লিবারেলদের সাথে ইসলাম এর মূল দ্বন্দ্ব কোথায়? তথাকথিত উদারমনা মোডারেট মুনাফিকপন্থি মুসলিমদের পড়া উচিত

লিবারেলদের সাথে ইসলাম এর মূল দ্বন্দ্ব কোথায়? উদারমনা মোডারেট মুসলিমদের ভাবা উচিত সে মুসলিম নাকি কাফের হতে চাই? 


সাকিব বিন রশিদ নিজ বাবার নামাজ ও দ্বীনদারিতা নিয়ে পোস্ট করলেন। আয়মান সাদিক সোহাগ ভাইয়ের সাথে করা সেই পুরাতন ভিডিও আবার সামনে আনলেন। হতে পারে সামির নিজের ওয়ালে মাকে নিয়ে হজ্ব করার ছবি আপলোড করবে। 
আন্তরিকভাবে কিংবা অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাধারণ মুসলিমদের কাছে নিজেদের ইমেজ ধরে রাখতে হয়ত তারা এই কাজগুলো করেছে। 
এভাবে আসলে তারা নিজেদেরকে প্রতারিত করছে। সাথে সাথে সাধারণ মুসলিমদেরকেও প্রতারণায় ফেলছে। 
যেমনটা মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন," তারা আল্লাহ ও মুমিনদের প্রতারিত করতে চায়। বস্তুত তারা নিজেদের সাথেই প্রতারণা করছে, কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না।"[১]
এজন্য তাদের জন্য এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল, লিবারেলিজমের সাথে ইসলামের সংঘর্ষটা বুঝা। লিবারেল চিন্তাচেতনার সাথে ইসলামের সংঘর্ষটা কোথায়?


আমিও আগেও বলেছি, লিবারেলদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব সালাত, সওম ও হজ্বের মত কিছু ইবাদাত নিয়ে না। বরং সালাত, সওম করেও কেউ লিবারেল হতে পারে। লিবারেলিজমের সাথে ইসলামের মৌলিক একটা দ্বন্দ্ব হল মানদণ্ডের প্রশ্নে। লিবারেলিজমে আইন, নৈতিকতা এবং অধিকারের মানদণ্ড হল মানুষের প্রবৃত্তি। 

লিবারেলরা মনে করে কোন ব্যক্তি অন্য কারো বেঁধে দেয়া মানদণ্ড মানতে বাধ্য নন। এখন সেই মানদণ্ড আল্লাহরই দেয়া হোক না কেন। এটাকে বলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ। ব্যক্তি নিজেই নিজের প্রভু। ইউরোপের এনলাইটেনমেন্টে আন্দোলনের মূল ফসল হল, ব্যক্তিকে নিয়ে এই নির্দিষ্ট ভাবনা।

কিন্তু ইসলামী শরীয়তে এসব কিছুর মানদণ্ড আল্লাহর ওহী। কুরআন এবং সুন্নাহ। আর ইসলামে ব্যক্তির অবস্থান হল দাসত্বের, স্বাধীনতার না।কেউ যদি আইন, নৈতিকতা ও অধিকারের ক্ষেত্রে আল্লাহর দেয়া মানদণ্ডকে অস্বীকার করে তাহলে সে নামাজ রোজা করেও কাফির হয়ে যেতে পারে।

 একটা কথা আমাদের ভাল করে বুঝতে হবে, ইসলামে প্রবেশ করার জন্য ইসলামের যাবতীয় বিষয়কে মেনে নিতে হয়। কিন্তু ইসলাম থেকে বের হওয়ার জন্য ইসলামের সব বিষয় কিংবা অধিকাংশ বিষয়কে অস্বীকার করতে হয় না। 
বরং কোন একটা বিষয়ে অবিশ্বাস রাখলেই ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে মুরতাদ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, তোমরা কি পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অবিশ্বাস কর?
 সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তারা পার্থিব জীবনে দুর্গতি ছাড়া অন্য কিছু পাবে না। আর কিয়ামতের দিনে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন।"[২]

এবার উদাহরণস্বরূপ সমকামিতার প্রশ্নেই আসি। 
আল্লাহর প্রদত্ত মানদণ্ডে সমকামিতা অত্যন্ত জঘন্য একটি কাজ এবং এটি সুস্পষ্ট হারাম। এই অপরাধের কারণে মহান আল্লাহ তা'য়ালা পূর্ববর্তী বিশাল একজাতিকে ভয়াবহভাবে ধ্বংস করেছেন। এই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরকে সাহাবায়ে কেরাম বিভিন্ন প্রকার শাস্তি দিয়ে হত্যা করেছেন। 
এখন কেউ যদি ইসলামের মানদণ্ডকে মেনে নেয়, সে কখনোই সমকামিতাকে বৈধ এবং অধিকার মনে করতে পারে না।
 মুসলিম দাবি করেও কেউ যদি এই হারাম কাজটিকে বৈধ এবং ব্যক্তির অধিকার বলে বিশ্বাস রাখে তাহলে সে মুসলিম থাকবে না। বরং সে ইসলামের মানদণ্ডকে কার্যত অস্বীকার করার কারণে মুরতাদ হয়ে যাবে।

