আয়া সোফিয়া, সেকাল থেকে একাল | উসমানী খিলাফাত, ইস্তানবুল বিজয় ও আজকের তুরস্ক | আয়া সোফিয়ার ইতিহাস

আয়া সোফিয়া, সেকাল থেকে একাল  - Aya Sophia Hagia Sophia | উসমানী খিলাফাত, ইস্তানবুল বিজয় ও আজকের তুরস্ক  

আয়া সোফিয়া, সেকাল থেকে একাল


আনুমানিক ১৫০০ বছর আগে ৫৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কনস্টান্টিনোপলের আয়া সোফিয়া ছিল বাইজান্টাইন খ্রিস্টানদের উপাসনালয়। 

১৪৫৩ সালে উসমানীয় সুলতান ফাতিহ মেহমেদ এই এলাকা জয় করেন। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খ্রিস্টান ও মুসলমান সংস্কৃতির মিশেল এই জাদুঘর।

আয়া সোফিয়ার আরেক নাম হাগিয়া সোফিয়া। দুর্ভেদ্য দেয়াল দিয়ে ঘেরা আয়া সোফিয়ার সুদৃশ্য গ্যালারী, ডোম (গম্বুজ) ও এর অভ্যন্তরভাগে সোনার কারুকার্জখচিত মোজাইক যেন স্বপ্নময় এক জগত।

বাইজাইন্টাইনদের আক্রমনের জবাবে ১৪৫৩ সালে উসমানীয় সুলতান ফাতিহ মেহেমেদ কনস্টান্টিনোপলে অভিযান পরিচালনা করেন। 

সুলতান মেহেমেদের বাহিনী বিশাল হলেও আয়া সোফিয়ার দেয়ালের কাছে তাকে থমকে দাঁড়াতে হয়। উসমানিয় বাহিনীর অনেক সৈনিকদের আটক করে রোমানরা। 

পরে দেয়ালের উপর তুলে ২৬০ জনের শীরচ্ছেদ করা হয়। তবুও হাল ছাড়েননি মেহেমেদ। সেনাদের সরে যেতে বলেননি। 

দেয়াল সামনে রেখে কনস্টান্টিপল অবরোধ করে রাখেন। তিনি প্রথমে দূত পাঠিয়ে শান্তির প্রস্তাব দিলেন এবং সবার জীবনের নিরাপত্তা দিবেন বলে আশ্বস্থ করলেন।

 কিন্তু যুদ্ধবাজ রোমানরা শান্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে যুদ্ধ শুরু হয়। ফাতিহ মেহেমেদের অভাবনীয় যুদ্ধ কৌশলের কাছে 
রোমানরা পরাজিত হতে বাধ্য হলেন।


কনস্টান্টিনোপল থেকে অনেক খ্রিস্টানরা তখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যায়। 

এতদিন ধরে রোমানরা মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল এই বিজয়ে মেহেমেদ ও তার বাহিনী চরম প্রতিশোধ নিবে এই আতংকে যারা পালাতে পারেনি তারা সবাই আয়া সোফিয়ায় জড়ো হয়ে এর দরজা আটকিয়ে দিয়েছিল।

 ফাতিহ মেহেমেদ তার বাহিনী নিয়ে আয়া সোফিয়ায় প্রবেশ করে তাদের জন্য জীবন ও আশার আলোয় নিয়ে এলেন। 

ইসলামের শ্বাসত বিধান অনুযায়ী পরাজিতদের পূর্ণ নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড করার নিশ্চয়তার ঘোষণা দিলেন

 (উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার প্রায় ৪০ বছর পরে স্পেনের মুসলমানরা রডারিক ও ইসাবেলার নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য স্পেনের মসজিদগুলিতে আশ্রয় নিয়েছিল কিন্তু সেদিন মুসলমানদেরকে প্রতিশ্রুত নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে পুড়িয়ে মেরেছিল)। 


স্পেনের কোরডোভা মসজিদ, খ্রিষ্টান রা চার্চ বানায় রাখছে। এতে তাদের সেকুলারিজম উদারমনা ব্লা ব্লা এর কিছুই হয় না! সব চুল্কানি মুসলিম, ইসলাম নিয়ে। 


ফাতিহ মেহেমেদের বিজয়ের সূত্র ধরেই কনস্টান্টিনোপল ইস্তানবুল নামকরণ করা হয়। উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হয় এই ইস্তানবুল এবং এই রাজধানী ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই ছিল।

মেহেমেদের বিজয়ের প্রতিক হিসেবে আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।

উসমানীয় সালতানাতের শেষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মোস্তফা কামাল পাশা তুর্কীর ক্ষমতায় আসেন। এরপর তিনি ইসলাম বিরোধী নানা আইন চালু করতে থাকে। 

তারই ধারাবাহিকতায় কামাল পাশা ধীরে ধীরে মসজিদকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করেন। শুধু তাই নয় আমেরিকা থেকে আর্কিওলোজীস্ট টমাস ওয়াইমুরকে নিয়ে আসেন। 

টমাস ওয়াইমুর ফাতিহ সুলতান মেহেমেদের সময়ে প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে দেয়া মেরি, যীশু ও অন্যান্য প্রাণীর চিত্রকর্মগুলো দেয়াল থেকে প্লাস্টার সরিয়ে উন্মুক্ত করেন। 

