মা বাবার বদদোয়া বা অভিশাপ | তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্তুতির বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না - হাদিস

মা বাবার বদদোয়া বা অভিশাপ | তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্তুতির বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না -  হাদিস এর কথা বাংলা 



➤শুরুতে কোরআনের জ্যোতি থেকে এই ব্যাপারে কোরান হাদিস থেকে জানুন ও বুঝুন। কেননা মূল পোস্ট পড়ে অনেকে ভুল বুঝতে পারেন এই ভেবে যে " ওহ তাইলে বদদোয়া দেয়া যাবে"

আমাদের নবীজী ﷺ তো বলেছেন, আপন সন্তান তো দূরের কথা; এমন কি জীবজন্তু ও জড়পদার্থকেও বদদোয়া দেয়া যাবে না। তিনি বলেন,
ﻻَ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻧْﻔُﺴِﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻭْﻻَﺩِﻛُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﺪْﻋُﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟِﻜُﻢْ ﻻَ ﺗُﻮَﺍﻓِﻘُﻮﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺳَﺎﻋَﺔً ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻋَﻄَﺎﺀٌ ﻓَﻴَﺴْﺘَﺠِﻴﺐُ ﻟَﻜُﻢْ

”তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্তুতির এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না। কেননা, তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন মুহূর্তের জ্ঞানপ্রাপ্ত নও, যখন যা কিছুই চাওয়া হয় তিনি তোমাদের তা দিয়ে দেবেন।’’ 
(মুসলিম ৭৭০৫)

হাদীসটির ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, 
অর্থাৎ তোমরা কোনো মুহূর্তেই নিজের বিরুদ্ধে, নিজের সন্তান বা সম্পদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না। 

কারণ, হতে পারে যে সময় তুমি দোয়া করছো, তা দিনের মধ্যে ওই সময় যখন যা-ই দোয়া করা হোক না কেন তা কবুল করা হয়। 

তোমরা তো এ সময় সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞানপ্রাপ্ত নও। (মিরআতুল মাফাতীহ ৭/৭০৩)

Nazrul Islam ভাই এর পোস্ট । মা বাবার বদদোয়া বা অভিশাপ


শুনলাম, এক গ্রাম্য মা চিৎকার করে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, "এই দিনদুপুরে তোর বুকে ঠাডা পড়ুক। তোকে বললাম, মাঠ থেকে বাছুরটা নিয়ে আয়, তা না করে তুই খেলায় লাগলি। তুই আমার কোনো কথাই শুনছ না। তুই মরছ না কেন? তোর মউত নাই?" আরও অনেক কিসিমের বদদোয়া। সব মনে নেই। গ্রামের মায়েরা রেগে গেলেই সন্তানদেরকে এভাবেই বদদোয়া দিতে থাকেন।

এক বাবা একদিন তার ১০ বছর বয়সী ছেলেকে লক্ষ্য করে বলল, "তোকে না বললাম, সেখানে না যেতে! গেলি কেন? এবার ঐখানে পইড়াই মর।" বাবারাও বদদোয়া দিতে অভ্যস্ত।

এক স্বামী তার স্ত্রীর ওপর রাগ করে বলতে থাকল, "তোকে আর ডাক্তার দেখাব না। তুই মরলেই আমি বাঁচি। মরছ না কেন? মর!" এমন স্বামীদের সংখ্যা কম নয়।

এক গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলাম। যে রাস্তা ধরে হাঁটছিলাম সেই রাস্তা ঘেঁষেই ঘর। সেখান থেকে ভেসে আসল চরম রাগান্বিতা এক মহিলার কন্ঠ। স্বামীর প্রতি বিতৃষ্ণা জ্ঞাপন করে বলতে লাগলেন, " যদি শুনতাম, এই বাদাইম্মা গাড়ির নিচে পইড়া মইরা গেছে।"

এক মধ্যবয়সী লোক উঠানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে বলতে লাগলেন, "আল্লাহ! তুমি আমার মউত দাও। এই সংসারে আর বাঁচতে চাই না।"

