জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত | আরবি বারো মাসের আমল ও ফজিলত | বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দশ দিন

জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের আমল এবং ফজিলত | বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দশ দিন 



বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দশ দিন শুরু হতে আর মাত্র ১/২ দিন বাকি; আসুন, এই দশ দিনের সুমহান মর্যাদা ও ফজিলতের ১০ টি দিক সম্পর্কে জানি


(প্রথমেই বলে নিই: যুল হিজ্জাহ্ মাসের প্রথম দশ দিন হলো বছরের সর্বশ্রষ্ঠ দিন। দিন বলতে এখানে দিন ও রাত উভয়টিই উদ্দেশ্য। আরবিতে মাসের নামটি ‘জিলহজ’ নয়, ‘যুল হিজ্জাহ’; সুতরাং, আমরা এটিই বলব)



জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের আমল বাংলা 

.
(১) এই দিনগুলোর আমল আল্লাহর নিকট সারা বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ও শ্রেষ্ঠ:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট যুল হিজ্জাহর (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।’’ 


সাহাবাগণ বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ রাস্তায় জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়?’ 

তিনি বললেন, ‘‘না। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং এর কোনোটি নিয়েই আর ফিরে এলো না (অর্থাৎ, শহিদ হয়ে গেলো, তার কথা ভিন্ন)।’’

[সহিহ বুখারি: ৯৬৯, মুসনাদ আহমাদ: ৬৫০৫, আবু দাউদ: ২৪৩৮]
.
এই দশদিনের ফরজ ইবাদত অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদতের তুলনায় অধিক মর্যাদার। এই দশদিনের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। 


কিন্তু এই দশদিনের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের ফরজ ইবাদত থেকে শ্রেষ্ঠ নয়। 

[ইবনু রজব, ফাতহুল বারি: ৯/১৫]
.




(২) আল্লাহ তা‘আলা যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ রাতের শপথ করেছেন:
.
আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
والفجر وليال عشر
অর্থ: শপথ ভোর বেলার, শপথ দশ রাতের।

 [সূরা ফাজর, আয়াত: ১-২]

.
সাহাবাদের মধ্যে কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা.) এবং বিশিষ্ট তাবি‘ঈ মুজাহিদ, কাতাদাহ্, ইকরিমা, মাসরুক (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ অধিকাংশ সাহাবি, তাবি‘ঈ ও মুফাসসিরের মতে এখানে ‘দশ রাত’ দ্বারা যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে।


ইমাম ইবনু কাসির (রাহ.) বলেন, এটাই বিশুদ্ধ মত। [ইবনু কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম: ৪/৫৩৫-৫৩৬, আলুসি, রুহুল মা‘আনি: ২০/৪২২]
.



(৩) এগুলো সেই ‘নির্দিষ্ট দিন’, যেগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় বিশেষভাবে:
.
আল্লাহ তা‌‘আলা বলেন, ‘‘যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিযিক দিয়েছেন, তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’’ 

- [সূরা হজ, আয়াত: ২৮]


.
ইবনু আব্বাস (রা.), ইবনু উমার (রা.), হাসান বাসরি, আত্বা, ইবরাহিম নাখাঈ এবং ফিকহের প্রধান ইমামগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, ‘নির্দিষ্ট দিনসমূহ’ দ্বারা যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিনই উদ্দেশ্য।


-[ইবনু কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম: ৩/২৮৯, বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ: ৫/৩৭৯]


.

