মুসলিম জনসংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্র | ইহুদি রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের পরিবার পরিকল্পনা | একটি পর্যালোচনা

মুসলিম জনসংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্র | ইহুদি রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের পরিবার পরিকল্পনা | একটি পর্যালোচনা 


আজ সমগ্র পৃথিবী জুড়ে ''পরিবার পরিকল্পনা'' নামে এক ট্রেন্ডের বাস্তবায়ন চলছে, যার শুরু হয়েছিল ৬০ এর দশকে Over Population Hysteria-র মাধ্যমে। অতঃপর ১৯৭৪ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ''পরিবার পরিকল্পনা''কে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেবার পলিসি তৈরি করে এই পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রুপ দান করেন, যেই পলিসিতে বাংলাদেশ বেশ বড় একটা অংশ দখল করে আছে। কিন্তু সুদূর অ্যামেরিকার ইহুদি রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের সাথে বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক জানার আগে চলুন হেনরি কিসিঞ্জার সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই।

হেনরি কিসিঞ্জার, নিকট ইতিহাসে অ্যামেরিকা ও ওয়ার্ল্ড-এর জিওপলিটিকাল সেক্টরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা ব্যাক্তিদের একজন হলেন এই কিসিঞ্জার। জার্মানিতে জন্ম, হলোকাস্টের সময় সেখান থেকে পালিয়ে অ্যামেরিকায় চলে আসেন। ১৯৬৯ সালে অ্যামেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর ও ১৯৭৩ সালে ইউএস স্টেট সেক্রেটারি বনে যাওয়া হেনরি কিসিঞ্জার একই বছর ভিয়েতনামে যুদ্ধবিরতিতে অবদান রাখার জন্য ''Nobel Peace Prize'' এর জন্য ঘোষিত হন। শিক্ষাজীবনের মধ্যখানে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে যোগ দেয়া হেনরি কিসিঞ্জার পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। ১৯৫৫-৫৬ এই দুই বছর তিনি ''কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশন''-এর নিউক্লিয়ার ওয়েপন এন্ড ফরেইন পলিসির স্টাডি ডিরেক্টর ছিলেন। হার্ভার্ড ডিফেন্স স্টাডি-র সাথে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সম্পৃক্ত থাকা কিসিঞ্জার একাডেমীক কাজের বাইরেও বিভিন্ন সরকারি এজেন্সি ও ''থিঙ্ক ট্যাঙ্ক'' এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, যার মধ্যে RAND Corporation অন্যতম। [1]
National Security Advisor হবার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন তাকে নিজের মত করে কাজ করার স্বাধিনতা প্রদান করেন। কিসিঞ্জারকে এতটাই স্বাধীনতা দেয়া হয় যে, তিনি স্টেট সেক্রেটারি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ডিসিশন মেকিং প্রসেস থেকেই আলাদা করে ফেলেন। চীনের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ইসরায়েল পলিসি, ল্যাটিন অ্যামেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ-সকল ক্ষেত্রেই ছিল তার সদর্প পদচারণ। ১৯৭৬ সালে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি উক্ত কাজে বহাল ছিলেন এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে তুমুল প্রভাব রাখেন। এর পর শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার পরামর্শ সর্বদাই গভীর গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধেও প্রেসিডেন্ট বুশ তার কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতেন। সর্বশেষ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তার বিশ্লেষণ হল,' It Threatens the '' Liberal World Order", U.S. must protect its citizens from disease while starting the urgent work of planning for a new ''epoch"। [2]
.
