সমকামিতাকে জাস্ট সমর্থন করাও ভয়ানক পাপ। হযরত লূত (আঃ) এর স্ত্রীর পরিণতি ও আমাদের জন্য শিক্ষা

সমকামিতাকে জাস্ট সমর্থন করাও ভয়ানক পাপ। হযরত লূত (আঃ) এর স্ত্রীর পরিণতি ও আমাদের জন্য শিক্ষা। বাংলা ইসলামিক গল্প 



হযরত লূত (আঃ) এর স্ত্রীর পরিণতি ও আমাদের জন্য শিক্ষা
আমরা সবাই কমবেশি হযরত লূত (আঃ) কাহিনী জানি, তিনি হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ভ্রাতৃপুত্র ছিলেন যাকে পাঠানো হয়েছিলো জর্ডান ও বায়তুল মুক্বাদ্দাসের মধ্যবর্তী ‘সাদূম’ অঞ্চলের অধিবাসীদের পথ প্রদর্শনের জন্য। 

সে জাতি যে শুধু আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে শিরক ও কুফরীতে লিপ্ত হয়েছিল তাই নয়, তারা এমন এক জঘন্য পাপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলো যা এর পূর্বে পৃথিবীতে অন্য কোন জাতি এই কুকর্ম করা তো দুরে থাক এরূপ নিকৃষ্টতম চিন্তাও মাথায় আনেনি।
সমকামিতা বা হোমোসেক্সুয়ালিটির মূলত তখন থেকে আবির্ভাব হয় পৃথিবীতে।

তারা যখন গোনাহে্র চরম শিখরে পৌঁছায় তখন আল্লাহর আযাব তাদের উপর নেমে আসে। আল্লাহর হুকুমে কয়েকজন ফেরেশতা অনিন্দ্য সুন্দর নওজোয়ান মানুষের রূপ ধারণ করে লূত (আঃ)-এর গৃহে মেহমান সেজে উপস্থিত হলেন। অতঃপর লূত (আঃ) এর স্ত্রী গোপনে তাদের খবর সবাইকে জানিয়ে দেন যার ফলে হতভাগা জাতি হযরত লূতের ঘরে হামলা করে এবং পরবর্তীতে আল্লাহ শাস্তিস্বরূপ তাদের শহরগুলিকে উপরে উঠিয়ে উপুড় করে ফেলে দিলেন। 

কাহিনীটা মোটামুটি আমরা সবাই জানি তাই আমি আর ঘটনাটা বিস্তারিত আলোচনা করলাম না, কিন্তু আমি এখানে লূত (আঃ)-এর স্ত্রীর ব্যাপারে একটু বলতে চাই। এখানে দুটি বিষয়ে আমাদের জন্য খুবই শিক্ষণীয়।

এক তিনি একজন নবির স্ত্রী হয়েও বিশ্বাসী ছিলেন না, আমরা অনেকেই দেখি আমাদের আপনজন যদি ইসলামের বিধান মেনে না চলে অথবা খারাপ কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে হতাশ হয়ে পড়ি, কখনো বা সম্পর্কও ছিন্ন করে ফেলি যা ঠিক নয়। লূত (আঃ) তা করেননি বরং ধ্যর্য ধরে তার সাথে সংসার করেছেন যতক্ষন না পর্যন্ত আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি আদেশ পান। 

দ্বিতীয়তঃ আমরা দেখতে পাই লূত (আঃ) স্ত্রী নিজে কিন্তু সমকামি ছিলেন না, কিন্তু তাদের সমর্থন করার কারনে সে নিজেও আযাব ভোগ করেন। আজকাল আমরা অনেক মুসলমানদেরকেও দেখি তারা অসাম্প্রদায়িকতার নামে হোমোসেক্সুয়ালিটি সমর্থন করে, সমকামিদের অধিকার নিয়ে খুব সোচ্চার। যদিও তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে “আরে আমরা তো আর সমকামি না, কিন্তু যারা তা করতে চায় ইটস্ দেয়ার উইশ, তাদের চাওয়াকে আমরা সম্মান করি।” 

না ভাই! এত সম্মান করার দরকার নাই। আপনাদের এই লিবারিজম আপনাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারন হতে পারে ঠিক যেমন লূত (আঃ) স্ত্রীর বেলায় হয়েছিলো। 

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন;- “মেহমান ফেরেশতাগন বলল-হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়? {সুরা হুদ: ১১:৮১}

কওমে লূত-এর বর্ণিত ধ্বংসস্থলটি বর্তমানে ‘বাহরে মাইয়েত’ বা ‘বাহরে লূত’ অর্থাৎ ‘মৃত সাগর’ বা ‘লূত সাগর’ নামে খ্যাত। যা ফিলিস্তীন ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বিশাল অঞ্চল জুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে। আমরা কি এখনও আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করব না?

আল্লাহ আমাদের সকলকেই এধরনের ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

-[Sadman Sakib Sifat]
সমকামিতাকে জাস্ট সমর্থন করাও ভয়ানক পাপ। হযরত লূত (আঃ) এর স্ত্রীর পরিণতি ও আমাদের জন্য শিক্ষা সমকামিতাকে জাস্ট সমর্থন করাও ভয়ানক পাপ। হযরত লূত (আঃ) এর স্ত্রীর পরিণতি ও আমাদের জন্য শিক্ষা Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 18, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.