(৪) এই দিনগুলোর মধ্যেই আছে ঈদ তথা কুরবানির দিন, যা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ:

.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো কুরবানির দিন, অতঃপর স্থিরতার দিন।’’ (অর্থাৎ কুরবানির পরবর্তী দিন, যেদিন হাজিগণ বিশ্রাম করেন) 

-[আবু দাউদ: ১৭৬৫, হাদিসটি সহিহ] 

.
(৫) এই দিনগুলোতেই অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হজ পালন করা হয়:
.
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘হজের মাসগুলো সুবিদিত/সুনির্ধারিত।’’ - [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৯৭]


.
(৬) এই দিনগুলোর মধ্যেই আরাফার সুমহান দিনটি রয়েছে, যে দিনটি অনন্য:


.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘অন্যান্য দিনের তুলনায় আরাফার দিনে আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দাকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’’ 

- [সহিহ মুসলিম: ৩৩৫৪, নাসাঈ: ৩০০৩]
.
(৭) এই দশটি দিন যুল হিজ্জাহ মাসের আর এই মাসটি সম্মানিত চার মাসের একটি:
.
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলকে (বছরে) মাসের সংখ্যা বারোটি—আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত।” 

- [সূরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৬]



.
বাকি তিনটি হলো: মুহাররাম, রজব ও যুল কা‘অ্দাহ্ (বাংলায় জিলকদ নামে পরিচিত)
.



(৮) এই দিনগুলোর ইবাদতের লাভ অধিক:

.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘(যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশকে) এক দিনের রোজা অন্য সময়ের এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমান (মর্যাদার)।’’ 

-[তিরমিযি: ৭৫৮, ইবনু মাজাহ: ১৭২৮, হাদিসটি দুর্বল]

.
(৯) এই দিনগুলোতে সব মৌলিক ইবাদত সম্পন্ন হয়:
.
ইবনু হাজার (রাহ.) বলেছেন, যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশকের বিশেষ বৈশিষ্টের তাৎপর্য হলো, এতে সকল মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যথা: নামাজ, রোজা, সাদাকাহ, হজ ইত্যাদি। অন্যান্য সময়ে একসাথে এতগুলো ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে না। -[ইবনু হাজার, ফাতহুল বারি: ২/৪৬০]



.
(১০) সালাফে সালেহিন তথা পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিগণ এই দিনগুলোর বিশেষ কদর করতেন:
.


বিখ্যাত তাবি‘ঈ সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহ.)-এর অভ্যাস ছিলো, তিনি যুল হিজ্জাহ্ মাসের প্রথম দশকে ইবাদতের জন্য কঠোরভাবে সাধনা করতেন। [দারিমি, হাসান সনদে]
.
শ্রেষ্ঠ দশ দিন (প্রথম পর্ব)
পরের পর্বে এই দশ দিনের আমলগুলো আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্।
.
Tasbeeh



  • আরবি ১২ মাসের নাম
  • আরবি ১২ মাসের ক্যালেন্ডার
  • আজ আরবি মাসের কত তারিখ জানতে চাই

বছরসেরা দশক তথা যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিনের ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ আমল:


(১) যুল হিজ্জাহর প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা; বিশেষত আরাফার দিনের রোজা:

.
নবীজির একজন স্ত্রী বর্ণনা করেন, ‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল হিজ্জাহ মাসের ৯ দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসের তিন দিন রোজা রাখতেন।’’ 
[আবু দাউদ, আস-সুনান: ২/৪৬২, সনদ সহিহ]

.
অন্য হাদিসে নবীজি বলেন, ‘‘আরাফার দিনের রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর দ্বারা বিগত বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।’’ 
[মুসলিম, আস-সহিহ: ১১৬২]
.
(আরাফার দিনের আমল নিয়ে অন্য পোস্টে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্)
.
(২) আন্তরিকভাবে তাওবাহ্ করা:.
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘অবশ্যই আল্লাহ তাদের তাওবাহ কবুল করবেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর দেরি না করেই (দ্রুত) তাওবাহ করে। এরাই হলো সেসব লোক, যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’’ [সূরা নিসা, আয়াত: ১৭]

.
(৩) গুরুত্বের সাথে ফরজ ইবাদতগুলো আদায় করা এবং সাধ্যানুযায়ী অধিক পরিমাণে নফল আদায় করা:
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘বান্দা যা কিছু দিয়ে আমার নৈকট্য লাভ করে থাকে, তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম হলো সেই ইবাদত, যা আমি তার উপর ফরজ করেছি। আর, সে নফল ইবাদত দ্বারাও আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি।’’ 
[বুখারি, আস-সহিহ: ৬৫০২]
.

