মুসলিমরা বিকল্প কিছু দেয়না কেন? মুসলিম বিজ্ঞানি নাই কেন? আসুন জানি এই কথা বলা গাধা গুলোর প্রশ্নের উত্তর।

মুসলিমরা বিকল্প কিছু দেয়না কেন? মুসলিম বিজ্ঞানি নাই কেন? 10 Minutes School বা  বিদ্যানন্দ  সূক্ষ্ম ইসলাম বিদ্বেষীপনা 


সম্প্রতি টেন মিনিটস স্কুল বা এ জাতীয় বিভিন্ন লিবারেল মিশনারি প্রকল্পের ব্যবচ্ছেদে আমাদের ইসলামপন্থী ভাইরা যখন লেখালেখি শুরু করলেন,

আকিদার মানদণ্ডে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়ে ডায়ালগ নির্মাণ করতে শুরু করলেন, তখন আমাদের ইসলামি অঙ্গনেরই অনেক নাদান ভাই মোটাদাগে দুটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে 'ভাইয়াদের' সমর্থনে তেড়ে আসলেন।

১. আচ্ছা ভালো কথা এরা খারাপ, এদের প্রোগ্রাম দেখা যাবে না, তাহলে আপনারা এসবের বিকল্প হিশেবে প্যারালেল কোনো প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাচ্ছেন না কেন? এসব 'জ্ঞান' হাসিল না করে তো আমরা একাডেমিক পড়াশোনায় উচ্ছিন্নে যাবো। তখন এর দায়ভার আপনারা নিবেন?


২. আচ্ছা ভাই বুঝলাম এসব প্রতিষ্ঠান পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে একটু-আধটু যেসব 'বিনোদন' দিয়ে আমাদের 'মাইন্ড রিফ্রেশ' করে সেসব ইসলামের মানদণ্ডে হারাম। হারাম মানে হারাম। কিন্তু আপনারা কি আমাদের জন্য বিনোদনের 'বিকল্প'(মানে হালাল গান, হালাল নাচ, হালাল ফ্রি-মিক্সিং) এনে দিতে পেরেছেন? নিজেরা তো কিছু করতে পারেন না। অন্যদের কাজও সহ্য করতে পারেন না।


.
এবার চলেন ভাইয়া-আপুদের ওই প্রশ্নগুলো নিয়ে একটু কিছু আলোচনা করা যাক।


আসলে আমরা গান-নাচ-মুভি আর অশ্লীলতায় এতো বেশি আসক্ত এক প্রজন্ম যে আমাদের মধ্যকার ন্যুনতম বোধটুকুও উবে গেছে। 

কোনো জাতির মধ্যে যখন অশ্লীলতা পাপাচার ব্যাপকতা লাভ করে, তখন সেই জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা লোপ পায়। কোথায় কী প্রশ্ন করতে হবে সেই বোধটুকুও আমাদের মাঝে আর অবশিষ্ট নেই। 
এই জামানার সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো মূর্খতা।


কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেই আমরা হুট করে প্রশ্ন করে বসি, তাহলে এর সমাধান কী? কেউ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেই তাকে সমাধানের পথও দেখিয়ে যেতে হবে এমন থিওরি কই পাইলেন? সমাধান বিদ্যমান নাই বিধায় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না এমনটা কেন ভাবেন?

 আর আপনার মাথায় তো আল্লাহ মগজ দিয়েছেন। সমস্যা, সমাধান, সমাধানের থিওরিটিক্যাল ফ্রেইমওয়ার্ক, সব আপনাকে খাওয়াইয়ে দিতে হবে? অথচ আপনি না নিজেকে মহাপণ্ডিত ভাবেন?


যাই হোক, আমার পয়েন্ট হলো, ইসলামি অঙ্গন থেকে কেন কোনো বিকল্প প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমত, বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ইতোপূর্বে বিভিন্ন ইসলামি গ্রুপ থেকে অনেকভাবে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। 

এখনো এই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এমন কি এদের সফলতাও নিতান্ত কম ছিলো না। কিন্তু কোনো একটি প্রকল্পে যখন সবাই দাড়িওয়ালা পাঞ্জাবি পরা হুজুর, তখন আর কে দেখে প্রশাসনের খেলা।

প্রশাসন ওই প্রকল্পকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারে না। হুজুর দেখলে প্রশাসনের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। গোয়েন্দা দিয়ে নজরদারি লাগানো হয়। তারপর কয়েকদিন বাদে প্রথম আলোর হেডলাইন, 'কোচিং সেন্টারে জঙ্গিবাদের প্রশিক্ষণ। অস্ত্রসহ গ্রেফতার কোচিং পরিচালক'।


