বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন | আগুনের কারাগার - আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক | মুসলিম নির্যাতন ও ভণ্ড সুশীল সমাজ

বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন | আগুনের কারাগার - আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক | মুসলিম নির্যাতন ও ভণ্ড সুশীল সমাজ 

বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতনপর্বঃ০১

১৪৬৩ সালে উসমানীয়রা বসনিয়ায় ইসলামের পতাকা উড্ডীন করে এ এলাকার নাম রাখেন 'বসনিয়া পাশালোক'।

 এখানে নির্মিত হয় সারায়েভোতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে মনোরম মসজিদ 'গাজীবেগ মসজিদ', যা ১৫৩০ সালে নির্মান করা হয়। 

তুরস্কে উসমানীয় খেলাফত যখন পতনোন্মুখ তখন আবার বসনিয়াকে দখলের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

 ১৮৭৮ সালে বার্লিনে ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে বসনিয়া দখল করার জন্য অষ্ট্রিয়াকে সাহায্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়। 

১৯০৬ সালে বসনিয়া অষ্ট্রিয়া সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে 'যুগোশ্লাভিয়া ফেডারেশন' গঠিত হয় 

এবং ১৯৪৫ সালে বসনিয়া হার্জেগোভিনা অষ্ট্রিয়া থেকে আলাদা হয়ে যুগোশ্লাভিয়া ফেডারশনে যোগ দেয়।

 বসনিয়ার বেশিরভাগ মুসলিম ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবী। মার্শাল জোসেফ টিটোর সামরিক শক্তি নির্ভর করত সার্ব বংশোদ্ভুত লোকদের উপর। 

১৯৯০ সালে যুগোশ্লাভিয়া ফেডারেশন বিচ্ছিন্ন হয়ে সর্বপ্রথম ক্রোয়েশিয়া ও সালভানিয়া স্বাধীনতা ঘোষনা করে।

 এরপর ১৯৯২ সালের ৬ ই মার্চ বসনিয়া হার্জেগোভিনা এক গনভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষনা করে। 

১৯৯২ সালের ৬ ই এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন বসনিয়ার স্বাধীনতা মেনে নেয়। কিন্তু তার দুইদিন আগে থেকে সার্বিয়ান হায়েনারা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বসনিয়ার মুসলিমদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। 

সার্ব হায়েনারা এ অভিযানকে শুদ্ধি অভিযান নামকরন করে। ১৯৯২ সালের ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বসনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়।

 এ হিসেবে জাতিসংঘ বসনিয়াকে সাহায্য করতে দায়বদ্ধ থাকলেও সাহায্য করে নি। যুগোশ্লাভিয়া ফেডারেশন সব অস্ত্রশস্ত্র বেলগ্রেড থেকে সার্বিয়ানরা দখল করে নেয়। 

তারপর জাতিসংঘ সার্বিয়ানদের সাথে মিলে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যাতে করে মুসলিমরা কোন অস্ত্র সরাবরাহ না পায়। ফলে শুরু বসনিয়ায় মুসলিম হত্যাকান্ডের নারকীয় অধ্যায়।

তথ্যসূত্রঃ আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক


খৃস্টান জঙ্গিবাদ : যেভাবে বসনিয়ায় গণহত্যা সংঘটিত হয়
➤ তিন বছরের বসনিয়া যুদ্ধ এবং কিছু অজানা ইতিহাস...

বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন পর্বঃ০২




বসনিয়ার মুসলিমদের নির্যাতনের কারন ছিল তাদের গ্রেটার সার্ভিয়ার স্বপ্ন। 


তারা বলত, যেখানে যেখানে সার্ব সম্প্রদায় রয়েছে, সেসব জায়গা সার্বিয়ারই অংশ। সেসব এলাকায় একজন মুসলমানকেও জীবিত থাকতে দেওয়া হবে না। এরা আল্লাহ সর্বশক্তিমান আল্লাহ বড় বলে চিৎকার দিয়ে থাকে। আমরা এদেরকে সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছেই পৌছিয়ে দিব।


আরও বলত, মুসলমান নারীরা অনেক সন্তান জন্মায়, এখন থেকে তারা সার্ব বাচ্চা প্রসব করবে।


বসনিয়ার মুসলিমরা স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। ত
াদেরকে কেউ সহযোগীতা করে নি। জাতিসংঘ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদেরকে কসাইদের
 হাতে তুলে দেয়। 

মানবতার ধ্ববজাধারী জাতিসংঘের কাছে বসনিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন ছিল, বসনিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও অন্য রাষ্ট্র থেকে অস্ত্র সংগ্রহে কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হল?

