ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন | জঙ্গিদের হাতে বন্দীরা কেনো ইসলাম গ্রহন করে ফেলে? বিদ্বেষ এর পরিবর্তে কেনো নিজেরাই মুসলিম হয়ে যায়?

মুসলিম জঙ্গিদের হাতে বন্দীরা কেনো ইসলাম গ্রহন করে? আমেরিকায় বন্দীদের কেনো নির্যাতন করা হয়?  



১৮ মাস আগে Italian aid worker সিলভিয়া কে কিডন্যাপ করে পশ্চিমাদের চোখে অসভ্য বর্বর মানবতার শত্রু একদল জঙ্গিরা ।

মুক্তি পাবার পর সবাই যখন ভেবেছিলো এইবার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কনডেম করার সুযোগ পাওয়া গেলো ।

কিন্তু মুক্তি পাবার পর তাদের আশা নিরাশায় পরিনত হলো । তারা ভেবেছিল , হয়ত জঙ্গিরা তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালাবে । 

কিন্তু দেখা গেলো উলটো সিলভিয়া ইসলাম গ্রহন করেছে ।

যখন তাকে মানবতার শত্রু জঙ্গিদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলো , তার উত্তর ছিল,

"I converted to Islam. But it was my free choice, there was no compulsion on the part of the kidnappers who always treated me with humanity," she said.



"It happened in mid-captivity, when I asked to be able to read the Koran and I was satisfied."

"It is not true, however, that I was forced to marry, I had no physical constraints or violence. "

অন্যদিকে চুড়ান্ত মানবিক পশ্চিমাদের সিলভিয়ার প্রতি মন্তব্য হচ্ছে ,

"The state spent money on bringing Islam to Italy."

আফসোস আমাদের মুসলিমদের অনেকেই আজ এইসব মানবিক পশ্চিমাদের কাছে মানবতার শিক্ষা নেয় ।

যারা কোন প্রমান ছাড়াই আফিয়াকে ৮৫ বছরের কারাবাস দেয় , গনধর্ষন করে , ছোট্ট শিশুকে হত্যা করে !
- সাজ্জাদুর রহমান শাওন


  1. সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা
  2. ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন
  3. জঙ্গি কাকে বলে


আলহামদুলিল্লাহ । কিছু সংবাদ আনন্দ দেয়, উদ্দীপ্ত করে । এর সাথে আল্লাহদ্রোহীদের অন্তঃপীড়া, বিশ্বাসী হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে যায় । 

এমনই একটি ঘটনা হলো ইতালীয় নারী সিলভিয়া রোমানোর ইসলাম গ্রহণ । তাঁর ইসলাম গ্রহণ অন্য দশটা ইসলাম গ্রহণের ঘটনা থেকে কিছুটা ভিন্ন, খুবই তাৎপর্যময় ।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার (গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আছে!) হয়ে আফ্রিকায় কাজ করতে যাওয়া রোমানো ১৮ মাস আগে সোমালিয়ার ইসলামী ইমারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে আটক হন।

(অনেকেই খোরাসানের ইসলামী ইমারতের কথা জানলেও সোমালিয়া, ইয়েমেন, মালি প্রভৃতি অঞ্চলের শক্তিশালী ইসলামে ইমারতের কথা জানেনই না, সে বিস্তৃত ভূখণ্ডে কোরআন অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালিত হয়)


এরপর শুরু হয় মিসেস রোমানোর বদলে যাওয়ার পালা । নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রের কারাগারেই পরিচিত হন মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সাথে ।

 খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান মুজাহিদদের অনুপম আখলাক ও মানবিক আচরণ । যা তাঁকে ইসলাম গ্রহণে আকৃষ্ট করে । 

তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন । গত ১০মে তিনি ইতালিতে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যান । 

বিমান থেকে যখন নামলেন তাঁকে হিজাব পরিহিত দেখে সবাই অবাক । একি তাঁর মাথায় হিজাব কেন ? 

সারা দেহ কেন আবৃত ?
তারা রোমানোকে নির্যাতন বা কোন ক্ষতি করেনি তো?

সিলভিয়া রোমানো নিজেই গনমাধ্যমে জানালেন সে কথা,

"আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছি। এটি আমার নিজের পছন্দ, অপহরণকারীরা আমার সাথে সর্বদা মানবিক আচরণ করেছিলো 


এবং তাদের পক্ষে থেকে ইসলাম গ্রহণে কোনও বাধ্যবাধকতাও ছিলো না । যখন আমি কোরআন পড়তে সক্ষম হলাম এবং তখন আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছি।

 তবে এটি সত্য নয় যে আমাকে তারা বিয়ে করতে চাপ প্রয়োগ করেছে এবং আমার প্রতি কোন শারীরিক বাধা বা নিযার্তনও ছিল না।"[১]

যা শুনে পৃথিবীর কল্যাণকামী সুস্থ চিন্তার মানুষেরা উৎফুল্ল হলেও বক্র স্বভাবের মানুষেরা যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছে। 

ইতালির এক উগ্র ডানপন্থী তো বলেই ফেলেছে , আমরা টাকা দিয়ে ইসলাম কিনে আনলাম! [২]

জাতীয় টেলিভিশনেও রোমানোকে ঘিরে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে ‌। (হা হা এতো চেষ্টা করেও ইসলাম ঠেকাতে পারছে না, বেচারা !)