তার সম্পর্কে এত কিছু বলার উদ্দেশ্য হল, তার তৈরিকৃত "National Security Sudy Memorandum 200: Implications of Worldwide Population Growth for U.S. Secutrity and Overseas Interests( NSSM200)" এর উপর আলোকপাত করা। হেনরি কিসিঞ্জারের নির্দেশনায় Dec 10, 1974 এ United States National Security Coucil এর আন্ডারে এটি প্রস্তুত করা হয়। November, 1975 এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড এটিকে অফিশিয়াল পলিসি হিসেবে গ্রহণ করেন। [3]
NSSM200 রিপোর্টটি ১৪ বছর পর্যন্ত ক্লাসিফাইড (গোপন) থাকে, তারপর রিসার্চারদের জন্য তা Declassified করে দেয়া হয়।
NSSM200 এর দর্শন:-
NSSM200 এর রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, "Least Developed Countries" (LDC) সমূহে জনসংখ্যা বৃদ্ধি মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য হুমকিস্বরূপ, কেননা তা অ্যামেরিকার জন্য সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে Civil Unrest অর্থাৎ সাধারণ জনগণের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। এই পলিসি তেরোটি জনবহুল দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে "সর্বোচ্চ গুরুত্ব" প্রদান করে, কারণ তা সেইসব দেশের "সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক" উন্নয়ন এবং অ্যামেরিকার জাতীয় স্বার্থে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, কেননা "ভবিষ্যতে মার্কিন অর্থনীতিকে খনিজ সম্পদের বিপুল পরিমাণ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা বহির্বিশ্ব থেকেই পূরণ করতে হবে" এবং এই দেশগুলোতে অস্থিতিশীল প্রতিপক্ষ শক্তি অ্যামেরিকান স্বার্থের বিরুদ্ধাচরণ করতে পারে।
তাই, এই রিপোর্ট আমেরিকান নেতৃত্বের কাছে ওইসব দেশের "জাতীয় নেতাদের প্রভাবান্বিত করা" এবং " গণমাধ্যমের প্রভাবের উপর গুরুত্বারোপ করা এবং UN (United Nations), USIA (United States Information Agency), USAID (United States Agency for International Development)
এর মাধ্যমে পাবলিক এডুকেশন ও অন্যান্য প্রোগ্রাম"কে বিশ্বব্যাপী সমর্থন প্রদান করা।"
রিপোর্টে ১৩টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে:- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, মিশর, ইথিওপিয়া, মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং ব্রাজিল।
Key insights:-
┇a┇ রিপোর্টটির মেইন পয়েন্টস বলতে গেলে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে তা হল আমেরিকান অর্থনীতি। পুরো পলিসিটি এর উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। এতে বলা হয়েছে,'' খনিজ সাপ্লাইয়ের প্রধান সমস্যা এর সহজলভ্যতা নয়, বরং Host Country-র সরকারের পলিসি, স্থিতিশীলতা; সীমিত শিশু জন্মহার সেই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
┇b┇ '' যখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি শূন্যের কোটায় থাকে, তখন অন্যান্য সামাজিক অস্থিরতা- যা সরকার-শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণ হয় তার সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসে।''
┇c┇ '' অনুন্নত দেশসমূহের তরুণরা উগ্র, তেজদীপ্ত, সহজেই চরমপন্থায় ঝুঁকে পড়ে, এদের দ্বারা সরকারি সম্পত্তি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি অথবা অন্যান্য স্থাপনা আক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তারা সাধারণত বৈদেশিক প্রভাবকে তাদের রাষ্ট্রীয় সমস্যার জন্য দায়ী মনে করে।''
