ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ | যে শত্রু আমাদের ঘরের মধ্যে

ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ  | ছোটকাল থেকেই মুসলিমদের ব্রেনওয়াশ করার চেষ্টা 


যে শত্রু আমাদের ঘরের মধ্যে...... 
- মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান
.
প্রথমত এটা কোথায় পেলাম সেটা বলে নেই; গতকালকে একটা কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় বইটা আমার সামনে ছিল এবং বাতাসে হটাৎ করে এই পৃষ্ঠা বের হয়ে যায়, এবং সেই সাথেই আমার চোখদুটো এই লেখাটাতে আঁটকে যায়।


বইটা ছাপানো হয়েছে "ইসলামিয়া কুতুবখানা ঢাকা, বাংলাদেশে" থেকে।
দ্রষ্টব্য হল মাঝের লেখাটা।


.
আপনারা যারা মাঝের লেখাটা পড়লেন তারা অনেকেই হয়ত ভাবছেন যে, এখানে আর এমন কি সমস্যা রয়েছে, কথা তো ঠিকই, তাদেরকে আসলে এখানে দোষ দেওয়াটা ভুল হবে। 


কারণ, এটার অনেক আগেই আমাদের ব্রেনওয়াশ হয়ে আছে অন্য জায়গাতে। আর সেটা হল; "ইসলাম মানে শান্তির ধর্ম", 

সুতরাং ইসলাম মানেই যেহেতু শান্তি, সেহেতু সেখানে তো "তরবারি দিয়ে বিজয়" কথাটা একেবারে বেমানান।

এখানে কোন রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ছাড়া মুল কথা হল "ইসলাম মানে যে শান্তির ধর্ম" কথাটা ভুল, 


বরং ইসলাম মানে হল "আত্মসমর্পণ করা"। 

আর আমরা যদি ঠিকঠাক আত্মসমর্পণ করতে পারি আল্লাহর কাছে, তখনই ইনশাআল্লাহ শান্তি আসবে।

এবার আসি এখানটায়, বইটার মাধ্যমে ছোট বাচ্চাদেরকে ইসলামের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা তথা আরবি হরফ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে ছন্দে ছন্দে। 


অথচ একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে, যেখানে আমাদের বাচ্চাদেরকে ইসলাম শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেখানেই কিনা এমন একটা কথা লেখা রয়েছে যেটা কোরআন এবং হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক।

হ্যাঁ, কথাটা কোরআন এবং হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক, আর সেটা কীভাবে আসুন একটু দেখে নেই;



.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা সুরা নিসার ৭১ নং আয়াতের মধ্যে বলছেন যে, 


" হে মুমিনরা! তোমরা তোমাদের অস্ত্র ধর এবং (শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে) দলে দলে অথবা পৃথক পৃথক হয়ে বেরিয়ে যাও"।


নবী করীম সাঃ হাদিসে বলছেন যে, "(হে লোক সকল) তোমরা জেনে রাখ যে, জান্নাত হল তরবারির ছায়ার তলে"।



আয়াত এবং হাদিসের কথা একদম সুস্পষ্ট, তবুও যদি বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে আসুন আমরা নবীজি সাঃ এর জীবনীর দিকে তাকাই;


 ১৩ টা বছর মক্কাতে খুব সুন্দরভাবে নরম নরম কথা বলে দাওয়াত দেওয়া হল, খুব আদর করে কাছে ডাকা হল, মন-প্রাণ সব উজার করে দিয়ে মেহনত করা হল।

 অথচ এই দীর্ঘ সময়ে ইসলামের ছায়াতলে কতজন আসলেন! মাত্র ৩০০ এর কিছু বেশি মানুষ।

কিন্তু যখনই মদিনায় এসে মুখ এবং "মনে"র ভাষার বদলে তরবারির ভাষা শুরু হল, ঠিক তখনই হাজার হাজার মানুষ ইসলামের ছায়ায় এসে ধন্য হতে লাগলো।


