ইসলামের যুগে নারীদের মর্যাদা ও মুসলিমদের বীরত্ব | বাংলা ইসলামিক ইতিহাসের গল্প

ইসলামের যুগে নারীদের মর্যাদা ও মুসলিমদের বীরত্ব | বাংলা ইসলামিক ইতিহাসের গল্প 



একটি মেয়ের জন্যে …-শাইখ আব্দুল্লাহ মায়মুন

.
.
বদরযুদ্ধের পরের কথা, মদীনার অদূরে অবস্থিত ইয়াহুদীদের গোত্র বনু কায়নুকা। 

এক আনসার মহিলা গেলেন ইয়াহুদীদের ওই বাজারে, ইয়াহুদীরা তাঁকে লাঞ্ছিত করলো, তিনি চীৎকার করে সাহায্য চাইলেন। 

সাথে সাথে এক মুসলিম যুবক এসে ওই লাঞ্ছনাকারী ইয়াহুদীকে হত্যা করে ফেললেন। পরে বাজারের উপস্থিত ইয়াহুদীরা মিলে তাকে শহীদ করে দেয়।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদের গোত্র বনু কায়নুকাকে অবরোধ করেন, একপর্যায়ে এদেরকে মদীনা থেকে নির্বাসিত করেন।


.
আফ্রিকার গভর্ণর মুসা বিন নুসাইরের কাছে উপস্থিত হলেন স্পেনের আঞ্চলিক গভর্ণর কাউন্ট জুলিয়ান, তিনি ফরিয়াদ করে বললেন, স্পেনের জালিম সম্রাট রডারিক তার মেয়ে ফ্লোরিডার সম্ভ্রমহানি করেছে! 

তখন মুসা নিজ বিশ্বস্ত সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদকে পাঠালেন স্পেন জয় করতে!


.
নিষ্ঠুর গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে দেবল (বর্তমান করাচী) থেকে একটি চিঠি পৌছল, যে দেবলের রাজা দাহির মুসলমানদের বণিক কাফেলাকে আটক করে ফেলেছে। 

আর একটি মেয়ে চিঠিতে লিখল, যে মুসলমানদের তলোয়ারের ধার যদি ভোতা না হয় তাহলে তারা যেনো আমাদের ডাকে সাড়া দেয়! 


তখুনি হাজ্জাজ আপন জামাতা ও ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মদ বিন কাসিমকে পাঠালেন সিন্ধু জয় করতে!
.
আব্বাসি খলীফা মু'তাসিম বিল্লাহ মসনদে বসে পানি পান করার জন্যে গ্লাস হাতে নিলেন, তখুনি একজন দরবারে এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন! সীমান্তে রোমানরা আক্রমণ করেছে,

 তখন এক হাশেমি বন্দি নারী আর্তনাদ করে বলেছে, মুতাসিম বিল্লাহ! তুমি কোথায়?

 তখুনি খলীফা হাত থেকে গ্লাস ছুড়ে ফেলেন এবং বলেন, লাব্বাইক!! সাথে সাথে সৈন্য নিয়ে সীমান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে রোমানদের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ আমুরিয়া দখল করে বন্দিদের উদ্ধার করেন! 

.
স্পেনের শাসক মনসুর আল-হাজিব! 
একবার খবর পেলেন, সীমান্তের বাহিরে একটি গীর্জায় এক মুসলিম নারী বন্দি! তখন তিনি সৈন্য নিয়ে সীমান্তে ঝাঁপিয়ে পড়েন!


.
সুলতান রুকনুদ্দীন বাইবার্স। তাঁর নিকট এক মহিলা আর্তনাদ করে বললো, ইংরেজ ক্রুসেডাররা তার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে, সাথে সাথে সুলতান ওই ক্রুসেডারদের দুর্গ জয় করে বন্দি মুসলিম নারীকে উদ্ধার করেন।


.
এরাই ছিলেন অতীতের মুসলিম শাসক! যারা এদের অনুসারী তারাই যুগের মুহাম্মদ বিন কাসিম আর সালাহুদ্দীন আইয়ুবি। 

কিন্তু যারা একদিকে মজলুমদের জন্যে গর্জন বিসর্জন করেন, কিন্তু তাদের উদ্ধারে একটি গুলিও বর্ষণ করেন না, উলটো কখনো জালিমদের সাথে গলাগলি করেন, কসাইকে পিঠ চাপড়ে দেন। 

