হিন্দু মিশনারি বিদ্যানন্দ কীভাবে মুসলিমদের টাকা দিয়ে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীপনা ছড়াচ্ছে?

হিন্দু মিশনারি বিদ্যানন্দ  কীভাবে মুসলিমদের টাকা দিয়ে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীপনা চিন্তা ছড়াচ্ছে? 


আগে একটু একটা আয়াত পড়ুন।
"হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।"
 —সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ৫১


পুরো পোস্ট পড়ার আগে হিন্দু কিশোর কুমার এর পোস্ট এর ছবি ভালো করে পড়ুন। "মুসলিম" বাদ দেওয়ার কি কারন থাকতে পারে? যদিও  বিদ্যানন্দ যাদের টাকায় চলে তাদের ৯৫% এর বেশি মুসলিম আবার এখানে যারা স্বেচ্ছায় কাজ করে তাদেরও অধিকাংশ মুসলিম হওয়া সত্তেও কেনো মুসলিমদের নাম তা পরে মুছে দিলো?
মাথা কে শয়তানের কাছে বন্দুক না দিয়ে নিজের মাথা দিয়ে একটু ভাবুন। 

বিদ্যানন্দ বা এমন সেকুলার /কাফের/ মোডারেট আধুনিক জিনাকারি সেলিব্রেটিদের কাছে জাকাত দেওয়া যাবে কিনা?


Video Courtesy: -AS-Sunnah Foundation

এটা প্রত্যেক মুসলিম এবং অমুসলিমের জানা উচিত যে: "যাকাত কোনো দান নয়"। এটা কোনো দান নয়। আবার শোনেন। যাকাত কোনো দান-দক্ষিণা নয়। যে, যেখানে আমার মন চাইল দিয়ে দিলাম। অমুকের লঙ্গরখানা, তমুকের শীতবস্ত্র বিতরণ, অমুকের পথশিশু প্রজেক্ট। এগুলোতে দান-সদকা হতে পারে।
কিন্তু যাকাত আলাদা জিনিস। কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখিত ৮ প্রকার লোকের কাছেই এই টাকা যেতে পারবে। এবং এটা দান নয়। এটা হল আমার উপার্জিত সম্পদে এই ৮প্রকার লোকের অংশ। যেটা আমি তাকে দিয়ে তার উপকার করিনা, বরং সে নিয়ে আমাকে অব্যাহতি দেয়। সে যদি না নিত, তাহলে তার অংশ আমার সম্পদে থাকার কারণে আমার পুরো সম্পদটা অপবিত্র থাকবে। সে তার অংশ নিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছে, আমার সম্পদটা পবিত্র হয়েছে। যাকাত শব্দের অর্থই 'পবিত্রকরণ'।
স্মৃতি থেকে লিখছি, ভুল হতে পারে। আলিমগণ থেকে বিস্তারিত জেনে নিবেন। আরেকটা বিষয় হল, নামাযের রুকন আছে কিয়াম-রুকু-সিজদা-বৈঠক। তেমনি যাকাতের রুকন হল, যাকে যাকাত দিবেন, তাকে মালের মালিক বানিয়ে দেয়া। (মুফতি ইউসুফ সুলতান সাহেবের সাইট)। উত্তম যাকাত হল, তাকে এই এই পরিমাণ দেয়া যাতে সে স্বাবলম্বী হতে পারে। আর ন্যূনতম এই পরিমাণ, যাতে ঐদিন তাকে কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আমি জানিনা, এই 'যাকাতের শাড়ি' 'যাকাতের লুঙ্গি' নামের অব্যবহারযোগ্য শো-অফ টাইপ ব্যাপার কোথা থেকে এলো।
যাকাত ছিল সমাজের চেহারা বদলানোর হাতিয়ার। আজ সঠিক স্থানে যাকাত না যাওয়ায়, সুদী মাইক্রোক্রেডিট এসে মুসলমানের ঈমান কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছে। কাকে কী বলবো? এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মাদরাসায় যে দেয়া হয়, তাহলে নন-প্রফিট চ্যারিটি সংস্থায় দেয়া যাবে না কেন? মাদরাসায় ইয়াতীমখানায় তাদেরকে মালের মালিক বানিয়ে দেয়া হয় বলে জানি। এরপর আর জানিনা।
- Shamsul Arefin Shakti