আর এগুলো সামনে নিয়ে নামাজ পড়া হারাম বিধায় মুসলমানরা আয়া সোফিয়াতে নামাজ পড়া থেকে আস্তে আস্তে সরে আসতে থাকে। 


আর এভাবেই আয়া সোফিয়াকে ১৯৩৪ সালের ২৪ নভেম্বর জাদুঘরে রূপান্তরের কামাল পাশার পরিকল্পনা সফল হল। পুরো ব্যাপারটাই ধরি মাছ না ছুঁই পানি যেন।

এরপর থেকেই মুসলমানরা বিভিন্ন সমাবেশে দাবি জানিয়ে আসছিল আয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে রূপান্তরিত করা হোক। 

১৯৭৪ সালে ইসলামী আন্দোলন মিল্লী গুরুশের প্রধান প্রফেসর নাজমুদ্দিন এরবাকান ক্ষমতায় এলে তাদের যুব সংগঠনের (আগেদে) পরিচালনায় আয়া সোফিয়ার সামনে ”ফাতিহ নামাজ” বা ”বিজয়ের নামাজ”র আয়োজন করা হয়। 

তখন থেকেই আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করার জোর দাবি উঠে। 

১৯৯৬ সালে আবারও ক্ষমতায় আসেন নাজমুদ্দিন এরবাকান। 

তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় মসজিদে রূপান্তরিত করার বিষয়টি সংসদ না ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

২০০২ সালে নবগঠিত একে পার্টি ও রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ক্ষমতায় আসলেও প্রফেসর এরবাকানের জারি করা ”ফাতিহ নামাজ” প্রতি বছর চালু থাকলেও এখন পর্যন্ত মসজিদে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়নি। 

গত ৮ জুলাই, ২০২০ তুর্কি আদালত আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রুপান্তরের মৌখিক রায় দেয়।


স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ, আল হামরা প্রাসাদ দখলকারী এবং ঐ সময় মুসলমানদের উপর চরম নিপীড়নকারী ও তাদের দোসর ইউরোপীয়দের বিরোধীতার পরেও মসজিদের পক্ষেই দেশটির আদালত রায় দিয়েছে।

আজ ১০ জুলাই চূড়ান্ত রায় প্রকাশ এবং তাতে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম সালাতের মধ্য দিয়ে মসজিদের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর পরে আয়া সোফিয়ার মিনার থেকে আযানের ধ্বনির অপেক্ষায় শুধু তুর্কি জাতিই নয় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব উন্মুখ হয়ে আছে।

খন্দকাল শাকিল আহমেদ
১০ জুলাই, ২০২০
আংকারা, তুরস্ক


  1. আয়া সোফিয়া
  2. অঘুজ তুর্কি
  3. তুরস্কের ইতিহাস বই pdf
  4. ইস্তাম্বুল ইযমির
  5. তুরস্কের শিক্ষা ব্যবস্থা
  6. তুরস্কের পতাকা
  7. তুরস্কের প্রেসিডেন্ট
  8. তুরস্কের স্বাধীনতার ইতিহাস
  9. ইস্তানবুল বিজয়
  10. তুর্কি জাতি



আয়া সুফিয়া : গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তরকরণের বৈধতা।

Ainul Haque Qasimi

তুর্কি প্রজাতন্ত্রের দাবি অনুযায়ী, উসমানি খিলাফতের একটি অপ্রকাশিত পুরনো নথিপত্র বলে যে, ১৪৫৩ সালে উসমানি সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর যাজকদের কাছ থেকে আয়া সুফিয়া গির্জা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকার ভূমি নিজের পকেটের টাকার বিনময়ে খরিদ করে নিয়েছেন। 

এরপর আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছেন। সে হিসেবে আয়া সুফিয়া মুসলমানদের নিজস্ব সম্পত্তি। জবরদখলকৃত নয় মোটেও।


উপর্যুক্ত কথাটা খুবই চাউর হয়ে আছে গোটা মুসলিম বিশ্ব জুড়ে। আয়া সুফিয়াকে গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তরিত করায় যারা মুসলিমবিদ্বেষ উগড়ে যাচ্ছে, তাদের মোকাবেলায় উপরোক্ত কথাটা দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা থেকে নিয়ে মুসলিম স্কলারদের টুইটার ও ফেসবুক একাউন্টে পর্যন্ত। অথচ, উপরোক্ত দাবি ঐতিহাসিক সূত্রমতে এবং যুক্তির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়।

 দুইদিকই উল্লেখ করছি আমি-

এক. আহমদ বিন ইউসুফ কিরমানি ছিলেন একজন নামকরা উসমানি ঐতিহাসিক। তিনি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের সমকালীন ছিলেন।

 তিনি বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন; তবে খ্রিষ্টান যাজকদের কাছ থেকে এটি খরিদ করেননি। 

আর মসজিদে রূপান্তরকরণ হয়েছিল মোট তিনদিনের ব্যাপ্তিতে। কেননা, কনস্টান্টিনোপলে সুলতান বিজয়ীবেশে প্রবেশ করেছিলেন মঙ্গলবার। 

পরের শুক্রবার সেখানে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা মসজিদে রূপান্তর করেন।


খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক রোন্সম্যান স্টিভেন বলেন, কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ যাজকদের সাথে এমন সদয় আচর করেন, যা কল্পনা করাও মুশকিল ছিল! 

