হিন্দি সিনেমা বা মুভির খবর বাংলা | সিনেমা আর দর্শকের সম্পর্ক আসলে কি? জানতে পড়ুন

সিনেমা আর দর্শকের সম্পর্ক আসলে কি? মগজধোলায় এর হাতিয়ার সিনেমা বা মুভি। ইংলিশ বাংলা হিন্দি সিনেমা বা মুভির খবর বাংলা 



  1. নতুন হিন্দি সিনেমা বই
  2. হিন্দি সিনেমা ফুল মুভি মেলা

সিনেমা আর দর্শকের সম্পর্ক আসলে কি ? স্রেফ বিনোদন ? না কি অন্য কিছুও আছে?


সিনেমার দর্শকদের সবচেয়ে বড় ধোঁকার জায়গা হচ্ছে তারা মনে করে “Cinema is the reflection of the society”। এটা হচ্ছে এক ধরণের আইওয়াশ ।

 একজন নির্মাতা কখনোই এ উদ্দেশ্যে একটা সিনেমা বানায় না । যা আপনি সমাজে দেখতেই পাচ্ছেন খালি চোখে ,তাই যদি সিনেমা নির্মাতা দেখান -তার আর ক্রেডিট কোথায় বলুন?

 বরং সিনেমা বানানো হয় “Cinema is the reflection of the society which the filmmaker wants” এই থিমের ওপর ভিত্তি করে।

অর্থাৎ ,সিনেমা নির্মাতা একটা সিনেমা দেখানোর মাধ্যমে আপনাকে বাতলে দিবেন কোন সমাজটা আপনার চাওয়া উচিৎ ,কোনটা নয় । বিষয়টা না বুঝে থাকলে অপেক্ষা করুন ।


এ কাজটি খুবই সহজ । যেমন ধরুন নির্মাতা চাচ্ছেন , বর্তমান মাদ্রাসা ব্যবস্থা কিংবা ইসলামী চিন্তাধারাকে ব্যঙ্গ করে কিছু বানাবেন ।

অথবা তিনি চাচ্ছেন , বর্তমান মাদ্রাসা ব্যবস্থা কিংবা ইসলামী চিন্তাধারাকে প্রশংসা করে কিছু একটা বানাবেন (কিংবা এ জায়গায় আপনি অন্য কোন টপিকও মনে করতে পারেন,আপনার ইচ্ছা)


দুই ক্ষেত্রেই সূত্র একই ,ফ্রেম একই। আপনি আপনার সিনেমায় দুইটা পক্ষ হাজির করবেন । একটা পক্ষ হল Good আরেকটা পক্ষ হল Evil । 

আপনি যাকে good পক্ষ বানাবেন ( যেমন ধরুন কোন সমকামীকে বানালেন এ পক্ষ )তাকে আপনি দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করবেন দারুণ একজন স্বাধীনতাকামি ,ভালোবাসা সন্ধানী ,নিরীহ, মমতাময় , কিন্তু এতদসত্ত্বেও সমাজ ব্যবস্থার আগ্রাসনের স্বীকার এক সত্ত্বা হিসেবে । 


আর evil পক্ষে যাদের রাখতে চাচ্ছেন (ধরুন, সমকামিতার বিরুদ্ধাচারণ করা কিছু হুজুর) তাদেরকে বিভিন্নভাবে ডিমোনাইজ করতে হবে ।যেমন এই হুজুরগুলো হল ব্যক্তির স্বাভাবিকতা,স্বাধীনতা বিরোধী কিছু দানব প্রকৃতির সত্ত্বা । 

এরা মানুষের সুন্দর ,শুভ্র ,স্বাভাবিক সত্ত্বাকে কেড়ে নিয়ে এক অত্যাচারের আবাস তৈরি করতে চাচ্ছে । 

এরা যে নেচার বিরোধী শুধু তাই না ,ব্যক্তি জীবনেও প্রচণ্ড আগ্রাসী ও খারাপ ।সে জন্য নির্মাতা কিছু সিন আনবেন (যেমন এরা বউদের বেধড়ক মারধর করে , উপরে ধর্মের কথা বলেও গোপনে মেয়েদের দিকে যৌনতাসুলভ দৃষ্টি দেয় ইত্যাদি)।