মানুষ যখন কারোর প্রতি অসন্তুষ্ট হয় তখন সর্বাগ্রে বদদোয়া করে। এটা তাদের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান অস্ত্র। অনেকেই নিজের সম্পদেরও ধ্বংস কামনা করে। রেগে গেলেই মানুষ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে যায়। মুখে যা আসে তা-ই বলে বেড়ায়।

এই শ্রেণি মানুষদের ব্যাপারে আল্লাহ ﷻ বলেন,
"মানুষ যেভাবে কল্যাণ কামনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ কামনা করে। মানুষ তো খুবই দ্রুততা প্রিয়।" (সূরাঃ বনী ইসরাঈল, আয়াতঃ ১১)

মানুষেরা রাগের মাথায় নিজেদের পরিবার পরিজনের প্রতি যে বদদোয়া করে আল্লাহ ﷻ কি তা কবুল করেন? না, করেন না। প্রায় সব মুফাসসিরগণের মত এটিই।আল্লাহ যদি তাদের সবকটি বদদোয়া কবুল করে নিতেন, অভিশাপগুলো গ্রহণ করে নিতেন তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যেত।  

(আল্লাহ্‌ সব বদ দোয়া কবুল করেন না, কিন্তু কোন বদদোয়ায় তিনি কবুল করেন না এমন ও না, যা আমরা হাদিস থেকে জানতে পারি- banglafeeds admin)

সন্তানের বুকে ঠাডা পড়ত। স্ত্রী মরে যেত। স্বামী গাড়ির চাকার নিচে পড়ে পিষ্ট হত। ব্যক্তি নিজেও 'নাই' হয়ে যেত। অথচ তারা ফলাফলের জন্য খুব তাড়াহুড়া করেছিল। 

তারা চেয়েছিল, বদদোয়াগুলো তখনই কবুল হয়ে যাক। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দার প্রতি দয়া করলেন। 

আল্লাহ ﷻ ঠিকই বুঝেছেন, রাগের কারণে নিজেদের ব্যালেন্স হারিয়েই এরা নিজেদের ধ্বংস চাচ্ছে। রাগ চলে গেলে আফসোস করবে। এদের প্রতি দয়াপরবশই থাকি। তিনিই রাহমাতুল লিল আলামিন। আমাদের চূড়ান্ত ঠিকানা।

বিপরীতে আমরা যখন কোনো মসিবত বা দুঃখ দুর্দশায় নিপতিত হই তখন শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। আর আল্লাহ আমাদের সেই কল্যাণের দোয়াগুলো দ্রুতই কবুল করে নেন। আমাদের কষ্টগুলো লাঘব করে দেন। 

যেখানে আটকে গেছি সেখান থেকে নতুন পথ তৈরি করে দেন। এমন জায়গা থেকে রিজিক চলে আসে যা ভাবলে আশ্চর্যান্বিত না হয়ে পারি না। দীর্ঘদিনের অসুখ থেকে মুক্তি পেয়ে যাই।

"আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই।" (সূরাঃ ইউনুস, আয়াতঃ ১২)

আমরা দুর্দশার কঠিন বলয় থেকে বের হয়েই আবার আল্লাহর শাশ্বত হুকুম ছেড়ে তাগুতের অনুসরণ করতে শুরু করি। 

একটুও আগে যে সীমাহীন কষ্টের কাদামাটিতে গলাসমান গেড়ে স্থির দাঁড়িয়েছিলাম, সেখান থেকে আল্লাহ ﷻ মেহেরবানি করে টেনে তুলেছেন সেকথা একদমই ভুলে যাই। 

তখন আমার ভেতরে ইগো কাজ করে। আমাদের চলাফেরায় বোঝাই যায় না, এইতো কিছুক্ষণ আগে হাউমাউ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি।

"সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি।"
(সূরাঃ ইউনুস, আয়াতঃ ১২)

এতো সীমাহীন রহমত ভোগ করেও যখন অবাধ্য বান্দা হিসাবে কবরে যাব তখন কেমন মজা হবে? আর কীভাবেই বা সেই রাহমানের সামনে দাঁড়াব? কীভাবে? কোন মুখে?
মা বাবার বদদোয়া বা অভিশাপ | তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্তুতির বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না - হাদিস মা বাবার বদদোয়া বা অভিশাপ | তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্তুতির বিরুদ্ধে বদদোয়া করো না -  হাদিস Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 09, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.