শহরে প্রবেশ করার পরপরই তিনি আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করার ফরমান জারি করেন। পাশাপাশি তিনি এটির নামকরণ করেন- বড় জামে মসজিদ।


শুধু আয়া সুফিয়াই নয়; সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের আরও অনেক গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন।

যেমন প্রসিদ্ধ তুর্কি ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ফরিদ বেগ বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের অর্ধেক গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন। 

আরেকজন তুর্কি ঐতিহাসিক ইসমাইল সিরহিন্ত বলেন, সুলতান মোট ৪ টি গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন। 

পক্ষান্তরে আমেরিকান ঐতিহাসিক স্টানফোর্ড শো বলেন, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপলের ১৭ টি গির্জা মসজিদে রূপান্তরিত করেন।

দুই. কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের আগ পর্যন্ত উসমানি সাম্রাজ্য ছিল অনেকটা দুর্বল।

 সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তি বা সাম্রাজ্যের কোষাগার এমন পর্যায়ের ছিল না যে, তা দ্বারা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের এই ঐতিহ্যবাহী গির্জা খরিদ করবেন।

 তা ছাড়া গির্জাটি যাজকদের ব্যক্তিগত কোনো সম্পদ ছিল না; এটি ছিল গোটা অর্থোডক্স খ্রিষ্টজগতের সম্পত্তি।


উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, আয়া সুফিয়া গির্জা যাজকদের কাছ থেকে খরিদ করেননি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ; বরং কনস্টান্টিনোপল জয় করার পর তিনি এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। 

যেমনটি তিনি কনস্টান্টিনোপলের আরও অন্যান্য গির্জার বেলায় করেছেন। তাহলে সুলতানের এই কাজটা কি শরিয়তসম্মত নয়?

 ইসলাম কি এরকম গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণ সমর্থন করে?
হ্যাঁ, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের এই রূপান্তরকরণ সম্পূর্ণ শরিয়ত সমর্থিত। 

তাঁর এই মহান কাজ শুধু ইসলাম সমর্থনই করে না; বরং এটি মক্কাবিজেতা মুহাম্মাদুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক যুগান্তকারী সুন্নাহর অনুসরণ। 

অমুসলিমদের কব্জা থেকে বিজিত অঞ্চলে মুসলমানদের করণীয় পদক্ষেপ ও ধর্মীয় কর্মপন্থাসমূহের মধ্য থেকে এটি একটি অন্যতম কর্ম। সামনের আলোচনা থেকে এটাই ফুটে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।


কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পর আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণের কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল তৎকালীন উসমানি সাম্রাজ্যের নামকরা আলিম, প্রসিদ্ধ বুজুর্গ আল্লামা শামসুদ্দিন বিন হামজাহ, উরফে শাইখ আক শামসুদ্দিনের ফতোয়ার আলোকে। 

তিনি সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহের উস্তাদ ছিলেন এবং তাঁকে কনস্টান্টিনোপলের আধ্যাত্মিক বিজয়ী হিসেবে গণ্য করা হয়। 

শাইখ আক শামসুদ্দিনকে নিয়ে অতীতে আমি অনেক আর্টিকেল লিখেছি। আমার বই- উসমানি খেলাফতের স্বর্ণকণিকাতেও পড়তে পারেন।

সমকালীন বিশ্বের প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ড. রাগিব সারজানি বলেন, অমুসলিমদের যেসব অঞ্চল সন্ধির মাধ্যমে জয় করা হয় এবং যেসব অঞ্চল যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করা হয়, এগুলোর মধ্যে ইসলাম ব্যবধান সাব্যস্ত করেছে।

 অমুসলিমদের যেসব অঞ্চল সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়, সেগুলোর উপাসনালয় মসজিদে রূপান্তর করা যাবে না। 

বরং সেগুলোর হুকুম উভয় পক্ষের কৃত চুক্তি অনুযায়ী হবে। যেমন ফিলিস্তিনের আল-কুদস। এটি বিজয় করার পর খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এটির 'কিয়ামাহ' নামক গির্জা কিংবা অন্য কোনো গির্জা মসজিদে রূপান্তর করেননি।

কিন্তু যেসব অঞ্চল যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হবে, সেগুলোর সবকিছুর মালিক হয়ে যাবে মুসলিমরা। আর মালিকানাধীন বস্তুসমূহের মধ্য থেকে গির্জাও একটি। 

চাইলে মুসলিম শাসক গির্জাগুলোকে মসজিদে রূপান্তরিত করতে পারেন, না চাইলে নাই। 

যেমন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কনস্টান্টিনোপল। এটি বিজয় করার পর সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ এটির মালিক হয়ে যান এবং আয়া সুফিয়া গির্জাসহ শহরের অন্যান্য গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। 

তদুপরি কনস্টান্টিনোপল শহর অবরোধ করার পর সুলতান বাইজেন্টাইন সম্রাটকে বিনা যুদ্ধে শহর হস্তান্তর করার আদেশ দেন। 