আজ পর্যন্ত কেউ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নি।


অন্যদিকে সার্বরা আগেই যুগোশ্লাভিয়ার সব অস্ত্র দখলে নিয়েছিল। রাশিয়া ছিল তাদের পাশে।


 ন্যাটো জোটের কমান্ডার ইন চিফ সদম্ভে ঘোষনা করল, ইউরোপের মাটিতে কোন মুসলিম রাষ্ট্র আমরা প্রতিষ্ঠিত হতে দিব না। 

ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর হুশিয়ারী দিয়ে বলল, স্বাধীন মুসলিম বসনিয়া কোনভাবেই বরদাশাত করা হবে না।


কিন্তু বসনিয়ার মুসলিমরা সম্পুর্ন আল্লাহর উপর ভরসা করে যুদ্ধ চালিয়ে যায় এবং জয় লাভ করে। মুসলিম নামদারী কোন রাষ্ট্র সেদিন বসনিয়াকে সাহায্য করেনি।


 বরং বসনিয়ার সাহায্যের জন্য আসার খাদ্য ও ঔষধের জাহাজকে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের জলসীমা অতিক্রম করতে দেয় নি।

 এদিকে বসনিয়া মুসলিমদের অস্ত্রোপাচারের জন্য বেহুশ করার ঔষধ পর্যন্ত পাওয়া যেত না। ধিক্কার! ঐসব নামধারি মুসলিমদের প্রতি।

কিন্তু তবুও তারা হাল ছাড়েনি। আল্লাহর উপর ভরসা করেই তাদের সংগ্রাম চলেছে। তাদের হাতেও অস্ত্র এসেছে। 


এগুলো কেউ তাদের সাহায্য করে দেয় নি। নিজেদের জীবন কুরবানী দিয়ে তারা এই অস্ত্র পেয়েছে। একসময় তারা রনাঙ্গনে ক্রুসেডারদের রুখেও দিলেন।

 পাশ্চাত্যের মুসলিম বিদ্বেষী খ্রিস্টান সম্প্রদায় অবনত মস্তকে বসনিয়ার স্বাধীনতা মেনে নিল। 

কিন্তু ভাববার বিষয় হল, এজন্য তাদের কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, কতটা রক্তাক্ত হয়েছে বসনিয়া,

কতো ক্ষতবিক্ষত ও পর্যুদস্ত হয়েছে। যার ফলে আজও ইউরুপের ধনী রাষ্ট্রগুলোতে বসনিয়ার মুসলিমদের ভিক্ষা করতে দেখা যায়।


বিশ্বমিডিয়া ইহুদীদের উপর নির্যাতন খুব ফলাও করে প্রচার করে। কিন্তু বসনিয়ার মুসলিমদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে, অতীত ইতিহাসে এরকম নজির পাওয়া যাবে না। 


তাদেরকে নিজের পুরুষাঙ্গকে দাত দিয়ে কচকচ করে কাটতে বলা হত, যা ইহুদীদের কাউকে করতে হয় নি।

তথ্যসূত্রঃ আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক



বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন পর্বঃ০৩

স্বাধীনতা ঘোষনার পরই সার্বরা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুসলিমদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।

মিথ্যা অভিযোগে মুসলিমদের গনহারে ধরে নিয়ে বন্দিখানায় বন্দি করা হয়। তথাকথিত তিনটি অভিযোগে তাদের বন্দি করা হত এবং তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হত।

১. প্রেজডোর আক্রমনে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।
২. তার কাছে গোপন অস্ত্র রয়েছে।
৩. তার কাছে সেসব সার্বদের তালিকা পাওয়া গেছে যাদের মুসলমানরা ক্ষতম করার পরিকল্পনা নিয়েছে।