‘গুড’ এর প্রতি সিম্প্যাথি তৈরির জন্যেও কিছু সিন রাখা যায় । যেমন দূর কোন পাহাড়ের বা টিলার উপরে ‘গুড’ বসে আছে , সন্ধ্যা নেমে আসছে , 

ছল ছল চোখে সে তাকিয়ে আছে দিগন্তপানে , ব্যাকগ্রাউন্ডে ভায়োলিনের বা পিয়ানোর সুর বাজছে ,তার পাশে একটা কুকুর অনুগতের মত বসে আছে, (অর্থাৎ ,নির্মাতা বুঝাচ্ছেন, একটা জানোয়ারও তাকে ভালোবাসে কিন্তু মানুষ নয় ) ইত্যাদি ।

এভাবেই সিনেমাটা গুড এবং এভিলের এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে একসময় শেষ হবে।

আপনি একজন দর্শক হিসেবে সিনেপ্লেক্স থেকে বের হবার সময় কি মনে মনে ভাববেন (post cinema effect) ? যা ভাববেন তা হল , “কখনোই আমি বাস্তব সমাজে ‘এভিল’ পক্ষে থাকতে চাই না। 

কখনোই না।” আর গুডের জন্য যাতে আপনি সমাজে অন্তত কিছু বলতে পারেন তাই চাইবেন ।অর্থাৎ ,সমাজ যাতে ‘গুড’ দের পক্ষে থাকে তাই চাইবেন ।


ব্যস ! সিনেমা নির্মাতা সফল ।ইট ওয়াজ এ মাস্টারপিচ অফ সিনেমাটোগ্রাফি । তিনি আপনাকে যেভাবে সমাজকে দেখতে বলেছেন আপনি তাই করেছেন ।


তিনি এই মুহূর্ত টির জন্যই অপেক্ষা করেন । পুরো সিনেমায় তিনি একটা জিনিসই চান,তা হল গুড এবং এভিল কে আপনাকে চেনানো।এবং সেটা অবশ্যই তার বিশ্বাসমত।


ইরানে একটি সিনেমা ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয়েছিল । নাম ‘A moment of innocence’ । ওই সময়ে ইরান ইউরোপীয় আধুনিকতার প্রতি এক যুদ্ধংদেহী বা আগ্রাসী মুডে ছিল। 

পুরো সিনেমায় এমনিভাবে ভালোবাসা,শান্তি আর ‘এর উপর চাপিয়ে দেয়া বাস্তবতা'র একটা দ্বন্দ্ব দেখানো হয় অন্য একটা গল্পের মাধ্যমে এবং এই সিনেমার শেষ দৃশ্য দ্বারা নির্মাতা বুঝিয়েছেন , ‘বন্দুক নয় ,ফুল’ ।


 অর্থাৎ ,চিরায়ত কমিউনিজমের সেই ইউটোপিয়ান রোমান্টিসিজম, যেটা আপনাকে জোয়ান বায়েজ ,জন লেনন , বব ডিলান, কবীর সুমন বহুবার শুনিয়েছে।যাই হোক ।


কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করুন , পুরো উল্টো একটা সিনেমাও বানানো যেত (যেটা আপনি কখনোই দেখেন নি বা হয়ত দেখবেনও না) তা হল , আগের সিনেমায় আমরা যাকে 'গুড' পক্ষে দেখেছি তাকে এবার 'এভিল' পক্ষে দেখব এবং vice versa ।

 অর্থাৎ , হুজুরগুলা এবার গুডের পক্ষে । তারা চাইছে এভিলের আগ্রাসনের কবল থেকে সমাজকে বাঁচাতে । সমাজের যে সুন্দর ছবি তাকে ধরে রাখার জন্য তারা নিরন্তর সংগ্রাম করছেন ।

তারা যে ভালোর পক্ষে শুধু তাই না ,বরং তারা ব্যক্তিজীবনেও অনেক সৎ ,ন্যায়পরায়ণ,মায়ামমতায় ভরা ইত্যাদি ।