কিন্তু সম্রাটের হঠকারিতার কারণে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল শহর জয় করে তার মালিকানা প্রয়োগ করেন।

নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ইমান আনয়নকারী প্রত্যেক মুসলমানকে জানতে হবে যে, মক্কার কাবাঘরে লাত, মানাত, উজ্জা, হুবলসহ ৩৬০ টি মূর্তি রক্ষিত ছিল।

 কাবাঘরই ছিল গোটা আরবের পৌত্তলিকদের সবচেয়ে বড় উপাসনালয়। কিন্তু অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাবাঘরের সবগুলো মূর্তি ভেঙে, পৌত্তলিকদের উপাসনালয় এই কাবাঘরকে 'বাইতুল্লাহ' তথা আল্লাহর ঘরে রূপান্তরিত করেন।

 আজ গোটা মুসলিম উম্মাহর কাছে এটিই সবচেয়ে বড় ও মহান মসজিদ।

সুতরাং, সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ কর্তৃক আয়া সুফিয়া গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরকরণ ছিল সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত। 

ইসলাম সমর্থিত। রাসুলের সুন্নাহর নির্দেশিত।

 এরপরও কোনো নামধারী মুসলিম যদি এই রূপান্তরকরণে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে, 

বুঝতে হবে- এর অন্তরে ইমানের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই; এ একজন আস্ত মুরতাদ! 

__________
সূত্রাবলি :
(১) আখবারুদ দুওয়াল ওয়া আসারুল উয়াল ফিত তারিখ : ৩/৩১, আহমদ বিন ইউসুফ করমানি।
(২) সুকুতুল কুসতিনতিনিয়্যাহ : ৪৯, রোন্সম্যান স্টিভেন।
(৩) তারিখু দাওলাতিল আলিয়্যাতিল উসমানিয়্যাহ : ১৬৫, মুহাম্মদ ফরিদ বেগ।
(৪) কিসসাতুল আন্দালুস; মিনাল ফাতহ ইলাস সুকুত : ৫৬৬-৫৬৯, ড. রাগিব সারজানি।
(৫) তারিখুদ দাওলাতিল উসমানিয়্যাহ : ১/১৪০, ইলমাজ অজতোনা।


ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিতর্কগুলোর মূল সমস্যা হল মাপকাঠি নিয়ে। অধিকাংশ আলোচনাই পশ্চিমা মাপকাঠিকে সত্য ধরে নিয়ে চলতে থাকে। কিন্তু সেই মাপকাঠিটাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করি না। 

বরং সেই মাপকাঠির অধিনেই ইস্যুগুলোকে প্রমাণিত করতে চায়। এটা আপাত সমাধান মনে হলেও ভবিষ্যতের জন্য অনেক আপত্তির দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে এমন এপ্রোচ সমাজে পাশ্চাত্য মানদণ্ডকে ইউনিভার্সাল করে তুলে।

আজকে যখন আয়া সোফিয়াকে নিয়ে নানা মহল থেকে কৈফিয়ত চাওয়া হচ্ছে তখন আমরা অধিকাংশ এই ভুলটাই করছি। আমাদের নিজস্ব মানদণ্ডকে এড়িয়ে নানা যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করছি। 

ফিকহের মানদণ্ডকে অপ্রাসঙ্গিক রেখে সেই যুক্তিগুলোকেই বেশি প্রাসঙ্গিক করে দেখাচ্ছি।

আয়া সোফিয়া নিয়ে আমরা এই পরাজিত মানসিকতারই পরিচয় দিচ্ছি। আমরা বুক ফুলিয়ে পশ্চিমকে বলতে পারছি না যে, তোমাদের নৈতিক মানদণ্ড আর আমাদের নৈতিক মানদণ্ড এক না।

আমাদের মানদণ্ড এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। তোমাদের মানদণ্ড নিজেদের বানানো। আমরা তোমাদের মানদণ্ডকে অস্বীকার করি। 

কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় তোমাদের থেকে শিখতে হবে না।

আমাদের শরীয়তের বিধান হল, বিজিত অঞ্চল পুরোটাই মুসলিমদের মালিকানাধীন। সেই ভূমিতে বিদ্যমান অন্যান্য ধর্মের উপসনালয় বিলুপ্ত করা আমাদের শরীয়তে বৈধ।

 আমরা সেই ভূমির উপসনালয়গুলোকে মেনে নেয় যেখানকার অধিবাসীরা জিযিয়া দিয়ে আমাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এবং দারুল ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এটাই ন্যায়।

আর যদি কোন উপাসনালয় আমাদের বিরুদ্ধে কোনভাবে ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই উপাসনালয় উড়িয়ে দেয়া আমাদের কর্তব্য। আয়া সোফিয়া সেই উপাসনালয় যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। 

আয়া সোফিয়া সেই ভূমিতে অবস্থিত যেই ভূমি আমাদের মহান সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করেছেন। 

তাই আয়া সোফিয়া আমাদের মালিকানাধীন। আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করা কিংবা উড়িয়ে দেয়া আমাদের সুলতানের দায়িত্ব ছিল।

আমাদের সুলতান আয়া সোফিয়ার আকার আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সেটাকে মসজিদে রূপান্তর করাকেই সমীচীন মনে করেন। 