সার্ব সেনারা একদিন এক উপশহরের সমস্ত মুসলিমদের মাটিতে শুইয়ে দিয়ে উপর দিয়ে ভাড়ি মাল বোঝাই সামরিক ট্রাক চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে ২-১ জন ছাড়া সবাই মারা যায়। যারা বেচে যায় তারাও চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়।

সার্বরা মহিলাদেরকে ক্যাম্পে এনে ধর্ষন করে বাচ্চা নষ্ট করতে দিত না। যে পর্যন্ত না বাচ্চা নষ্ট করার অনুপযোগী হত, ততদিন তাদেরকে আটকে রাখা হত।


১২ বছরের মেয়ের সামনে তার ৩৩ বছর বয়সী মাকে ধর্ষন করার সময় তাকে বলা হয়, তুমিও এ কাজটি শিখে নাও। অতপর তারা সেই ১২ বছরের মেয়েকে গনধর্ষন করত।


নিরপরাধ লোকদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে আসত তাদের নিরাপত্তা দানের নামে। তাদেরকে নেওয়া হত বন্দিখানায়।

ধরার পর সব দামী জিনিস রেখে দিত, বলত যে এগুলো আমাদের কাছে সংরক্ষিত থাকুক। পরিস্থিতি শান্ত হলে ফেরত দিব। তারপর জিজ্ঞাসাবাদের নামে অত্যাচার শুরু হয় ক্যাম্পে নেওয়ার আগেই।

তারপর একেকজনকে ধরে বস্তার মত গাড়ির মেঝেতে ছুড়ে মারত। ক্যাম্পে যেয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে আবারও মিথ্যা অভিযোগ স্বীকার করার জন্য বেড়ধক মারপিট শুরু হত।

এক ডাক্তারকে স্বীকার করতে বলল যে, সে হাসপাতাল থেকে মুসলিদের জন্য ঔষধ চুরি করে তার বাড়ির ভুগর্ভস্থ কক্ষে লুকিয়ে রেখেছে।

সে স্বীকার না করে বলল, আমি এরকম কাজ কখনোই করিনি।

তারপর তাকে বেড়ধক মারা হয়। পরে সে যখন স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করে তখন তার মনে পড়ে তার বাডির ভুগর্ভস্থ কোন কক্ষই নেই।

সার্বদের উপর ফায়ারিং এর জন্য এমন একজনকে দায়ী করা হয় যার দৃষ্টি শক্তি শেষ হওয়ার পথে। অন্যের সাহায্য ছাড়া ঠিকমত সে চলতেও পারত না।

ক্যাম্পে কয়েদিদেরকে এক বদ্ধ রুমে রাখা হত, যা ছিল থাকার অযোগ্য। সেখানে পানির কোন ব্যবস্থা ছিল না। মাঝে মাঝে পানির একটি বোতল ছুড়ে মারত।

বন্দিদের কাড়াকাড়ির ফলে বেশিরভাগ পানিই পড়ে যেত। পস্রাব পায়খানার জন্য থাকার রুমেই পাত্র থাকত।

অন্যকেউ পস্রাব করলে বন্দিরা তার আশেপাশে হাত পেতে বসে থাকত। যাতে পস্রাব দিয়ে কমপক্ষে ঠোটটা ভিজানো যায়।

গার্ডরা মাঝেমধ্যে এসে মাতাল অবস্থায় কয়েদিদের উপর ব্রাশ ফায়ার শুরু করত। ফলে অনেক কয়েদি মারা যেত। যেন মানুষের জীবন পোকামাকড়ের চেয়েও তুচ্ছ।
তথ্যসূত্রঃ আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক


বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন পর্বঃ০৪

তারা বন্দিদেরকে গ্রুপ করে ডেকে নিয়ে উলঙ্গ হতে বলত। যা দেখে তারা খুব আনন্দ উপভোগ করত।

এক বন্দি উলঙ্গ হতে অস্বীকার করায় রাইফেলের বাট দিয়ে তার মাথায় উপর্যুরি আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে ফেলে।