প্রথম পোস্ট ➤সম্প্রতি বিদ্যানন্দ দেশে ভালো নাম কামিয়েছে অসহায় গরিবদের খাবারের ব্যবস্থা করে। এই খারাপ সময়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। হঠাৎই জাকাতের ব্যাপারে তাদের বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এবং এটাও সকলের জানা যে বিদ্যানন্দের পরিচালক বা প্রধান হচ্ছে একজন হিন্দু। যাক সেদিকে আর কথা না বাড়াই। বিদ্যানন্দ দেশের আর দশটা সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মতই। আমরা বার বার যেটা ভুলে যাই তা হলো দেশের সব উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো (হাতেগোনা দুইয়েকটা বাদে) হচ্ছে সেক্যুলার। বাহ্যিকভাবে এরা দেখায় একে অপরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার। আসলে এখানেও আমাদের সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে আমরা সেক্যুলার রাষ্ট্রে বসবাস করেও সেক্যুলার কোনো প্রতিষ্ঠানে জাকাত দেই না। অনেকে মাদ্রাসায় দেই আবার অনেকে লিষ্ট করে কিছু গরিব মানুষকে জাকাতের টাকাটা দিয়ে দেই। যখন একটা সেক্যুলার প্রতিষ্ঠান মুসলিমদের জাকাত চাইলো আবার তার উপর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্যে বিধর্মী বের হল, তখন বিষয়টা আমাদের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হলো৷ মুসলিমরা দান করতে কুণ্ঠাবোধ করে না; কিন্তু ইবাদতদের পয়সা অন্যভাবে নষ্ট করতে রাজি না।
.
বিদ্যানন্দকে বা কোনো সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানকে জাকাতের টাকা না দেওয়া কিন্তু কোনো সমাধান না; পরোক্ষভাবে এটা আমাদের এক ধরনের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। জাকাতের উদ্দেশ্যটা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা এই নব্য জাহিলি সমাজে জাকাত কেবল নির্দিষ্ট পয়সা গরিবদের দান করাই বুঝি। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে জাকাত বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামি অর্থনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হচ্ছে জাকাত। বর্তমানে জাকাত প্রদানের পর অসহায় ব্যক্তি কোনো অর্থনৈতিক উন্নতি করতে পারে না। কারণ, কিছু খাবার আর কাপড় মানুষকে কোনো অর্থনৈতিক উৎসের ব্যবস্থা করে না। আর অন্যদিকে ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা জাকাত পরিকল্পনা মাফিক বণ্টন করে মানুষের অর্থনৈতিক উৎসের ভালো ব্যবস্থা করে দেয়। যেমনটা খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ.-এর দেখা যায়।
.
সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানে জাকাত না দেওয়াই কোনো সমাধান না। আমরা যে প্রক্রিয়ায় জাকাত প্রদান করি তাতে জাকাতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় না; বরং নিজের উপর থেকে ফরজের হুকুমটা আদায় করা হয়। আফসোসের কথা হলেও সত্যি যে বর্তমান সময় আমরা সমাজকে পাশ্চাত্যকরণ থেকে ইসলামিকরণে অনেক পিছিয়ে। যারা ধর্মীয় পদ অধিষ্ঠিত তারা এদিকে প্রায় পুরোই বেখেয়াল। আমি অনেক এনজিওর কার্যক্রম দেখেছি। তাদের মাঠ পর্যায়ে অনেকগুলো কাজে ছিলাম। আমি নিশ্চিত তাদের অনেক সুক্ষ্ম কার্যক্রম অনেক মুসলিমের মাথার উপর দিয়ে যাবে। আমরা যখন পেটপুরে খাওয়া দাওয়া করছি, রেষ্টুরেন্টগুলোতে বিলের পাহাড় তুলছি; ঠিক এই সময় সীমান্তের মুসলিমদের খাবার জুটছে না। চাষাবাদের পয়সা নেই, পশুপালনের পয়সা নেই। এই সুযোগটাই তারা লুফে নিয়েছে। গরিব মানুষগুলোকে তারা একাধিক অর্থনৈতিক উৎসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তারা এই ব্যাপারে যথেষ্ট গবেষণা করে। দীর্ঘদিন তাদের প্রভাবে সরল মুসলিমরা যখন ধর্মান্তরিত হয় তখন আমরা রাগে ক্ষোভে দোষ দেই তাদের। এটা কি হাস্যকর বিষয় নয়! আমাদের অবহেলার দরুন তারা ধর্মান্তরিত হল আর দোষ হল পাশ্চাত্যের।
.
অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন সেবামূলক সংঘঠনের সাথে জড়িত। তারা অনেকেই চায় ইসলামি ভাবধারায় সেবা করতে; কিন্তু কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্লাটফর্ম না থাকার কারণে তারা ইসলামি ভাবধারায় সমাজের সেবা করতে পারছে না। আবার অর্থের অভাবে কোনো প্লাটফর্মের যাত্রা শুরু করতে পারছে না। আমার মতে এহেন পরিস্থিতিতে দেশের কওমি মাদ্রাসার ও আলিমদের পরামর্শে একটি শক্তিশালী ইসলামি অর্থনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি করা। যারা মুসলমানদের জাকাত গ্রহণ করে পরিকল্পনা মাফিক বণ্টন করে অসহায় মানুষদের সাবলম্বী করে তুলবে।এতে আল্লাহর ইচ্ছায় মুসলিমদের দারিদ্রতা কিছুটা হলেও ঘুচবে।
.
কোনো সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানে জাকাত দেওয়া যাবে কি যাবে না সেটা নিয়ে ফিকহি আলোচনায় গেলে কথা অনেক বেড়ে যাবে। সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানে জাকাত প্রদানে ইসলামের কোনো উপকার হবে না। পরিশেষে একটি আয়াত দিয়ে এই কথার ইতি টানতে চাই। মহান আল্লাহ বলেন, "হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" —সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ৫১
অনেকে 'বন্ধু' শব্দটাকে 'অভিভাবক' শব্দের অর্থে বলে প্রকৃত অর্থে থেকে দূরে সরাতে চাইবেন। তারা শুনে রাখুন, কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার ফলাফল যা হয়েছিল ইতিহাসে তার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।
Zubair Bin Akhtaruzzaman