(৪) এই দশ দিন নখ ও চুল না কাটা:
.
নবীজি বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যুল হিজ্জাহ মাসের চাঁদ দেখলে এবং কুরবানি করার ইচ্ছা করলে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ১৯৭৭]
.
এই হাদিস থেকে জানা গেলো, কুরবানিদাতা যুল হিজ্জাহ মাস শুরু হয়ে গেলে ১০ তারিখের আগে চুল ও নখ কাটবেন না। তবে, অন্য হাদিস থেকে বোঝা যায়, যারা কুরবানি দেবে না, তারাও নখ ও চুল কাটবে না। (তবে, এটি জরুরি নয়, উত্তম)
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি কুরবানির দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ তা’আলা তা এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। 

এক ব্যক্তি বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী—তবুও কি কুরবানি দিতে হবে?)’ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না; বরং সেদিন (অর্থাৎ, ঈদের দিন) তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে।

 এটাই আল্লাহ তা’আলার কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানি বলে গন্য হবে।
 [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৬৫৭৫, ইমাম হাকিম, ইবনু হিব্বান, মুনযিরি, তাবারানি, যাহাবি, শুয়াইব আরনাউত্ব (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ মুহাদ্দিসগণ হাদিসটির সনদ হাসান (গ্রহণযোগ্য) বলেছেন]

.
এই হাদিসে ঈদের দিনে নখ ও চুল কাটতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম ৯ দিনে না কেটে একেবারে ঈদের দিনে কাটলে আল্লাহর নিকট পূর্ণ কুরবানির নেকি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ্।
.
(৫) বেশি পরিমাণে আল্লাহর যিকর করা:.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট যুল হিজ্জাহর দশ দিনের আমলের চেয়ে মহান এবং প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং, তোমরা সেই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়ো।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫৪৪৬ সনদ সহিহ]
.
(৬) সামর্থ থাকলে হজ ও উমরা করা:
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করলো এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকলো, সে ঐ দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হয়েছিল।’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ১৫২১, মুসলিম, আস-সহিহ: ১৩৫০]
.
আল্লাহর রাসূল আরও বলেন, ‘‘এক উমরা আরেক উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়।’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ১৭৭৩, মুসলিম, আস-সহিহ: ১৩৪৯]
.
(৭) সামর্থবান হলে কুরবানি করা:
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘কুরবানির দিনে আদম-সন্তান এমন কোন কাজ করতে পারে না, যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করা তথা কুরবানি করার চেয়ে বেশি প্রিয় হবে। (কুরবানির পশুগুলোকে) তাদের শিং, পশম ও খুরসহ কেয়ামতের দিন আনা হবে। (কুরবানির পশুর) রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর নিকট সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে যায়। সুতরাং, তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কুরবানি করো।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ১৪৯৩, হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ৭৫২৩, হাদিসটি সহিহ]


.
(৮) বেশি পরিমাণে তাকবির (আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব) পাঠ করা:
.
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
.
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
.
এটি ইবনু মাস‘ঊদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৩/১২৫]
.
আরাফার দিন অর্থাৎ যুল হিজ্জাহর ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাকী বা জামাতে নামাজ আদায়কারী, নারী অথবা পুরুষ,—প্রত্যেকের জন্য একবার তাকবিরে তাশরিক (উপরে বর্ণিত তাকবিরটি) পাঠ করা ওয়াজিব। 

পুরুষরা উচ্চ আওয়াজে বলবে, তবে নারীরা নিচু আওয়াজে বলবে। [ফাতাওয়া শামি: ৩/৬১]
.

