শিশুদের উপর যৌন হয়রানি রোধে আমাদের দায়িত্ব | শিশু নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা বন্ধে অভিভাবকদের করনীয়

শিশুদের উপর যৌন হয়রানি রোধে আমাদের দায়িত্ব | শিশু নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা বন্ধে অভিভাবকদের করনীয়। বাংলা উপদেশ


  1. শিশু নির্যাতনের ধরন
  2. শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আমার ভাবনা
  3. শিশু নির্যাতনের কারন




শিশুকালীন যৌন হয়রানি রোধে
মায়েদের জন্য ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশঃ

১. সন্তানের সামনে নিজেরা কাপড়
পরা/বদলানো থেকে বিরত থাকুন।

জাগ্রত শিশু সন্তানের সামনে
যৌন মিলন থেকেও বিরত থাকুন এবং
যত্র-তত্র উলঙ্গ অবস্থায় যেতে
নিষেধ করুন। 

ইসলাম নির্দেশিত সতর
ঢেকে রাখুন এবং শিশুদের সতর
সম্পর্কে জ্ঞান দান করুন।

[ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু
পরিপালন-নীতিমালা]


২. আপনার মেয়ে শিশুকে অন্য
কারো (অপরিচিত লোক) কোলে
বসতে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক
থাকুন, 

এমনটি নিজস্ব আত্মীয়-
স্বজনদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।

ছোটবেলা থেকে পর্দার
ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করুন।
[আদাবুল মোয়াশারাত]

  • শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়
  • শিশু নির্যাতনের ছবি
  • শিশু নির্যাতন স্লোগান


৩. বিশেষভাবে মেয়ে সন্তানকে
খেলাধুলায় সঙ্গী নির্বাচন করার
ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

 খেয়াল রাখুন আপনার সন্তান যখন বন্ধুদের
সাথে খেলতে যায় তখন তারা কি
ধরনের খেলা খেলছে?

নিছক বিনোদন বা সময় কাটানো জাতীয়
খেলাধুলা ছাড়া অন্য সব ধরনের
খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন।

লক্ষ্য রাখুন শিশুদের খেলাধুলার
বিষয় যেন, বিয়ে-শাদি বা সংসার না হয়।
[আদাবুল মোয়াশারাত]



৪. খেয়াল রাখবেন কেউ যেন
দুস্টামি করেও আপনার মেয়ে
সন্তানকে কখনো আমার বউ বা
আমার ছেলের বউ ইত্যাদি কথা না
বলে।

 কারণ এতে করে সন্তানের
মাঝে অপরিনত বয়সেই বিয়ের
মানসিকতা সৃষ্টি হতে পারে।

ইসলাম বৈধ উপায়ে যথার্থ সময়ে
বিয়ের আদেশ দিয়েছে।

আগেও নয় এবং খুব পরেও নয়।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


৫. অন্য প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ
কিংবা মহিলার কাছে আপনার
মেয়ে সন্তানকে পাঠানোর
ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন 

এবং জোর করে এমন কোথায় তাকে পাঠানো
থেকে বিরত থাকুন- যেখানে সে
যেতে চায় না।। 

এমনকি আপনি যদি
কখনো খেয়াল করেন, কেউ আপনার
মেয়ে সন্তানকে খুব বেশি আদর-
সোহাগ করছে, তাতেও সতর্ক থাকুন। 

কারণ মানুষ মাত্রই ভুলকারী। 

শয়তান যে কোনো সময় যে কোনো
মানুষকে ধোকায় ফেলতে পারে,
তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিত।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


৬. সাবধানতা এবং সতর্কতার সাথে
আপনার মেয়েকে বয়ঃসন্ধীকালীন
সঠিক যৌন শিক্ষা প্রদান করুন 

এবং তাকে এই সময়কালীন বিভিন্ন
অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করুন।

