আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি-কূটনীতি এবং ইসলাম বিরোধী চক্রান্ত |

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি-কূটনীতি এবং ইসলাম বিরোধী চক্রান্ত | বাংলা ইসলামিক আলোচনা 



আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি-কূটনীতি এবং ইসলাম বিরোধী চক্রান্ত- সকলের লেখার মত বিষয় না। এই বিষয়ে যথাযথ দক্ষতা ও পরিপক্বতা না থাকলে ভুল আউটকাম আসবে এবং মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যাবে। আন্তর্জাতিক বিষয় এনালাইসিস যে কেউ করলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

এক ভাই একটি পোস্ট সম্পর্কে আমার মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন, পোস্টটি পড়ে আমি অবাক হয়েছি। এমন কোনো লেখা নিয়ে রিফিউট করতে হবে ভাবিনি তবে এই বিষয় না লিখলে অনেকে আমাদের প্রধান শত্রুকে অত্যাধিক বোকা ও জাহিল মনে করে বসবে অথচ তারা অতি চতুর ও চালাক। রান্ড এবং ইরাক যুদ্ধ নিয়েও তিনি অদ্ভুত মন্তব্য করেছেন।

পোস্টদাতা বলেছেন, //২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সিদ্ধান্ত বুশ গর্ভনমেন্ট যখন নেয়, তখন তাদের প্ল্যান ছিল মোটামুটি এরকম: যে ইরাক তারা হামলা করে দখল করে নিবে। এরপর ইরাকে ডেমোক্রেসি হবে, ফ্রীডম হবে। ডেমোক্রেসি এবং ফ্রীডম পেয়ে ইরাকীরা ধন্য হবে। ইরাক হবে একটি মোটামুটি সুন্দর রাষ্ট্র যেখানে ডেমোক্রেসি এবং ফ্রীডম থাকবে। 

রাষ্ট্রটি খুব ধনী না হোক, কিন্তু মানুষ ডেমোক্রেসি এবং ফ্রীডমকে উপভোগ করবে এবং চারিদিকে ডেমোক্রেসি-ফ্রীডমের খুব সুনাম হবে, ধন্য ধন্য বর্ষিবে।//

আমি জানি না তিনি এমন উদ্দেশ্যের কথা কোথায় পেলেন। তাদের মেইন উদ্দেশ্য ছিল মাস ডিস্ট্রাকশন অয়েপন বানাতে না দেয়া, সাদ্দাম রেজিমকে ধ্বংস করা। এর পরবর্তী স্টেপ নিয়ে তারা চিন্তা করা জরুরি মনে করেনি। এটাই হল প্রকাশ্য উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য পূরণে আমেরিকা পুরো সফল হয়েছে। গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে পরে কথা হবে।

 হ্যাঁ, হতে পারে লিবারেল কিছু থিঙ্ক ট্যাংক পশ্চিমা সভ্যতার অনুসারীদের বুঝ দিতে গনতন্ত্রের কথা বলেছে আর সে হিসেবে ইরাক যুদ্ধকে ব্যর্থ বলেছে। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই বুঝা যাবে তাদের উদ্দেশ্য কোনো ভাবেই গণতন্ত্র ছিল না যদি তাই হত তাহলে কেন ইরাকের মত শক্তিশালী রাস্ট্রতে তারা তা প্রয়োগ করতে এল? কেন তাদের পেটে অবস্থিত রাষ্ট্র কিউবা বা তাদের টাকায় চলা তাদের গোলাম জর্ডান বা মিত্র কাতার, সৌদি ও আরব আমিরাতে এটা প্রয়োগ করল না? 

তারা কি আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের জন্য এসেছিল নাকি ইসলামিক ইমারাহ ধ্বংস করতে? মুসলিম রাষ্ট্র ব্যতীত আমেরিকা কি কোথাও হামলা করেছে?

যে কোনো যুদ্ধে শত্রুকে জানা এবং নিজেকে জানা হল খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা শত্রুর ক্ষমতা সম্পর্কে না জানি তাহলে তা হবে যুদ্ধের পূর্বেই পরাজয় বরণ করা।


 মেইন কমবেট ও সাকোলোজিকাল ওয়ারফেয়ারে কুফফারদের জোট এবং তাদের নেতা আমেরিকা কত শক্তিশালী তা প্রায় অনেকে আলোচনা করে থাকে। তারা আমাদের কত ভালো করে জানে তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়, তবে বলা যায় আমাদের সূক্ষ্মতি সূক্ষ্ম বিষয়ে তারা আমাদের অনেকের চাইতে অধিক অবগত।

পোস্টদাতা বলেছেন, // আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এবং তার এডমিনিস্ট্রেশন নিজেরাই জানেন না, শীয়া কে সুন্নী কে? কুর্দি কে? আরব কে? পারসিয়ান কে?//