তারা যুগের মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সালাহুদ্দীন আইয়ুবি হওয়াতো দূরের কথা, বরং হাজ্জাজ বিন ইউসুফও হওয়ার উপযুক্ত নন। 

বেশীর চেয়ে বেশি যুগের হিরাক্লিয়াস হতে পারেন।
.
আজ আমরা আবু গারিবের ফাতেমা, পাকিস্তানের আফিয়া সিদ্দীকি, মিশরের আসমা বেলতাজী, ভারতের সাদিয়া মুবীনের কথা বাদই দিলাম।


 কিন্তু আমাদের চোখের সামনে আরাকানি মুসলিম নারীদের কথা কি বাদ দিয়ে দেব? 

একবার ভাবি, আর নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, আসলেই কি আমরা এই বিজয়ী পূর্বসূরিদের যথার্থ উত্তরসূরি?


.
শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানি রাহ. নিজের নামের শুরু লিখতেন 'নাঙ্গে আসলফ হোসাইন' অর্থাৎ 'পূর্বসূরিদের কলঙ্ক হোসাইন'!


তিনি যদিও পূর্বসূরিদের যথার্থ উত্তরসূরি ছিলেন, 
কিন্তু আমরা,


ঠিকই নাঙ্গে আসলফ = পূর্বসূরিদের কলঙ্ক।

Naseehah Official


তাকওয়া বিহীন পরিবার একটা অগ্নিকুণ্ডের মত। আর্থিক স্বচ্ছলতাই সুখী পরিবারের বুনিয়াদ নয়।



পরিচিত এক ভাই এখনো সুস্থ। করোনার সামান্যতম উপসর্গ তার শরীরে নেই। তবুও তার স্ত্রী তাকে মেনে নিতে পারে না। স্বামীকে যমদূত মনে করে। 

স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে নিয়মিত কানপড়া দিচ্ছে, সে যেন তার স্বামীর সংশ্রব এড়িয়ে চলে। যতদূর সম্ভব বাড়িতে চলে আসে। 

তাদের যুক্তি, অমুক অফিসে যায়, বাজারে করে, দোকানে বসে। যেকোনো স্থান থেকে সে ভাইরাস নিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে পারে। 

আর ভাইরাস একবার ঘরে ঢুকলে সবাই আক্রান্ত হতে পারে। দরকার নেই রিস্ক নেওয়ার, জামাইকে রেখে তুই চলে আয়। 

ব্যাপারখানা এমন, তুই বাঁচলে জামাইয়ের অভাব হবে না।

সেই বেচারা তার সংসারের জন্য প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। সারাদিন দৌড়ের উপর থাকেন। স্ত্রীর চাহিদা মেটাতে শ্রম দেন। ঘুমের সময় টাকার জন্য দৌড়ান।

 বিশ্রামের সময় শ্রমিক হয়ে ঘাম ঝরান। চিন্তাভাবনায় শুধুই সংসারের সুখ।

অথচ বেচারা স্বামী সুস্থ থাকার পরও সেই আহ্লাদিত স্ত্রীর কাছে যম। স্বামীকে মনে করে ভাইরাসের বংশধর।

 স্বামী যেহেতু ভ্রাম্যমাণ সেহেতু করোনা হতে পারে—এমন সন্দেহে স্বামীকে যে স্ত্রী দূরে ঠেলে দিতে পারে সেই স্ত্রী নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত স্বামীকে অস্বীকার করতেও পারবে। পরিচয়ও দিবে না। 

নিউজপেপারে এমন খবর প্রায় প্রতিদিন দেখি।

কয়েকদিন আগের কথা। খবরটা ছিল চাঁদপুরের। ৫০ বছর বয়সী এক ভদ্রলোক গাজীপুর থেকে জ্বর নিয়ে বাড়িতে যান।

শুধু জ্বর আর কাশি থাকার কারণে তার স্ত্রী তাকে ঘরে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেয়েও বাবাকে অন্যত্র চলে যেতে বলে। 

শেষমেশ জ্বরের কথা লুকিয়ে বোনের বাড়িতে উঠে। দুইদিন পর স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। কেন স্ট্রোক করলেন সেটার ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। বেচারা এতদিন গার্মেন্টসে কাজ করে কাদেরকে খাওয়ালেন?