আর সাধারণভাবে প্রথম দশ দিন আল্লাহর বড়ত্বের যেকোনো বাক্যই বেশি বেশি পড়া উচিত। যেমন: আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়ালহামদুলিল্লাহি কাসিরা অথবা আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ কিংবা উপরের তাকবিরটি।

.
(৯) চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো যুল হিজ্জাহ; তাই এই মাসের সম্মানে যথাসম্ভব সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
.
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলকে (বছরে) মাসের সংখ্যা বারোটি—আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা (গুনাহ করার মাধ্যমে) নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।” [সূরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৬]

.
(১০) সাদাকাহ্ করা:
.
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সাদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণে লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হয়।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ; আলবানি, সহিহুল জামি’: ৪৫১০, হাদিসটি সহিহ]
.
এছাড়াও এই দশ দিনে আমরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল করতে পারি:
.
মা-বাবার খেদমত;
প্রতিবেশির হক আদায়;
মানুষের দুঃখ দূরীকরণ;
দরুদ ও ইস্তিগফার পাঠ;
মানুষের প্রয়োজন পূরণ;
লোকদের বিবাদ মেটানো;
অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-সুশ্রূষা;
আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ়করণ;
কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত;
সকল শ্রেণির মুসলিমের জন্য দু‘আ;
শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় ইত্যাদি।
.
শ্রেষ্ঠ দশ দিন (দ্বিতীয় পর্ব)
.
#Tasbeeh



আজ সন্ধ্যায় যুল হিজ্জাহ মাসের চাঁদ ওঠার সম্ভাবনা আছে; তাই নিজেদের নখ, চুল ও অন্যান্য পশম কেটে ফেলি।

.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যুল হিজ্জাহ মাসের চাঁদ দেখলে এবং কুরবানি করার ইচ্ছা করলে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ১৯৭৭]
.
এই হাদিস থেকে আলিমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, কুরবানিদাতা যুল হিজ্জাহ মাস শুরু হয়ে গেলে ১০ তারিখের (ঈদের দিনের) আগে চুল ও নখ কাটবেন না, বরং যুল হিজ্জাহর আগেই এসব কাজ করে নেবে। এই কাজটিকে অনেক আলেম ‘আবশ্যক’ বলেছেন আবার অনেকে কেবল ‘উত্তম’ বলেছেন। তবে, হাদিসের ভাষ্যটি তাকিদপূর্ণ, তাই এর উপর আমল করা উচিত।
.
অন্য হাদিস থেকে বোঝা যায়, যারা কুরবানি দেবে না, তারাও নখ ও চুল কাটবে না। এটি তাদের জন্য আবশ্যক নয়, তবে উত্তম ও বিরাট নেকির কাজ গণ্য হবে।
.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি কুরবানির দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ তা’আলা তা এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী—তবুও কি কুরবানি দিতে হবে?)’ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না; বরং সেদিন (অর্থাৎ, ঈদের দিন) তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ও নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহ তা’আলার কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানি বলে গন্য হবে। [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৬৫৭৫, ইমাম হাকিম, ইবনু হিব্বান, মুনযিরি, তাবারানি, যাহাবি, শুয়াইব আরনাউত্ব (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ মুহাদ্দিসগণ হাদিসটির সনদ হাসান (গ্রহণযোগ্য) বলেছেন]
.
এই হাদিসে ঈদের দিনে নখ ও চুল কাটতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম ৯ দিনে না কেটে একেবারে ঈদের দিনে কাটলে আল্লাহর নিকট পূর্ণ কুরবানির নেকি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ্।
.
যেহেতু আজ সন্ধ্যায় চাঁদ ওঠার সম্ভাবনা আছে, সেহেতু সন্ধ্যার পূর্বেই আমরা আমাদের নখ ও বিভিন্ন চুল কেটে নিতে পারি। আর আজ যদি চাঁদ না ওঠে, তবে কাল চাঁদ অবশ্যই ওঠবে ইনশাআল্লাহ্। সেহেতু, আরেকদিন পাওয়া যাবে। তবে, সতর্কতা হিসেবে আজকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারি।
.
#Tasbeeh
Powered by Blogger.