এটা চরম শিশুসুলভ ও হাস্যকর কথা। আমেরিকা মুসলিমদের সম্পর্কে পোস্টদাতার চাইতে অধিক জানে। ফিলিস্তিন জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়ে ব্রিটিশরা উসমানিদের ফিলিস্তিন থেকে খেদিয়ে নিজেরা ঢুকে ছিল।

 আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নির দণ্ড চিরস্থায়ী করার জন্যই ইরানী বিপ্লবেকে দমায়নি, শিয়ার ভয় দেখিয়ে সৌদিতে মিলিটারি বেইস বানিয়েছে।

 শিয়া সুন্নির সংঘাত তৈরি করে পাকিস্তান অস্থিতিশীল করে রেখেছে। আফগানিস্তানে শিয়া ইরানের মাধ্যমে কোথায় কোথায় হামলা করবে সেই তথ্য নিয়েছে। তার আগে শিয়াপন্থি মাসুদকে সাপোর্ট করেছে। 

আমেরিকা আফগানিস্তানের প্রতিটা গোত্রকে নিজ জাতীয়তাবাদে উস্কে দিয়েছিল, উস্কে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব, আজম, পারশ্য, তুর্কী, কুর্দি ইত্যাদি জাতিয়তাবাদী সংঘাত। ২০১২ সালের একটি ম্যাপ বাস্তবায়ন ছিল তাদের পরিকল্পনা। কিন্তু আল্লাহ তা বাস্তবায়ন হতে দেননি। 

৯/১১ এর অনেক আগে থেকে আমেরিকার সাথে কায়েদার সংঘাত চলছিল, আফ্রিকা ও আরবে বহু নমুনা আছে, এর আগেই রিয়ালিজম থিংকার সামুয়েল ইসলামি ও পশ্চিমা সভ্যতার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

 বুশের মুখে ক্রুসেডের কথা আমরা ভুলিনি, ভুলিনি ইরাক হামলার পূর্বে গডের সাথে তার বার্তালাপের কথা। দিনের আলোর মত উজ্জ্বল এই সব উদাহরণ না দেখে পশ্চিমা ও আমেরিকান সভ্যতার কাল্পনিক মোহে ভেসে পোস্টদাতা মুসলিমদের প্রধান শত্রুকে চরম নির্বোধ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।

 তিনি মুসলিমদের সম্পর্কে আমেরিকার জনগণের ধারণাকে আমেরিকান এডমিনিস্ট্রেশনের ধারণা মনে করে চরম ভুল করেছেন।

যারা ওয়াশিংটনকে কিবলা মনে করে তাদের জন্য ওয়াশিংটন মিথ্যা বয়ান তৈরি করে। তাদেরকে আসল উদ্দেশ্য ভুলিয়ে মিথ্যা খবরে আমেরিকার বোকামী তুলে ধরে।

 পুরো চক্রান্ত রটিয়ে মুসলিম দেশে তারা আক্রমণ করে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে হত্যা করে আর পরিশেষে মডারেটদের বুঝ দিতে বলে এটা অমুক এডমিনিস্ট্রেশনের ভুল ছিল, অমুক এডভাইজার ভুল তথ্য দিয়েছিল, আমেরিকা না জেনে এমন করেছে, তাড়াহুড়া করেছে, এতে জনগণের দোষ নেই... ব্লা... ব্লা।

রান্ড কর্পোরেশন মুসলিমদের মধ্যে শিয়া-সুন্নি কেটাগরি না করে করেছে ট্রাডিশনালিস্ট আর র‍্যাডিকাল এতেই নাকি প্রমাণ হয় যে তারা শিয়া-সুন্নি বিভেদ জানে না।

 পোস্টদাতা আমেরিকার চতুরতা সম্পর্কে বেখবর। আমেরিকা বেশ ভালো করেই জানে শিয়াদের দ্বারা তাদের কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা সুন্নিদের নিয়ে। তারা জানে এরাই আসল মুসলিম। তাই সুন্নিদের নিয়েই তারা ক্যাটাগরি করেছে। তারা এও জানে জাতীয়তাবাদ বা গোত্রবাদের বিভেদ মুসলিম সমাজে বেশি দিন তারা টিকিয়ে রাখতে পারবে না তাই সে বিষয়ও এখানে তারা আনেনি। 

তিনি বললেন ফিলিস্তিন এবং জেরুজালেম উদ্ধারের কথা, তিনি হয়তো জানেন না ইসরাইল আমেরিকার শক্তির বলেই আজ পরাশক্তি হয়ে উঠেছে, আমেরিকা ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়েই ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরবদের একজোট হওয়া থেকে থামিয়ে রেখেছে।

পরিশেষে বলব শত্রুকে চিনুন, নিজেকে জানুন এবং বিশেষ করে পশ্চিমা সভ্যতা আদর্শ ও ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিদেরও চিনে রাখুন।
-Kaisar Ahmad 
ছবিঃ প্রতীকী। মেবি আফগান কিংবা তালেবান বাহিনি।


University of Konstanz এর প্রোফেসর জর্মন ইতিহাসবিদ Miriam Gebhardt-এর দুটো দুইন্যা কাঁপানো বই আছে। একটা হল: Als die Soldaten kamen (When the Soldiers Came) আর Crimes Unspoken: The Rape of German Women at the End of the Second World War. 