মারকাজুল ইসলাম লাশ দাফন করতে গেল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে লাশ গ্রহণ করার মতো মৃতের কোনো নিকটাত্মীয় পাওয়া গেল না। বাধ্য হয়ে মারকাজুল ইসলামের লোকেরাই গ্রহণ করে দাফন করে। মৃতের কী কেউ ছিল না?

সন্তানেরা মা'কে বস্তায় ভরে গজারি বনে ফেলে দেওয়ার খবর আমরা সবাই জানি। ওরা এমন মা'কে চায়না যার শরীরের করোনা উপসর্গ বিদ্যমান। তাহলে তারা কেমন সন্তান?

এ হচ্ছে বস্তুবাদী সংসার। এ হচ্ছে সংশয়বাদী আপনজন। 

যেই আপনজনদের মুখে হাসি ফুটাতে সংসারের কর্তারা ঘুমকে হারাম করেন সেই আনজনেরাই কর্তাদের মৃত্যুতে পালিয়ে যায়। 

অসুস্থ হলে কোথাও ফেলে আসে। অসুস্থ না হলেও হতে পারে এমন ভাবনায় দূরে চলে যেতে চায়।

কেন এমন হয়? কারণ কর্তারা সংসারের সদস্যদেরকে বিলাসিতার ব্যবস্থা করলেও মানবিক গুণে গুণান্বিত করার চেষ্টা করেননি। 

করলেও অপর্যাপ্ত। পারিবারিক এই অধঃপতন কখনো কর্তাদের হাতের কামাই, কখনো পরীক্ষা। তবে পরীক্ষা কম, হাতের কামাই বেশি।

মানেন আর না মানেন—তবে এটা সত্য—পরিবারে যতক্ষণ তাকওয়ার বীজ রোপণ করা না হবে ততক্ষণ পরিবারকে একটা অগ্নিকুণ্ড মনে হবে। 

আর্থিক স্বচ্ছলতাই সুখী পরিবারের বুনিয়াদ নয়। যদি তা-ই হত তাহলে জ্যামিতিক হারে ধনীদের সংসার ভেঙে খানখান হয়ে যেত না।

 সব সুখী সংসারে সব পেলেও একটি জিনিস পাবেন না। সেটা হচ্ছে তাকওয়া—আল্লাহ ভীতি। আর ঐ তাকওয়ার কারণেই সংসারগুলো দেবদারু গাছের মতো মটকে যাচ্ছে।

সুতরাং টেকসই সংসারের মজবুদ ফাউন্ডেশন হচ্ছে তাকওয়া। শুধুই তাকওয়া। 

যে পরিবারের সদস্যরা আল্লাহকে ভয় করার মতো ভয় করে সেই পরিবারে হারাম ঢুকে না। ঢুকতে পারে না। 

তারা অল্পতে তুষ্ট থাকার প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত। সবাই হারামের এন্টিবডি। হারাম দেখলেই বেঁকে বসে।

 স্ত্রী প্রতিটি টাকার উৎস খুঁজে তারপর গ্রহণ করে। হ্যাঁ, এমন সংসার আছে। আর এমন পরিবারই দুনিয়াতে যেমন আপনাকে অধিক পরিশ্রম এবং রিজিকের দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচাবে তেমনি আখেরাতেও তাঁরা আপনার মুক্তির মাধ্যম হবে, ইনশাআল্লাহ।


সুখী হতে চান?
পারিবারিক ভাবে মুত্তাকী হয়ে যান। অন্তত আপ্রাণ চেষ্টা করুন। অল্পতে তুষ্ট থাকার প্রশিক্ষণ নিন। লোভ ত্যাগ করুন।

 হারাম উপার্জন একদম ছেড়ে দিন। বিয়ের পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনকে অগ্রাধিকার দিন। কনে দ্বীনদার হলে বাকি সব শর্তে ছাড় দিন।

 যদি তা করতে পারেন ইনশাআল্লাহ অন্যরকম এক পারিবারিক সুখ ভোগ করবেন। কথা দিচ্ছি।
- Nazrul Islam 
ইসলামের যুগে নারীদের মর্যাদা ও মুসলিমদের বীরত্ব | বাংলা ইসলামিক ইতিহাসের গল্প ইসলামের যুগে নারীদের মর্যাদা ও মুসলিমদের বীরত্ব | বাংলা ইসলামিক ইতিহাসের গল্প Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 17, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.