ফলে সেখান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। তারপর সে ধারালো চাকু বের করে কয়েদির কাপড় কাটতে থাকে।

কাপড়ের সাথে কয়েদির চামড়াও উঠে আসতে থাকে। অত:পর সে একটি পানির পাইপ উঠিয়ে কয়েদিকে লক্ষ্য করে প্রচন্ড বেগে পানি ছেড়ে দেয়।

ফলে জখমের সাথে পানি মিশে অসহ্য জ্বালায় ছটফট করতে থাকে। তারপর চাকু দিয়ে কয়েদির পুরুষাঙ্গটি কেটে ফেলে। 

সেখান থেকে রক্তের প্রচন্ড স্রোত বইতে থাকে। অতপর তাকে জবাই করে ময়লার ড্রামে ফেলে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ভোরে হঠাৎ করেই এসে আক্রমন শুরু করত বন্দিদের উপর। নাম ডেকে ডেকে কয়েদিদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হত।

এক দেড় ঘন্টা পর আবার বন্দিশালায় বালুর বস্তার মত ছুড়ে ফেলত।

নির্যাতনের ফলে কোন কোন কয়েদির হাতপা ভেঙে যেত। ক্ষতস্থান থেকে টপটপ করে রক্ত পড়ত।

অনেকের আবার চামড়া ভেদ করে হাড় বের হয়ে আসত। কয়েদিরা আহতদের সেবা শুশ্রুষা করত।

পুরাতন ছেড়া ফাটা কাপড় ভিজিয়ে ক্ষতস্থান বেধে দিত।

এক রাতে বৃষ্টির রাতে এক বয়স্ক এক কয়েদিকে বাহিরে নিয়ে যায়। বাহিরে নিয়েই তাকে উলঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিল।

সেই অবস্থায়ই একজন কম বয়সী মেয়ে বন্দির কামড়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মেয়েকেও উলঙ্গ করে ফেলা হয়।

 তাদেরকে সকল কয়েদিদের সামনে যৌনসম্ভোগ করতে বলা হয়। কয়েদি এধরনের পাপকাজ না করানোর অনুরোধ করতে থাকে।

আর মেয়েটি লজ্জা ঢাকার ব্যার্থ চেষ্টা করতে থাকে। কয়েদি রাজি না হওয়ায় তাকে প্রচন্ড শীত ও ঝড়ের রাতে দুই ঘন্টা যাবত বৃষ্টিতে দাড় করিয়ে হয়, যেখানে গরম কাপড় চোপড় পরেও এই ঠান্ডায় টেকা দায়।

 এরপর পুনরায় তাকে সেই মেয়ের সাথে একই কাজ করতে বলা হল। কিন্তু এরপরও সে দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে।


ফলে সার্বরা রাইফেলের বাট ও বুট দিয়ে তার উপর একের পর এক আঘাত হানা শুরু করে। এতে সে জ্ঞান হারায়। তারপর তাকে বাহিরে ফেলে রাখা হয়।

পরে সকালে অন্য কয়েদিরা দেখতে পায় সে মরে শক্ত হয়ে পড়ে আছে।

তথ্যসূত্রঃ আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক

বসনিয়ায় মুসলিম নির্যাতন পর্বঃ০৫

এক গার্ড ছিল যে সবসময় একটি ডান্ডা নিয়ে ঘুরত। ডান্ডার আগায় একটি তিন ইঞ্চি খুবই তীক্ষ্ম পেরেক যুক্ত ছিল।

বন্দিদের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় ডান্ডাটি ভয়ংকরভাবে ঘুরাতে থাকত। হঠাৎ কোন বন্দির সামনে যেয়ে জিজ্ঞাসা করত,

তোমার কোন চোখটি প্রিয়?
অমনি সে সেই চোখের ভেতর পেরেক ডুকিয়ে দিত।

অনেক সময় বন্দিদের গোপনাঙ্গের দিকে তাকিয়ে পুরুষাঙ্গ নাড়া দিয়ে বলত কোন অন্ডকোষটি তোমার বেশি প্রিয়?