 সমকামিতাকে একটা দৃষ্টান্ত স্বরূপ আনলাম। ব্যাপারটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নারীর জন্য কোনটা উচিৎ আর কোনটা অনুচিত এটা আমি ঠিক করে দিতে পারি না। এটা ঠিক করবে আল্লাহর ওহী। সেই মানদণ্ডেই আমাদেরকে নৈতিকতা ঠিক করে নিতে হবে।
কোনটা নারীর অধিকার আর কোনটা পুরুষের অধিকার, কোনটা পুরুষের দায়িত্ব আর কোনটা নারীর দায়িত্ব - প্রশ্নগুলোর উত্তরে মুসলিমরা পাশ্চাত্য মানদণ্ড মানতে পারে না।
 তারা এই প্রশ্নগুলোর সমাধান খুঁজবে আল্লাহর দেয়া মানদণ্ডে। একজন পুরুষ বাহিরে নারীদের সাথে কথাবার্তা বলে কিনা এবং একজন নারী পরপুরুষদের সাথে আলাপ-গপ্প করে কিনা- আল্লাহর মানদণ্ডে এই জায়গায় খবরদারি করার অধিকার স্বামী-স্ত্রীর কিংবা অভিভাবকদের আছে। কিন্তু লিবারেল মানদণ্ডে এগুলোকে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে স্বীকৃতি দেয়া হয়। আরেকটু গভীরে চিন্তা করুন। 
সমকামিতাকে ইসলাম হারাম করেছে। আর লিবারেলরা সেটাকে ব্যক্তির অধিকার বলে দাবি করছে। এই দাবির ফলাফলটা কী? এই দাবির আড়ালে মূলত আরেকটা দাবি করা হয়। সেটা হল, মানুষের একটা অধিকারকে নাকোচ করে দিয়ে আল্লাহ তা'য়ালা মানুষের উপর জুলুম করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ) ফ্রি মিক্সিং, যিনা- ব্যভিচার সব ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এমনই।

সুতরাং বাহ্যিক কিছু ইবাদাত দেখিয়ে তারা আদতে নিজেদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে। তাদের উচিৎ সত্য গ্রহণের মানসিকতা নিয়ে মূল সংঘর্ষটা বোঝা এবং মানদণ্ডের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থানকে সংশোধন করা।
 আল্লাহর দেয়া মানদণ্ডের জায়গা থেকে সমকালীন ইস্যুগুলোতে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেয়া। আর সাধারণ মুসলিম ভাইবোনদেরও উচিৎ নয় এখানে প্রতারিত হওয়া। আমাদের সকলকেই মূল সমস্যাটা বুঝতে হবে এবং চিহ্নিত করতে হবে।
 যদি সমস্যার গোঁড়া বুঝতে না পারি, তাহলে নানা রূপে নানা মানুষ আমাদেরকে লিবারেলিজমের ফেৎনায় ফেলে দিবে। আসলে লিবারেলদের সাথে মুসলিমদের দ্বন্দ্ব কেবল নামাজ নিয়ে না। ব্যক্তিগত কিছু ইবাদাত নিয়ে না। এই সংঘর্ষটা একটা মহান উদ্দেশ্যের সাথে। যেই উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তা'য়ালা পুরো মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন।
 যেই উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যশীল ফিতরাত আল্লাহ মানুষের ভিতর সৃষ্টিগতভাবে দিয়ে রেখেছেন। সেই মহান উদ্দেশ্য হল উবুদিয়্যাত। [৩]আল্লাহর দাসত্ব। মুমিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আবর্তিত হবে এই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে।
 লিবারেলরা আমাদের তরুণদের ভিতরে থাকা উবুদিয়্যাতের ফিতরতকে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের ভিতরে থাকা দ্বীনি হায়াকে চ্যালেঞ্জ করছে। আল্লাহর শরীয়তকে বিনাবাক্য কোন প্রকার দ্বিধা ছাড়াই গ্রহণ করার ফিতরতকে নষ্ট করে শরীয়ত ও ব্যক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। 
শরীয়তের বিধানকে তরুণদের কাছে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর সেটা আধুনিকতা, সমাজ পরিবর্তন, দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো, ট্যাবু ভাঙ্গার মত মুখরোচক শ্লোগানে তাদের ভিতর পুশ করছে। 
তরুণদের ফিতরাত নষ্ট হয়ে গেলে তাদের দ্বীনি কোন ভবিষ্যৎ নেই।
৪ নং টীকাতে কিছু সূরাসহ কিছু আয়াত নাম্বার দিয়ে রাখছি। সবাইকে অনুরোধ করব সেগুলোর অর্থ এবং তাফসীর দেখে নিতে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য কোন আলেমের শরণাপন্ন হতে।[৪]
১)সূরা বাকারা-৯
২)সূরা বাকারা-৮৫
৩) সূরা যারিয়াত-৫৬
৪)সূরা নাহল-১১৬, সূরা আ'রাফ-৩৩, সূরা ইউনুস-৫৯, সূরা শুরা-২১, সূরা কাহাফ-২৬, সূরা ইউসুফ-৪০, সূরা মায়েদা-৫০, সূরা আনআম- ৫৭।
- ইফতেখার সিফাত 