 একে একে কতগুলো বিজয় আসল তরবারির মাধ্যমে।

নবীয়ে রাহমাহ্ সাঃ বিদায় হজ্জের জামাতে লক্ষাধীক মানুষ দেখতে পেলেন। অথচ সময়ের ব্যাবধানটা হল ১৩ আর ১০ বছর। 


এমন অহরহ উদাহরণ রয়েছে চক্ষুষ্মানদের জন্য।
.
এখন কথা হল তারা তো মুসলিম, তাহলে কেন তারা আমাদেরকে এমনটা শিক্ষা দিচ্ছে যেটা কিনা ইসলামের সাথেই সাংঘর্ষিক।


কথা সত্য যে তারা মুসলিম, তবে সেটা শুধুমাত্র নামে কামে নয় (আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন)।


গত তিন চারদিন আগে Asif Adnan ভায়ের একটা লেখা পড়লাম, আসলে পশ্চিমারা আমাদেরকে কেমন মুসলমান দেখতে ভালবাসে সেখানে সেটা খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


১৮৭৭ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত মিশরকে পশ্চিমা ধাঁচে সাজাতে নেতৃত্ব দেয় " লর্ড ক্রোমার", 


সে ১৯১৬ তে প্রকাশিত তার "মডার্ন ইজিপ্ট" বইতে সরাসরি তুলে ধরেছে যে কীভাবে একজন মু"মিনকে নামে শুধুমাত্র মুসলিম রেখে কামে পশ্চিমা করে ফেলা যায়।

তো সেখানকার কয়েকটা পয়েন্টের একটা হল এমন যে, সেই সমাজের ধর্মীয় বড় নেতা তথা আলেম/মুফতিকে বাগে আনতে হবে, ব্যস তাহলেই একেবারে সহজ।


বড় জুব্বা, পাগরি, বড় দাড়ি নিয়ে আপনার আমার কাছে এসে তারা পশ্চিমা ধাঁচের ইসলামকে বোঝাবে, আর আমরাও ভেবে নিবো যে, হায় সুবহানাল্লাহ, কত বড় আল্লাহ ওয়ালা, 


সুতরাং সে যা বলবে সেটাই ঠিক। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যাবে যে সে একজন ইহুদী খ্রিস্টানের দালাল।

ইহুদী-খ্রিস্টানরা আসলে আমাদের কোন কোন ভূখন্ডে অস্ত্রের যুদ্ধ বন্ধ করে রাখলেও তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের কবলে আমরা সর্বদাই পরাজিত হয়ে আছি। তাদের চক্রান্ত আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে।
.
প্রিয় ভাই আমার, এসময় যে এমনটা হবে সেটা রহমতের নবী সাঃ প্রায় ১৫০০ বছর আগেই বলে গেছেন। সুতরাং এগুলো হবেই।


 এবং সেজন্য আমাদের আমলের প্রতিদানও অনেক বেশি।
তবে আমাদের চুপচাপ বসে থেকে মুক্তি পেয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। 


সত্যকে খুজতে হবে, সত্য গ্রহণের সঠিক ইচ্ছা এবং মন-মানসিকতা থাকতে হবে, তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা অবশ্যই পথ দেখিয়ে দিবেন।

সবশেষ কথা হল, কিয়ামত পর্যন্ত হকের পতাকা উত্তোলনকারী একদল মানুষ আমাদের মাঝে থাকবেনই, 


আমাদের কর্তব্য শুধু কুরআন এবং নবীজি সাঃ এর সাথে মিলিয়ে তাকে খুজে বের করা। আল্লাহই উত্তম সাহায্যকারী।
.
ইয়া রহমান! আমাদেরকে আপনি সঠিক দ্বীন জানার এবং মানার তাওফিক দিন, আমিন।
.

> মাহবুব
Powered by Blogger.