তাই তিনি আয়াসোফিয়াকে পবিত্র করে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় স্থানে পরিণত করেন। এভাবেই আমাদের সুলতান আল্লাহর জমিনে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন।


আমরা পশ্চিমের মানদণ্ডকে মনেপ্রাণে প্রত্যাখ্যান করি। যদিও তারা জোর করে আমাদের উপর তাদের মানদণ্ড চাপিয়ে রেখেছে। 


কিন্তু আমরা নিজেদের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে গেলে উগ্রবাদী বলে মেরে ফেলতে চায়। প্রকৃতপক্ষে এটাই হল জুলুম।

জমিনে আল্লাহর মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা হওয়া হল ইনসাফ। আর মানুষের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা হওয়া হল জুলুম।

তাহলে জুলুমের মানদণ্ড দিয়ে কেন আমরা ইসলামের ইনসাফকে প্রমাণ করতে যাব? জুলুমের মানদণ্ড জুলুমকেই প্রতিষ্ঠা করবে। 

জুলুমের মানদণ্ডকে স্বীকৃতি দেয়া মানে জুলুমকে প্রশ্রয় দেয়া। আমার মনে হচ্ছে আমরা সেই কাজটাই করছি।

- ইফতেখার সিফাত


৩২৪১ - Muhammad Sajal | মসজিদকে মসজিদে ফিরিয়ে আনা
আয়া সোফিয়াকে মসজিদে 'ফিরিয়ে নেয়া' ইস্তাম্বুলকে ইসলামে ফিরিয়ে নেয়ার প্রজেক্টেরই একটা অংশ। এটা অবশ্যই রাজনৈতিক চাল, সন্দেহ নাই।

মুসলিমরা দেড় হাজার বছর ধরেই রাজনীতি করে এবং রাজনীতির চাল দুনিয়ার সবাই দিতে পারবে মুসলমান রাজনীতিবিদরা ছাড়া, এই মানসিকতা যারা ধারন করে তারা নিজেদের দাস মানসিকতার বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহন করছেন মাত্র।

আয়া সোফিয়া একটা স্থাপনা হিসেবে সবসময়েই ছিল রাজনৈতিক। রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল হয়েই এটা প্রথম প্যাগান উপাসনালয় থেকে চার্চে পরিনত হয়, পরে এটাকে সেকালের দুনিয়ার বৃহত্তম চার্চে রুপ দেয়া হয়।


আমরা অনেকেই যেটা জানি না তা হল মেজর ক্রুসেডগুলোর মধ্যে অন্তত একটি খ্রিস্টানরা নিজেদের ভেতর করেছে। চতুর্থ ক্রুসেডে ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা অর্থডক্স খ্রিস্টানদের ওপর রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে কন্সটান্টিনোপল জয় করে।

রোমান লাইব্রেরী পোড়ানোর দায় ওরিয়েন্টালিস্টরা সুলতান ফাতিহ মেহমেদকে দেয়, বাস্তবতা হচ্ছে ১২০৪ সালের ফোর্থ ক্রুসেডেই তারা সেই লাইব্রেরী পুড়িয়ে ফেলে।

এসময় তারা চার্চ অফ হোলি এপোসলস এবং হাগিয়া সোফিয়াকে অর্থডক্স চার্চ থেকে ক্যাথলিক চার্চে কনভার্ট করে।

১২৬১ সালে রোমান পালাইলোগোস ডাইন্যাস্টির মাইকেল দ্যা এইটথ যখন পুনরায় কন্সটান্টিনোপল জয় করেন তখন কিন্তু আবার হাগিয়া সোফিয়া অর্থডক্স চার্চে পরিনত হয়।


খাকান উল বাহরাইন সুলতানুল মুয়াজ্জাম ফাতিহ মেহমেদ খান যখন কন্সটানটাইনকে যুদ্ধের আগে আত্মসমর্পনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে মোরিয়া উপদ্বীপে অন্য একটা বিশাল ভুখন্ডের প্রস্তাব করেছিলেন, তখন সেই শান্তির প্রস্তাব কন্সটানটাইন গ্রহন করেন নাই।


এরপর যুদ্ধ করে জয় করা কন্সটান্টিনোপলের চার্চগুলো এমনিতেই ছিল উসমানী সালতানাতের শাসকের ইচ্ছাধীন, আমি যতটা জানতে পেরেছি তাতে সে সময়ে কন্সটান্টিনোপলে মোট ৩৯টা চার্চ ছিল।


এরমধ্যে আট অথবা নয়টা চার্চ ছিল রোমান সম্রাটের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই, যুদ্ধজয় সূত্রে সেগুলি এমনিতেই উসমানী সুলতানের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিনত হয়।


কিন্তু তবু, অর্থডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে এই চার্চগুলোর ক্ষতিপুরন হিসেবে সুলতান বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন অথবা বলা হয়, কিনে নিয়েছিলেন। ক্যাথলিকদের মত যা ইচ্ছা তাই করেন নি।


হোয়াটএভার, আমি স্রেফ দেখাতে চেয়েছি, ইস্তাম্বুলের অধিকার যখন যে মতাদর্শের হাতে ছিল, তার অনুসারীরা আয়া সোফিয়াকে নিজেদের মত অনুযায়ী বদলে দিয়েছে, এটাই ইতিহাস।