আর এভিলগুলা এই সমকামের নাম দিয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিতে,সমাজের মানুষের ভালোবাসা ,শুভ্রতাকে নষ্ট করে দিতে চাইছে ।

 তখন সিনেমা হল থেকে বের হয়ে আপনার কি উপলব্ধি হবে? তা বলে দিতে হবে না নিশ্চয়ই । 

আর আপনার যে ধরণের উপলব্ধি হবে ,তা প্রথিতযশা নির্মাতারা কখনোই চান না । তাই সে সিনেমাটাও আপনি কখনোই দেখেন নি।

একটা প্রশ্ন প্রায়ই জাগে, স্পষ্ট ইসলাম বিরোধী কন্টেন্ট থাকলেও, কেন সিনেমা নির্মাতারা নিজেদের সিনেমাকে সরাসরি ‘ধর্ম বিরোধিতা’ না বলে ‘ধর্মের নামে চলা কুসংস্কার বিরোধিতা’ ন্যারেটিভ ব্যবহার করে প্রচার করেন ? খুব সহজ। 

অন্য কোথাও সরাসরি 'ধর্ম বিরোধী' ন্যারেটিভ বেচতে পারলেও (যেমন উত্তর কোরিয়া ,চীন) , উপমহাদেশে কিংবা পশ্চিমেরও অনেক খানে বেচা যাবে না ।


তাই সিনেমার মাধ্যমে নির্মাতা আপনাকে একটু ঘুরিয়ে বলবেন , “ধর্ম মান ঠিক আছে” ,তবে যেভাবে মানতে হবে ও যেভাবে মানা যাবে না ,তাও সিনেমা নির্মাতাই বলে দিবেন

(মানে সমকামকে খারাপ ভেবে ধর্ম মানলে সেটা বাড়াবাড়ি ,তাদেরকে স্বাভাবিক entity ভেবে ধর্ম মানলে সেই ধর্ম মানা ঠিক আছে ইত্যাদি) ।



তাতে আলটিমেটলি যেটুকু ধর্ম বাকি থাকে তার সাথে নাস্তিকেরও বিশেষ কোন তফাৎ নেই ।

Rakayet Rafi


দৃশ্যকল্প ১:
" ইসলাম X,Y,Z কাজকে হারাম বলে। আমরা এটাকে মানবো না। এর জন্য যদি ইসলামের বিরোধিতা করা লাগে আমরা করব। "

দৃশ্যকল্প ২:


" ' ইসলাম X,Y,Z কাজকে হারাম বলেছে ' এ কথা হল সরলমনা মুসলমানদের বিশ্বাসকে ব্যবহার করে তাকে X,Y,Z কাজ থেকে বিরত রাখার ধান্দা। অথচ, শত শত মুসলমান আছে যারা কত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে X,Y,Z করেও তার ধর্ম পালন করছে।আমরা ইসলামের বিরুদ্ধে নই,তবে ইসলাম কে ব্যবহার করে যারা মানুষকে X,Y,Z থেকে বিরত রাখার চক্রান্ত করছে তাদের সাথে আমরা নই।"

পুনশ্চ : দৃশ্যকল্প: ১ খুব সহজেই বুঝেছি কিন্তু আমি দৃশ্যকল্প:২ কখনোই বুঝতে পারি নাই। আমাদের মুসলমানদের আলেমরা ইসলাম এর ব্যাপারে সবচেয়ে বিশেষজ্ঞ, যেমনিভাবে কার্ডিওলজিস্টরা হৃদরোগের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। দেশের স্বনামধন্য সব আলেমরা কিছু কে 'হারাম' বললে তারা এত রেগে যান কেন??

মানে দেশের সব স্বনামধন্য কার্ডিওলজিস্টরা যদি বলেন আপনার ওপেন হার্ট সার্জারি লাগবে, আপনি কি বলবেন,
" আরে এগুলা সব ভন্ডামি। ডাক্তারি বিদ্যাকে ব্যবহার করে সব তোদের টাকা কামানো আর মানুষের বুক কাটার ধান্দা??"
-Rakayet Rafi

Powered by Blogger.