একদিকে এই সন্ত্রাসী ক্রুসেডার রাষ্ট্রগুলো মুসলিমদের অন্যায়ভাবে বন্দী করে, অবর্ণনীয় নির্যাতন চালায়, বন্দীদের উলঙ্গ করে পিরামিড তৈরি করে, সম্ভ্রমহানি করা হয় ধর্মীয় আবহে বেড়ে উঠা পর্দাশীল মা বোনদের, অনেকে তো নির্যাতনেই মারা যান ।[৩]

অপরদিকে মুসলিমদের কারাগারে বন্দিরা জীবনের অর্থ বুঝতে শিখে, স্রষ্টার সন্ধান খুঁজে পান, জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে সুপথে ফিরে আসেন। এটাই ইসলামে সৌন্দর্য‌। 

এ রকম ঘটনা আজ নতুন নয় , ইতিহাসে এর ভুরি ভুরি নজির আছে। 

এইতো চলতি শতকেই খোরাসানের ইসলামী ইমারতের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ব্রিটিশ নাগরিক ইভান রেডলি ইসলাম গ্রহণ করেন, 

যা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো।[৪] 

অস্ট্রেলিয়ান প্রফেসর টিমোথি জে উইক্সও ইসলাম গ্রহণ করেন ইমারতের কারাগার থেকে মুক্তির পর এবং তিনি গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি কাতার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক তালেবান-আমেরিকার শান্তিচুক্তি অনুষ্ঠানে তালেবান আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।[৫]


এখনো যারা ক্রুসেডার মিডিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে মুসলিমদের সন্ত্রাসী বলো , জঙ্গি বলো, চরমপন্থী বলো, তোমাদের জন্য এখানে বিশেষ বার্তা রয়েছে। 

আশাকরি রোমানোর ইসলাম গ্রহণ শত কোটি মানুষকে সত্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে। আর একদিন ঠিকই প্রমাণিত হবে কারা সন্ত্রাসী আর কারা ন্যায়ের পতাকাবাহী । 

পৃথিবীর বুকে একটি ধর্মই অবশিষ্ট রবে । আর তা হলো সত্য ও ন্যায়ের দ্বীন, ইসলাম ।

- Monir Ahmed Monir

ইতালির লিবারেল ও ফার-রাইট উইং ফ্রন্টের লোকজনের কথা ভাবতেই খারাপ লাগছে। কি এক বিব্রতকর এবং হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়লো বেচারারা।

তাদের নাগরিক রে ধইরা নিয়া গেলো "ইসলামী টেরোরিস্টরা"। বহু কষ্টে বহু চেষ্টা সাধনার পর প্রচুর অর্থ ব্যায় করে দীর্ঘ আঠারো মাস পর তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনলো ইতালি।


 এমন একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর যেখানে ইসলামোফোবিয়ার ঝড় বইয়ে যাওয়ার কথা সেখানে উল্টা স্রোত বইতে লাগলো।

সেই বন্দিনীর মুখ থেকে " মুসলিম সন্ত্রাসীদের" বিরুদ্ধে একটা শব্দও বের করা যায়নি। উল্টা সে নিজেই "সন্ত্রাসীদের ধর্ম" গ্রহন করে বসে আছে !

মানুষের ফ্রী চয়েজ,ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ফ্রী উইল,ব্যাক্তিবাদ,ইত্যাদী নিজেদের বহুল চর্চিত এইসব গালফোলানো বাগাড়ম্বরের গায়ে গুল্লি মেরে এখন তারা বলছে, 


আমরা এতগুলো টাকা দিয়ে কেন এদেশে ইসলাম কিনে আনলাম! হা হা লিবারেলিজমের সর্বোচ্চ দৌড় এইপর্যন্তই। 

এখন আর তাকে সহ্য করা যাচ্ছেনা মোটেও। চারদিক থেকে ঘৃণার বার্তা আসছে,কারণ সে তাদের কথা মানছেনা।

পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কেবল সুরা আন'আমের ওই আয়াতটার কথাই মনে পড়ছে---
فَمَنۡ یُّرِدِ اللّٰہُ اَنۡ یَّہۡدِیَہٗ یَشۡرَحۡ صَدۡرَہٗ لِلۡاِسۡلَامِ ۚ وَ مَنۡ یُّرِدۡ اَنۡ یُّضِلَّہٗ یَجۡعَلۡ صَدۡرَہٗ ضَیِّقًا حَرَجًا کَاَنَّمَا یَصَّعَّدُ فِی السَّمَآءِ ؕ کَذٰلِکَ یَجۡعَلُ اللّٰہُ الرِّجۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۲۵﴾

সুতরাং যাকে আল্লাহ হিদায়াত করতে চান, ইসলামের জন্য তার বুক উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে ভ্রষ্ট করতে চান, তার বুক সঙ্কীর্ণ-সঙ্কুচিত করে দেন, যেন সে আসমানে আরোহণ করছে। এমনিভাবে আল্লাহ অকল্যাণ দেন তাদের উপর, যারা ঈমান আনে না। (আন'আম --১২৫)
- Hujaifa Mahmud
Powered by Blogger.