 শিক্ষিত মুসলমানদের আজকাল কানধরার একটা প্রবণতা আছে, কোন কিছু একটা হলে কোনভাবে যদি সেখানে কান ধরার একটা কারন পাওয়া যায় তবে কান না ধরে শিক্ষিত মুসলমানরা থাকতে পারে না।


এই কানধরার বদভ্যাস ছাড়াটা জরুরী নয়তো দুনিয়ায় মান সম্মান নিয়ে বাচা মুশকিল হয়ে যাবে।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদে কেন ফিরিয়ে নেয়া হল এই প্রশ্নের চেয়ে আয়া সোফিয়াকে কেন জাদুঘরে পরিনত করা হল সেই প্রশ্নটা তোলা না তোলার ওপর আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে আমরা কতটুকু সচেতন সেটা বোঝা যায়।

আমি খুব স্পষ্টভাবেই জানি, আয়া সোফিয়াকে মসজিদে ফিরিয়ে নেয়াটা এরদোয়ানের একটা রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ।

 যাদের দৃষ্টিসীমা স্বল্পপাল্লার, তারা এটাকে নির্বাচনে জেতার জন্য এরদোয়ানের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেন।

যারা দুরপাল্লার রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী তারা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে সক্ষম, আয়া সোফিয়ায় ইসলাম, আযান ও নামায ফিরে আসা মানে উসমানী আমলের তুর্কী শিরদাড়া যে আবার ফিরে আসছে তা বজ্রকণ্ঠে ঘোষনা করা।

 কেননা স্থানীয়ভাবে এই ঘোষনায় এরদোয়ান যতটা সুবিধা পাবেন তার চেয়ে অনেক বেশি অসুবিধায় পড়বেন বৈশ্বিকভাবে।
কিন্তু এখানে তিনি আইডিওলজিক্যালি কমিটেড।

ক্রুসেড কোনদিন অফিসিয়ালি শেষ হয় নি। নিকোপলিসের পরেও বারবার ইউরোপের সাদা খ্রিস্টানরা ক্রুসেড ডেকেছে। ব্যর্থতার কারনেই মূলত সেগুলি ইতিহাসে সেভাবে ঠাই পায় নি।

কিন্তু ১৬৮৩ সালে শুরু হওয়া সিজ অফ ভিয়েনা, গ্রেট টার্কিশ ওয়ার থেকে শুরু করে ১৯৯৫ সালের আজকের দিনে শুরু হওয়া সেব্রেনিসা গণহত্যার দিন পর্যন্ত ক্যাথলিক-অর্থডক্স খ্রিস্টানরা তাদের এন্টি মুসলিম ওয়ারফেয়ারকে বারবার ক্রুসেড নামেই নামকরন করেছে।


 প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কীর ওপর যে চুক্তিগুলো চাপিয়েছে, তার ভেতর সুস্পষ্ট ছিল তাদের ক্রুসেডার মানসিকতা।

অনেকে চিন্তিত, অন্য ধর্মের লোকেরা আমাদের কি ভাববে তা নিয়ে।

আমরা সর্বোচ্চ টলারেন্স দেখিয়েছি ইতিহাসে, তাতে কি কোন গণহত্যা ঠেকানো গেছে??

সেকালের স্পেন থেকে আজকের জিনজিয়াং, কোথায় তাদের হাত থেকে ইসলাম নিরাপদে ছিল??
আয়া সোফিয়া নিয়ে ইউরোপিয়ান খ্রিস্টানদের আপত্তি তাদের ধর্মীয় ইগোর জায়গা থেকে। ক্রুসেডে হেরে কন্সটান্টিনোপল হারানোর আঘাত সহ্য করা তাদের জন্য কঠিন।
যেসব মুসলমানের এটা নিয়ে আপত্তি, তারা কি নিজেদের বাদামী চামড়ার ক্যাথলিক বা অর্থডক্স মনে করেন নাকি??




খ্রিষ্টানদের চার্চ বিক্রি হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়।


মুসলমানরা যেমন চিন্তা করে, তাদের মসজিদ প্রজন্মের পর প্রজন্ম শেষ অবধি থাকবে,

খ্রিস্টানদের মধ্যে তেমন চিন্তাধারা কাজ করে না।
তাই চার্চগুলোতে যখন প্রার্থনাকারী আসা শূণ্য হয়ে যায় কিংবা ডোনেশন সংগ্রহ করতে না পারে,

তখন চার্চ কমিটি তা বিক্রি করে দেয়।
আপনি যদি গুগলে Churches for Sale লিখে সার্চ দেন, তবে হাজার হাজার চার্চ বিক্রির খবর পাবেন।

(চার্চ ক্রয় করতে -https://bit.ly/323YaG6)
এই চার্চগুলো ক্রয় করে আপনি বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারেন।
কেউ বাড়ি বানায়, কেউ মিউজিয়াম বানায়, কেউ অফিস বানায়, কেউ স্কুল বানায়,

আবার অনেক মুসলমান সেগুলো কিনে মূর্তি ছবি আর ক্রুশ সরায় তাকে মসজিদ বা নামাজ ঘরও বানায়।