┇d┇ '' আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যে, আমাদের কর্মসূচী যেন অনুন্নত দেশের বিপক্ষে শিল্পোন্নত দেশের পলিসি হিসেবে প্রতীয়মান না হয়। '' তৃতীয় বিশ্বের'' নেতাদের সামনের কাতারে দাড় করিয়ে দিতে হবে এবং আমাদের কর্মসূচীর ক্রেডিট তাদেরকেই দিতে হবে। এ অবস্থায় এইসব নেতাদের বুঝাতে হবে যে, এই পলিসি কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে।''
┇e┇ '' কোন রাষ্ট্রই গর্ভপাত ব্যতীত তার জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়নি। তাই-
1.গর্ভপাতের সরঞ্জামাদি LDC-সমূহে পৌঁছে দিতে হবে।
2. LDC-সমূহে গর্ভপাতকে ''সরাসরি'' সাপোর্ট দিতে হবে।( প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, ঐ সময় খোদ মার্কিন মুলুকে গর্ভপাত অবৈধ ছিল!)।
┇f┇ মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়িয়ে দিতে হবে, তাদেরকে একাডেমীক শিক্ষায় শিক্ষিত করে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসতে হবে। এতে করে তারা শিশু জন্মদান ও বাচ্চা লালন পালনের বিকল্প খুঁজে পাবে এবং সন্তান জন্মদানে অনুৎসাহী হবে। [ বিস্তারিতঃ NSSM200: পৃষ্ঠা নং- 53,54,93,94,99 ]
┇g┇ Mass মিডিয়ার মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে।
┇h┇ Non-Governmental Organization বা এনজিও-সমূহকে অর্থনৈতিক সহায়তার দ্বারা ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। [ example- BRAC ]
১২৩ পৃষ্ঠার রিপোর্টে আরও অনেক পয়েন্ট আলোচিত হয়েছে, তবে এগুলো দিয়েই আপাতত কাজ চালান যাক। এখন চলুন দেখি, এই পলিসি অনুযায়ী আমাদের পারিবারিক জীবনে কি কি পরিবর্তন এসেছে।
শৈশবের শুরুর দিকে একবার বিপুল কৌতূহলে মাকে প্রশ্ন করেছিলাম
-' আচ্ছা আম্মু, তোমরা কয় ভাই কয় বোন?'
-' আমি সহ সাত বোন, সাথে ছয় ভাইও আছে!'
ঘটনা বেশিদিন আগের কথা নয়, মাত্র ৩০-৪০ বছর আগের কথাই বলা হচ্ছে। তখনকার মায়েরা অধিক সন্তান জন্মদানকারিনী ছিল, মাশাআল্লাহ আমি নিজেই ছয়জন করে মামা খালা পেয়েছি। এই চিরন্তন ঐতিহ্য হঠাৎ করে কিভাবে যেন বদলে গেল; গত ৫-১০ বছরে যারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাদের মাঝে হয়ত শতকরা ১০টা পরিবারও পাওয়া যাবে না- যাদের ২ টির বেশি সন্তান রয়েছে। পরিবর্তনটা হয়েছে খুবই দ্রুত, তবুও বিষয়টা আমাদের মনে কোন প্রশ্নের উদ্রেক করেনা। কারণ মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থায় ফ্যামিলি প্ল্যানিং-এর নিরবিচ্ছিন্ন প্রচারণায় আমরা এটাকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গ্রহণ করে নিয়েছি।
এ দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর সূচনা হয় ১৯৫৩ সালে, ১৯৫৩-১৯৫৯ সালকে বলা হয় এ সেক্টরের ফেজ-১। তখন এর কার্যক্রম শহর এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, এবং ব্যাপারটা শুধু ভলান্টিয়ারদের দ্বারাই পরিচালিত হত, এক্ষেত্রে হসপিটাল আর ক্লিনিকগুলো এই সেক্টরের সূতিকাগার বলা যায়। তখন থেকে এই কর্মসূচি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হলেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন," এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রত্যেক বছর আমাদের ৩০ লক্ষ লোক বাড়ে। আমাদের জায়গা হল ৫৫ হাজার বর্গমাইল। যদি আমাদের প্রতি বছর ৩০ লক্ষ লোক বাড়ে তাহলে ২৫/৩০ বছরে বাংলার কোন জমি থাকবে না হালচাষ করার জন্য...। সে জন্য আমাদের পপুলেশন কন্ট্রোল, ফ্যামিলি প্ল্যানিং করতে হবে।'' [4]