আর আপনাদের মতো ওইযে কিউট যেসব ভাই আছেন না, তারা তো আবার প্রথম আলোর বেজায় ভক্ত। যা বলবে তাই ওহি। ব্যাস! পরেরদিন পুরো দেশ চাউর। আপনার বাবা-মাও এর পর থেকে হুজুর নিয়ন্ত্রিত 'জঙ্গি ফ্যাক্টরি' থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করবেন।


সহজে বললে, ইসলামিক ধারণ করে এসব প্রকল্প রান করা বাংলাদেশের মতো সেক্যুলার রাষ্ট্রে বেজায় কঠিন। এটা দূর থেকে আপনারা বুঝবেন না। কাজে যুক্ত হলেই বুঝতে পারতেন৷ 

একটা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে সরকারি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাড়ি(প্লেইস) না পাওয়া, স্থানীয় পাতিনেতার উৎপাত, এরকম নানাধরনের বাধার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এরপর খেটেখুটে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করানোর কিছুদিন পর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়।


দ্বিতীয়ত, শয়তানের কাজই হলো যুবকদেরকে অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করানো। একই মানের দুটো কোচিং সেন্টার। একটিতে ছেলে-মেয়ে আলাদা আলাদা সময়ে পড়ানো হয়, আর অপরটিতে একসাথে। তো আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ভাই আপনি কোনটায় ভর্তি হবেন? আপনি একটা ফোকলা হাসি দিয়ে বলবেন, কেন, দ্বিতীয়টায়। এই বয়সে অতো নিয়মকানুন রেস্ট্রিকশান ফলো করলে হয়?


যাই হোক ভাই, এরকম অনেক ফ্যাক্টর তুলে ধরা যাবে। আমি সেদিকে যাচ্ছি না। সর্বোপরি কথা হলো, যতোদিন না এই সিস্টেমের পরিবর্তন হচ্ছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা চেইঞ্জ হচ্ছে, ততোদিন বিকল্প দাঁড় করানো সম্ভব না। চেষ্টা করলেও সম্ভব না। এই সিস্টেম সেটা হতে দিবে না।


আর বিকল্প না দিতে পেরে যদি নাস্তিক-মডারেইটদের আস্ফালন দেখে চুপ করে থাকি, ওদের এইজেন্ডা জনমানুষের সামনে পরিষ্কার না করি, তাহলে তো বিষয়টা আরো অবনতির দিকে যাবে। 

মানুষ অন্তত ওদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুক।

তবে একটা কথা মনে রাখবেন, ইসলামিক অঙ্গনে ওই সাকিব বিন রশিদ, শামির মুন্তাজির বা ওদের মতো মহাপণ্ডিতদের চেয়েও অনেক পণ্ডিত সংখ্যায় হাজারের উপরে আছে। শুধু সেলিব্রেটিজমের চর্চা করে না বিধায় তাঁদেরকে আপনাদের চোখে পড়ে না।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নে। বিনোদনের বিকল্প ব্যবস্থা নাই কেন?

তো স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড বললে, বিনোদন শব্দটাই ইসলাম-পরিপন্থী। মুসলিমদের জন্য দুনিয়া বিনোদনের জায়গা নয়। দুনিয়া মুমিনের পরীক্ষার হল। বিনোদন তো করবে কাফির-মুশরিক-মডারেইটরা।


আপনি কি ডান্সের বিকল্প চাচ্ছেন? মুভির? গানের? তাহলে ভাই কিছুদিন বাদে তো ইসলামেরও বিকল্প চাইবেন। মানে মডারেইট ইসলাম চাইবেন।

প্রকৃতপক্ষে ইসলাম মানেই হলো নিজের চাহিদা, খাহেশাত, প্রবৃত্তিকে অবদমন করে মহান আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছের সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়া। বিকল্প চাওয়ার নাম ইসলাম না।


Amanullah Bin Nesar
মুসলিমরা বিকল্প কিছু দেয়না কেন? মুসলিম বিজ্ঞানি নাই কেন? আসুন জানি এই কথা বলা গাধা গুলোর প্রশ্নের উত্তর। মুসলিমরা বিকল্প কিছু দেয়না কেন? মুসলিম বিজ্ঞানি নাই কেন? আসুন জানি এই কথা বলা গাধা গুলোর প্রশ্নের উত্তর। Reviewed by Dr.Mira Hasan on June 24, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.