যেমন-
নিউইয়র্কে (সাইরাকুস) বিক্রিত চার্চ হলো 
মসজিদ- https://youtu.be/Fi5m5YzFzDQ

নিউইয়র্কে (বাফালো) বিক্রিত চার্চ হলো মসজিদ- https://youtu.be/2aw62_-I2B0

ফ্রান্সে বিক্রিত চার্চ হলো মসজিদ - https://youtu.be/l82jXj5tHos

আসলে এগুলো ইউরোপ আমেরিকায় খ্রিস্টানদের জন্য কোন সমস্যা না,

সমস্যা হচ্ছে, এক শ্রেণীর সেক্যুলার নামধারী মুসলিমবিদ্বেষী আছে, যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চায়।

বলে- “দেখো মুসলমানরা কত খারাপ, তারা খ্রিস্টানদের চার্চকে মসজিদ বানাইছে।


আর ভাই, খ্রিস্টান যদি তার সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়, তবে সেটা কিনে নেয়ার মধ্যে কোন অন্যায় তো দেখি না।

 তার সম্পত্তি তো জোর করে দখল করা হয় নাই। বরং কিনে নিয়ে ঐ খ্রিস্টানদের উপকারই তো করা হলো।

এরপর ক্রয়কারী তার সম্পত্তি কি বানাবে, বাড়ি বানাবে নাকি মসজিদ বানাবে, সেটা তার সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। এখানে কারো নাক গলার অধিকার নাই।


একদলকে দেখতেছি, যারা তুরস্কের আয়া সোফিয়ার ঘটনাকে ভারতের বাবরী মসজিদের সাথে লাগায় দিতে চাইতেছে।


আরে ভাই, বাবরী মসজিদ কিভাবে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভেঙ্গে দখল করছে, সেটার ভিডিও এখন অনলাইনে পাওয়া যায় (https://youtu.be/k-bhAFsnv2s)।

 সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯৯২ সালে সারা ভারতের দাঙ্গায় সহস্রাধিক মুসলমানকে হত্যা করে উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা। একটা বৈধ ক্রয়ের সাথে গুন্ডামিপনার যোগসূত্র কিভাবে মিলে, তা আমার মাথায় আসে না।

আসলে তুরস্কের আয়া সোফিয়াকে নিয়ে প্রকৃত তর্কের বিষয় ছিলো-
৮৫ বছর আগে উগ্র সেক্যুলার কামাল পাশা কেন অন্যায়ভাবে মসজিদকে মিউজিয়াম বানালো।

কিন্তু অনেক সেক্যুলার সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে, ৬শ’ বছর আগে মুসলমানরা কেন গির্জা ক্রয় করে মসজিদ বানালো, সেটাকে অন্যায় হিসেবে উপস্থাপন করছে।


মানে নিজেদের দোষ ঢাকতে মুসলমানদের দোষী বানানো।
আর কিছু না।
- Noyon Chatterjee

ইস্তানবুল বা কন্সটান্টিপল বিজয় 


ছোট্ট এক ছেলে। মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন কন্সটান্টিপলের কথা। শুনেছিলেন রাসূল (সা)-এর হাদিসের কথা কন্সটান্টিপল সম্পর্কে।

হাদিসটি তাকে এতো অনুপ্রাণিত করেছিল যে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি কন্সটান্টিপল জয় করেছিলেন। নাম তার মুহাম্মদ আল-ফাতিহ (রহিমাহুল্লাহ)।


খ্রিস্টানরা যেখানে কোন রাজ্য দখল করলে সাধারণ মানুষদের হত্যা করে রক্তের প্লাবন বানাতো, সেখানে তিনি তার আর্মিকে কোনো সিভিলিয়ান হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন।


 যারা পালিয়ে গিয়েছিল তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

কোনো শহরের বিজেতা মানে পুরো শহরটাই তার। তারপরেও তিনি খ্রিস্টানদের কাছ থেকে একটি চার্চ কিনে নিয়েছিলেন। কিনে সেটাকে বানিয়ে ছিলেন মসজিদ। আজ আমরা যেটাকে ‘হায়া সোফিয়া’- বলি।

পৃথিবীতে যেমন মুহাম্মদ আল-ফাতিহরা জন্মায়, তেমনি কামাল আতাতুর্কের মতো কীটেরাও জন্মায়। যারা ধর্মনিরেপেক্ষতার নামে কেবল একটি ধর্মের ওপর সবসময় হামলা করে গেছে।

 এই লোক সেই মসজিদকে বানায় জাদুঘর। উসমানি খিলাফতের কেন্দ্র তুরস্ক থেকে ইসলামকে মুছে দেয়ার অপচেষ্টা চালায় বহু বছর। কিন্তু আল্লাহর দ্বীনের আলো কিছু কীটের মুখের ফুঁতে নিভবে কেন?