সেকেন্ড পোস্ট ➤প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো খুনোখুনি হয়েছে। পরে দেখলাম পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
উনি হিন্দু বলেই প্রগতিশীলরা এমনভাবে সাপোর্ট দিচ্ছেন, যেন উনি না থাকলে বিদ্যানন্দ কেন, পৃথিবীই চলবে না।
অথচ মুসলিমদের কোনো ইস্যুতে ইনারা বোবা হয়ে যান। হাজার মুসলমান মরলেও উহ্ আহ্ করেন না। উল্টো খুশি হন।
এরা মুখোশধারী শয়তান। মানবতা কেবল ইসলাম বিদ্বেষের সময় চেতিয়ে ওঠে।

বিদ্যানন্দকে যারা টাকা দেয় এবং যারা বিদ্যানন্দে কাজ করে, তাদের অধিকাংশই মুসলিম। অথচ গুটিকয়েক ফেক আইডির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে এতগুলো মুসলিমকে হেয় করে বিদ্যানন্দর এরূপ সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া মোটেও ঠিক মনে করছি না।
মিঃ কিশোর যে সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। একটা ধর্মের বিরুদ্ধে কিভাবে বিদ্বেষ ছড়াতে হয়, ভালো করে জানা আছে তার।কি সুন্দর ভাবে একটা ধর্মকে গালি খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করে গেলেন।
আমার মতে আগের কারণে পদত্যাগ না করলেও, বর্তমানে এই সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর কারণে হলেও তার পদত্যাগ করা উচিৎ।
- চিকন লতি 
হিন্দু মিশনারি বিদ্যানন্দ কীভাবে মুসলিমদের টাকা দিয়ে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীপনা ছড়াচ্ছে? হিন্দু মিশনারি বিদ্যানন্দ  কীভাবে মুসলিমদের টাকা দিয়ে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীপনা ছড়াচ্ছে? Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 06, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.