অমনি সে কোন এক অন্ডকোষে পেরেক ডুকিয়ে দিত।

আরেকদিন এক যুবকের গোড়ালিতে তুলনামূলক ছোট একটি পেরেক ডুকিয়ে দিয়ে বলল, যদি এটি খোলার চেষ্টা করিস, তবে তোকে গরুর মত জবাই করব।

কয়েকদিন পর যুবকটি যন্ত্রনায় ছটফট করে মারা যায়। আর মাঝেমধ্যেই বাহিরে ডেকে নিয়ে বন্দিদের চিরতরে গায়েব করে দিত।

একদিন এক গার্ড বন্দিদের বলল, আজ আমার পচিঁশতম জন্মবার্ষিকী।

এ পর্যন্ত আমি মাত্র ২৩ জন মুসলমানকে নিজ হাতে জবাই করেছি। আজ আর বেশি নয়, আমি মাত্র ২ জন মুসলমানকে হালাল করব।

প্রখর রোদে বন্দিখানার ময়দানের পাকা ফ্লোর উত্তপ্ত হয়ে উঠত। তখন প্রায়ই গার্ডরা নির্যাতনের উদ্দেশ্য বন্দিদেরকে কাপড় খুলে উপোড় হয়ে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দিত।

প্রচন্ড উত্তাপে মনে হত শরীরের চর্বিগুলো গলে বেরিয়ে পড়বে। এভাবে প্রায় দশ ঘন্টা শুইয়ে রাখা হত।

কয়েদিরা উন্মুক্ত স্থানে ঘুরাফেরা করার বা ইচ্ছামত কোন জায়গায় বসার সুযোগ খুব কমই পেত।

 আর যখন সুযোগ পেত তখন গার্ডদের কড়া পাহাড়া থাকত। একদিন কয়েদিরা গার্ডদের বেশি উদার ভেবে বসে।

এক কয়েদি অন্য গ্রুপের কয়েদিদের সাথে বসে রুটি খাচ্ছিল, যা গার্ডদের তাড়াহুড়ার কারনে ক্যান্টিনে খেয়ে শেষ করতে পারে নি।

 একজন গার্ড তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার দিকে তাকিয়ে একটা পাশবিক হাসি দিয়ে 'হ্যালো' বলল।

মুহুর্তের জন্য সে গার্ডকে সহানুভূতিশীল ও ভদ্র ভাবল। তাই সে বেশি আবেগী হয়ে বসনীয় ভাষার 'বাজরুম' ( তোমাকে ধন্যবাদ) বলল।

এই ভদ্র কয়েদি হঠাৎ করেই হিংস্র দানবের রুপ ধারন করল। সে বলতে লাগল, তোমার এত বড় স্পর্ধা কিভাবে হল?

 তুমি আমাকে তোমার সমকক্ষ মনে করে বাজরুম বলছ! গার্ডটি তার মা বাপ তুলে গালি দিতে লাগল। তারপর বলল, তোমাকে অন্য জগতে পাঠিয়ে তবেই আমি দম নিব।

সে বন্দির চুল ধরে লোহার রড দিয়ে প্রচন্ড জোরে আঘাত করতে করতে উপরে নিয়ে গেল। প্রথমেই তার কান দুটি কেটে ফেলল।

অত:পর কয়েকজন গার্ড মিলে তার জিহবা ধারালো ছুড়ি দিয়ে কেটে ফেলল। বলল, যে জবান দিয়ে বাজরুম বলছিস তা তো আর রাখা যায় না। তারপর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা শুরু করল।

তার আর্তনাদে কয়েদিরা বিমুড় হয়ে গেল। একসময় সে চির নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

ঘটনাটি এত ভয়াবহ ছিল যে, তার স্ত্রী দেখা করতে আসলে বন্দিরা তা বলার সাহস পায় নি।

তাই তার স্ত্রী প্রতিদিন তার পথ পানে চেয়ে থাকত।
তথ্যসূত্রঃ আগুনের কারাগার
- আব্দুর রাজ্জাক হেকনোভিক

সব গুলো পর্ব RealWorld.Net নামক ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। 
Powered by Blogger.