সেকুলারিজম, লিবারেলিজম নিজেই একটি আলাদা ধর্ম 


আপনারা একটু বলুন তো, কোন ধর্মটা সমকাম, ব্যভিচার এগুলোকে জায়িজ বলে? একচুয়ালি কোন ধর্মই না। 

তো লিবারেল সেকুলারিস্ট যারা সব ধর্ম থেকে ভালোটা নেয়ার কথা বলে, তারা কেন এমন জিনিসকে প্রমোট করতে যায়, যেটা সব ধর্মে তো জায়িজ তো দূরের কথা, বরং সব ধর্মেই নিষেধ? 

কারণটা কি? তাহলে বুঝা গেলে যে, সেকুলাররা প্রকৃত পক্ষে ধর্মনিরপেক্ষও না। আমি এদের এজন্য সেকুলাঙ্গার বলি। 

বরং সেকুলারিসম নিজেই একটা ধর্ম। এবং সেই ধর্মে তারা যেটাকে ঠিক মনে করে, সেগুলো বাকি সব ধর্মের সাথে মিলুক আর না মিলুক তারা সেটাই প্রচার করে, 

অথচ নিজেদের শ্লোগান বানিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ক্লিয়ার-কাট বাটপারি।
.
অনলাইনে তাদের এই দ্বিমুখীতাগুলো আপনার বারবার বলতে থাকবেন। বলতেই থাকবেন। অফলাইনেও। থামানো যাবে না।

 তারা যুক্তির কথা বলে, অথচ তাদের মূলনীতিগুলোই অযুক্তি এবং পরস্পরবিরোধিতায় পূর্ণ। 

এই যে তাদের মিথ্যা প্রতারণাগুলো, সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে উঠতি বয়সীদের কাছে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হবে।

.
আমাদের কাছে ইসলাম নামক এক সত্য আছে, যা ওদের কাছে নেই। আমাদের তো কনফিডেন্স হারানোর কথা নয়।

 মিথ্যা ওরা বলছে, তাই তাদেরই বরং কনফিডেন্স হারাতে হবে। ইসলাম ছাড়া আর দুনিয়াতে আর কোন ধর্ম-আদর্শ, দ্বার্ধাহীন ভাষায় ঘোষণা দেয় না, একমাত্র ইসলামই সঠিক, আর কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।

 তাহলে আমরা কিভাবে আত্মবিশ্বাস হারাই? বরং আমাদের দাওয়াতের বড় একটা স্তম্ভ হচ্ছে এই স্বীকৃতি।

 আর কোন আদর্শ নিজেকে ১০০% সঠিক বলে দাবী করতে পারে না, করেও না, সেখানেই যে ইসলাম বাকিসব কিছুর থেকে ইউনিক হয়ে গিয়েছে।

 সত্য খুঁজতে হলে যে সর্বপ্রথম ইসলামই প্রয়োরিটি পাওয়ার যোগ্য তা আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে, 

যেন যারা সত্যকে পায় নি, বুঝে নি, তারা সহজে ইসলামের কাছে ফিরে আসতে পারে।

- Ibn Mazhar 
লিবারেলদের সাথে ইসলাম এর মূল দ্বন্দ্ব কোথায়? তথাকথিত উদারমনা মোডারেট মুনাফিকপন্থি মুসলিমদের পড়া উচিত লিবারেলদের সাথে ইসলাম এর মূল দ্বন্দ্ব কোথায়? তথাকথিত উদারমনা মোডারেট মুনাফিকপন্থি মুসলিমদের পড়া উচিত Reviewed by Dr.Mira Hasan on June 27, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.