রুশী, মার্কিনি, ফরাসী আর বৃটিশ সৈন্যরা ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর জর্মনদেশে যে সভ্যতার সাক্ষর রেখেছিল, সেটা নিয়ে। নাৎসীরাও করেছিল মানলাম, ওরা না হয় জানোয়ার। কিন্তু তোরা তো 'আহলে সভ্যতা' দাবিদার। 

অথচ তখন কিন্তু জেনেভা কনভেনশন ১৯২৯ চলছিল। এইসব ***র আইন-কনভেনশন নামের আইওয়াশ এক শ্রেণীর সাগল আবার ওহীর মত মনে করে, ধুয়ে দু'বেলা খায়।

জেনেভা কনভেনশন ধুয়ে জল খেয়ে ইনারা ১৯৪৪-১৯৫৫, ১১ বছরে ৮,৬০,০০০ জর্মন নারী-পুরুষ-শিশুকে ধর্ষণ করেছিল। ছবিগুলা এখানে দিলাম না, লাইভে দেখাব ইনশাআল্লাহ। 

এখানে একটা মজার ব্যাপার আছে। পূর্ব জার্মানি কম্যুনিস্ট শাসনের দরুণ রুশীয় সেনাদের এই সুকীর্তি ধামাচাপা দিসিলো। আর পশ্চিম জার্মানি গণতন্ত্র ব্লকের সুকীর্তি ধামাচাপা দিসিলো। ভাশুরের নাম কেউ নেয় নাই ইতিহাসে, নেয় না।

এমেরিকা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ভিয়েতী নারীদের খুব ইজ্জত-সম্মান করছিলো। আবার ২য় বিশ্বযুদ্ধের শেষে জাপান সরকার তাদের জন্য দিসিলো 'কমফোর্ট উইমেন' একটু কমফোর্টের জন্য। 

এর আগেই ওকিনাওয়া যুদ্ধ শেষে 'জেনেভা কনভেশনের খেতা পুড়িয়ে' ১০,০০০ জাপানি নারী থেকে কমফোর্ট নেয়া শেষ। আবার হাল আমলে আফগানে ৬০০০ শুধু বালক ধর্ষণের অভিযোগ এমেরিকান মিলিটারি পার্সোনেলদের বিরুদ্ধে।

কী বলতে চান? আমি বলতে চাই আসিফ আদনান ভাইয়ের কণ্ঠে: 'মানুষ ভালোও না, খারাপও না, মানুষ আসলে মানুষ'। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছিনা। আমি বলতে চাই, এটা হল War psychology. যুদ্ধাবস্থা হল অসহায় অবস্থার চরম। 

ধরেন আজকের করোনা পরিস্থিতি + লকডাউন+ কারফিউ+ কারেন্ট নাই+ পানি নাই+বাইরে থেকে খাদ্য সাপ্লাইও বন্ধ+ গোলাগুলির আওয়াজ = যুদ্ধাবস্থা। 

চরম অসহায় অবস্থায় মানুষের মনস্তত্ত্ব কেমন থাকে বুঝতে হলে পড়তে হবে Stanford Prison Experiment এবং Maria Abrahamovic performance art এর ঘটনাটা।

 এই চরম অসহায় অবস্থায় war psychologyর হাত থেকে 'ধৃত শত্রুসেনা ও মৃতধৃত শত্রুসেনার' পরিবারদের নিরাপত্তা আজ পর্যন্ত মানবেতিহাসে কোনো শালার্পো করে দেখাতে পারেনাই।

 ইসলামে কেন দাসী যুদ্ধবন্দী, সেটা নিয়ে কচলানোর আগে নিজের 'সিঁথিওয়ালা টাক'টা ঢেকে ন্যাও হে।

ঈদের আগেই 'ইসলাম ও দাসীপ্রথা' নিয়ে আমাদের ২য় লাইভ ইনশাআল্লাহ। অবশ্যই বিজোড় রাতে নয়। কবে তা ঈদের আগেই জানিয়ে দেয়া হবে।
- Shamsul Arefin Shakti
Powered by Blogger.