ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন | মুসলিমদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের চালানো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন | মুসলিমদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের চালানো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও আমাদের করনীয়



“আমরা কেবল টি শার্টই বিক্রয় করি না, বরং টি শার্টের উপরের লেখাটাও বিক্রয় করি”।

ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে পশ্চিমা থিংকট্যাংকরা এ মজার বিষয়টি প্রয়োগ করে।

মধ্যপ্রাচ্যে কিছুদিন আগে, মূলত ইরানেই, একটি টি শার্টের প্রচলন ঘটে। সেখানে লিখা থাকতো, Its Ok to be a gay.

অথচ মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল সমাজে সমকামী নামটা উচ্চারণ করাও অনেক বড় কিছু।

স্বাভাবিকভাবেই সমাজ তা ভালোভাবে নেবে না। অনেকে আক্রমণও করে বসতে পারে।

তখন আপনি যদি টি শার্টটার দোষ দেন, “আরে জাস্ট একটা টি শার্টের জন্য! না না! এটা ভিক্টিম ব্লেইমিং”।



মানুষ দমে যায়। বিষয়গুলো নর্মালাইজ হতে থাকে। আমাদের দেশেই দেখুন। ভারতীয় বাংলা সিনেমাতে একটি মেয়েকে পটানোর প্রসেসটা রীতিমতো স্টকিং [এখানে ইভটিজিং বলা হয়]।

আজকে আমাদের দেশে বিষয়টি কতোটা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। বাংলার কাছে আসার হারাম গল্পগুলোও যেন সে অবস্থানেরই কপি পেইস্ট।


ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন- দুটো বিষয় অনেক আগ থেকেই পরস্পরের সাথে জড়িত।

আমাদের বাজারে কোন বিষয়গুলোর কাটতি বেশী? নিঃসন্দেহে ভোগ্যপণ্য।

এজন্যই মানুষ, ড্রাগ ও অস্ত্রের ব্যবসা সবচেয়ে লাভজনক। ড্রাগ সরাসরি ভোগ্যপণ্য, মানুষকে কাজে লাগানো হয় ঘোড়দৌড়ের জকিতে কিংবা পর্ণে আর অস্ত্র তো কেবল দখল, লুট ও প্রবৃত্তির চুড়ান্ত লালসার জন্য।


[ এই লাইন এর লেখা মুছে দিছি] এনলাইটেনমেন্টের পর থেকেই মানুষের জীবনে ‘আমি’ বাদে আর কিচ্ছু নেই। বিশেষ করে পশ্চিমে। এখানে স্বাধীনতা দুই প্রকার

১. সামর্থ্যের স্বাধীনতা
২. নীতি-নির্ধারনের স্বাধীনতা

সামর্থ্যের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় মানুষ পরিপূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই একটি কাজ করা বা না করার ক্ষমতা রাখে।
[What is Humanism- American Humanist Association]

বর্তমান পশ্চিমে যেহেতু ভোগবাদীতাই সব, তাহলে ভোগ্যপণ্যের কাটতি কেন বাড়বে না? আর আমেরিকা যেহেতু জন্ম থেকে সাম্রাজ্যবাদী, ব্রিটিশদের মতো বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য চালাতে তাদেরকে মানুষের ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার ঘটাতে হবে।

সেদিক থেকে তারা আমাদেরকে যত ভোগবাদে টেনে আনতে পারবে, যত উদার করে তুলতে পারবে তত তাদের প্রোফিট।

তারা এখানে তাদের নষ্ট সিনেমা, নিষিদ্ধ ড্রাগসহ অনেক কিছুর বিস্তার ঘটাতে পারবে। [অশ্লীল হওয়ায় আর কোনো প্রোডাক্টের নাম উচ্চারণ করলাম না]


ফলাফল দেখুন, আমরা পশ্চিমের বিজ্ঞান নিয়ে অনেক মুগ্ধ হলেও পশ্চিমের বিজ্ঞানের তেমন কিছুই আয়ত্ব করিনি।

আয়ত্ব করেছি তাদের জীবনযাত্রা, যা কিনা যে কোনো নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই ভ্রান্ত ও বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কহীন।


আর তার ফলে আমাদের এখানে বাজার বাড়ছে পশ্চিমাদের। সাবেক আরব পর্ণ অভিনেত্রী একটি ইন্টারেস্টিং কথা বলেছিলেন,

“আমি মধ্যপ্রাচ্য থেকে হত্যার হুমকি পাই। আর সেখানেই আমার পর্ণ সবচেয়ে জনপ্রিয়”।

ফিদেল ক্যাস্ত্রো ছোটবেলার গল্প বলতে গিয়ে একটি কার্ডের প্যাকেটের কথা বলেছিলেন। সেই প্যাকেটে ১২টা কার্ড থাকতো।

সেখানে একটি বা দুটো কার্ড ফাঁকা থাকতো যেন সেই দুটো কার্ড পূরণ করতে বাচ্চারা আরো একটি প্যাকেট কেনে।

তার মতে, এটাই পুঁজিবাদ। যতদিন সেই একটি ফাঁকা কার্ডের চাহিদা থাকবে ততদিন এ ব্যবসা চলবে। [My life - Fidel Castro]

সে আরব পর্ণ অভিনেত্রীকে উপস্থাপক জিজ্ঞেস করলেন,
- আচ্ছা, আমরা কীভাবে পর্ন সমস্যার মোকাবেলা করবো?
- আপনি কি পর্ণ দেখেছেন?
- হুম আমি একসময় পর্ণ দেখতাম।


- এই যে দেখুন, যতদিন আপনারা পর্ণ দেখবেন ততদিন পর্ণ টিকে থাকবে। চাহিদাই বাজার টিকিয়ে রাখে।


হঠাৎ হঠাৎ ইসরাঈলি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার আগে বিষয়গুলো বোঝা উচিত।
- Irfan Sadik

আমাদের করনীয় কি?

Powered by Blogger.