আপনার মেয়ে সন্তানকে জানতে
সাহায্য করুন, ইসলাম কেন এই সময়
ইবাদত-বন্দেগি করতে নিষেধ করেছে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


৭. যদি কখনো দেখেন হঠাৎ করে
আপনার মেয়েটি কেমন নিশ্চুপ হয়ে
গেছে,

সতর্কতার সাথে কারণ আবিস্কার করার চেষ্টা করুন 
এবং কারণ দূর করুন।

আপনার কাছে কারণ যদি যৌন হয়রানি 
আবিস্কৃত হয় তাহলে  তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন 
এটা ভুল এবং এই ভুল থেকে দূরে থাকা উচিত।

আর সাথে সাথে ইসলামি বিধি নিষেধগুলো
তাকে জানান।

ইসলাম নির্দেশিত যৌন
হয়রানির শাস্তি ও পরিণামের
কথা তাকে জানান।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


৮. অনেক মায়েদের দেখা যায়
বাচ্চাদের ঠাণ্ডা রাখার জন্য
বিভিন্ন কার্টুন ও মুভি দেখান-
এটা কখনোই করবেন না। 

কারন ছোটবেলাতেই এসব জিনিস
বাচ্চাদের মানসিকতায় বিশেষ
প্রভাব বিস্তার করে। 

আর ইসলাম তো এসব কার্টুন ও মুভি
দেখানোকে কখনোই সমর্থন করে
না। বরং এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন
ভালো গল্প শোনানো যেতে পারে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


৯. মেয়ে সন্তানের বয়স ৩ বছর হলে
সন্তানকে টয়লেট শেষে নিজে
নিজে গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করতে
শিখান 

এবং তাকে ইসলামের পবিত্রতার গুরুত্বের কথা জানান।
তাকে শিখতে সহযোগিতা করুন

ইসলাম কীভাবে পবিত্রতা অর্জন
করার নিয়ম-পদ্ধতি বাতিয়েছে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]


১০. আরেকটা ব্যাপারে খুব সতর্ক
থাকুন- 

প্রয়োজন ছাড়া মেয়েকে
সন্তানের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা
থেকে তাকে বিরত রাখুন এবং
নিজেরা বিরত থাকুন।

এতে করে লজ্জাহীনতা সৃষ্টি হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]



১১. খারাপ কাজ, মন্দ ব্যক্তি,
কুরুচিপূর্ন বিষয় এবং নিন্দনীয়
আচরণের তালিকা তৈরি করুন এবং
মেয়েকে সেগুলো শিক্ষা দিন।

এই ক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে
হবে, তাকে যা কিছু জানাবেন বা
বুঝাবেন সবগুলোর কারন ব্যাখা
করতে হবে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]



১২. আপনার সন্তান কখনো কারো
বিরুদ্ধে নালিশ করলে তা হেলায়
উড়িয়ে দেবেন না- তাতে সেই
ব্যক্তিটি যেই হোক না কেন?

মনোযোগ দিয়ে তার নালিশ শুনুন
এবং যৌক্তিকতা বিচার করুন

 এবং মেয়েকে জানান নালিশ ও বিচারের
ক্ষেত্রে ইসলাম কী বলেছে।
[আদাবুল মোয়াশারাত]



১৩. শিশুবেলা থেকেই আপনার
সন্তানকে প্রতিকুল পরিবেশে প্রতিবাদ
করার জন্য অনুপ্রেরনা দিন। 

কীভাবে বাজে পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা
করবে তার ধারনা ও শিক্ষা প্রদান করুন।

বাংলা ইসলামিক ছোট গল্প 


-স্যার একটা কথা বলবো?
-কি বল?


-আজ আমারে সারে ১২টায় ছুটি দেবেন?
-কেন? কি করবি?


-বাড়ি় গিয়া ভাত খাব পেটে খুব ক্ষিধে,
-কেন সকালে খেয়ে আসোনি?