৮৬ বছর পর আজ হায়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদ বানানো হলো। তবে এটাও বলা হলো, মসজিদ হলেও এটাতে শুধু মুসলিমরা আসতে পারবে এমন নয়। চাইলে অমুসলিমরাও আসতে পারে যখন ইচ্ছে তখন।

হায়া সোফিয়াতে আজানের ধ্বনি শুনে চোখে পানি চলে এসেছিল। আহারে! কতোদিন পর এই মিনারগুলো আজানের ধ্বনি শুনেছে।

কতো বছর পর আল্লাহর প্রশংসাধ্বনি মার্বেল পাথরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। একজন মুসলিম মাত্রই এতে খুশি হবে সন্দেহ নেই।

তবে সবাই যে খুশি হবে এটা তো আর সম্ভব নয়। বলা হয়, আতাতুর্করা জন্মায় যুগে যুগে। মজার ব্যাপার, গ্রীসের মতো দেশ এর নিন্দা করেছে।

 যারা কিনা উসমানি খলিফাদের বানানো অনেক মসজিদ ধ্বংস করেছে।

আমার জীবনে বড়ো একটা ইচ্ছে, কাবাতে, মসজিদুন নববিতে, আল-আকসাতে সালাত পড়ব।

 আর যদি কখনো ইস্তাম্বুলে যাওয়া হয়, হায়া সোফিয়াতে সালাত পড়ব। আল্লাহর কাছে চাই তিনি যেন পূরণ করেন।

আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদেরকে মুসলিমদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার তৌফিক দান করেন।

 তিনি যেন মুসলিম শাসকদের অন্তরকে রাজনীতির মারপ্যাচ থেকে বের করে এনে ইসলামমুখী করে দেন।

সাথে সাথে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন মুসলিম নামধারী মুনাফিকদের অন্তরের দহনজ্বালা।

- Shihab Ahmed Tuhin



আয়া সোফিয়ার দালানে পূনরায় আল্লাহর ইবাদাত শুরু হওয়ার পর কয়েকটি শ্রেণির ছটফটানি লক্ষনীয়।

এই প্রজাতির প্রাণীগুলোকে আমাদের মার্ক করে রাখা উচিত। আপনি নিশ্চিত থাকুন, দ্বীন ইসলামের বৃহৎ কল্যাণে কখনোই এরা কাজে লাগবেনা। যদি না একান্ত বাধ্য হয়ে সঙ্গ দিতে হয়...।


পুরো বিষয়টায় আহলে হাদিস(সৌদি পন্থী) ভাইদের আচরণের খোলাসা হল,
তাদের সহিহ আকিদার স্লোগান, তাওহীদপন্থার বয়ান, আর শিরক-বিদআতের বিরোধিতার আওয়াজ নিছক রাজনৈতিক ধান্দাবাজি মাত্র। তাদের মাঝে দ্বীনের রূহ নাই, শরিয়ার বুঝ নাই।
তারা সৌদি শাসকের বুদ্ধিবৃত্তিক দাস।



কন্সপাইরেসি কপচানো কুকুরদের রিয়েকশন থিওরি থেকে বোঝা গেল, তারা "বিচিলেস" "কাপুরুষ"।

তারা চিরকাল এই ভয়েই থাকবে যে, আমরা যদি এমন করি তবে কাফেররা কি বলবে! তবে কাফেররা কি করবে!

মুসলমানদের সামরিক বিজয় হলে এরা ভয়ে থাকে, না জানি কাফিররা কোথায় হামলা করে। কৌশলগত কোনো বিজয় হলে ভয়ে থাকে, আহ! কাফিররা এবার কি বলবে!

এরা আল্লাহর চেয়ে কাফিরদের বেশি ভয় করে।



পরের কথা হচ্ছে,
ইস্তাম্বুল যুদ্ধ করে জয় করা হয়েছে। চুক্তি করে না। আর আয়া সোফিয়ার দালান পূর্বে ছিল মুসলিম বিরোধী কেল্লার মত। অতএব বিজয়ের পর আমাদের পূর্ণ অধিকার আছে এর ওপর।
বাকি এরপর ভদ্রতা প্রদর্শন, মূল্য পরিশোধ ইত্যাদি আমাদের অনুগ্রহ। আবশ্যকীয় কিছু না।


আরও বড় কথা হচ্ছে, যে স্থানে মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে একবার, কিয়ামত পর্যন্ত সেখানে মসজিদই রাখতে হবে। আর আল্লাহর জমিনে আল্লাহর ইবাদাত হবে।

 আপনি চান অথবা না চান, যেকোনো মূল্যে আল্লাহ এই দ্বীনকেই বিজয়ী করবেন।

এসব যদি আপনার পছন্দ হয়, ভালো লাগে— তাহলে আপনি মুমিন, আপনার যদি অপছন্দ হয় তবে আপনি হয়তো কাফির, নইলে আপনার ঈমানে ত্রুটি আছে। চিকিৎসা করান।


গণতন্ত্রী মুসলিম এবং আমরা খিলাফাপন্থীদের মতের মৌলিক পার্থক্য হল দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি নিয়ে।

 দ্বীন যে কায়েম হওয়া দরকার, ইসলামের বিজয় যে দরকার, এটা নিয়ে আল্লাহর হাকিমিয়্যার (যা তাওহীদেরই অংশ) ওপর ঈমান রাখা কারও দ্বিমত নেই।

অতএব, দ্বীনের সকল বিজয়ে আমরা আনন্দিত। এই আনন্দ আমাদের ঈমানের বহিপ্রকাশ। আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি। আলহামদুলিল্লাহ।
- Abdullah Al  Mahmud

Powered by Blogger.