে তাল মেলালেন ভেতর থেকে ওৎ পেতে থাকা পায়ুসেনা পাশারা। সুলতান আব্দুল মাজিদ, সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ এবং সুলতান মুরাদও ছিলেন পশ্চিমাপন্থী, যদিও আখেরে তাদের এই পশ্চিমপন্থী সংস্কারের ফলে খিলাফাহর কোন লাভ হয় নি।


মূলত, এর ফলেই সুলতান সুলেইমান আল কানুনীর করা আইন পরিবর্তন করে পায়ুমৈথুনের শাস্তি রহিত করা হয়। 

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ না হলেও হয়তো ব্যাপারটা খুব একটা এদিক ওদিক হত না।


তবে এর মানে এই না যে খিলাফাহ কায়েম থাকা অবস্থায় সমকামীতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল। লিগ্যালাইজেশান আর ডিক্রিমিনালাইজেশান এক জিনিস না।


পরবর্তীতে সুলতান আব্দুল আযীয বা সুলতান আব্দুল হামিদ সানীর পক্ষে এই আইন পরিবর্তন করে ব্রিটিশ-ফ্রেঞ্চদের সাথে মিত্রতা নষ্ট করার সুযোগ ছিল না, কারন রাশিয়ার বিরুদ্ধে একা লড়ার মত শক্তি তখন আর অটোমানদের অবশিষ্ট ছিল না।

দিস ইজ দ্যা সামারী।
সায়েন্স শিখতে গিয়ে ভ্যালুজ শিখে আসা বা নিজের ভ্যালুজ ত্যাগ করে আসা, এটাই এই অধপতনের প্রধান কারন।

Powered by Blogger.