১৯৭৬ সালে সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে ডিক্লেয়ার করে এবং সেই সাথে কয়েক স্টেজে বিভক্ত ওয়াইড-রেঞ্জের ফ্যামিলি প্ল্যানিং প্রোগ্রাম হাতে নেয়। [5]
সেই থেকে আজ পর্যন্ত- ফ্যামিলি প্ল্যানিং বাংলাদেশ সরকার ও এনজিওগুলোর রুট লেভেল সার্ভিস ও প্রোগ্রামগুলোর বিশাল পার্ট জুড়ে ছড়িয়ে আছে। তাদের গৃহীত প্রধান কয়েকটি পদক্ষেপগুলোর দিকে চোখ বুলানো যাক-
1. দ্রুত বিবাহ কমিয়ে আনা এবং বিয়ের বয়স বৃদ্ধি, এই দুটি পদক্ষেপ নারীর সন্তান জন্মদান ও লালন পালনের আগ্রহ কমিয়ে ফেলে। উল্লেখ্য যে, নারীদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সো আপনি যদি ভেবে থাকেন, প্রসবকালীন মৃত্যু কমানোর জন্য তারা মেয়েদের বিয়ের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর করেছে, তাহলে আপনার জন্য করুণ সমবেদনা। [6]
2. পুরুষদের উপর নারীদের নির্ভরতা ও নারীদের স্বভাবজাত লজ্জা কমিয়ে আনা। বেশিরভাগ মেয়েই এসব বিষয়ে কথা বলতে লজ্জা পায়। তাই স্বামীর উপর তাদের নির্ভরতা কমানো এবং door to door ফ্যামিলি প্ল্যানিং একুইপমেন্ট পৌঁছে দেয়া।
3. সকল দম্পতির কাছে পিল, কনডম সরাসরি পৌঁছে দেয়া এবং ফ্যামিলি প্ল্যানিং নিয়ে সতর্ক করা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার মাঠপর্যায়ে নারীকর্মী নিয়োগ দিয়ে পরিবার পরিকল্পনার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। [7]
4. বাছাইকৃত দম্পতিদের IUD, Sterilization বা নির্বীজন ও অন্যান্য স্থায়ী জন্ম নিরোধকরণ পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা।
5. মিডিয়ার সুকৌশল ব্যবহার, নারীশিক্ষার সম্প্রসারণ।
6. শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। আপাতদৃষ্টিতে লক্ষ্যটা খুবই সুন্দর মনে হলেও তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে, নারীরা যেন অধিক সন্তান গ্রহণে আর আগ্রহী না হয়। এ বিষয়ে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা নাইট কমান্ডার ফজলে হাসান আবেদের সাক্ষাৎকার দেখতে পারেন। [8]
7. গর্ভপাতের সুযোগ সুবিধা ও সহজলভ্যতা বৃদ্ধিকরণ।
নিরবিচ্ছিন্ন জন্ম নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী পরিচালনার ফলাফল:
1950-2020, এই সময়ের মধ্যে একজন নারীর সন্তান জন্মদানের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯৬৮ সালেঃ ৬.৯২১। এর পর থেকে তা গ্র্যাজুয়ালি কমতে শুরু করে। ১৯৯৫ সালে নারী প্রতি সন্তান জন্মহার কমে ৩.৮০৯-তে নেমে আসে। ২০২০ সালে এসে ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে অধঃপতিত হয়েছেঃ বর্তমানে গড়ে প্রতিটি নারী ২.০০৩ টি শিশু জন্মদান করছে। [9]
2014 সালে Daily Star এ প্রকাশিত একটি জরিপে উঠে এসেছে, বেশির ভাগ মেয়েরই ২ বার ততোধিক সন্তান রয়েছে। সেই সাথে তারা এই খুশির সংবাদও প্রকাশ করেছে যে, বর্তমানে ম্যাক্সিমাম নারীই [বিবাহিত, অবিবাহিত] এক বা সর্বোচ্চ দুইটি সন্তান চায়।
মিশনারি ইন্সটিটিউট মেরি স্টোপসের গর্ভপাত সম্পর্কে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১২ লক্ষ মহিলা গর্ভপাত করেছেন! [10]
এই ভ্রূণ হত্যার হিসেবটা শুধুমাত্র এক বছরের, সার্বিকভাবে গর্ভপাতের পরিমাণটা যে কতটা ভয়াবহ, সেটা আমাদের ধারনারও বাইরে। এইসব মিশনারী প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি তো আরও ভয়াবহ, সেটা নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটা পোস্ট হয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়নে আমেরিকার যোগ্য সহকারী ছিল UNFPA এর মত প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ কতটা ভয়াবহ, তার একটা উদাহরণ দেই। জাতিসংঘের এ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি শুধু চীনেই ফ্যামিলি প্ল্যানিং এ $100 millions ব্যয় করেছে। [11]
