বাংলাদেশের বন্দরে বাংলাদেশের আগে ঢুকবে ভারতের জাহাজ | বাংলাদেশ ভারত বিরোধ সমস্যা, চুক্তি,সীমান্ত হত্যা ও কুটনৈতিক সম্পর্ক সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ ভারত বিরোধ সমস্যা, চুক্তি,সীমান্ত হত্যা ও কুটনৈতিক সম্পর্ক সম্পাদকীয় | আসুন জানি বাংলাদেশ কেনো ভারত বিরোধী হয়ে যাচ্ছে। 



  1. ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি
  2. বাংলাদেশ ভারত কুটনৈতিক সম্পর্ক
  3. ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর মত
  4. বাংলাদেশ ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক


আমার ব্যবসা মূলত চট্টগ্রাম বন্দর এবং কাস্টম হাউজ ঘিরে। আর তাই চট্টগ্রাম বন্দরের আদ্যোপান্ত মোটামুটি জানা আছে। বছরের অধিকাংশ সময় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জট লেগেই থাকে। 

প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সরকারী বিভিন্ন ছুটি, বাজেট কেন্দ্রিক জটিলতা, বন্দরের সক্ষমতার অভাব, লোকবল সঙ্কট সব মিলিয়ে প্রায়ই বন্দরে জাহাজ বার্থিং করতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়।

 যারা আমদানী রপ্তানী ব্যবসার সাথে যুক্ত তারা জানেন কতোটা হ্যাসেলে তাদের পড়তে হয় বন্দর এবং কাস্টমসের গ্যাঁড়াকলে পড়ে। 

অর্থ, সময় এবং পণ্যের যোগান ব্যহত হওয়া বাংলাদেশে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।


.
কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও আমাদের সরকার দেশীয় ব্যবসায়ীদের দাবি না মেনে ভারতের সাথে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি করে, 

যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর নাম মাত্র মাশুল আদায়ের মাধ্যমে ভারতের পণ্যবাহী কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে রাখার ব্যবস্থা করবে 

এবং বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যবাহী কন্টেইনার ট্রেইলারে করে আসাম ত্রিপুরা রাজ্যে পৌঁছুবে। 

এর জন্য সড়ক পথেও তারা কোনো প্রকার মাশুল বা রোড ট্যাক্স আদায় করবে না। যে পথে আপনার আমার পন্যবাহী গাড়ি চলতেই রাস্তা নির্ধারিত সময়ের আগে টেম্পার হারায়, 

সেখানে ভিন্ন দেশের স্বার্থ আদায়ে আমাদের মেহমানদারীর তারিফ করতেই হয়। রোড নষ্ট হবে তাদের গাড়িতে, আর ঠিক করবে আমার দেশের সরকার নামক মজুর কর্তৃক।

.
শুধু তাই নয়, বন্দরে ভারতীয় পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ ভেড়বার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ হতে প্রায়োরিটি পাবে। 


অর্থ্যাত একই সাথে দুটি জাহাজ বন্দরের আউটারে অপেক্ষারত থাকলে, ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে আগে বন্দরে ভিড়তে দিতে হবে (যুক্তি অনুযায়ী)। 

তারিফ করতে হয় সরকারের। মজার ব্যাপার হলো ভারতীয় মেহমানরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আরো বড় আবদার করেছিল।

 তারা চেয়েছিল, তাদেরকে ডেডিকেটেড একটা বন্দর বা জেটি দিয়ে দেয়া হোক, যেন নির্বিঘ্নে তারা কাজ করতে পারে।

 তখন চট্টগ্রাম বন্দরের বিশাল একটা অংশকে তাদের জন্য একপ্রকার ডেডিকেটেড জেটি করে দেয়ার প্রস্তাব সরকার কর্তৃক গৃহীত হয়েই গিয়েছিল।

 পরে অবশ্য ব্যবসায়ীক মহলের উচ্চবাচ্য এবং পাবলিক সেন্টিমেন্ট-এর বিষয় চিন্তা করে তা থেকে সরে আসে ভারতের গোলামরা। 

আর ঠিক তখন এর চেয়েও বড় অপরচুনিটি অফার করে, সেটা হলো জাহাজ যখনই আসুক প্রায়োরিটিতে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজই বন্দরে আগে ভিড়বে।

 এতে সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙলো না।

  1. বাংলাদেশ ভারত সমস্যা
  2. বাংলাদেশ ভারত চুক্তি
  3. বাংলাদেশ ভারত বিরোধ
  4. বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত

.
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আত্মঘাতী সরকার খুব কম এসেছে যারা কিনা নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে অন্যের স্বার্থকে শ্রদ্ধা জানাতে এতো তৎপর। 

শুধু তাই নয়, দেশের ব্যবসায়িক মহলের উঁচু পদেও বসান হয়েছে ভারতীয় দালালদের। 

এই যেমন গত বৃহস্পতিবার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর থেকে প্রথম চালান স্বরূপ চার কনটেইনার রড ও ডালের একটি চালান নিয়ে জাহাজ রওনা দিয়েছে।

 এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনার বাড়িতে কোন মেহমান এলে নিজে খাওয়ার আগে অবশ্যই মেহমানদের খাওয়ানো উচিত। সে হিসাবে ভারতীয় পণ্য বেশি প্রায়োরিটি পেতে পারে।’[১]


চিন্তা করুন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এরা কাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে! বাকি অথরিটির ব্যাপারে নিজেরাই বুঝে নিন। 

সেইবার তো উলফার ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়েছিল। এবার আর বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফার প্রয়োজন নেই, বাংলাদেশ গিলে খাওয়ার জন্য সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম এবার বাংলার বুক চিরেই ভারত সরকার নিজেই নিয়ে যাবে। 

সেই ভয়াল দিনের অপেক্ষায় চাইলে এখন থেকে ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখতে পারেন....
Abu Mus'ab

  • বাংলাদেশ ভারত কুটনৈতিক সম্পর্ক
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সম্পাদকীয়
  • ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধ
Powered by Blogger.