-জ্বি না।
-কেন?
-তরকারি নেই।

আর লবণ দিয়ে ভাত খেতে হয়
তাই খাতে পারি নি।


- কথাটা শুনতেই বুকের মধ্যে কেমন যেন
লাগলো স্যারের?
-রাতে কি খেয়েছো?
-গরম ভাতে জল দিয়া ডাল মনে করে ভাত।



-এখন কি দিয়ে খাবে?
-মা বলেছেন স্কুল ছুটির পর গেলে
কচু রেঁধে রাখবে।
সেইটা দিয়ে মজা করে ভাত খাবো।



-মা খুব মজা করে কচু রান্না করতে পারে।
কখন যে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসলো বুঝতে পারেনি স্যার,
- স্যার একদিন তোমার মায়ের হাতের
রান্না করা কচু খেয়ে আসবো।



যাব তোমার বাড়ি??
আসবেন স্যার সত্য?
হ্যাঁ যাবো। তুমি এখন যাও
বাড়িগিয়ে পেট ভরে ভাত খাও।



মুখের কথায় পৃথিবী জয় করা
হাসি নিয়ে বই হাতে নিয়ে তার
চলে যাওয়ার দিকে
হতাস হয়ে তাকিয়ে দেখলেন স্যার,
তরকারির জন্য ভাত খেতে পারছে না।


অথচ আমাদের এই সমাজে
কত মানুষ আছে যাদের খাবারের
মেনুতে কত আইটেম থাকে।


যা তারা খেয়ে শেষ করতে পারে না।
উচ্ছিষ্ট অংশ চলে যায় ডাস্টবিনে।


এমন অনেক বাবা মা আছেন
যারা ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়াম
স্কুলে পড়ান, গাড়ি করে নিয়ে যান।

ছেলের কত আবদার!
সব পূরণ করতে ব্যস্ত।
অথচ রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষ গুলোর
দিকে ফিরেও থাকান না।


থাকাবেন কেন??

তাকালেই তো ঘাড়ে এসে পড়বে।
আমরা তো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।

হাজার টাকার বডি স্প্রে গায়ে দিয়ে
ঘুরে বেড়াই।

কোনো অনুষ্ঠান আসলে ব্যস্ত হয়ে পড়ি
শপিং নামক টাকা উড়ানোর খেলায়।

কেউ পাখি,কেউ কিরণমালা,
কেউ শীলা কি জাওয়ানি নামক
অদ্ভুত সব পোশাক কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু বুঝতে চাই না,
এই বাইরের পোশাক গুলোতে
আমাকে কি মানাচ্ছে?

অথচ একটা গরীব লোক এসে বলছে
দুইটা টাকা দেন। তখন বলি
ভাংতি নাই মাফ কর।

গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে চাইনিজ এ
অনেক-ই যায়।

কত টাকা খরচ হয় হিসাব রাখে না
অথচ গরীব রিক্সাচালক যখন বলে
পাঁচটা টাকা বাড়াইয়া দেন।

তখন তার গায়ে হাত তুলতে
একটুই দ্বিধাবোধ করে না।

ঐ গরীব লোক গুলোর অপরাধ কি?
অপরাধ একটাই যে
তারা গরীবের ঘরে জন্মএছে।


আর আপনাকে সোনার চামচ
মুখে দিয়ে কোন ধনী বাবার ঘরে।

তাদের জায়গাতে আপনাকে আমাকে
পাঠাতে পারতো,

আল্লাহ সবার পরীক্ষা নেন....
আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত করুক
.............ছুম্মা আমিন.......
- উপরের দুইটা লেখায় Abdul Baten নামক একটি পেজ থেকে নেওয়া
শিশুদের উপর যৌন হয়রানি রোধে আমাদের দায়িত্ব | শিশু নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা বন্ধে অভিভাবকদের করনীয় শিশুদের উপর যৌন হয়রানি রোধে আমাদের দায়িত্ব | শিশু নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা বন্ধে অভিভাবকদের করনীয় Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 15, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.