চীনের শাসকেরা যেভাবেই হোক, এ ব্যপারে কনভিন্সড হয় যে, অতিরিক্ত জনসংখ্যা তাদের জন্য ক্ষতিকারক। তাই, "one-child policy" এর আওতাধীন তারা 400 millions শিশুর গর্ভপাত ও জন্ম প্রতিরোধ করিয়েছে। 40 কোটি শিশু, যা আমেরিকার বর্তমান জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। [12]
অর্থাৎ, সামগ্রিক ভাবেই বিষয়টি আজ আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আজ আমরা যেসব বিষয়ে সবেমাত্র জানতে পারছি, সেসব বিষয়ে বর্গীরা ৫০ বছর আগেই রাষ্ট্র কতৃক পলিসি ক্রিয়েট করে তা ইমপ্লেমেন্টেশন করছে। বিশেষত, কাফিরদের সহযোগী সরকারপ্রধানদের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের কাজ আরও বেগবান হয়েছে, আর মুসলিম উম্মাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দিশেহারা হয়ে উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় দিনপাত করছে। এই একটা বিষয়ের চিত্রই প্রমাণ করে দিয়েছে, মুসলিম উম্মাহ আজ কতটা পথহারা, কয়েক শতাব্দি ধরে আমরা মরীচিকার মায়ায় পথভ্রষ্ট হয়ে ঘন কুয়াশায় ঘুরপাক খেয়ে চলেছি।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
"বল, ‘এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ করেছেন তা পড়ে শোনাই, তা এই যে, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, দরিদ্রতার ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তোমাদেরকে আর তাদেরকে জীবিকা দিয়ে থাকি, প্রকাশ্য বা গোপন কোন অশ্লীলতার কাছেও যেয়ো না, আল্লাহ যে প্রাণ হরণ করা হারাম করেছেন তা ন্যায় সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করো না। এ সম্পর্কে তিনি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা চিন্তাভাবনা করে কাজ করো।"
[ Al-An'am: 151 ]
রাসুল ﷺ বলেছেন,' তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবা নারীকে বিয়ে কর, কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করবো। [সুনানে আবু দাউদ, ২০৫০; হাদিসের মান-সহিহ]
.
কিন্তু আজ না আমরা এসব নিয়ে চিন্তা করি, না কেউ আমাদের সতর্ক করতে চাইলে সতর্ক হই। ভিনদেশী কাফিরদের তৈরি পলিসি আজ আমাদের কাছে ওহীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তবে, যে কথাটি না বললেই নয়, তা হচ্ছে- আমরা আজ কাফিরদের আমাদের রব হিসেবে গ্রহণ করেও নিজেদের পাক্কা মুখলিস ভাবছি, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান "ঈমান"কে কেড়ে নিয়েও তারা সন্তুষ্ট নয়, তারা চায় চূড়ান্ত সফলতা, প্রকাশ্য কুফরী। আর আমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহ কাফির ও তাদের সহযোগীদের কস্মিনকালেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।
- Sajid Hasan
মুসলিম জনসংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্র | ইহুদি রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের পরিবার পরিকল্পনা | একটি পর্যালোচনা মুসলিম জনসংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্র | ইহুদি রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের পরিবার পরিকল্পনা | একটি পর্যালোচনা Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 19, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.