কাশ্মিরে ভারতের জুলুম ও ষড়যন্ত্র এর আরেক ধাপ। কাশ্মীরীদের ভূমিতে অ-কাশ্মীরীদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হল।

আলটিমেটলি জমিদার কাশ্মীরীদের ভূমিতে অ-কাশ্মীরীদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হল।



মূল পয়েন্ট ঃ ভারতের হিন্দু সরকার ইজরায়েল এর কৌশল অনুসরণ করে কাশ্মিরকে হিন্দুদের অধিনে নিয়ে আসছে।
কাশ্মির শুধু  নামে থাকবে কিন্তু কাশ্মিরি মুসলিম থাকবে না। 


১.
২০১৯ সালের আগস্টে সুকৌশলে কাশ্মীরের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে বিজিপি সরকার রাজ্য-আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।

তন্মধ্যে সংবিধানের ৩৫-ক ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল উল্লেখযোগ্য। সংবিধানের এই ঘষামাজার কারণে কাশ্মীর তার জন্মগত অধিকার হারায়।

ভারতের একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাজ্যটি হয়ে পড়ে ছন্নছাড়া। ভূস্বর্গ হয়ে ওঠে অগ্নিক্ষেত্র। মন মাতানো সবুজ প্রকৃতিতে লেগে যায় বিদ্রোহানল। স্নিগ্ধ আকাশে এবং স্বাস্থ্যকর বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বারুদের তীব্র গন্ধ।


২.
প্রতিটি আইন প্রণয়নের পিছনে কিছু প্রকাশ্য যুক্তি-কারণের পাশাপাশি অনেকগুলো প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য থাকে।

তেমনি কাশ্মীরের রাজ্য–অধিকার কেড়ে নেওয়ার পিছনেও আইনপ্রণেতাদের প্রচ্ছন্ন কিছু উদ্দেশ্য অবশ্যই থাকে। ভারতেরও ছিল।


যেমনঃ
ক. রাজ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার দীর্ঘদিনের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া। ভারতের কোনো রাজ্যে যাতে মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য না থাকে তজ্জন্য সংবিধানের ধারা এবং অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে।

খ. স্বায়ত্তশাসন বলবৎ থাকলে কান ধরে ইচ্ছামতো ঘুরানো সম্ভব নয়। বড়শিতে বিঁধাতে স্বায়ত্তশাসন বাতিল করা অপরিহার্য হয়ে উঠে।

গ. আগে কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান ছিল। সেই সংবিধান মতে বাইরের রাজ্যের কেউ ভূস্বর্গের স্থায়ী নাগরিক হতে পারত না। জমি বা স্থাবর সম্পত্তির মালিক হওয়া আইনে অসম্ভব ছিল।

বাইরের কেউ সেই রাজ্যের কনেকে বিয়ে পর্যন্ত করতে পারত না। কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ওদের নিজস্ব সংবিধান বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তা-ই করা হল।

ঘ. সর্বোপরি হিন্দুস্তানে মুসলিমদের দ্বারা একটি রাজ্য পরিচালিত হবে তা কোনোমতেই মেনে নিতে পারেনি শাসকগোষ্ঠী। শাসকদের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এক্ষেত্রে দায়ী।

৩.
কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার দশমাস পূর্তি হল। এরমধ্যে অনেক রক্ত আমাদেরকে দেখতে হয়েছে। শান্ত রাজ্যে অশান্তির ঝড় দেখেছি।

দেখেছি ঘরহীন মানুষদের ক্লিষ্ট ছবি। সর্বশেষ যোগ হল ১০ মাস আগে প্রবর্তিত আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

 গতকাল প্রায় ২৫ হাজার অ-কাশ্মীরিকে নাগরিকত্ব দিল বিজেপি সরকার। এটা হচ্ছে প্রথম চালান। এমন অনেক চালানের আবেদন আদালতের টেবিলে জ্যাম হয়ে আছে।

একটার পর একটা খালাস হবে। আদালত যদি বিনা কারণে নাগরিকত্ব দিতে গড়িমসি করে তবে তারাও বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। আছে জেল-জরিমানার বিধান।

 এভাবে একদিন আসল কাশ্মীরীরা চলে যাবে কারাগারে বা রিফিউজি শেল্টারে আর অ-কাশ্মেরীরীরা দখলে নেবে ভূস্বর্গ।


৪.
স্টাইলটা ধরতে পেরেছেন? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। ঠিক ইসরাইলী স্টাইলেই এগুচ্ছে তারা।

১৯৪৭-য়ের আগে ইসরাইলের মাথা গোঁজার জায়গা ছিল না। এখন ফিলিস্তিনীদের ঠাঁই নেই। দখলদারিত্বের গ্রাফটা কোথা থেকে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, ভেবেছেন?

একই চিত্র ধরে আগাচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীনরা।

- নজ্রুল ইসলাম 
Powered by Blogger.